খুঁজুন
                               
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪০০ জনের বেশি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪০০ জনের বেশি

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে সর্বমোট ৪১৬ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এর মধ্যে শেষদিনের শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ২০ জন প্রার্থী। এদিন শুনানিতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ও কুমিল্লা-১০ আসনে দলটির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন শুনানিতে কোনো পক্ষপাত হয়নি বলে দাবি করেছেন।
রবিবার নির্বাচন ভবনে টানা ৯ দিনের শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষপাত করিনি। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আমরা ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বিষয়টিও ছেড়ে দিয়েছি। আমরা চাই যে সবাই অংশগ্রহণে একটা সুন্দর নির্বাচন হোক।’ সিইসি বলেন, ‘আপনারা হয়তো আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। আপনারা সহযোগিতা না করলে কিন্তু হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমার টিমের তরফ থেকে কোনো পক্ষপাতিত্ব করে কোনো জাজমেন্ট আমরা দেইনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা কোয়ারি করেছেন, কোয়ারির জবাব দিয়েছেন, আই এম এমাজ টু সিই এট দিস। আপনাদেরকে আমি আন্তরিক মোবারকবাদ জানাই ইসির পক্ষ থেকে। আমি আশা করব, ভবিষ্যতেও আপনাদের কাছ থেকে এ ধরনের সহযোগিতা পাব।’ এ সময় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা ঋণ খেলাপি যাদেরকে ছাড় দিয়েছি, মনে কষ্ট নিয়ে দিয়েছি। শুধু আইন তাদেরকে পারমিট করেছে বিধায়।’
এর আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, জাতীয় পার্টি-জাপা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীসহ ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ২ হাজার ৯১টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এছাড়া স্বতন্ত্র থেকে জমা পড়ে ৪৭৮টি মনোনয়নপত্র। এরপর ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র বাছাই করে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। বৈধ হয় ১৮৪২ জন। বাতিল ৭২৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ৩৫০ জনের মতো। বাকিগুলো ৫১টি নিবন্ধিত দলের। আবার দলগুলোর মধ্যে বিএনপির ২৭, জামায়াতে ইসলামীর ৯, জাতীয় পার্টির ৫৭ ও ইসলামী আন্দোলনের ৪১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। বিএনপির বাতিল হওয়া ২৭ জনের মধ্যে বেশির ভাগই দলীয় পরিচয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলীয় প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয়ন ছিল না। বিএনপির পরিচয়ে ৩৩১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। দলটি থেকে ২৭৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪১ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। বৈধতা পান ২২৭ জন। দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি প্রার্থিতা বাতিল হয় জাতীয় পার্টির। দলটির ২২৪ জনের মধ্যে ৫৭ জন বাদ পড়েন। বৈধতা পান ১৬৭ জন।
তপশিল অনুযায়ী, গতকাল রবিবার ইসির আপিল শুনানি শেষ হয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর আগামী জাতীয় নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা জানা যাবে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
আপিলে বিএনপির দুই জনের প্রার্থিতা বাতিল :চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ও কুমিল্লা-১০ আসনে দলটির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল রবিবার আলাদা আপিল শুনানি শেষে ইসি এ রায় দেয়। এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে এই দুই জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছিল। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ঋণখেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করেছে ইসি। এতে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে। কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়া দ্বৈত নাগরিক বলে আপিলে অভিযোগ করা হয়। এই প্রার্থী আপিল শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন। ইসি তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে।
আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল :ফেনী-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল রবিবার শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বহাল রাখে নির্বাচন কমিশন। এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ মিন্টুর প্রার্থিতা বাতিলে আপিল আবেদন জমা পড়ে ইসিতে। তবে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করায় ও টাকা জমা দেওয়ায় আপিলটি নামঞ্জুর করে ইসি। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বিএনপির এ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো বাধা থাকল না।

র‌্যাবের নতুন নাম স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স 

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
র‌্যাবের নতুন নাম স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স 

