খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

ক্লান্ত পথিকের ক্লান্তিহীন ভালোবাসা

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫, ১:০৭ অপরাহ্ণ
ক্লান্ত পথিকের ক্লান্তিহীন ভালোবাসা

পৃথিবীর কোনো মানচিত্রেই তার গন্তব্য ছিলো না। না ছিলো কোনো বাঁধা সময়, না নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য। যে মানুষটা শুধু হেঁটেই চলেছে বছরের পর বছর লোকেরা তাকে ক্লান্তহীন পথিক বলে ডাকে। তার আসল নাম? সেটা কেউ জানে না। কেউ একজন বলেছিল, তার নাম হয়তো আদিত্য। কেউ বলেছে, আহসান। কিন্তু সে শুধু একবার বলেছিল, আমার নামটাও যাত্রাপথে ফেলে এসেছি। এখন আমি শুধু পথেরই।
সে এসেছিল ছোট্ট এক নদীঘেরা গ্রামে, নাম ছিল অচিন্তপুর। সন্ধ্যার আগ মুহূর্ত। নদীর তীরে বসে কিছু বালক খেলছিল, আর একপাশে গরু ঘরে ফিরছিল খালি পেট নিয়ে। পথিক এসেই বসে পড়েছিল নদীর ঘাটে। তার পরনে ধুলিধূসর পাঞ্জাবি, হাতে বাঁশের লাঠি, কাঁধে ফাটা ব্যাগ। চোখ দুটো ক্লান্ত, অথচ শান্তির পরিপূর্ণতায় ভরপুর।
তখনই তার সাথে প্রথম দেখা হয় গ্রামের একমাত্র লাইব্রেরির দায়িত্বপ্রাপ্ত তরুণী—নিভা। বয়স বাইশ-তেইশ হবে। চোখে সরলতা আর কণ্ঠে দৃঢ়তা। সে লাইব্রেরির পুরোনো বই গুছিয়ে ফিরছিল। পথিককে দেখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। হঠাৎ এগিয়ে এসে বলল,
আপনি এখানে বসে আছেন, কোথাও যেতে হবে না?
পথিক হেসে বলল, চলতে চলতেই তো থামি মাঝে মাঝে। এই থামাগুলোই আমার বিশ্রাম।
নিভা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনার বাড়ি কোথায়?
পথিক উত্তর দিল, যেখানেই রাত হয়, সেখানেই আমার বাড়ি।
আপনি কী করেন?
মানুষ দেখি, গল্প শুনি, ভালোবাসা খুঁজি।
সেদিনই প্রথম, তারপর থেকে নিভা প্রায় প্রতিদিনই কিছু সময় নদীর ঘাটে বসে তার সঙ্গে কথা বলত। গল্প শুনত। জানতে চাইত, সে এতো হেঁটে বেড়ায় কেন? কোথা থেকে এসেছে? কিছুই জানা যেত না। সে শুধু বলত, আমি ভালোবাসা খুঁজি, যেটা হারিয়ে ফেলেছি অনেক বছর আগে।
দিন যেতে লাগল। পথিক থাকতেই লাগল অচিন্তপুরে। গ্রামের লোকজন শুরুতে সন্দেহ করলেও পরে তাকে আপন করে নেয়। কেউ তাকে খেতে দেয়, কেউ চা বানিয়ে আনে। নিভার লাইব্রেরির পাশেই একটা পুরোনো ভাঙা ঘর সেটাকেই সে রাতের আশ্রয় বানাল।
নিভা মাঝে মাঝে তার জন্য বই এনে দিতো রবীন্দ্রনাথ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, এমনকি জীবনানন্দের কবিতা।
পথিক বলত, এই লেখকেরা তো আমাকেই লিখেছে কোনো এক অচেনা, অদৃশ্য পথিককে।
একদিন সন্ধ্যায় নিভা বলল,
আপনার গল্প শুনে মনে হয়, আপনি কাউকে খুব ভালোবেসেছিলেন।
পথিক কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
