খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২২ বৈশাখ, ১৪৩৩

দেড় বছরে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১:০৯ অপরাহ্ণ
দেড় বছরে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা

২০২৪ সালের জুন থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেড় বছরে সরকারের ঋণ বেড়েছে তিন লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ের প্রায় পুরোটা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করেছে। এ সময়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কম অর্থ ব্যয় করা হলেও ঋণের লাগাম ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় হালনাগাদ ঋণ বুলেটিন প্রকাশ করেছে। বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশি-বিদেশি মোট ঋণের স্থিতি ২২ লাখ ছয় হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুন শেষে যা ছিল ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে সরকারের ঋণস্থিতি ছিল ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ১৭১ কোটি টাকা। এই হিসাবে এক বছরের
ব্যবধানে সরকারের ঋণ বেড়েছে দুই লাখ ৬২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার মেগা প্রকল্প থেকে সরে আসার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে উন্নয়ন ব্যয় ব্যাপকভাবে কমালেও ঋণনির্ভরতা কমাতে পারেনি। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ করতে না পারা এবং আগের ঋণ পরিশোধের চাপের পাশাপাশি-পরিচালন ব্যয়ে লাগাম টানতে না পারায় ঋণ বাড়াতে হয়েছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় দেশের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আগের সরকারের পতনের আগে ওই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ঋণ দাঁড়িয়েছিল ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ঋণ বুলেটিনে দেশের মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ৩২ হাজার ২৮২ কোটি টাকা উল্লেখ ছিল। পরে বৈদেশিক ঋণকে নতুন বিনিময় হারে রূপান্তর করার কারণে এর পরিমাণ ৫৬ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা বেড়েছে।
সরকারের ঋণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণের চেয়ে বৈদেশিক উৎস থেকে বেশি ঋণ নিয়েছে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের কিস্তি পাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে। গত অর্থবছরে সরকার ৩৪৪ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা নিয়েছে, আগের অর্থবছর এর পরিমাণ ছিল ২০০ কোটি ডলার। দেড় বছরে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণের পরিমাণ আট লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৯ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। আগের সরকারের পতনের এক মাস আগে যেখানে অভ্যন্তরীণ ঋণ ছিল ১০ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা, তা গত ডিসেম্বর শেষে বেড়ে হয়েছে ১২ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা।
গত অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার টাকা— যা সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সে তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এডিপি ব্যয় ছিল এক লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা এবং আগের সরকারের শেষ অর্থবছর ২০২৩-২৪-এ তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ দশমিক পাঁচ লাখ কোটি টাকায়। উন্নয়ন ব্যয় কমলেও ঋণ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে।
অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ সমকালকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মূলত ঋণ নিয়েছে পুরোনো ঋণ পরিশোধ করতে এবং ঋণ পরিশোধ-সংক্রান্ত চাপ সামাল দিতে। তিনি আরও বলেন, সাধারণত রাজস্ব আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয় মেটানো হয় এবং সেখান থেকে কিছু অর্থ উন্নয়ন ব্যয়েও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে রাজস্ব আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয়ই ঠিকমতো মেটানো যাচ্ছে না, যা উদ্বেগজনক। নব্বইয়ের দশকের পর এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।
সুদ পরিশোধে ব্যয় বেড়েই চলেছে
কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আয় না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে যে, উন্নয়ন ব্যয়ের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ের কিছু অংশও ঋণ করে মেটাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ব্যয় নির্বাহে অধিক হারে ঋণ নিতে হচ্ছে। এতে করে ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। বিশেষত ঋণের সুদ পরিশোধ বাজেটের একক বড় খাত হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের মোট ব্যয়ের প্রায় ২৬ শতাংশ অর্থাৎ ৬৬ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে। এর মধ্যে দেশীয় ঋণের সুদে ৫৬ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদে ৯ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে সুদ বাবদ ব্যয় ছিল ৬৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। আগে অর্থবছরে সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয় এক লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা।