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

উপদেষ্টা আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনে কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ নাম পরিবর্তনের কথা জানান। উপদেষ্টা বলেন, র‌্যাবের পুনর্গঠনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল হাফিজ (অব.) এর সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। কমিটি র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম “Special Intervention Force (SIF)” সুপারিশ করেছে যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন করেছেন। তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। প্রজ্ঞাপন জারি হলে এ ফোর্সটি নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু করবে। একইসঙ্গে বাহিনীটির পোশাকও পরিবর্তন করা হবে। তবে শুধু নাম ও পোশাক নয়, ফোর্সটির কার্যক্রমেও সংস্কার আনা হবে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণে আজ বিকালে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের তেঁতুলঝোড়া কলেজ ভোটকেন্দ্রে “Electoral Management Exercise”-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, এ মহড়ার মাধ্যমে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও সক্ষমতা সম্পর্কে জনগণ জানতে পারবে।

ব্রিফিংয়ে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার সম্পর্কে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালক (অপারেশন এন্ড প্ল্যান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আলী হায়দার সিদ্দিকী বলেন, ইলেকশন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সশস্ত্র বাহিনী ১৯৯টি অস্ত্র ও ১,৯৭২টি গোলাবারুদ উদ্ধার এবং ১,৮০৭ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি জানান, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনীর ১ লক্ষ ৬ হাজার ২২৩ জন সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এ পর্যন্ত পুলিশ ও র‌্যাবের খোয়া যাওয়া অস্ত্র থেকে ৪,৪৩২টি অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে; আর কারা কর্তৃপক্ষের হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র থেকে ৬৫টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে; লাইসেন্সকৃত অস্ত্র উদ্ধার করেছে ৩২৮টি এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ২,৯০৬টি মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনী সর্বমোট ৭,৭৩১টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, আইজিপি বাহারুল আলম বিপিএম, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালক (অপারেশন এন্ড প্ল্যান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আলী হায়দার সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র শবে বরাত আজ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র শবে বরাত আজ

সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে আজ মঙ্গলবার। এদিন রাতে মসজিদে-মসজিদে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাত শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে মুসলমানরা পালন করে থাকেন। এ রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবেও পরিচিত। পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুটি থাকবে। প্রধান উপদেষ্টা শবে বরাতকে আল্লাহর রহমত লাভের এক অসাধারণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা এবং মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে প্রধান উপদেষ্টা শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, ‘মহিমান্বিত এই রাতে আমরা ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য ও ক্ষমা লাভ করতে পারি। আত্মসমালোচনা ও তওবার মাধ্যমে জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং গুনাহ থেকে পরিশুদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অর্জন করতে পারি আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ, বরকত ও মাগফেরাত।’ এ রাতে বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ইসলামিক মিশন কেন্দ্র ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে আলোচনা সভা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষ্যে ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাবেন। মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত করবেন।

ভারতকে বয়কট করায় কী কী শাস্তি পেতে পারে পাকিস্তান?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
ভারতকে বয়কট করায় কী কী শাস্তি পেতে পারে পাকিস্তান?

ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বর্জনের নির্দেশ দিয়েছে তাদের সরকার। এমন সিদ্ধান্তের কারণে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাদেরকে আসন্ন টুর্নামেন্টে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশ কিছু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে কলম্বোতে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি। বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে এই পদক্ষেপ নেওয়ায় ইতোমধ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইসিসি। পরিণতিতে তাদের বিরুদ্ধে শীর্ষ দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে অস্বীকৃতি, বড় ধরনের আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও পিএসএলে বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিটিআই-কে আইসিসি বোর্ড সূত্র বলেছেন, ‘পিসিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে কিছু জানায়নি। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ায় আইসিসি কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। কাল (সোমবার) আইসিসি বোর্ড বৈঠক করবে এবং টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে খেলতে দেওয়া উচিত কি না সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাদেরকে যদি খেলতে দেওয়াও হয়, তবুও পিসিবিকে কিছু কঠোর শাস্তি দেওয়া হতে পারে।’
পিসিবির বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তি নেওয়া হতে পারে? তিনি বললেন, ‘তারা চুক্তি লংঘন করেছে, তাতে করে আইসিসির সদস্য বোর্ডগুলো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সফর প্রত্যাখ্যান করতে পারে। আর যদি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ তারা খেলেও এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যেন তিন ফরম্যাটেই তাদের আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে ফল কোনো প্রভাব না রাখতে পারে। এছাড়া পাকিস্তানকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্টও না দেওয়া হতে পারে।’
পাকিস্তানের রাজস্ব খাতে ধাক্কা দিতে পিএসএলেও কিছু নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। ওই আইসিসি সূত্র বললেন, ‘অবসর নেওয়া খেলোয়াড় বা ফ্রি এজেন্ট ছাড়া, বর্তমান বিদেশি আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দেরকে পিএসএলে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। পাশাপাশি, আইসিসির হোস্ট ব্রডকাস্টার জিও-স্টারের যে লাখ লাখ ডলার ক্ষতি হতে চলেছে, সেটাও পিসিবিকে পুষিয়ে দিতে হবে। আর না বললেই নয়, তাদের বার্ষিক রাজস্বও বন্টন করা হবে।’
আইসিসি পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিলে উগান্ডা তাদের পরিবর্তে খেলবে। আর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বোর্ড মিটিংয়ের পর।
আপাতত সম্ভাব্য যেসব শাস্তি হতে পারে-
পয়েন্ট নষ্ট
স্বাভাবিকভাবে ভারতের বিপক্ষে না খেললে সেই ম্যাচের কোনও পয়েন্ট পাবে না পাকিস্তান। ২ পয়েন্ট দেওয়া হবে ভারতকে। আইসিসির ১৬.১০.৭ ধারা বলছে, কোনো দল যদি দল না নামায় তা হলে তাদের নেট রানরেটেও প্রভাব পড়বে। তাতে পাকিস্তানের নেট রানরেট অনেকটা কমে যেতে পারে। কিন্তু ভারতের নেট রানরেটে কোনো প্রভাব পড়বে না।
হাইব্রিড মডেল ভঙ্গের শাস্তি
পাকিস্তানের দাবি মেনেই ভারতের মাটিতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হাইব্রিড মডেল এনেছে আইসিসি। অর্থাৎ, পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলছে। সেই মতো সূচি হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান সেখানেও ভারতের বিপক্ষে খেলতে চাইছে না। ফলে চুক্তি লংঘন হচ্ছে, সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতিযোগিতায় হাইব্রিড মডেলের দাবি করতে পারবে না পাকিস্তান। যেখানে খেলা হবে, সেখানেই খেলতে হবে তাদের।
আর্থিক লোকসান
আইসিসির কোনো বড় প্রতিযোগিতার আগে বিশ্বক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয় পূর্ণ সদস্য দেশের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আইসিসির সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও চুক্তি হয়েছে। শেষ মুহূর্তে ভারতের বিপক্ষে না খেললে চুক্তিভঙ্গ করবে পাকিস্তান। প্রতি বছর পাকিস্তানকে লভ্যাংশ হিসাবে ৩১৬ কোটি টাকা দেয় আইসিসি। তারা ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করলে লভ্যাংশ কেটে নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে অনেক টাকা লোকসান হবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের।
আইসিসির নির্বাসনের শাস্তি
ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের না খেলার সিদ্ধান্ত সে দেশের সরকারের। সে ক্ষেত্রে ক্রিকেটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে পাকিস্তানকে নির্বাসিত করতে পারে আইসিসি। ঠিক যেমনভাবে অতীতে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কাকে আইসিসি নির্বাসিত করেছিল। এমনকি আইসিসির নির্দেশ মেনে এশিয়া কাপ থেকেও পাকিস্তানকে নির্বাসিত করতে পারে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল।
একঘরে পাকিস্তান ক্রিকেট
পাকিস্তান ভারত-ম্যাচ বয়কট করলে ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় খেলার আগে ভাববে বিভিন্ন দেশ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ের সূচিও আইসিসি তৈরি করে। ভবিষ্যতে কোনো দেশ পাকিস্তানে খেলতে যাওয়ার আগে বা পাকিস্তানকে ডাকার আগে ভাববে। ফলে ক্রিকেটে একঘরে হয়ে যেতে পারে পাকিস্তান।
সংশয়ে পাকিস্তান সুপার লিগ
পাকিস্তান সুপার লিগের মূল আকর্ষণ বিদেশি ক্রিকেটার। কিন্তু পাকিস্তান ভারত ম্যাচ বয়কট করলে বিভিন্ন দেশ তাদের খেলোয়াড়দের পাকিস্তান সুপার লিগে খেলার অনুমতি না-ও দিতে পারে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তান সুপার লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় বাড়বে।