সন্ত্রাসীদের প্রতি আর মানবিকতা নয় : সিইসি

নির্বাচনের আগে সহিংসতা ও চোরাগোপ্তা হামলার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমরা মানবিক হব, কিন্তু যারা ভাংচুর, সহিংসতা, হত্যা করে, তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার দরকার নেই। নির্বাচনের আগে সহিংসতা ও চোরাগোপ্তা হামলার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমরা মানবিক হব, কিন্তু যারা ভাংচুর, সহিংসতা, হত্যা করে, তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার দরকার নেই। মেসেজ ইজ ভেরি ক্লিয়ার।’
গতকাল সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক এবং আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভার পর সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দলের ভেতরে, একাধিক দলের মাঝে ঝুটঝামেলা এগুলো আছে। কিন্তু সার্বিকভাবে যদি আমরা বলি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই আছে।’ গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে যান। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন।
পরে বিকালে নির্বাচন সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধে যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে ইসিতে বৈঠক হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, তিন বাহিনী প্রধানদের উপযুক্ত প্রতিনিধি, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি ও র্যাবের মহাপরিচালক, এসবি ও সিআইডির অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক অংশ নেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। সভায় ইসি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কাছে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত নাশকতার ঘটনাগুলোর বিষয়ে জানতে চায়। তাদের জানানো হয়, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
এ দুটি বৈঠকের পর বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে আসেন নির্বাচন কমিশনার মো. সানাউল্লাহ। ব্রিফিংয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘গত বছরের আগস্টের পর থেকে মানবিক পুলিশিংয়ের নির্দেশনা ছিল। সেই মানবিকতার সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ সহিংসতা চালিয়েছে। যারা মানবিক, তাদের প্রতি মানবিকতা থাকবে। কিন্তু যারা ভাংচুর, হত্যা করে, সেসব সন্ত্রাসীর প্রতি মানবিক হওয়ার দরকার নেই। মেসেজ ইজ ভেরি ক্লিয়ার।’
সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মূলধারার রাজনৈতিক দলের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কমিশনকে জানিয়েছে বলে জানান তিনি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে সানাউল্লাহ বলেন, ‘তারা এসব কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেনি, বরং বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তবে যারা জড়িত, তারা যে পরিচয়ই ধারণ করুক না কেন, আইনের আওতায় আনা হবে।’ নির্বাচন কমিশন উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন করতে চাইলেও ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড তাতে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে বলে মনে করে ইসি। সানাউল্লাহ বলেন, ‘যারা আমাদের উৎসবকে বিঘ্নিত করতে চান, তারা ব্যর্থ হবেন। উৎসবের পরিবেশ ফেরত আসবে।’
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনা পরোক্ষভাবে নির্বাচনী পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে স্বীকার করছে ইসি। সানাউল্লাহ বলেন, ‘বৃহত্তর আবেগ ও অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে দুষ্টচক্র যে কাজটি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে মর্মে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে ২০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আশা হয়েছে মর্মে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’ ময়মনসিংহে একজনকে পুড়িয়ে হত্যা নিয়ে এ নির্বাচন কমিশনার জানান, তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করছেন। জনমনে যাতে স্বস্তি ফেরত আসে, মানুষ যাতে আশ্বস্ত হয় এবং রাজনৈতিক দলগুলো যাতে যথাযথভাবে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে, সেজন্য ইসি বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করেছে। পাশাপাশি তফসিল অনুযায়ী দল ও প্রার্থী যাতে নির্বিঘ্নে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারেন, সে নির্দেশনা বাহিনীগুলোকে দেয়া হয়েছে।
ইসি সানাউল্লাহ জানান, ‘নির্বাচনে সেনাবাহিনী এক লাখ সদস্য মোতায়েন করবে। এর এক-তৃতীয়াংশ এরই মধ্যে মাঠে রয়েছে। বাকিরা ধাপে ধাপে নির্বাচনের আগেই মোতায়েন হবে।’ তিনি আরো জানান, যৌথ বাহিনীর ‘ডেভিল হান্ট’ নামের বিশেষ অভিযান চলছে। এ অভিযানে ১৩ ডিসেম্বর থেকে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার সন্ত্রাসী গ্রেফতার হচ্ছে। একটি বাহিনী ৫৬টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। অবৈধ মোটরসাইকেলসহ হাজার হাজার যানবাহন চেক করে মামলা দেয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীদের জামিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আইন উপদেষ্টা এরই মধ্যেই বলেছেন, সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে, এটা নিয়ে উদ্বেগ আছে। তবে আদালতের বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারি না। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের হাতে তুলে দেয়া।’

আপনার মতামত লিখুন