খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতি বর্তমানে ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। একইসঙ্গে যুদ্ধে ‘পূর্ণ বিজয়’ নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালিতে আবারও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সামরিক পাহারা বা এসকর্ট দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে খারাপ প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটনের দাবির বিপরীতে গত সপ্তাহে ইরানের দেওয়া প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে, এই দুর্বল যুদ্ধবিরতি এখন ‘অবিশ্বাস্যভাবে নাজুক’ পরিস্থিতিতে রয়েছে। যুদ্ধবিরতির নাজুক অবস্থা উল্লেখ করে ট্রাম্প হাস্যরস করে বলেন, আমি যখন বলব যুদ্ধবিরতি লাইফ সাপোর্টে আছে, সেখানে ডাক্তার এসে বলেন, ‘স্যার, আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র এক শতাংশ!’
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজ পাহারা দেওয়ার প্রচেষ্টা পুনরায় শুরু করার কথা ভাবছেন। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ৬ মে ‘অপারেশন ফ্রিডম’ উপসাগরে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। তবে দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্রদের বাধার মুখে তা আকস্মিক বন্ধ করতে বাধ্য হন ট্রাম্প।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের শর্তে সংঘাত কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু গত সপ্তাহে ইরান পাল্টা যে শর্তগুলো দিয়েছে, তা ট্রাম্পের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে তিনি ‘আবর্জনা’ বা গার্বেজ বলে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি মনে করে চাপের মুখে আমেরিকা পিছু হটবে, তবে তারা ভুল করছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি পূর্ণ বিজয় অর্জন করতে যাচ্ছি। আমি ক্লান্ত বা বিরক্ত হব না, আমার ওপর কোনো চাপ নেই।
ইরানের সঙ্গে এখন আলোচনা করতে চায় কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প উল্টো ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, সেখানে‘নরমপন্থী’ ও ‘পাগল’ এই দুই ধারার লোক রয়েছে। যারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় তাদের উদ্দেশে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—যদি সত্যি যুদ্ধ বাধে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিতে তা হবে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের একটি লড়াই।

নিরপেক্ষ সংবাদের অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা এশিয়া পোস্টের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ
নিরপেক্ষ সংবাদের অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা এশিয়া পোস্টের

নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে আরও বেগবান করার প্রত্যয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা করেছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম এশিয়া পোস্ট। এ উপলক্ষে সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তোপখানা রোডে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়া পোস্টের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
এর আগে এশিয়া পোস্টে এসে পৌঁছলে মন্ত্রীকে স্বাগত জানান সম্পাদক পলাশ মাহমুদ। এ সময় তাকে অফিসের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরিয়ে দেখালে সামগ্রিক কর্মপরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কার্যকর স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের আগেই আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার সব অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে। এটি উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত হবে না, বরং সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই কমিশন গঠিত হবে যা মানুষের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করবে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়টি একটি রূপান্তরের কাল। নতুন প্রজন্মের সদস্যরা এই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারলেও পুরোনো প্রজন্মের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অবাধ তথ্যপ্রবাহের এই যুগে একদিকে যেমন আশীর্বাদ রয়েছে, অন্যদিকে অপতথ্য ও ভুয়া তথ্য প্রচারের ঝুঁকিও অনেক বেড়েছে। এই অপতথ্যের হাত থেকে ডিজিটালের দর্শকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে তৈরি হওয়া নতুন সংকট মোকাবিলায় এশিয়া পোস্টসহ সব সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।
এশিয়া পোস্টের সম্পাদক পলাশ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া নিবন্ধনের প্রক্রিয়া থাকলেও এই খাতের কর্মীদের জন্য সরকারের কোনো নীতিমালা এখনো নেই। সরকার যেন অনলাইন মিডিয়ার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে, যা কর্মীদের জন্য সহায়ক হবে। এ ক্ষেত্রে ‘অনলাইন এডিটর্স অ্যালায়েন্স’-এর পক্ষ থেকে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। কেননা, এটি অনলাইন সংবাদকর্মীদের একটি প্রাণের দাবি।
এর আগে এশিয়া পোস্টের কার্যালয় পরিদর্শন করে শুভেচ্ছা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সংবাদমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র অচল। এশিয়া পোস্টকে ধন্যবাদ জানাই। সম্পাদক, প্রকাশক এবং এর সঙ্গে যারা নানা পর্যায়ে যুক্ত আছেন তারা একটি ভালো কাজের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এশিয়া পোস্টের নবযাত্রায় শুভেচ্ছা জানান।
এনসিপির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, মাহবুব আলম, উত্তরাঞ্চলে মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
এবি পার্টির পক্ষে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু শুভকামনা জানান।
দেশ ও জনগণের পক্ষে এশিয়া পোস্টকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, সরকারি বা বিরোধী দলের যে কোনো সমালোচনা যেন সংশোধনের উদ্দেশ্যে করা হয়। এটি করতে হবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে।
এশিয়া পোস্টকে শুভেচ্ছা জানান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব ভূইয়া, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, ব্যারিষ্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, মিডিয়া সেল সমন্বয়ক আবু হানিফ, ইনকিলাব মঞ্চের আব্দুল্লাহ আল জাবের ও ফাতিমা তাসনিম জুমা, ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
এছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ইসলামী আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলে করীম মারুফ, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুর রব ইউসুফী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমাদ আব্দুল কাদের প্রমুখ এশিয়া পোস্টকে স্বাগত জানান।
কার্যালয় পরিদর্শন করেন ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতারা।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন এশিয়া পোস্টের হেড অব নিউজ শাকিল ফারুক, হেড অব এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন ইসহাক আহমেদ চৌধুরী, হেড অব মার্কেটিং মনেশ অধিকারী, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক সাজ্জাদ শোভন, রিপোর্টিং কোঅর্ডিনেটর জাকারিয়া নূরী, মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ সুরুজ আহমেদ, হেড অব সোশ্যাল মিডিয়া মো. জোবায়ের, হেড অব এসইও মো. শাহীনুজ্জামান, হেড অব প্রোগ্রাম মো. শামসুজ্জামান, হেড অব এন্টারটেইনমেন্ট আবু হুরায়রা মুরাদ এবং হেড অব স্পোর্টস সাজ্জাদ হোসেন খান।

