খুঁজুন
                               
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

চাঁদপুরে পাবলিক টয়লেট এখন পরিত্যক্ত আস্তাবলে, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরে পাবলিক টয়লেট এখন পরিত্যক্ত আস্তাবলে, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

চাঁদপুর শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ডব্লিউ রহমান জুট মিলের সামনের চিত্রটি এখন এক ভয়াবহ জনদুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি। জনসাধারণের সুবিধার্থে নির্মিত পৌরসভার পাবলিক টয়লেটটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, অব্যবস্থাপনা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন কার্যত একটি পরিত্যক্ত স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। এক সময়ের পরিচ্ছন্ন এই স্থাপনাটি এখন ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধের ভাগাড়ে রূপ নেয়ায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার পথচারী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে।
সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে দেখা যায়, পাবলিক টয়লেটটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। স্থাপনার দেয়ালগুলো শ্যাওলা ধরে কালচে হয়ে গেছে, অনেক জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়ছে। প্রবেশপথের অবস্থা এতটাই নাজুক যে, ময়লা-আবর্জনা ও মাটির স্তূপ ডিঙিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, টয়লেটের কোনো দরজাই অবশিষ্ট নেই। ভাঙাচোরা কাঠামো আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এটি এখন ব্যবহারের উপযোগিতা সম্পূর্ণ হারিয়েছে। পর্যাপ্ত পানি বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো চিহ্ন সেখানে নেই। ডব্লিউ রহমান জুট মিল এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল। এখানে প্রতিদিন শত শত শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়া অটোরিকশা চালক, স্থানীয় দোকান কর্মচারী এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের আনাগোনা থাকে সবসময়। টয়লেটটি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক হানিফ তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারাদিন রাস্তায় গাড়ি চালাই। প্রয়োজনে এখানে আসতে হয়, কিন্তু টয়লেটের যে দশা, তাতে ভেতরে পা দেওয়ার পরিবেশ নেই। দরজা নেই, নোংরা পানি জমে আছে। বাধ্য হয়ে অনেক সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় এটি ব্যবহার করতে হয়। আমাদের কথা কেউ ভাবে না। একই প্রতিধ্বনি শোনা গেল স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাজির পাটোয়ারীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, পৌরসভা থেকে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল মানুষের উপকারের জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার নেই। রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় এটি এখন অপরাধীদের আড্ডাস্থল কিংবা ময়লা ফেলার জায়গায় পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এই এলাকায় এসে কোনো টয়লেট সুবিধা পায় না, যা অত্যন্ত অমানবিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি জনাকীর্ণ এলাকায় এভাবে উন্মুক্ত ও নোংরা টয়লেট পড়ে থাকা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে। এর ফলে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে এবং ডায়রিয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত ও চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এটি সংস্কার করা না হলে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি বারবার নজরে এলেও চাঁদপুর পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। টয়লেটটি সংস্কারের জন্য কোনো বরাদ্দ বা তদারকি কমিটি আছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় রয়েছে। জনস্বার্থে নির্মিত একটি সরকারি স্থাপনা এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া কেবল অর্থের অপচয় নয়, বরং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
সাধারণ মানুষের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে টয়লেটের ভাঙা অংশ সংস্কার ও নতুন দরজা স্থাপন করতে হবে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ ও আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। টয়লেটের চারপাশের ময়লা ও মাটির স্তূপ দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
চাঁদপুরকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট শহর হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য, তার পথে এই ধরনের অব্যবস্থাপনা একটি বড় বাধা। ডব্লিউ রহমান জুট মিল এলাকার পাবলিক টয়লেটটি দ্রুত সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি জনদুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসবে, নাকি এটি এভাবেই ‘পরিত্যক্ত স্থাপনা’ হিসেবে পড়ে থাকবে—এ প্রশ্নই এখন সাধারণ মানুষের মনে। জনস্বার্থে দ্রুত পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

চাঁদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করায় দুই রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করায় দুই রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ অভিযানের অংশ হিসেবে শহরের দুটি নামী রেস্তোরাঁকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ এবং ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণ করার অপরাধে এই অর্থদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১০ মে ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা আফরোজ নিপার নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে শহরের হকার্স মার্কেটের বিপরীত দিকে অবস্থিত তাজ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এবং তালতলা রোডের কালাম বিরিয়ানি হাউজকে পৃথকভাবে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তাজ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট : হকার্স মার্কেটের বিপরীতে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া সেখানে তৈরিকৃত দইয়ের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ বা মেয়াদের কোনো উল্লেখ ছিল না। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি চায়ের মূল্য বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি রাখছিল। এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কালাম বিরিয়ানি হাউজ : তালতলা রোডের এই প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ফ্রিজে রাখা পচা-বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত পুরাতন মাংস পাওয়া যায়। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর উপায়ে মেয়াদবিহীন বোরহানি ও দই উৎপাদন ও বিক্রয়ের দায়ে তাদেরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানার আদেশ প্রদান করলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটির মালিকপক্ষ স্বেচ্ছায় জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের জনস্বাস্থ্যবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর প্রদান করেন।
এদিন শুধু জরিমানাই নয়, বরং সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহরের ‘বাঙালিয়ানা হোটেল’ সহ আরও বেশ কিছু খাবারের দোকান পরিদর্শন করেন। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। যারা তুলনামূলক পরিষ্কার পরিবেশে কাজ করছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে মান বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযানটি সফলভাবে পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চাঁদপুর জেলা শাখার প্রতিনিধি মোঃ বিপ্লব সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা আফরোজ নিপা গণমাধ্যমকে জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের এই অভিযান একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, সেমাই কারখানা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় যেখানেই অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শহরের সাধারণ নাগরিকরা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল বিশেষ দিবস নয়, বছরজুড়েই যেন এমন তদারকি বজায় থাকে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়।

ফরিদগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নূর রহমান (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে ২০২৬) সকালে উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সকালে পথচারীরা রাস্তার পাশে একটি মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কিছুটা এগিয়ে গেলে সড়কের ওপরই গুরুতর আহত অবস্থায় নূর রহমানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো অজ্ঞাতনামা দ্রুতগতির যানবাহন তাকে চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় আশপাশে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। পরে তারা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িত যানবাহন শনাক্তে চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিহত নূর রহমান ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দোকানের নিয়মিত ক্রেতা ও পরিচিতজনরা তার এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নূর রহমানের পরিবারে রয়েছে তার দুইটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে সন্তান। এছাড়া তিনি আট ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার ওপরই পরিবারের দায়িত্ব ছিল। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তা ও দুঃখের মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়কে নজরদারি বৃদ্ধি, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদানের আহ্বানও জানান তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজারে পাবলিক টয়লেটের অভাবে হাজারো নিত্য ভোগান্তি

মুহাম্মদ বাদশা ভূঁইয়া
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজারে পাবলিক টয়লেটের অভাবে হাজারো নিত্য ভোগান্তি

