খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

২০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত বিএনপির প্রচারণায় পাবে নতুনত্ব লন্ডন যাওয়ার হিড়িক

একটি ফোন কলের অপেক্ষা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
একটি ফোন কলের অপেক্ষা

ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে চলেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে ২০০ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি ১০০ আসনের মধ্যে অর্ধশত আসন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের ছাড় দেওয়া হবে। বাকি ৫০টি আসনে একাধিক প্রার্থী থাকায় যাচাইবাছাই চলছে। এসব আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে প্রতিদিন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৈঠক করে চলেছেন। এদিকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে অনেকে তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন। অনেকে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ লাভের জন্য লন্ডন যাচ্ছেন। তবে তিনি কাউকে সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না। তারেক রহমান নিজেই ফোন করে প্রার্থী মনোনয়নের সংকেত দিচ্ছেন। এ অবস্থায় যাঁরা এখনো সবুজসংকেত পাননি তাঁরা তারেক রহমানের ফোনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
২০০ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত : জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই মাঠে সক্রিয় হচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের ফোন করে নির্বাচনি প্রস্তুতির নির্দেশ দিচ্ছেন। দলটির গুলশান কার্যালয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক। সেসব বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়েছেন তারেক রহমান। জেলাভিত্তিক এই বৈঠকগুলোর ফলাফল অনুযায়ী এখন একেকটি আসনে একজন করে প্রার্থীকে বাছাই করা হচ্ছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ও দলীয় মূল্যায়নের পর নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ ৩০০ আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে জোটগত সমঝোতার কারণে অন্তত ৫০টি আসনে পরিবর্তন আনা হতে পারে। মাঠ থেকে শুরু করে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতাদের মতামত নিয়ে প্রার্থী তালিকা তৈরি করছেন তারেক রহমান। চলতি মাসের মধ্যে ২০০ প্রার্থীকেই মৌখিকভাবে সবুজসংকেত দেওয়া হবে। মিত্র বা সমমনা রাজনৈতিক দল এবং নিজের দলের জটিল কিছু আসনের প্রার্থিতা নিষ্পত্তির জন্য ১০০ আসন বাদ রেখে সবুজসংকেত প্রদানের জন্য এই তালিকা করছেন।
সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে কয়েকটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-৪ আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবীন, ঢাকা-৫ আসনে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা-৫ আসনের প্রধান সমন্বয়ক নবীউল্লাহ নবী, ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস, ঢাকা-১৩ আসনে সমমনা দল এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১৬ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা-১৭ আসনে সমমনা দল বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে চূড়ান্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া-১ আসনে কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৩ জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৪ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন এবং বগুড়া-৫ আসনে সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। সূত্র জানিয়েছে, কুমিল্লা-১ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ঠাকুরগাঁও-১ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নরসিংদী-২ ড. আবদুল মঈন খান, সিরাজগঞ্জ-২ ইকবাল হাসান মাহমুদ, কক্সবাজার-১ সালাহউদ্দিন আহমদ, ভোলা-৩ মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, নোয়াখালী-৩ বরকতউল্লা বুলু, নোয়াখালী-৪ মো. শাহজাহান, লক্ষ্মীপুর-৩ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, লালমনিরহাট-৩ আসাদুল হাবিব দুলু, জামালপুর-১ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, খুলনা-৩ রকিবুল ইসলাম বকুল, নেত্রকোনা-১ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চুয়াডাঙ্গা-২ মাহমুদ হাসান খান, গাজীপুর-৫ ফজলুল হক মিলন, সিরাজগঞ্জ-৫ আমিরুল ইসলাম খান, নেত্রকোনা-৪ লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অনেকেই পার্টির পক্ষ থেকে সবুজসংকেত পেয়ে নির্বাচনি মাঠে কাজ করে চলেছেন। জানতে চাইলে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘নড়াইল-২ আসনে ২০১৮ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলাম। এবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন এই আসন থেকে আমাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন।’ ড. ফরহাদ বলেন, ‘এজন্য পুরোদমে নির্বাচনি এলাকায় কাজ করে যাচ্ছি।’ আরেক শরিক দল বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান জানান, তিনি শতভাগ আশাবাদী ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপি তাকে মূল্যায়ন করবে।
প্রচারে আসছে নতুন মাত্রা : আগামী নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটি এবার মাঠের পাশাপাশি ডিজিটাল দুনিয়াতেও সমানভাবে সক্রিয় হতে চায়। সে লক্ষ্যেই গঠন করা হচ্ছে নতুন একটি অনলাইন ও তৃণমূলভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ গ্রাসরুটস নেটওয়ার্ক-বিজিএন।
এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিএনপি তাদের তৃণমূলের শক্তিকে সুসংগঠিত করবে এবং অনলাইন প্রচারকে আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে অপপ্রচার মোকাবিলায় কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। বিজিএন গঠনের প্রস্তাব এরই মধ্যে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর অনুমোদিত হয়েছে। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার ১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। প্রত্যেক কেন্দ্রীয় নেতা ২০টি আসনের সমন্বয় করবেন। বিজিএন-এর অধীনে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে দুজন করে ৬০০ জন স্নাতক পাস অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে। এই অ্যাক্টিভিস্টরা সরাসরি তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করবেন এবং নিয়মিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। বিজিএন স্থায়ী কমিটিতে নিয়মিত রিপোর্ট জমা দেবে, যা দলের নীতিনির্ধারণী আলোচনায় ব্যবহৃত হবে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য অ্যাক্টিভিস্টদের সংক্ষিপ্ত আত্মজীবনী জমা পড়েছে এবং সেখান থেকে যাচাইবাছাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
লন্ডন যাওয়ার হিড়িক : গত কয়েক মাসে মনোনয়ন লবিং-তদবিরের অংশ হিসেবে বিএনপির দলীয় এবং যুগপৎ আন্দোলনের নেতারা তারেক রহমানের সাক্ষাৎ লাভের জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডন সফর করেছেন। তবে বেশির ভাগই সাক্ষাৎ পাননি। দলীয় নেতা থেকে শুরু করে সমমনা দল ও জোটের নেতা, বুদ্ধিজীবী সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী নেতাও ভিড় করছেন সেখানে। দলের হাইকমান্ড তথা প্রিয় নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে অন্তত কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও সাক্ষাতের একটা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। তবে অনেককে বিফল মনোরথে লন্ডন থেকে ফিরে আসতে হয়েছে। তবে অনেক চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত যেসব সৌভাগ্যবান ব্যক্তি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ পাচ্ছেন তাঁরা উৎফুল্ল মনে ঢাকায় ফিরছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টও করছেন কেউ কেউ।
আজ ইসিতে চিঠি দেবে বিএনপি : আজ রবিবার নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেবে বিএনপি। ‘জোটবদ্ধ হলেও নিজেদের দলীয় প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে’- নির্বাচন সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর এ অংশের পরিবর্তন চেয়ে ইসিতে এ চিঠি পাঠাবে দলটি। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য গত রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আরপিওর ২১ ধারায় কোনো নিবন্ধিত দল জোটভুক্ত হলে জোটের যে কোনো দলের প্রতীকে নির্বাচন করার স্বাধীনতা ছিল।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হামজনিত কারণে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাকি ৮ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১১০৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ১৭৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ শিশুর মধ্যে ৬ জনই ঢাকা বিভাগের। এতে বোঝা যাচ্ছে রাজধানীতে সংক্রমণের হার ও তীব্রতা সবথেকে বেশি। গত এক মাসে মোট ১৮,২৩১ জন শিশু উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে, যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯,৩০৪ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব ক্রমান্বয়ে জটিল আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে উপসর্গ নিয়ে
শিশুদের শরীরে জ্বর ও লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা বিভাগের বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অপরিশোধিত তেলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
অপরিশোধিত তেলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ

অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। গতকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল থেকে চট্টগ্রামের এই কারখানাটিতে পরিশোধন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইআরএল কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শোধনাগারটি সচল রাখতে গত কয়েকদিন ধরে বিকল্প সব পথ অবলম্বন করা হয়েছিল:
মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা ৫ হাজার টন এবং চারটি স্টোরেজ ট্যাংকের তলানিতে থাকা ‘ডেড স্টক’ তুলেও পরিশোধন কাজ চালানো হয়। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৪,৫০০ টন তেল পরিশোধন করলেও, সংকটের কারণে গত মাস থেকে তা কমিয়ে ৩,৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। গত ৪ মার্চ থেকেই ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুদ ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসে, যা একটি শোধনাগার চালানোর জন্য একেবারেই অপর্যাপ্ত।
প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হবে কি না—এমন উদ্বেগের মুখে জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করে জানয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ইআরএল বন্ধ থাকলেও জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় বা বাজারে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত এবং বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর একটি বড় অংশই আমদানিকৃত পরিশোধিত তেল দিয়ে মেটানো হলেও, অভ্যন্তরীণভাবে তেল পরিশোধনের একমাত্র উৎসটি বন্ধ হয়ে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্ষবরণে বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের সন্ধান

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
বর্ষবরণে বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের সন্ধান

