খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

প্রবীণ জীবন সমাজ ও অভিজ্ঞতার আয়নায়

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
প্রবীণ জীবন সমাজ ও অভিজ্ঞতার আয়নায়

প্রবীণ জীবন সমাজ ও অভিজ্ঞতার আয়নায়
উজ্জ্বল হোসাইন
প্রবীণরা সমাজের অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান অংশ। তাঁদের জীবন সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা সমাজের জন্য অমূল্য সম্পদ। প্রবীণদের জীবন কেবলই বার্ধক্যের গল্প নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ পথচলার প্রতিচ্ছবি, যেখানে রয়েছে ইতিহাসের সাক্ষী হওয়া, পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সমাজে প্রবীণদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত, তাঁদের অভিজ্ঞতার মূল্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এবং কীভাবে তাঁদের জীবনকে আরো সম্মানজনক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করা যায়—এসব বিষয় প্রবন্ধে বিশদভাবে আলোচনা করা হবে।
প্রবীণদের অভিজ্ঞতা একটি সমাজের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের অংশ। তাঁদের সংগ্রামী জীবন, কাজের অভিজ্ঞতা, পারিবারিক দায়িত্ব, নৈতিক শিক্ষা—এসবই নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়। একজন প্রবীণ ব্যক্তি জীবনে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছেন। তাঁরা দেখেছেন কিভাবে সমাজ পরিবর্তিত হয়েছে, জীবনযাত্রা সহজ হয়েছে, আবার কখনো কঠিন চ্যালেঞ্জ এসেছে। এই অভিজ্ঞতাগুলো ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। প্রবীণদের কাছ থেকে পারিবারিক বন্ধন, ত্যাগ, ভালোবাসা ও দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা পাওয়া যায়। অতীত প্রজন্মের অভিজ্ঞতা পারিবারিক সম্পর্ককে মজবুত করতে সহায়ক হতে পারে। প্রবীণরা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের কর্মজীবনের গল্প পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারে, বিশেষ করে যখন একজন তরুণ ব্যক্তি নিজের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। একটি সভ্য সমাজের বৈশিষ্ট্য হলো প্রবীণদের যথাযথ সম্মান ও যত্ন প্রদান করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, অনেক সমাজেই প্রবীণদের অবহেলা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রবীণদের কথা গুরুত্বসহকারে শোনা হয় না। তাঁদের সিদ্ধান্ত ও মতামতকে মূল্যহীন মনে করা হয়, যা তাঁদের মানসিকভাবে কষ্ট দেয়। অনেক প্রবীণ মানুষ একাকীত্বে ভোগেন, বিশেষ করে যদি তাঁরা পরিবারের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হন। আধুনিক সমাজে কর্মব্যস্ত জীবনধারার কারণে অনেক সময় সন্তানরা বাবা-মাকে যথাযথ সময় দিতে পারেন না, যা প্রবীণদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সমাজের উচিত প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল হওয়া। তাঁদের প্রতি সহানুভূতি, যত্ন ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত। প্রবীণদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য পরিবার, সমাজ ও সরকারকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। তাই প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতা ও উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রবীনদের শারীরিক সুস্থতার জন্য-সুষম খাদ্য গ্রহণ করা, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও হালকা ব্যায়াম করা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া
প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পরিবার ও সমাজের সাপোর্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। একাকীত্ব, অবহেলা ও মানসিক চাপ প্রবীণদের বিষণ্ণতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই—তাঁদের সাথে সময় কাটানো, তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে যুক্ত রাখা, প্রযুক্তির এই যুগে প্রবীণদের ডিজিটাল দুনিয়ার সাথে পরিচিত করানো দরকার। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, অনলাইন ব্যাংকিং, টেলিমেডিসিন ইত্যাদি শেখানোর মাধ্যমে তাঁদের জীবনকে সহজ করা সম্ভব।অনেক প্রবীণ মানুষ প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হলেও তাঁদের শেখানোর মতো কেউ থাকে না। তরুণ প্রজন্ম যদি তাঁদের সাহায্য করে, তাহলে তাঁরা প্রযুক্তির সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন এবং একাকীত্ব কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
প্রবীণদের জন্য করণীয় উদ্যোগ হলো- পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব, প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করা, তাঁদের সাথে সময় কাটানো, মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার খোঁজ রাখা, প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, প্রবীণ ভাতা ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করা, প্রবীণদের জন্য বিনোদনমূলক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা। অনেক দেশে প্রবীণদের জন্য বিশেষ সংগঠন রয়েছে, যেখানে তাঁরা সময় কাটাতে পারেন, বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন এবং নিজেদের মতামত ভাগ করে নিতে পারেন। আমাদের সমাজেও প্রবীণদের জন্য এমন সংগঠন গড়ে তোলা উচিত।
প্রবীণরা আমাদের সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, এবং অর্জন নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণার উৎস। জীবনের প্রতিটি ধাপে তাঁরা সংগ্রাম করেছেন, সমাজ ও পরিবারের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং দেশ ও জাতির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পর অনেক প্রবীণ মানুষ অবহেলা ও একাকীত্বের শিকার হন। প্রবীণদের জীবন শুধু দীর্ঘ সময়ের সমষ্টি নয়; এটি সংগ্রামের, অর্জনের, শিক্ষা ও মূল্যবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সমাজ ও পরিবার গঠনে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য।
পারিবারিক ও সামাজিক অবদান : প্রবীণরা পরিবারের মূল ভিত্তি। তাঁদের অভিজ্ঞতা, নৈতিকতা ও আদর্শ পরিবার ও সমাজের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে। তাঁরা সন্তানদের লালন-পালন করেন, শিক্ষা দেন, এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা : একজন প্রবীণ ব্যক্তি জীবনের বেশিরভাগ সময় কর্মক্ষেত্রে অতিবাহিত করেন। শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক—যে কোনো পেশাতেই থাকুক না কেন, তাঁরা সমাজের অগ্রগতির অংশ। তাঁদের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্য মূল্যবান হতে পারে, যদি সেটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা যায়।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সাক্ষী : প্রবীণরা অতীতের জীবন্ত দলিল। তাঁরা একসময়ে প্রত্যক্ষ করেছেন রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, যুদ্ধ, বিপ্লব, প্রযুক্তির অগ্রগতি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করতে পারে।
প্রবীণদের প্রতি সমাজের দায়িত্ব : একটি উন্নত ও মানবিক সমাজের চিহ্ন হলো প্রবীণদের প্রতি যথাযথ যত্ন ও সম্মান প্রদান করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, অনেক প্রবীণ মানুষ বার্ধক্যে একাকীত্ব ও অবহেলার শিকার হন। সমাজের উচিত প্রবীণদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে সম্মানের চোখে দেখা। তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, পারিবারিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা, এবং তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবীণরা বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হন। তাঁদের জন্য উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, এবং মানসিক প্রশান্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। পরিবার ও সমাজের উচিত তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং মানসিক সমর্থন দেওয়া। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর উচিত প্রবীণদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা, যেমন : বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে যানবাহনে যাতায়াত, প্রবীণ ভাতা ও পেনশন সুবিধা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ
প্রবীণদের চ্যালেঞ্জ ও সমাধান : বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে অনেক প্রবীণ মানুষ একাকীত্বে ভোগেন। সন্তানরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে, বন্ধুরা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়, এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে অনেকেই বাইরে যেতে পারেন না। ফলে তাঁরা মানসিক অবসাদে ভোগেন। পরিবারের উচিত নিয়মিত সময় দেওয়া, প্রবীণদের জন্য সামাজিক সংগঠন তৈরি করা, প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা, অনেক প্রবীণ মানুষ কর্মক্ষমতা হারানোর পর আর্থিক সংকটে পড়েন। পেনশন ব্যবস্থা না থাকলে বা পর্যাপ্ত সঞ্চয় না থাকলে তাঁদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে যায়। প্রবীণ ভাতা ও পেনশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, বয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা, আর্থিক সহায়তার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যেমন : উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, বাত, হৃদরোগ ইত্যাদি। অনেক প্রবীণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা পান না। বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা। প্রবীণদের জন্য বিশেষ হাসপাতাল ও ক্লিনিক স্থাপন করা।
বর্তমান যুগে প্রযুক্তি প্রতিটি ক্ষেত্রকে সহজ করে তুলেছে, কিন্তু প্রবীণদের অনেকেই ডিজিটাল দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে পড়ছেন। ফলে তাঁরা ব্যাংকিং, টেলিমেডিসিন, অনলাইন যোগাযোগ ইত্যাদি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। প্রবীণদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া। সহজ ও ব্যবহারবান্ধব প্রযুক্তি তৈরি করা। পরিবারের তরুণদের উচিত প্রবীণদের ডিজিটাল দক্ষতা শেখানো।
প্রবীণদের জন্য করণীয় : প্রবীণদের জীবনকে সুন্দর ও সম্মানজনক করতে তাঁরা নিজেরাও কিছু উদ্যোগ নিতে পারেন। সক্রিয় ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। নিয়মিত ব্যায়াম করা। সুষম খাদ্য গ্রহণ করা। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া। সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকা। বন্ধু ও পরিবারের সাথে সময় কাটানো। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা। বই পড়া, লেখালেখি করা বা নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করা। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা
ছোটখাটো ব্যবসা বা হস্তশিল্পে যুক্ত থাকা। পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করা। ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন কাজ শেখা
প্রবীণরা আমাদের সমাজের ইতিহাসের ধারক এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনের প্রেরণা। তাঁদের অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও পরামর্শ আমাদের জন্য অমূল্য সম্পদ। প্রবীণদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও যত্ন নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একটি সুস্থ, মানবিক ও উন্নত সমাজ গড়তে হলে প্রবীণদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা জরুরি। তাঁদের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলে তাঁরা বার্ধক্যেও সম্মানজনক ও সুখী জীবনযাপন করতে পারবেন। প্রবীণরা আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতার ধারক ও বাহক। তাঁদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ আমাদের জীবনের জন্য অমূল্য সম্পদ। প্রবীণদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও যত্ন প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সমাজের সকল স্তরের মানুষের উচিত প্রবীণদের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং তাঁদের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে তোলার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা। প্রবীণদের প্রতি আমাদের সম্মান ও ভালোবাসাই প্রমাণ করে আমরা কতটা সভ্য ও মানবিক সমাজে বাস করি।
লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক, চাঁদপুর।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।