হামের টিকা কেন দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ণ
হামের টিকা কেন দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

শিশু মৃত্যু ঘটাতে চায়, এরকম কোনো খারাপ উদ্দেশ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছিল না বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, তবে কেন এ টিকা না দেওয়ার ঘটনাটি ঘটলো, তা খতিয়ে দেখা হবে। মঙ্গলবার (০৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শিশু মৃত্যু ঘটাতে চায়, এরকম কোনো খারাপ উদ্দেশ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছিল না বলে আমি মনে করি। তবে এটা নিয়ে আমাদের খতিয়ে দেখা দরকার আছে। আমি মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। সেই কাজটি হবে, কেন আসলে এ ঘটনাটি ঘটলো। তিনি জানান, সরকারের নেওয়া কার্যক্রমে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ১ কোটি ৬১ লাখ শিশু টিকা পেয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ। আগামী কয়েক দিনে শতভাগ লক্ষ্য অর্জন করবে সরকার।

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি তরুণের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি তরুণের

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. আলমাছ সরদার ফরিদ (২৪) নামে এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বালিথুবা গ্রামের বাসিন্দা। নিহত ফরিদ চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইলশেপাড় পত্রিকার সংবাদদাতা ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক আবু তালেব সরদারের ছোট ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় আড়াই বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফরিদ। গত ২৪ মার্চ থেকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদের বাবার মোবাইল ফোনে সৌদি আরব থেকে মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়। ফোনের ওপাশ থেকে বলা হয়, গত ২৪ মার্চ রিয়াদে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদ মারা যান।
হাউমাউ করে কেঁদে সাংবাদিক আবু তালেব সরদার বলেন, ‘আমার ছেলে সৌদি আরবে একটি কপি হাউজে শ্রমিকের কাজ করত। সে দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট। অনেক আশা-ভরসা নিয়ে তাকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। সে পরিবারের হাল ধরবে। কিন্তু গত ২০ দিন আগে ছেলের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ২০ দিন পর বিকেলে ছেলের মুঠোফোনে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আমার আদরের সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
প্রবাসের মাটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদের মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই ফরিদগঞ্জে সাংবাদিক সমাজ, মৃতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে সাংবাদিক আবু তালেব সরদারের ছেলের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ফরহাদ। এক শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, মৃতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রশ্মিকা মান্দানাসহ তারকাদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন থালাপতি বিজয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
রশ্মিকা মান্দানাসহ তারকাদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন থালাপতি বিজয়

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ ছয় দশকের দ্রাবিড় দ্বৈত শাসন (ডিএমকে-এডিএমকে) অবসান ঘটালেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া সি. জোসেফ বিজয়, যিনি ‘থালাপতি বিজয়’ নামে বেশি পরিচিত। বিধানসভা নির্বাচনে তার দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগামের (টিভিকে) জয় অর্জনের পর চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে অভিনন্দনের ঝড় বইছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিনেত্রী রশ্মিকা মান্দানা বিজয়ের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়কে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “অভিনন্দন বিজয় স্যার। আপনার জন্য অত্যন্ত খুশি এবং এই নতুন যুগে আপনাকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আপনার জন্য অনেক শুভকামনা।”
ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি রজনীকান্তও বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়ে তার দলীয় সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান এবং এটিকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। অভিনেতা ধনুশ মন্তব্য করেন, “প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েই জনগণের ব্যাপক সমর্থন পাওয়া বিজয় ও তার দলের জন্য বড় সাফল্য, যা তাদের সরকার গঠনের পথে এগিয়ে নিয়েছে।”
তেলেগু তারকা রাম চরণ বলেন, “বিজয়ের নেতৃত্ব এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগই এই জয়ের মূল কারণ। আশা করি তিনি তামিলনাড়ুর উন্নয়নে সফল হবেন।” প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে এমন সাফল্য অর্জনের পর, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক তারকা।