চাঁদপুর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম বাণিজ্যিক ও ট্রাফিক পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত ‘ওয়ারলেস বাজার’। চাঁদপুর পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এই এলাকাটি মূলত জেলা শহরের প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন এই স্থান দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। গড়ে উঠেছে বিশাল কাঁচাবাজার ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। কিন্তু আধুনিক নাগরিক সুবিধার এই যুগেও অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এখানে নেই কোনো পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা। ফলে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, ব্যবসায়ী, পথচারী এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুরা অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন।
চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঠিক পাশেই অবস্থিত ওয়ারলেস বাজার। এই মোড়টি চাঁদপুর শহরের সাথে কুমিল্লা, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং পণ্যবাহী ট্রাক থামে। ওয়ারলেস বাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কাঁচাবাজারে ভোর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতার ঢল নামে। এ ছাড়াও আশপাশে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এত বিশাল কর্মযজ্ঞের এই কেন্দ্রে একটি পাবলিক টয়লেট না থাকাটা বর্তমান সময়ের এক বড় নাগরিক পরিহাস হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
সরেজমিনে ওয়ারলেস বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাস থেকে নামা যাত্রীরা টয়লেটের প্রয়োজনে দিশেহারা হয়ে এদিক-ওদিক ছুটছেন। বিশেষ করে যারা লক্ষ্মীপুর বা নোয়াখালী থেকে চাঁদপুর হয়ে ঢাকা বা অন্য কোথাও যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এই স্থানটি একটি বিরতিস্থল। কিন্তু এখানে নেমে টয়লেটের সুবিধা না পেয়ে তারা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।
ঢাকা অভিমুখী বাস যাত্রী আলামিন মুন্সি ক্ষোভের সাথে বলেন, দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা রাস্তায় থাকার পর স্বাভাবিকভাবেই টয়লেটের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু এই ব্যস্ত বাজারে এসে যখন দেখি কোনো ব্যবস্থা নেই, তখন খুব অসহায় লাগে। বাধ্য হয়ে পাশের মসজিদ বা মাদ্রাসায় যেতে হয়। অনেক সময় তারা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ঢুকতে দিতে চায় না। এটি খুব অপমানজনক ও বিব্রতকর। পাবলিক টয়লেট না থাকার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী যাত্রীরা। পুরুষরা কোনোভাবে বিকল্প পথ খুঁজলেও নারীদের পক্ষে তা অসম্ভব। সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী রেবেকা সুলতানা বলেন, “জরুরি প্রয়োজনে নারীদের যে কী পরিমাণ কষ্ট হয়, তা কর্তৃপক্ষ বুঝলে হয়তো অনেক আগেই ব্যবস্থা নিত। আমাদের কোনো মানুষের বাসা খুঁজে বের করতে হয় কিংবা কোনো দোকানের পেছনে গিয়ে সাহায্য চাইতে হয়। একটি সভ্য সমাজে নাগরিক সুবিধা বলতে কিছুই নেই এখানে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওয়ারলেস বাজার সংলগ্ন এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)-এর পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা পড়ে আছে। অথচ জায়গা থাকা সত্ত্বেও সেখানে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি চাঁদপুর পৌরসভা বা সওজ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় ব্যবসায়ী সাগর গাজী জানান, আমরা বছরের পর বছর ধরে এখানে একটি টয়লেটের দাবি জানিয়ে আসছি। পৌরসভা বলে জায়গা নেই, আবার সওজ বলে তারা পরিকল্পনা করছে না। মাঝখান থেকে আমাদের মতো ব্যবসায়ীরা এবং বাজারে আসা হাজার হাজার ক্রেতা কষ্ট পাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল বলেন, পৌরসভা চাইলে সওজ-এর সাথে সমন্বয় করে খুব সহজেই একটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট তৈরি করতে পারত। এর জন্য বড় কোনো বাজেটের চেয়ে মানসিক সদিচ্ছার বেশি প্রয়োজন।
বাজারে পাবলিক টয়লেট না থাকায় এলাকার মসজিদগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। মুসুল্লিদের ইবাদতের জন্য সংরক্ষিত অজু ও টয়লেটের জায়গাগুলোতে সাধারণ মানুষের ভিড় লেগে থাকে। এতে মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা যেমন কঠিন হচ্ছে, তেমনি মুসুল্লিদের ওজু করার ক্ষেত্রেও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। অনেক সময় অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে যখন মসজিদ কমিটি বহিরাগতদের প্রবেশে বাধা দেয়। ওয়ারলেস বাজারের সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, চাঁদপুর পৌরসভা শহরের অন্যান্য এলাকায় যেভাবে টয়লেট পরিচালনা করছে, এখানেও একই মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “পৌরসভা এখানে একটি আধুনিক কমপ্লেক্স তৈরি করতে পারে যেখানে স্বল্প খরচে ব্যবহারের বিনিময়ে টয়লেট পরিচালনা করা হবে। সেখানে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে এবং সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য স্টাফ নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। এতে পৌরসভার যেমন আয় হবে, তেমনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও এক নিমেষে দূর হবে।”
যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগের ফলে এলাকার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। বাজারের পেছনের গলি বা ড্রেনের পাশে অনেকেই অস্বাস্থ্যকরভাবে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন, যার ফলে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, আর কত বছর অপেক্ষা করলে এই নূন্যতম নাগরিক সুবিধাটি নিশ্চিত হবে?
চাঁদপুর একটি পর্যটন ও ব্যবসা-সফল জেলা হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। ইলিশের বাড়ি হিসেবে খ্যাত এই শহরের প্রবেশদ্বারে এমন একটি জনদুর্ভোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ওয়ারলেস বাজারের এই সমস্যাটি এখন কেবল একটি দাবি নয়, বরং এটি হাজারো মানুষের অধিকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করে চাঁদপুরকে একটি স্মার্ট ও নাগরিকবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলবে—এটাই এখন সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা।