খুঁজুন
                               
, ,

টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে

এখন থেকে করদাতারা তাদের কর নিবন্ধন বাতিল করতে পারবেন। করদাতাদের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) কিছু শর্ত সাপেক্ষে বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে নতুন আয়কর আইনে। এ জন্য করদাতাকে যথাযথ কারণ দেখিয়ে আবেদন করতে হবে। সম্প্রতি নতুন এ আইন সংসদে পাস হয়েছে।
তবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে কোনো বকেয়া কর নেই, এমন বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে এবং আবেদনকারীর কারণগুলো যৌক্তিকভাবে যাচাইবাছাইয়ের পরই টিআইএন বাতিল করবেন কর কর্মকর্তারা। আগের আয়কর অধ্যাদেশে টিআইএন বাতিলের কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে অনেকেই টিআইএন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।–
যে ছয় শর্তে কর নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যাবে, সেগুলো হলো—১. যেসব করদাতার রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা নেই; ২. মৃত্যু, অবসায়ন, অবলুপ্তি বা অনুরূপ কোনো কারণে অস্তিত্বহীন হয়ে যান; ৩. স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করলে এবং বাংলাদেশে আয় করার কোনো কর্মকাণ্ড না থাকলে; ৪. ডুপ্লিকেট নিবন্ধন বা ভুল নিবন্ধন পেলে; ৫. আইনি মর্যাদা পরিবর্তন করলে এবং ৬. অন্য কোনো আইনানুগ কারণে টিন নিবন্ধন বাতিলের প্রয়োজন হলে।
করদাতার আয় আয়কর আরোপযোগ্য সীমার নিচে থাকলে টিন বাতিলের আবেদন করতে পারেন। ২০২৩-২৪ অর্থ-বছরে ন্যূনতম আয়করযোগ্য আয় হচ্ছে-
সাধারণ করদাতার জন্য বছরে করযোগ্য আয় তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে। মহিলা করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী করদাতার ক্ষেত্রে বছরে করযোগ্য আয় চার লাখ টাকার ঊর্ধ্বে।
প্রতিবন্ধী করদাতা এবং তৃতীয় লিঙ্গ করদাতার ক্ষেত্রে বছরে করযোগ্য আয় চার লাখ পঁচাত্তর হাজার টাকার ঊর্ধ্বে। গেজেট-ভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার বেলায় বছরে করযোগ্য আয় পাঁচ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে।
অনেক সময়ই কারও এই পরিমাণের কম বাৎসরিক আয় থাকা সত্ত্বেও অন্য কোনো প্রয়োজনে টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে সার্টিফিকেটটির প্রয়োজন না হলে সেটি বাতিলের আবেদন করতে পারেন।
এছাড়াও কারও পূর্ববর্তী আয় অনুযায়ী কর দেওয়ার প্রয়োজন থাকায় তিনি টিন সার্টিফিকেট তৈরি করতে পারেন। কিন্তু পরবর্তীতে আয় কমে কর সীমার বাইরে চলে আসায় আর টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নাও হতে পারে। এসময় টিন সার্টিফিকেটটি বাতিল করতে পারেন।
এছাড়া কোনো করদাতা ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার টিন সার্টিফিকেটটির আর প্রয়োজন থাকে না। তাই তার টিন সার্টিফিকেটটিও বাতিল করা যেতে পারে। পিতার মৃত্যুর পর টিআইএন বাতিল করার দায়িত্ব বর্তায় তার উত্তরাধিকারীদের উপর। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে বাবার এমন কোনো ব্যবসা আছে কি-না যার টিআইএন বাতিল করলে ব্যবসা সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র বাতিল করে নতুন করে করতে হয়। এ ধরনের বড় জটিলতা তৈরি হলে, উত্তরাধিকারগণ মৃত বাবার টিআইএন বাতিলের আবেদন করতে পারবেন না।
