খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

সাংবাদিকতায় মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের প্রভাব

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকতায় মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের প্রভাব

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর যুগে সাংবাদিকতার ভূমিকা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তথ্য প্রবাহের সহজলভ্যতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের সমস্যা। সত্য-মিথ্যার মিশ্রণে তৈরি ভুল তথ্যের মাধ্যমে সমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়। এই প্রবন্ধে মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের সংজ্ঞা, প্রভাব, কারণ এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের সংজ্ঞা

মিস ইনফরমেশন (Misinformation) : মিস ইনফরমেশন হলো ভুল বা অসত্য তথ্য যা অজান্তে ছড়ানো হয়। এর উদ্দেশ্য সাধারণত ক্ষতিকারক নয়। যেমন: কেউ কোনো ভুল খবর বা তথ্য শেয়ার করলে, কিন্তু তিনি জানেন না যে সেটি ভুল।

ডিসইনফরমেশন (Disinformation) : ডিসইনফরমেশন হলো ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো। এটি সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে করা হয়, যেমন বিভ্রান্তি তৈরি করা, জনমত প্রভাবিত করা বা রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য।

সাংবাদিকতায় মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের ভূমিকা

১. তথ্য যাচাইয়ের অভাব : অনেক সময় সাংবাদিকরা তথ্য যাচাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করেন। তথ্য যাচাইয়ের অভাবের ফলে মিস ইনফরমেশন ছড়িয়ে পড়ে।

২. ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচার : ডিসইনফরমেশন অনেক সময় রাজনৈতিক বা আর্থিক লাভের জন্য করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, নির্বাচনের আগে ভুয়া তথ্য প্রচার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করা।

৩. সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব : সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে দ্রুত গতিতে তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে মিথ্যা তথ্য সত্যের চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যায়।

৪. ট্রলিং ও বট অ্যাকাউন্ট : বিভিন্ন ট্রল গ্রুপ ও বট অ্যাকাউন্ট ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।

মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের প্রভাব

১. সামাজিক অস্থিরতা : ভুল তথ্য সমাজে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর ছড়িয়ে সংঘর্ষ বাধানো।

২. রাজনৈতিক প্রভাব : ডিসইনফরমেশন রাজনৈতিক মতামত প্রভাবিত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

৩. সাংবাদিকতার প্রতি বিশ্বাস কমানো : বারবার ভুল তথ্য প্রকাশিত হলে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের বিশ্বাস কমে যায়।

৪. গুজবের প্রসার : মিস ইনফরমেশন থেকে গুজব সৃষ্টি হয়, যা ব্যবসা, স্বাস্থ্য, এবং ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের কারণ

১. তথ্য যাচাইয়ের অভাব : অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে সংবাদ প্রকাশের জন্য তথ্য যাচাই করা হয় না।

২. সাংবাদিকতার উপর চাপ : সাংবাদিকদের উপর খবর দ্রুত প্রকাশের চাপ থাকে, যা ভুল তথ্য ছড়ানোর সুযোগ করে দেয়।

৩. সোশ্যাল মিডিয়ার সহজলভ্যতা : সোশ্যাল মিডিয়ার সহজলভ্যতা তথ্য ছড়ানোর গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ভুয়া খবর দ্রুত ভাইরাল হয়।

৪. অপর্যাপ্ত নীতিমালা : অনেক দেশে ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে কার্যকর আইন বা নীতিমালা নেই।

৫. অজ্ঞতা ও অসচেতনতা : অনেক ব্যবহারকারী ভুল তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই তা শেয়ার করেন।

মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন প্রতিরোধে করণীয়

১. তথ্য যাচাইয়ের কৌশল শেখানো : সাংবাদিকদের তথ্য যাচাইয়ের টুলস ও কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।

২. সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ : সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে ফ্যাক্ট-চেকিং অপশন উন্নত করতে হবে।

৩. সচেতনতা বৃদ্ধি : সাধারণ মানুষের মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

৪. কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন : ভুয়া খবর ছড়ানোর জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

৫. ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন : ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা দরকার।

উপসংহার : মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন সাংবাদিকতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যার সমাধান করতে হলে গণমাধ্যম, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব বোঝা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা বজায় রেখে সঠিক তথ্য প্রকাশের প্রতি গুরুত্ব দেওয়াই এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।

লেখক : উজ্জ্বল হোসাইন, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ২০২১, প্রেস ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।