খুঁজুন
                               
, ,

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা : পুলিশের ধারণা ঘাতক ‘প্রশিক্ষিত কিলার’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা : পুলিশের ধারণা ঘাতক ‘প্রশিক্ষিত কিলার’

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাসায় মা লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশও হতবাক। লাশের সুরতহাল ও আঘাতের ধরন দেখে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, ঘাতক হয় কোনো ‘প্রশিক্ষিত কিলার’, নয়তো অতিরিক্ত ক্ষোভে উন্মত্ত কোনো সাইকোপ্যাথ। সোমবার ঘটে যাওয়া এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে পুলিশ বলছে, সাধারণ মানুষের পক্ষে এমন নৃশংসতা প্রদর্শন প্রায় অসম্ভব। মা ও মেয়ের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে এসেছে লোমহর্ষক তথ্য। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এমন সুরতহাল সাম্প্রতিক সময়ে তারা দেখেননি। নিহত মা লায়লা আফরোজের শরীরে অন্তত ৩০টি জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাম গালে ৩টি, থুতনিতে ৪টি, গলার নিচে ৫টি, বাম হাতে ৩টি, দুই হাতের কব্জিতে মোট ৩টি, বুকের বাম পাশে ৯টি, পেটের বাম পাশে ২টি এবং তলপেটে ১টি গভীর আঘাত রয়েছে।
অন্যদিকে, মেয়ে নাফিসার গলা ও বুকের দুই পাশসহ শরীরে ৬টি গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ময়নাতদন্তকারী সূত্র। সোমবার রাতেই ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এর একটি সাধারণ সবজি কাটার ছুরি হলেও অন্যটি একটি বিশেষ ধরনের ‘সুইচ গিয়ার’। এটি আঙুলের মধ্যে এমনভাবে আটকে ব্যবহার করা হয়, যাতে আঘাতের সময় হাত থেকে ফসকে না যায়।
তদন্তকারীদের মতে, এই ধরনের অস্ত্র সচরাচর বাসাবাড়িতে ব্যবহার করা হয় না। ঘাতক সম্ভবত বাইরে থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। অস্ত্রের ধরন এবং ব্যবহারের কায়দা দেখে পুলিশের ধারণা, ঘাতক প্রশিক্ষিত অথবা সে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত (সাইকোপ্যাথ) হয়ে অতিরিক্ত ক্ষোভ থেকে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বাথরুমে প্রবেশ করে। সেখানে সে গোসল করে এবং নিজের রক্তমাখা পোশাক পরিবর্তন করে নিহত মেয়ের স্কুল ড্রেস পরে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এই ঘটনায় কথিত গৃহকর্মী আয়েশাকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, হত্যার ধরন ও নৃশংসতা দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ঘাতক প্রশিক্ষিত হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। হত্যার আগে ও পরে সন্দেহভাজনের উপস্থিতি ও কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেহেতু ঘাতক মেয়ের স্কুল ড্রেস পরে পালিয়েছে এবং বিশেষ অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তাই এটি পরিকল্পিত হতে পারে।
পুলিশ আশা করছে, পলাতক গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করা গেলেই এই নৃশংস জোড়া খুনের নেপথ্যের আসল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
নাটোরে দাফন সম্পন্ন
লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) বাদ জোহর নাটোর শহরের গাড়ীখানা কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। শহরের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে মা ও মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আহতদের স্বজনসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোরে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাদের মরদেহ নাটোর শহরের বড়গাছা এলাকার পৈতৃক বাড়িতে এসে পৌঁছায়। মা-মেয়ের নিথর দেহ একনজর দেখতে ভোর থেকেই আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীরা ভিড় জমান। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চাঁদপুরের চার লেখক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চাঁদপুরের চার লেখক

ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক সাহিত্য সম্মেলন-২০২৬ এ যোগ দিতে যাচ্ছেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক ও সাংবাদিক কাদের পলাশসহ চার লেখক। আগামী ১৪ থেকে ১৯ নভেম্বর ছয় দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে ১৪ জন কবি ও লেখক অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের কবি-সাহিত্যিকরা অংশ নেবেন। এতে বিভিন্ন দেশের সাহিত্যিকদের মধ্যে পারস্পরিক ভাববিনিময়, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন অংশগ্রহণকারীরা।

সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া চাঁদপুরের অন্য তিন লেখক হলেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) ও গবেষক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, কবি ও লেখক নুরুন্নাহার মুন্নি এবং কবি ও সংগঠক ম. নূরে আলম পাটওয়ারী।

আন্তর্জাতিক এ সাহিত্য সম্মেলনে চাঁদপুরের চার লেখকের অংশগ্রহণকে জেলার সাহিত্যাঙ্গনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি চাঁদপুরের সাহিত্যচর্চা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক লেখক ও সাংবাদিক কাদের পলাশ বলেন, সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পারা নিঃসন্দেহে আনন্দের ও গর্বের বিষয়। এ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কবি-লেখকদের সঙ্গে ভাববিনিময়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সাহিত্যিক সম্পর্ক জোরদার হবে। চাঁদপুরের লেখক হিসেবে এ সম্মেলনে অংশ নিয়ে আমরা আমাদের জেলার সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরতে চাই। আশা করি, এ আয়োজন দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্যিকদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।

সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন: এসপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন: এসপি

রাঙামাটির সাজেকে স্থানীয় সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মুখে আটকে পড়া প্রায় দুই হাজার পর্যটককে সম্পূর্ণ নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুর রকিব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের কঠোর পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন পর্যটকরা। তবে দুটি আঞ্চলিক সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে মাঝপথে উজো বাজারসহ কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বাধার মুখে পড়েন তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শেষ পর্যন্ত পর্যটকদের বহর নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বারবার এমন অবরোধের ফলে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং সাধারণ মানুষের জনজীবনও ব্যাহত হচ্ছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলন শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। বাসসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দুই নেতা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরকালে তিনি বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং জাপানি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর আগে সফরের প্রথম দিন তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।