খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

বিষ্ণপুরবাসীকে প্রকৃত সেবা দিতে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে চাই : এনাম চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
বিষ্ণপুরবাসীকে প্রকৃত সেবা দিতে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে চাই : এনাম চৌধুরী

চাঁদপুর জেলার ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী (এনাম)। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত এই সদালাপী মানুষটি এবার সরাসরি জনপ্রতিনিধি হয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মনোহরখাদী চৌধুরী বাড়ির কৃতী সন্তান এনাম চৌধুরী একটি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত পরিবারের উত্তরসূরি। তার পিতা গোলাম জিলানী চৌধুরী এবং মাতা সালেহা চৌধুরীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তিনি নিজেও জনসেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গোলাম মোস্তফা চৌধুরী (দুইবার), গোলাম মাওলা চৌধুরী মানিক মিয়া (ছয়বার) এবং গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী (একবার) বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে এনাম চৌধুরীও নিজেকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করতে চান।
একান্ত সাক্ষাাতে এনাম চৌধুরী বলেন, আমি এনাম চৌধুরী ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য আগ্রহী। মূলত জনগণের আহ্বান, ভালোবাসা এবং ইউনিয়নের উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগ আমাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি জানান, শুরুতে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু গত প্রায় ১৫ বছরে ইউনিয়নের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখে তার মধ্যে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, আমাদের ইউনিয়নের অনেক অবহেলিত মানুষ রয়েছে, যারা এখনো মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত। তাদের জন্য কিছু করতে হলে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন, আর সেটি হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ।
এনাম চৌধুরী আরও বলেন, তাদের পরিবার দীর্ঘ ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে এই ইউনিয়নের মানুষের পাশে ছিল। এখনও তারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ফলে ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে তাদের একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সেই আস্থা ও ভালোবাসা তার নির্বাচনী যাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে তিনি জানান, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন নিবেদিত কর্মী। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় তিনি নির্দলীয়ভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যদিও দলের নেতাকর্মীদের সমর্থন তিনি পাবেন বলে আশাবাদী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান যুবদল সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক তার শৈশবের বন্ধু এবং ১৯৯১ সালে ছাত্রদলের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে এনাম চৌধুরী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমি শুধুমাত্র পরিচিতি লাভের জন্য নির্বাচন করতে চাই না। আমি নির্বাচিত হওয়ার জন্যই মাঠে নামতে চাই। কারণ এই ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি মানুষ আমাকে ও আমার পরিবারকে চেনে। তিনি জানান, এর আগে তিনি সরাসরি কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি, তবে ১৯৯১ সাল থেকে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে পরিচালনা কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও জনসংযোগ সম্পর্কে তার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচনী পরিকল্পনা সম্পর্কে এনাম চৌধুরী বলেন, তার লক্ষ্য একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও স্বনির্ভর ইউনিয়ন গড়ে তোলা। তিনি মনে করেন, উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করাই প্রকৃত উন্নয়ন। তিনি বলেন, আমাদের ইউনিয়নে উন্নয়নের অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং নারীর ক্ষমতায়ন—এসব ক্ষেত্রেই কাজ করতে চাই।
সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের পরিবার সবসময়ই বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে তিনি ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগ শুরু করেছেন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের মতামত নিচ্ছেন। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে। আমরা চাই, জনগণের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রতিফলিত হোক। ভোটারদের উদ্দেশ্যে এনাম চৌধুরী বলেন, আমাদের ইউনিয়ন শুধু একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়—এটি আমাদের পরিচয়, আমাদের ভবিষ্যৎ। এই উন্নয়নের দায়িত্ব আমাদের সবার। আমি একা কিছু করতে পারবো না, তবে সবার সহযোগিতা পেলে অবশ্যই একটি মডেল ইউনিয়ন গড়ে তুলতে পারবো।
তিনি দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, একটি সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য এই দুটি বিষয়কে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এ জন্য তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। এনাম চৌধুরী আরও বলেন, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, সততার সঙ্গে কাজ করি, তাহলে কোনো বাধাই আমাদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। আমি চাই, আমাদের সন্তানরা একটি নিরাপদ, শিক্ষিত ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠুক।
নিজের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিতে তিনি জানান, তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে ঢাকায় একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন, যেখানে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি নিজস্ব একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। সর্বশেষে তিনি ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমি আপনাদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। আমরা সবাই মিলে এমন একটি বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন গড়ে তুলবো, যা হবে শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রতীক।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনাম চৌধুরীর পারিবারিক ঐতিহ্য, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা তাকে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। তবে নির্বাচনের মাঠে অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেমন হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সবমিলিয়ে, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এনাম চৌধুরীর নাম আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসায় নির্বাচনটি যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে, তা বলাই যায়।