কোনো বাংলাদেশি যদি কাজের জন্য দেশের বাইরে থাকেন এবং তার যদি বাংলাদেশে করযোগ্য কোনো আয় না থাকে তাহলে তিনি বাংলাদেশে কর দিতে বাধ্য নন। সেক্ষেত্রে তার বাংলাদেশে থাকাকালীন নিবন্ধিত টিআইএন সনদ বাতিলের আবেদন করতে পারেন।
একজন ব্যক্তি মাত্র একবারই টিন সার্টিফিকেট করতে পারবেন। কোনোভাবেই একাধিক টিআইএন করা যাবে না। নিবন্ধনকারী বা কর কর্মকর্তা কর্তৃক ভুলের কারণে নিবন্ধিত টিনটির তথ্য ভুল হলে তা সংশোধনের জন্য টিন বাতিলের দরকার পড়ে।
টিন সার্টিফিকেট বাতিল করার নিয়ম
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
– আবেদনকারীর বর্তমান টিন সার্টিফিকেটের একটি প্রিন্ট কপি
– জাতীয় পরিচয়পত্র ও তার একটি ফটোকপি
– পর পর কমপক্ষে তিন অর্থ-বছরের শূন্য কর রিটার্ন দাখিলের প্রাপ্তি স্বীকার পত্রের ফটোকপি
টিন সার্টিফিকেট বাতিলের আবেদন পদ্ধতি
টানা তিন বছর শূন্য রিটার্ন দাখিল: যেহেতু পর পর কমপক্ষে তিন অর্থ বছরের শূন্য রিটার্ন দাখিলের প্রাপ্তি স্বীকার পত্র দেখাতে হবে, তাই আপনাকে আগামী তিন বছরের প্রস্তুতি নিতে হবে। অতঃপর টানা তিন বছর শূন্য রিটার্ন দাখিল করে যাবেন। প্রতি কর রিটার্ন দাখিলের পর একটি কর রিটার্ন প্রাপ্তি স্বীকার পত্র দেওয়া হবে। এগুলো পরবর্তীতে সংযুক্তির জন্য সংরক্ষণ করে রাখবেন।
কর সার্কেল অফিসে আবেদন: তৃতীয় বছরের শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়েই সম্পন্ন করতে হবে আবেদনের কাজটি। এ সময় বিগত দুই বছরের রিটার্ন প্রাপ্তি স্বীকার পত্র দুটি সঙ্গে নিয়ে আপনার কর সার্কেলের অফিসে চলে যাবেন। অতঃপর সেখানকার উপ-কর কমিশনার বরাবর একটি আবেদনপত্র লিখবেন। এখানে টিন সনদ বাতিলের জন্য যাবতীয় কারণ সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করবেন। লেখা শেষ হলে বিগত তিন বছরের রিটার্ন প্রাপ্তি স্বীকার পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজগুলো সংযুক্ত করে আবেদনপত্র জমা দিয়ে দিবেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, আয়কর অফিসে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য টিন সনদের মালিকের যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তিনি যেতে অপারগ হলে, তার পরিবর্তে তার প্রতিনিধি হিসেবে যে কেউই আয়কর অফিসে উপস্থিত হয়ে দরখাস্ত জমা দিতে পারবেন।
টিন সার্টিফিকেট বাতিলে প্রয়োজনীয় খরচ
টিন সার্টিফিকেট বাতিলের আবেদনের সমুদয় পদ্ধতিতে সরকার ঘোষিত কোনো রকম খরচ নেই। অর্থাৎ করদাতাগণ বিনামূল্যেই তাদের টিন সার্টিফিকেটটি বাতিল করতে পারবেন।
টিন সার্টিফিকেট বাতিলের আবেদন পরবর্তী কার্যক্রম
আবেদন জমা হওয়ার পর আপনার কর সার্কেলের উপ-কর কমিশনের কর্মকর্তারা আপনার আয়কর ফাইলটি নথিভুক্ত করবেন। এ সময় আবেদনে উল্লেখিত কারণসমূহ ভালোভাবে যাচাই করে দেখা হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আপনার টিন সার্টিফিকেটটি চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এরপর নতুন করে টিন সার্টিফিকেট করতে পারবেন।
শেষাংশ
বাংলাদেশের নাগরিকরা যেমন প্রয়োজনে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (টিআইএন) বা টিন নিবন্ধন করতে পারেন তেমনি এই সনদ বাতিল করতে পারবেন। টিন সনদ বাতিলের আবেদনের শর্তাবলি খেয়াল রেখে সহজেই আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবেন। উপরোক্ত আলোচনায় টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন কিভাবে সে ব্যাপারে একটা স্বচ্ছ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

