খুঁজুন
                               
, ,

নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত পাকিস্তান

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, পাকিস্তান ও ইরান একে অপরের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর ফলে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়। এর ১৭ মাস পর ইরানে ইসরাইলের হামলার তীব্র নিন্দা জানাল পাকিস্তান। এই হামলার ফলে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও ইসলামাবাদের উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানান বিশ্লেষকরা।
১৩ জুন ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে একাধিক ইরানি জেনারেল এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানীকে হত্যা করার পর, পাকিস্তান ইসরাইলি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানায়। এমনকি ইসলামাবাদ ইসরাইলি হামলাকে ইরানের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং এগুলোকে প্রকাশ্য উস্কানি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
১৩ জুন ইরানে ইসরাইলের হামলার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা, অবিলম্বে এই আগ্রাসন বন্ধ করা এবং আক্রমণকারীকে তার কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করা।’
ইরানের উপর ইসরাইলি আক্রমণ এবং তেহরানের পাল্টা হামলা যখন ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে, তখন বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান সংঘাত ইসলামাবাদে আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে, যার মূলে রয়েছে তেহরানের সাথে তার জটিল সম্পর্ক এবং পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বিমান প্রভাব বিস্তার নিয়ে আরও বেশি অস্বস্তি।
ইরান-ইসরাইলি সংঘর্ষে মানুষের প্রাণহানি ক্রমশ বাড়ছে। ইরানের উপর ইসরাইলের হামলায় ইতিমধ্যেই ২২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত এক হাজারেরও বেশি মানুষ। প্রতিশোধ হিসেবে, ইরান ইসরাইলি ভূখণ্ডে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার ফলে ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ব্যাপক সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। পাকিস্তান, যার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তান হয়ে ইরানের সাথে ৯০৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, তেহরানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে। একই সাথে ১৫ জুন থেকে বেলুচিস্তানে পাঁচটি সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ৫০০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি নাগরিক, ইরান থেকে ফিরে এসেছেন।
এদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত কার্যকরভাবে সিল করার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগ।  মে মাসে ভারতের সাথে পাকিস্তানের সংক্ষিপ্ত সামরিক সংঘাতের সময়ও ইরান সতর্কতার সাথে পক্ষ নেয়া এড়িয়ে চলে। সোমবার, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সংসদে ভাষণ দেন। পাকিস্তান ইরানের সাথে কীভাবে কথা বলছে তার উপর জোর দিয়ে পরামর্শ দেন, ইসলামাবাদ ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সামরিক শত্রুতা বন্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করতে ইচ্ছুক।
পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল বেলুচিস্তানের সম্ভাব্য পরিণতি, যা একটি সম্পদ সমৃদ্ধ কিন্তু অশান্ত প্রদেশ। তেল, গ্যাস, কয়লা, সোনা এবং তামা সমৃদ্ধ, বেলুচিস্তান আয়তনের দিক থেকে পাকিস্তানের বৃহত্তম কিন্তু জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে ছোট প্রদেশ, যেখানে প্রায় দেড় কোটি লোক বাস করে।
১৯৪৭ সাল থেকে, বেলুচিস্তানে কমপক্ষে পাঁচটি বিদ্রোহ হয়েছে, যার সর্বশেষ শুরু ২০০০ সালের গোড়ার দিকে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো স্থানীয় সম্পদের একটা বড় অংশ এবং স্বাধীনতার দাবি করেছে। যার ফলে কয়েক দশক ধরে সামরিক দমন-পীড়ন চলছে।
অন্যদিকে, বেলুচ জাতীয়তাবাদীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় উন্নয়নকে উপেক্ষা করে সম্পদ শোষণের অভিযোগ তুলেছেন। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো বিশেষ করে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (বিএলএ), স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানে বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে।
সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের রিসার্চ ফেলো আব্দুল বাসিত আল জাজিরাকে বলেন, ‘পাকিস্তানের ভেতরে একটি বড় উদ্বেগ রয়েছে যে, যুদ্ধ আরও তীব্র হলে, বিএলএ এবং বিএলএফের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা, যাদের অনেকেই ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় বাস করে, তারা দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা সীমানা অতিক্রম করে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সুরক্ষা খোঁজার চেষ্টা করতে পারে।
তাই অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য পাকিস্তানকে ক্রসিং বন্ধ করতে হয়েছিল। তারা সফলভাবে এটি করতে পারে কিনা তা দেখার বিষয়, তবে অন্তত এটিই তাদের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চাঁদপুরের চার লেখক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চাঁদপুরের চার লেখক

ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক সাহিত্য সম্মেলন-২০২৬ এ যোগ দিতে যাচ্ছেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক ও সাংবাদিক কাদের পলাশসহ চার লেখক। আগামী ১৪ থেকে ১৯ নভেম্বর ছয় দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে ১৪ জন কবি ও লেখক অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের কবি-সাহিত্যিকরা অংশ নেবেন। এতে বিভিন্ন দেশের সাহিত্যিকদের মধ্যে পারস্পরিক ভাববিনিময়, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন অংশগ্রহণকারীরা।

সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া চাঁদপুরের অন্য তিন লেখক হলেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) ও গবেষক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, কবি ও লেখক নুরুন্নাহার মুন্নি এবং কবি ও সংগঠক ম. নূরে আলম পাটওয়ারী।

আন্তর্জাতিক এ সাহিত্য সম্মেলনে চাঁদপুরের চার লেখকের অংশগ্রহণকে জেলার সাহিত্যাঙ্গনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি চাঁদপুরের সাহিত্যচর্চা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক লেখক ও সাংবাদিক কাদের পলাশ বলেন, সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পারা নিঃসন্দেহে আনন্দের ও গর্বের বিষয়। এ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কবি-লেখকদের সঙ্গে ভাববিনিময়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সাহিত্যিক সম্পর্ক জোরদার হবে। চাঁদপুরের লেখক হিসেবে এ সম্মেলনে অংশ নিয়ে আমরা আমাদের জেলার সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরতে চাই। আশা করি, এ আয়োজন দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্যিকদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।

সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন: এসপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন: এসপি

রাঙামাটির সাজেকে স্থানীয় সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মুখে আটকে পড়া প্রায় দুই হাজার পর্যটককে সম্পূর্ণ নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুর রকিব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের কঠোর পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন পর্যটকরা। তবে দুটি আঞ্চলিক সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে মাঝপথে উজো বাজারসহ কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বাধার মুখে পড়েন তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শেষ পর্যন্ত পর্যটকদের বহর নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বারবার এমন অবরোধের ফলে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং সাধারণ মানুষের জনজীবনও ব্যাহত হচ্ছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলন শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। বাসসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দুই নেতা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরকালে তিনি বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং জাপানি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর আগে সফরের প্রথম দিন তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।