ভালোবাসা তো কখনো চলে যায় না, আমরা শুধু তাকে হারিয়ে ফেলি। আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম—সেই নারীকে, যে আমার চোখে আকাশ দেখত, আমার গল্পে জীবন খুঁজত। সে বলত, একদিন আমিও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গল্পকার হবো। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে আমি একাই রয়ে গেলাম।
সে কোথায়?
আমি জানি না। হয়তো কোনো গ্রামে সে এখনো অপেক্ষা করে, হয়তো অন্য কারো পাশে বসে চুপ করে থাকে। আমি শুধু হাঁটি, যদি কখনো তার অপেক্ষার ছায়াটাও পাই।
নিভার চোখে পানি চলে এল। সে বুঝতে পারল, এই পথিক শুধু ক্লান্তহীন না, এক ভাঙা হৃদয়ের গল্পও বয়ে বেড়ায় সে।
গ্রামের একটি মেলার আয়োজন হল। সবাই আনন্দে মেতে উঠল। পথিককেও ডাকা হলো। সে গান গাইল—পুরনো বাউল গান, হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা সুরে। সবাই চুপ করে শুনল। গানের শেষে নিভা এগিয়ে গিয়ে তার পাশে দাঁড়াল। হাতে একটা ছোট্ট চিঠি ধরিয়ে দিল।
এটা আমার জন্য?
হ্যাঁ। এবার আপনিই পড়বেন।
পথিক ঘরে ফিরে চিঠি খুলল-
আপনার পথচলার গল্প শুনে মনে হয়, আপনি শুধু কাউকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন না, আপনি নিজেকেও খুঁজে বেড়াচ্ছেন।
আমি জানি না আপনি কোথা থেকে এসেছেন, জানি না কোথায় যাবেন।
তবে আমি চাই, এই গ্রামটাই আপনার গন্তব্য হোক।
আমি চাই, আপনি আর ক্লান্ত না হন।
আপনি থাকতে পারেন এখানে। আমার পাশে।
পথিক অনেকক্ষণ ধরে চিঠিটা ধরে রাখল। তার চোখে জল। খুব ধীরে সে নদীর ঘাটে গিয়ে বসল। চারপাশে নিস্তব্ধতা। মাথার ওপর চাঁদের আলো। সে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকল।
পরদিন সকালে কেউ আর তাকে খুঁজে পেল না।
নিভা ছুটে গেল নদীর পাড়ে, লাইব্রেরিতে, ভাঙা ঘরে। কোথাও নেই। কেবল ঘরের একপাশে একটা পুরোনো পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেল। নাম লেখা ক্লান্ত পথিকের ক্লান্তিহীন ভালোবাসা।
ভেতরে লেখা ছিল-
আমি ভালোবাসতে পারি, কিন্তু থামতে পারি না।
ভালোবাসা মানে শুধু কারো পাশে থাকা নয়,
অনেক সময় দূরে হেঁটে যাওয়াটাই আসল ভালোবাসা
যাতে কেউ অপেক্ষায় না থাকে, কষ্ট না পায়।
নিভা, তুমি আমার ভালোবাসার শেষ ছায়া।
আমি জানি, তুমি অপেক্ষা করবে না।
তবু যদি কখনো নদীর ঘাটে বসে কেউ বলে,
আমি তাকে চিনতাম, তবে জানবে, আমি ফিরে এসেছিলাম একবার খুব নিঃশব্দে।
বছর ঘুরে গেছে। নদীর পাড়ে এখনো বসে থাকে নিভা। কারো হাতে পুরোনো পাণ্ডুলিপি থাকলে সে পড়ে শোনায় সেই গল্প
ক্লান্ত পথিকের ক্লান্তিহীন ভালোবাসা
যে ভালোবাসা থামে না, অপেক্ষা চায় না, শুধু হেঁটে চলে যায় কোনো না কোনো হৃদয়ের আকাশে।
লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, চাঁদপুর।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।