খুঁজুন
                               
, ,

প্রবীণদের একাকিত্ব তৈরি হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
প্রবীণদের একাকিত্ব তৈরি হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ

নিম্নবিত্ত পরিবারে মা-বাবার ভরণপোষণে সামর্থ্য থাকে না। মধ্যবিত্ত পরিবারে ছেলেমেয়ে বিয়ের পর আলাদা হয়ে যায়। অনেকের সন্তান বিদেশে চলে যায়। ফলে প্রবীণ ব্যক্তিদের একাকিত্ব বাড়ছে।
বিশ্ব প্রবীণ দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার সকালে বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটির আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর সোবহানবাগে ড্যাফোডিল প্লাজার একাত্তর মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
বিশ্বব্যাপী প্রবীণ দিবস পালিত হয় ১ অক্টোবর। তবে শারদীয় দুর্গাপূজার কারণে বাংলাদেশে এবার পালিত হয় ৫ অক্টোবর। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় দিবসটির প্রতিপাদ্য করেছে– ‘একদিন তুমি পৃথিবী গড়েছো, আজ আমি স্বপ্ন গড়বো, সঙ্গে তোমায় রাখবো আলগে’। গতকালের সভায় বক্তারা জানান, বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু এখন প্রায় ৭২ বছর। দেশের ৬০ বছর বা তার ঊর্ধ্ব বয়স এমন মানুষের হার বর্তমানে প্রায় ১১ শতাংশ। এটা ২০৫০ সালের মধ্যে ২২ শতাংশে পৌঁছাবে। তিন দশকের মধ্যে প্রবীণদের সংখ্যা দাঁড়াবে তিন কোটি ৬০ লাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়তে থাকা এই জনগোষ্ঠীর সামনে যেমন শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে আর্থিক, সামাজিক এবং পারিবারিক সুরক্ষার সংকট। পরিবার কাঠামো, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং অসংক্রামক রোগের কারণে প্রবীণদের জীবনযাত্রা ক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সভায় প্রয়াত প্রবীণ ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. এম শমশের আলী, ড. আমিরুল ইসলাম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারুনুর রশীদ (বীরপ্রতীক) ও ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হকের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক ড. গোলাম শওকত হোসেন।
‘বার্ধক্যের চ্যালেঞ্জ: নিঃসঙ্গতা থেকে বৈষম্য প্রসঙ্গে’ মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে প্রবীণদের বড় অংশ পিছিয়ে পড়ছে। এটা তৈরি করছে ‘গ্রে ডিজিটাল ডিভাইড’। অর্থনৈতিক দিক থেকেও তারা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। সরকারি বয়স্কভাতা (৫০০-৬০০ টাকা) প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অধিকাংশ প্রবীণ বেসরকারি খাত বা অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে কাজ করায় অবসরের পর তাদের স্থায়ী আয় থাকে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘ঢাকা শহর এখন পৃথিবীর সবচেয়ে প্রবীণ-অবান্ধব শহরগুলোর একটি। এখানে সুস্থ মানুষ হাঁটতে পারে না, প্রবীণরা কীভাবে হাঁটবে? পার্ক, বসার জায়গা, উন্মুক্ত স্থান– হারিয়ে যাচ্ছে। অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কৃতিতে প্রবীণরা ঘরবন্দি। রোদে যাওয়া, হাঁটা– এসবের সুযোগ নেই। অথচ প্রবীণদের সুস্থ থাকার জন্য রোদ ও শারীরিক নড়াচড়া জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রবীণদের সংকট কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও মানসিক দুটোই। সরকারি পর্যায়ে প্রবীণদের জন্য শিশু ও নারীদের মতো আলাদা নীতিমালা নেই। আমাদের উচিত এই বিষয়ে নতুন করে ভাবা।’ সভাপতির বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘জেরিয়াট্রিক মেডিসিন (বার্ধক্যবিদ্যা) গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পাশাপাশি কেয়ারগিভিংও (যত্ন নেওয়া) বিশাল অর্থনৈতিক খাত। এখানে মান নির্ধারণ দরকার। এখন অনেক সাবস্ট্যান্ডার্ড সেবা চলছে। সোসাইটি চাইলে এ খাতে নীতিনির্ধারণ ও মান নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রবীণদের নিয়ে আলোচনায় অনেক সময় নারীরা হারিয়ে যান। অথচ তাদের সমস্যাগুলো আলাদা ও জটিল- স্বাস্থ্য, সামাজিক অবস্থান, নিরাপত্তা ও আর্থিক দিক থেকে।’ এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, সোসাইটির সহসভাপতি প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া, ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. অধ্যাপক জি এম ফারুকী, নজরুল গবেষক আতা উল্লাহ খান, ড. শরীফা বেগম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চাঁদপুরের চার লেখক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চাঁদপুরের চার লেখক

ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক সাহিত্য সম্মেলন-২০২৬ এ যোগ দিতে যাচ্ছেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক ও সাংবাদিক কাদের পলাশসহ চার লেখক। আগামী ১৪ থেকে ১৯ নভেম্বর ছয় দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে ১৪ জন কবি ও লেখক অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের কবি-সাহিত্যিকরা অংশ নেবেন। এতে বিভিন্ন দেশের সাহিত্যিকদের মধ্যে পারস্পরিক ভাববিনিময়, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন অংশগ্রহণকারীরা।

সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া চাঁদপুরের অন্য তিন লেখক হলেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) ও গবেষক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, কবি ও লেখক নুরুন্নাহার মুন্নি এবং কবি ও সংগঠক ম. নূরে আলম পাটওয়ারী।

আন্তর্জাতিক এ সাহিত্য সম্মেলনে চাঁদপুরের চার লেখকের অংশগ্রহণকে জেলার সাহিত্যাঙ্গনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি চাঁদপুরের সাহিত্যচর্চা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক লেখক ও সাংবাদিক কাদের পলাশ বলেন, সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পারা নিঃসন্দেহে আনন্দের ও গর্বের বিষয়। এ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কবি-লেখকদের সঙ্গে ভাববিনিময়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সাহিত্যিক সম্পর্ক জোরদার হবে। চাঁদপুরের লেখক হিসেবে এ সম্মেলনে অংশ নিয়ে আমরা আমাদের জেলার সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরতে চাই। আশা করি, এ আয়োজন দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্যিকদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।

সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন: এসপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন: এসপি

রাঙামাটির সাজেকে স্থানীয় সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মুখে আটকে পড়া প্রায় দুই হাজার পর্যটককে সম্পূর্ণ নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুর রকিব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের কঠোর পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন পর্যটকরা। তবে দুটি আঞ্চলিক সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে মাঝপথে উজো বাজারসহ কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বাধার মুখে পড়েন তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শেষ পর্যন্ত পর্যটকদের বহর নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বারবার এমন অবরোধের ফলে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং সাধারণ মানুষের জনজীবনও ব্যাহত হচ্ছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলন শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। বাসসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দুই নেতা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরকালে তিনি বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং জাপানি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর আগে সফরের প্রথম দিন তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।