খুঁজুন
                               
, ,

সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক কি টিকবে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক কি টিকবে?

অধ্যাদেশ তৈরি করে পাঁচ দুর্বল শরিয়া ব্যাংক-কে একত্রিত করে সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক করেছিল অধ্যাপক ইউনূসের অন্তবর্তী সরকার। যদিও ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রার পর এর চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন, আর এমডি যোগদানই করেননি,তবুও লাখ লাখ গ্রাহকের প্রত্যাশা ছিল তাদের অর্থ ফেরত পেতে এই ব্যাংকটি হয়তো ভূমিকা রাখবে।
কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এই ব্যাংকটি বড় অনিশ্চয়তায় পড়ল। কারণ, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় প্রণিত ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন অর্ডিনেন্স’ সংশোধন করেছে বর্তমান সরকার। এর মাধ্যমে বর্তমানে পুনর্গঠনাধীন সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর ওপর সাবেক মালিকদের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় ফিরে পাওয়ার একটি আইনি পথ তৈরি হয়েছে।
সংশোধনীটি বিশেষভাবে পাঁচটি সংকটাপন্ন ব্যাংকের চলমান একীভূতকরণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে। এই ব্যাংকগুলো হলো – ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। এগুলোকে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের অংশ হিসেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে একীভূত করা হচ্ছিল। এখন তা আর থাকছে না বলেই মনে হচ্ছে।
শুক্রবার সংসদে পাস হওয়া নতুন বিধান অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর সাবেক মালিকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করে তাদের শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনরায় অধিগ্রহণ করতে পারবেন। এতে নবগঠিত সম্মিলিত ব্যাংক ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংকটাপন্ন পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে চারটি এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল,আর এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে।
কী সেই শর্ত
১৮ক ধারা সংযোজনের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি সংশোধন করেছে সরকার। এই ধারায় বলা হয়েছে, রেজোলিউশনের তালিকাভুক্ত কোনো ব্যাংকের আগের মালিকরা ওই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনঃঅধিগ্রহণের জন্য রেজোলিউশন কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন।

পুরনো মালিকদের ফিরতে হলে আবেদনের সঙ্গে আলাদা একটি অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। এতে উল্লেখ করতে হবে, তারা সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সব অর্থ পরিশোধ করবে, নতুন মূলধন যোগান দেবে এবং বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।

এছাড়া তারা আগের সব আমানতকারী ও পাওনাদারের দায় শোধ করবে, সরকারের কর ও রাজস্ব পরিশোধ করবে, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দেবে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও কমপ্লায়েন্স কাঠামো পুনর্গঠন করবে।আবেদন মঞ্জুরের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে সরকারের অনুমোদন নেবে। আবেদন চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের তিন মাসের মধ্যে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত অর্থের অন্তত সাড়ে সাত শতাংশ পে-অর্ডার দিতে হবে। বাকি অর্থ দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।
সরকার বলছে এটি বাজারভিত্তিক সমাধান। তবে আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের মাঝে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে পাঁচটি ব্যাংক রেজোলিউশনের মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার কাজ চলছিল। এখন নতুন ধারা যুক্ত করে বিল পাস করায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক টিকবে না।
একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের অর্থের পরিমাণ হবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রথম তিন মাসের মধ্যে দিতে হবে এবং বাকি অর্থ পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদে পরিশোধ করতে হবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এমন সহজ শর্তের কারণে আগের মালিকরা অবশ্যই তা বাস্তবায়নে রাজি হবে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কী হবে?
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক টিকবে কি না তা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে পাঁচ ব্যাংকের আগের মালিকদের ওপর। যারা পাঁচটি ব্যাংকের মালিকানায় আসবে, তাদের সিদ্ধান্তের ওপরই ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। তারা যদি মনে করেন আগের মতো পাঁচটি ব্যাংক আলাদাভাবে পরিচালনা করবেন, তাহলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আর টিকবে না। আর যদি সবাই মিলে একটি ব্যাংক হিসেবে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে এটি টিকে থাকতে পারে।

ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কল্যাণ’-কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতেই হবে। এ বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে এবং রায়ে আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যে এই বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারকদের স্বাক্ষরের পর রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণকর্তৃক দায়ের করা দুটি রিট আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কাছে এনবিআরের দাবি করা কর আদায়ের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পুনর্বমূল্যায়নের পর ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের আয়কর দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করেছিল গ্রামীণ কল্যাণ। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের একটি নতুন বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানি শেষে রুলগুলো খারিজ করা হয়।
গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভীর জানান, এনবিআরের কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করা হলেও আদালত তা খারিজ করে দেওয়ায় এনবিআরের দাবিই বহাল রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর এসংক্রান্ত একটি রায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে মামলাটি নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে শুনানির পর রিট আবেদনটি খারিজ হয়।

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের জরুরি সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের জরুরি সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জারি করা কঠোর নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গতকাল রোববার (১১ অক্টোবর) রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যেকোনো ধরনের তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ, আদান-প্রদান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সৌদি আইনে একটি দণ্ডনীয় বা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে পরিস্থিতি-সংশ্লিষ্ট কোনো সংবেদনশীল তথ্য, ছবি বা ভিডিও ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার)সহ কোনো মাধ্যমেই প্রচার বা মোবাইলে সংরক্ষণ না করার জন্য কঠোরভাবে অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস। পাশাপাশি প্রবাসীদের যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশিদের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের নির্ধারিত হটলাইন নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। নম্বরগুলো হলো:
শ্রমসংক্রান্ত টোল-ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৫
পাসপোর্টসংক্রান্ত টোল-ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৬
ডিপ্লোম্যাটিক উইংয়ের নম্বর: ৮০০১০০০১২৮
মৃত্যু-সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে: +৯৬৬৫৬৭০২১১৮০
এছাড়া যেকোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি এড়াতে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের অফিসিয়াল ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন হচ্ছে ১০ হাজার বিজিবি সদস্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন হচ্ছে ১০ হাজার বিজিবি সদস্য

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে সীমান্ত সংলগ্ন এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের নিকটবর্তী ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারিসহ সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত মণ্ডপগুলো এবং ব্যাটালিয়ন সদরের কাছাকাছি এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে বিজিবি নিরাপত্তা সহায়তা দেবে। পাশাপাশি দুর্গম ও দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে দ্রুত টহল ও তাৎক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার আলোকে ঢাকার দায়িত্বের পরিধি নির্ধারিত হবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।