হামে আক্রান্ত শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
হামে আক্রান্ত শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের টিকা নিয়ে কোথায় কী ভুল হয়েছে তা খুঁজে বের করার আগে মানুষের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন মূল অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পোলিও ভ্যাকসিন গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, হামের টিকা নিয়ে কে দোষ করেছে সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা এটাই চেষ্টা করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিকাদান ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল বা অব্যবস্থাপনা হয়ে থাকলে তা নিয়ে তদন্ত করার বিষয়টি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। এই সংকট মোকাবিলার পর সরকার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো হলেও, সরকার এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বেশিরভাগ জেলাতেই টিকাদান শেষ হয়েছে। বাকি শিশুদেরকেও টিকার আওতায় আনা হবে। এছাড়া, আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, আজকে চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক চায়না সরকারের এনড্রোসমেন্টসহ ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল, যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজের সমপরিমাণ ভ্যাকসিন হাতে পেয়েছি। আমাদের হাতেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন রয়েছে। আমরা পোলিও ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করব। এটাতে কোনো অসুবিধা হবে না। মন্ত্রী বলেন, আমরা অ্যান্টির‌্যাবিস টিকাও দেওয়া শুরু করছি। একটা রোগীও এই ভ্যাকসিনের বাইরে থাকবে না। প্রতিটা ভ্যাকসিন এখন চলছে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল একটু শর্ট আছে। জুন নাগাদ আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ পেয়ে যাব। পূর্ব নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমরা বছরে দুইবার ভিটামিন-এ দেব। এই সেক্টরে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না। অনুষ্ঠানে সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা এবং ইপিআই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকারকে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে দিয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন।

২৭তম বিসিএস থেকে নিয়োগ পেলেন আরও ৯৬ জন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
২৭তম বিসিএস থেকে নিয়োগ পেলেন আরও ৯৬ জন

দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও অপেক্ষার পর ২৭তম বিসিএসের আরও ৯৬ নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (১৩ মে) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের ভিত্তিতে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৮ মে’র মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত দপ্তরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই তারিখের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অন্য কোনো নির্দেশনা না এলে ১৮ মে থেকেই তাদের যোগদান কার্যকর হবে। নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে তা চাকরিতে অনাগ্রহ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং নিয়োগ আদেশ বাতিল হয়ে যাবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা রক্ষার জন্য তাদের নিয়োগ কার্যকর ধরা হবে ওই ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে। অর্থাৎ, ধারণাগতভাবে তারা ব্যাচের অন্য কর্মকর্তাদের সমপর্যায়ের জ্যেষ্ঠতা পাবেন। তবে এই সুবিধার বিপরীতে কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা বা বেতন-ভাতা প্রদান করা হবে না। ২৭তম বিসিএসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জটিলতা চলছিল। প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হলেও ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সেই ফল বাতিল করে পুনরায় মৌখিক পরীক্ষা নেয়।
পরে প্রথম ভাইভার ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০০৮ সালে হাইকোর্ট ফল বাতিলকে বৈধ ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে আপিল বিভাগে বিষয়টি গড়ায়। অবশেষে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ ১ হাজার ১৩৭ জন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীকে চাকরিতে নিয়োগের নির্দেশ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ৬৭৩ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এবার আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়ার নতুন অগ্রগতি হলো।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতি বর্তমানে ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। একইসঙ্গে যুদ্ধে ‘পূর্ণ বিজয়’ নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালিতে আবারও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সামরিক পাহারা বা এসকর্ট দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে খারাপ প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটনের দাবির বিপরীতে গত সপ্তাহে ইরানের দেওয়া প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে, এই দুর্বল যুদ্ধবিরতি এখন ‘অবিশ্বাস্যভাবে নাজুক’ পরিস্থিতিতে রয়েছে। যুদ্ধবিরতির নাজুক অবস্থা উল্লেখ করে ট্রাম্প হাস্যরস করে বলেন, আমি যখন বলব যুদ্ধবিরতি লাইফ সাপোর্টে আছে, সেখানে ডাক্তার এসে বলেন, ‘স্যার, আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র এক শতাংশ!’
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজ পাহারা দেওয়ার প্রচেষ্টা পুনরায় শুরু করার কথা ভাবছেন। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ৬ মে ‘অপারেশন ফ্রিডম’ উপসাগরে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। তবে দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্রদের বাধার মুখে তা আকস্মিক বন্ধ করতে বাধ্য হন ট্রাম্প।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের শর্তে সংঘাত কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু গত সপ্তাহে ইরান পাল্টা যে শর্তগুলো দিয়েছে, তা ট্রাম্পের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে তিনি ‘আবর্জনা’ বা গার্বেজ বলে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি মনে করে চাপের মুখে আমেরিকা পিছু হটবে, তবে তারা ভুল করছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি পূর্ণ বিজয় অর্জন করতে যাচ্ছি। আমি ক্লান্ত বা বিরক্ত হব না, আমার ওপর কোনো চাপ নেই।
ইরানের সঙ্গে এখন আলোচনা করতে চায় কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প উল্টো ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, সেখানে‘নরমপন্থী’ ও ‘পাগল’ এই দুই ধারার লোক রয়েছে। যারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় তাদের উদ্দেশে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—যদি সত্যি যুদ্ধ বাধে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিতে তা হবে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের একটি লড়াই।