খুঁজুন
                               
, ,

চাঁদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করায় দুই রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করায় দুই রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ অভিযানের অংশ হিসেবে শহরের দুটি নামী রেস্তোরাঁকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ এবং ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণ করার অপরাধে এই অর্থদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১০ মে ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা আফরোজ নিপার নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে শহরের হকার্স মার্কেটের বিপরীত দিকে অবস্থিত তাজ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এবং তালতলা রোডের কালাম বিরিয়ানি হাউজকে পৃথকভাবে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তাজ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট : হকার্স মার্কেটের বিপরীতে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া সেখানে তৈরিকৃত দইয়ের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ বা মেয়াদের কোনো উল্লেখ ছিল না। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি চায়ের মূল্য বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি রাখছিল। এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কালাম বিরিয়ানি হাউজ : তালতলা রোডের এই প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ফ্রিজে রাখা পচা-বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত পুরাতন মাংস পাওয়া যায়। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর উপায়ে মেয়াদবিহীন বোরহানি ও দই উৎপাদন ও বিক্রয়ের দায়ে তাদেরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানার আদেশ প্রদান করলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটির মালিকপক্ষ স্বেচ্ছায় জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের জনস্বাস্থ্যবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর প্রদান করেন।
এদিন শুধু জরিমানাই নয়, বরং সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহরের ‘বাঙালিয়ানা হোটেল’ সহ আরও বেশ কিছু খাবারের দোকান পরিদর্শন করেন। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। যারা তুলনামূলক পরিষ্কার পরিবেশে কাজ করছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে মান বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযানটি সফলভাবে পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চাঁদপুর জেলা শাখার প্রতিনিধি মোঃ বিপ্লব সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা আফরোজ নিপা গণমাধ্যমকে জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের এই অভিযান একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, সেমাই কারখানা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় যেখানেই অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শহরের সাধারণ নাগরিকরা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল বিশেষ দিবস নয়, বছরজুড়েই যেন এমন তদারকি বজায় থাকে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়।

ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে : হাইকোর্টের রায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে : হাইকোর্টের রায়

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আগামী ৩ বছরের মধ্যে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
এর আগে, গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে এনবিআরের এই কর দাবি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক একাধিক রিট করা হয়েছিল। সেই রিটের রুল খারিজ করে এ রায় দেওয়া হয়েছে।

দুই দিনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
দুই দিনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে অস্থিরতার সময়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতি না মেনে টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প নেওয়া, কোথাও কাজ না করে এবং কোথাও নামমাত্র কাজ করে পুরো বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে মাত্র দুই দিনে ২১টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ওসমান গণি পাটোয়ারী অপসারণের এক দিন আগে, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ১৭টি চেক ইস্যু করে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এর আগে ১৪ আগস্ট চারটি প্রকল্পের বিপরীতে আরও ১৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য রয়েছে। জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যে দুই দিনের উত্তোলনের পরিমাণ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বলা হয়েছে।
নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনায় কয়েকটি প্রকল্পে কাজ না হওয়া এবং কিছু প্রকল্পে আংশিক কাজ করে পুরো বিল দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন ঠিকাদার দাবি করেছেন, তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ ও বিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও প্রকল্প সম্পর্কে তারা জানতেন না।
১৮ আগস্ট ইস্যু করা চেকগুলোর মধ্যে চেয়ারম্যানের আত্মীয় ঠিকাদার শেখ নজরুল ইসলামের নামে সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার বিল দেওয়ার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে বাবুরহাট মার্কেটের সাইট প্রস্তুত ও বালু ভরাটের দুটি কাজের বিপরীতে প্রায় ২৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, সেখানে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ গাড়ি বালু ফেলা হয়েছিল এবং পুরো জায়গা ভরাট হয়নি। শেখ নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি যে কাজ করেছেন শুধু সেই কাজের বিল নিয়েছেন।
জেলা পরিষদের হলরুমের ওয়াল টাইলসকরণ এবং ভবন সংস্কার ও রংকরণ প্রকল্পে প্রায় ১৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে এসব কাজে বাস্তবে কাজ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বক্তব্যেও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। একজন ঠিকাদার প্রথমে হলরুমে কাজ না করার কথা বললেও পরে নিজের লাইসেন্সে কাজ হয়েছে বলে জানান। আরেক ঠিকাদার দাবি করেন, প্রকল্প সম্পর্কে তিনি জানতেন না এবং টাকা উত্তোলনের পর প্রকৌশলী তার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে যান।
এ ছাড়া আরও পাঁচটি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। চেয়ারম্যান অপসারিত হওয়ায় ওই অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি; পরে চেকগুলো বাতিল করা হয়। জেলা পরিষদ প্রশাসকের দাবি, এসব চেকের বিপরীতে কোনও ফাইল বা প্রকল্প ছিল না। সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, ফাইলগুলো সঠিক না হওয়ায় চেক বাতিল করা হয় এবং ভুল করে লেখা হয়েছিল।
জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আব্দুল কুদ্দুস ভাটের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু কাজ হয়নি, কিছু কাজ আংশিক হয়েছে এবং কয়েকটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, প্রকল্প পরিদর্শন ও কাজের পরিমাণ যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রকৌশলীর। সাবেক প্রকৌশলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কাজ হওয়ার পরই বিল দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সরদার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দুদক তথ্য চেয়েছে এবং তদন্ত করছে। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ দুদককে প্রয়োজনীয় তথ্য দেবে।
নথিতে থাকা অর্থ উত্তোলন, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঠিকাদারদের লাইসেন্স ব্যবহারের দাবি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। কোন প্রকল্প বাস্তবে হয়েছে, কে কাজ করেছেন, কে প্রত্যয়ন দিয়েছেন এবং অর্থ কার হাতে গেছে—এসব বিষয় এখন দুদকের তদন্তে নির্ধারিত হবে।

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০ বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া।
প্রস্তাবিত ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে। ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠির সঙ্গে আইনের খসড়ার সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে জানা যায়, ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করতে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ৮ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত সচিবকে সভাপতি করে আট সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
গঠিত কমিটি কর্তৃক একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী- খসড়া আইনটির ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।