অভিনেতা ও নাট্যকার আতাউর রহমান মারা গেছেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
অভিনেতা ও নাট্যকার আতাউর রহমান মারা গেছেন

দেশের বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেতা, নাট্যকার ও মঞ্চনির্দেশক আতাউর রহমান মারা গেছেন। দশ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান। তিনি বলেন, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মঞ্চসারথি আতাউর রহমান না ফেরার দেশে চলে গেলেন। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।
এর আগে গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ সুবিধা ওই মুহূর্তে না পাওয়ায় পরে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ওইদিনই শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আবার অবস্থার অবনতি হলে রোববার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী এবং  এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী। তিনি একাধারে নাট্যজন, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক। স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত তিনি। দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক।

চাঁদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করায় দুই রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করায় দুই রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ অভিযানের অংশ হিসেবে শহরের দুটি নামী রেস্তোরাঁকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ এবং ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণ করার অপরাধে এই অর্থদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১০ মে ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা আফরোজ নিপার নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে শহরের হকার্স মার্কেটের বিপরীত দিকে অবস্থিত তাজ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এবং তালতলা রোডের কালাম বিরিয়ানি হাউজকে পৃথকভাবে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তাজ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট : হকার্স মার্কেটের বিপরীতে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া সেখানে তৈরিকৃত দইয়ের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ বা মেয়াদের কোনো উল্লেখ ছিল না। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি চায়ের মূল্য বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি রাখছিল। এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কালাম বিরিয়ানি হাউজ : তালতলা রোডের এই প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ফ্রিজে রাখা পচা-বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত পুরাতন মাংস পাওয়া যায়। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর উপায়ে মেয়াদবিহীন বোরহানি ও দই উৎপাদন ও বিক্রয়ের দায়ে তাদেরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানার আদেশ প্রদান করলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটির মালিকপক্ষ স্বেচ্ছায় জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের জনস্বাস্থ্যবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর প্রদান করেন।
এদিন শুধু জরিমানাই নয়, বরং সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহরের ‘বাঙালিয়ানা হোটেল’ সহ আরও বেশ কিছু খাবারের দোকান পরিদর্শন করেন। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। যারা তুলনামূলক পরিষ্কার পরিবেশে কাজ করছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে মান বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযানটি সফলভাবে পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চাঁদপুর জেলা শাখার প্রতিনিধি মোঃ বিপ্লব সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা আফরোজ নিপা গণমাধ্যমকে জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের এই অভিযান একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, সেমাই কারখানা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় যেখানেই অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শহরের সাধারণ নাগরিকরা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল বিশেষ দিবস নয়, বছরজুড়েই যেন এমন তদারকি বজায় থাকে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়।