ভিন্নতা মুছে ফেলার চেষ্টা মানেই প্রকৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। এই পৃথিবীর অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য তার বৈচিত্র্যে-রঙে, রূপে, ভাষায়, বিশ্বাসে এবং চিন্তার বহুমাত্রিকতায়। মানুষে মানুষে পার্থক্যই পৃথিবীকে জীবন্ত করে তোলে, তাকে দেয় গভীরতা ও বিস্ময়ের অনন্ত সম্ভাবনা। যদি সবকিছু একরকম হয়ে যেত, তবে জীবন হয়ে উঠত নিস্তরঙ্গ, সৃষ্টিশীলতা হারিয়ে ফেলত তার আলো। বৈচিত্র্য আমাদের শুধু আলাদা করে না, বরং আমাদের শেখায় সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান এবং নতুনকে গ্রহণ করার সাহস। তাই ভিন্নতাকে মুছে ফেলার বদলে তাকে গ্রহণ ও লালন করাই মানবিকতার প্রকৃত পরিচয়।
এই ভাবনার মাঝেই আসে বাংলা নববর্ষ, নতুন সূচনার বার্তা নিয়ে। পুরোনোকে পেছনে ফেলে নতুনের আহ্বান জানায় এই উৎসব। রঙিন পহেলা বৈশাখে মানুষ যখন আনন্দে মেতে ওঠে, ঘরে ঘরে সাজে উৎসবের আবহ, তখন এই আনন্দ যেন সার্বজনীন হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সমাজের একাংশে যখন উৎসবের রং ছড়ায়, অন্য প্রান্তে তখন জমে ওঠে শোক, বেদনা আর হতাশার কালো ছায়া। যেন উৎসবের আলো কোথাও গিয়ে আটকে যায় বিভাজন, অসহিষ্ণুতা এবং সহিংসতার দেয়ালে।
সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একদল মানুষ পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। মৃত্যুর আগে বারবার নিজের কথা বলার সুযোগ চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেই মানবিক আবেদন হারিয়ে যায় উন্মত্ত জনতার চিৎকারে। এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়; এটি আমাদের সমাজে বেড়ে ওঠা অসহিষ্ণুতার এক নগ্ন প্রতিচ্ছবি।
এই ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। আমাদের সমাজে ক্রমেই একমুখী চিন্তা ও মতের প্রাধান্য বাড়ছে। বহুত্ববাদ, যা একটি সুস্থ সমাজের ভিত্তি, তা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে ভিন্নমত প্রকাশ করলেই মানুষকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে, তাকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলে না, বরং একটি জাতির গণতান্ত্রিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে।
গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো মতের ভিন্নতা এবং সেই ভিন্নতার সহাবস্থান। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি, ভিন্নমতকে ক্রমেই দমন করা হচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেবল সংবিধানের পাতায় সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে, বাস্তব জীবনে তা হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ। মানুষ নিজের মত প্রকাশে ভয় পাচ্ছে, দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। এই ভয়ের সংস্কৃতি একটি সুস্থ সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, কারণ এটি সৃষ্টিশীলতা ও উদ্ভাবনের পথ রুদ্ধ করে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্তি উদযাপনের পর এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে ওঠে-আমরা কি সেই আদর্শের পথে আছি, যার জন্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল? ১৯৭১ সালের সংগ্রাম শুধু একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই ছিল না; এটি ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সহাবস্থানের এক স্বপ্ন। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে? আমরা কি সত্যিই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে পেরেছি, নাকি ক্রমশ সরে যাচ্ছি সেই পথ থেকে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংকীর্ণতা নতুন নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার রূপ বদলেছে, কিন্তু চরিত্রে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। সাম্প্রতিক সময়ে এই সংকীর্ণতা আরও তীব্র হয়েছে। ভিন্নমতকে দমন করার প্রবণতা বেড়েছে, আর রাজনীতি হয়ে উঠেছে বিভাজনের হাতিয়ার। প্রতিযোগিতামূলক গণতন্ত্রের নামে সমাজকে আরও বিভক্ত করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
রাজনীতিকরা প্রায়ই ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি এবং শান্তির কথা বলেন। কিন্তু সেই কথাগুলো অনেক সময়ই বাস্তব উদ্যোগের অভাবে ফাঁপা বাণীতে পরিণত হয়। যখন আদর্শ ও নৈতিকতার চেয়ে ক্ষমতার স্বার্থ বড় হয়ে ওঠে, তখন গণতন্ত্র তার প্রকৃত অর্থ হারায়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়, আর সংখ্যালঘু বা ভিন্নমতের কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায় কোলাহলের ভিড়ে।
এই বাস্তবতায় আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে-আমরা কেমন সমাজ চাই? এমন একটি সমাজ, যেখানে ভিন্নমত দমন করা হবে, নাকি এমন একটি সমাজ, যেখানে মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু সহাবস্থানও নিশ্চিত হবে? বৈচিত্র্যকে ভয় পেলে আমরা নিজেরাই নিজেদের সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলব।
সহনশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু আইন বা শাস্তি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে শেখাতে হবে ভিন্নতাকে সম্মান করার গুরুত্ব। সংস্কৃতি ও পারিবারিক মূল্যবোধের মাধ্যমেও এই শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে। ধর্ম, ভাষা বা মতের পার্থক্য নয়-মানুষ হিসেবে আমাদের অভিন্ন পরিচয়ই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় ভিত্তি।

বাংলা নববর্ষের এই সময় তাই শুধু আনন্দের নয়, আত্মসমালোচনারও। নতুন বছরের শুরুতে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত, আমরা বৈচিত্র্যকে রক্ষা করব, সহনশীলতাকে শক্তিশালী করব এবং একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলব। কারণ একটি দেশের উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক সূচকে মাপা যায় না; তা মাপা যায় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা এবং সহাবস্থানের মানদণ্ডে।
নতুন বছরের সূচনায় তাই প্রত্যাশা একটাই – বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য, বিভেদের মাঝে সহমর্মিতা, আর সংঘাতের বদলে সহাবস্থানের এক নতুন বাংলাদেশ।
রূপসী বাংলার সকল পাঠক-কে শুভ নববর্ষ।