জাপানের বিশাল বিনিয়োগ: বাংলাদেশের লাভ কতটা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
জাপানের বিশাল বিনিয়োগ: বাংলাদেশের লাভ কতটা?

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেশি বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে জাপান। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি বাংলাদেশের সামনে তৈরি হতে পারে প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের সুযোগ। তবে বড় অঙ্কের এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনবে, তা নির্ভর করবে বিনিয়োগ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুতি নিতে পারছে, তার ওপর।
২৭ অক্টোবর টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্ব পায়। জাপানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১ লাখ কোটি ইয়েন বা ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিনিয়োগ থেকে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে এটি ইতিমধ্যে বাংলাদেশে আসা অর্থ নয়; বরং আগামী পাঁচ বছরের জন্য ঘোষিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা।
বিনিয়োগে বাংলাদেশের লাভ কোথায়?
বাংলাদেশের জন্য এই বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা শুধু নতুন অর্থ আসা নয়, বরং উৎপাদন সক্ষমতা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস এবং শিল্প উৎপাদনে বিনিয়োগ করলে স্থানীয় কর্মীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে শেখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে গাড়ির যন্ত্রাংশ, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিকস ও উচ্চমূল্যের শিল্পপণ্যে বিনিয়োগ বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়তা করতে পারে। বর্তমানে দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ তৈরি পোশাকনির্ভর। নতুন শিল্প খাত শক্তিশালী হলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এখানে মাতারবাড়ী ও মহেশখালীর গুরুত্বও রয়েছে। বন্দর, জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আমদানি-রপ্তানির সক্ষমতা বাড়তে পারে এবং নতুন শিল্প স্থাপনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
জাপান কেন বাংলাদেশে আগ্রহী?
বাংলাদেশের বড় বাজার, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরও বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ খুঁজছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ থাকলেও এই বিনিয়োগ আকর্ষণে অন্য এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে।
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৩২ কোটি ডলার। জাপানে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাপান থেকে যন্ত্রপাতি, লোহা-ইস্পাত, যানবাহন ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য আমদানি করে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হয়েছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে বিভিন্ন পণ্যের শুল্ক সুবিধা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর সুফল পেতে বাংলাদেশের উৎপাদকদের মান, উৎপাদন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের শর্ত পূরণ করতে হবে।
বিনিয়োগের পথে বাধা কী?
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময়, কর ও শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং নীতির ধারাবাহিকতার অভাব বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা জেট্রোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনার পাশাপাশি এসব প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের পরিমাণ ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশের তুলনায় অনেক কম। অর্থাৎ, সম্ভাবনা থাকা আর বিনিয়োগ বাস্তবে আকর্ষণ করা এক বিষয় নয়।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পর্যবেক্ষণেও ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।
দুই লাখ কর্মসংস্থান, কতটা মানসম্মত?
প্রত্যাশিত দুই লাখ কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে চাকরির সংখ্যা ছাড়াও দেখতে হবে, সেগুলো কী ধরনের কাজ, বেতন ও সুযোগ-সুবিধা কেমন এবং স্থানীয় কর্মীরা কতটা দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন।
জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়, বাংলাদেশের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় করে, তাহলে বিনিয়োগের সুফল দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। বিপরীতে, স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে সংযোগ দুর্বল থাকলে বিনিয়োগের সুফল সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
এ কারণে সরকারকে বিনিয়োগের পরিমাণের পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ এবং রপ্তানি বৃদ্ধির মতো বিষয়েও নজর দিতে হবে।

সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চাঁদপুরের চার লেখক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চাঁদপুরের চার লেখক

ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক সাহিত্য সম্মেলন-২০২৬ এ যোগ দিতে যাচ্ছেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক ও সাংবাদিক কাদের পলাশসহ চার লেখক। আগামী ১৪ থেকে ১৯ নভেম্বর ছয় দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে ১৪ জন কবি ও লেখক অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের কবি-সাহিত্যিকরা অংশ নেবেন। এতে বিভিন্ন দেশের সাহিত্যিকদের মধ্যে পারস্পরিক ভাববিনিময়, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন অংশগ্রহণকারীরা।

সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া চাঁদপুরের অন্য তিন লেখক হলেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) ও গবেষক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, কবি ও লেখক নুরুন্নাহার মুন্নি এবং কবি ও সংগঠক ম. নূরে আলম পাটওয়ারী।

আন্তর্জাতিক এ সাহিত্য সম্মেলনে চাঁদপুরের চার লেখকের অংশগ্রহণকে জেলার সাহিত্যাঙ্গনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি চাঁদপুরের সাহিত্যচর্চা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক লেখক ও সাংবাদিক কাদের পলাশ বলেন, সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পারা নিঃসন্দেহে আনন্দের ও গর্বের বিষয়। এ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কবি-লেখকদের সঙ্গে ভাববিনিময়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সাহিত্যিক সম্পর্ক জোরদার হবে। চাঁদপুরের লেখক হিসেবে এ সম্মেলনে অংশ নিয়ে আমরা আমাদের জেলার সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরতে চাই। আশা করি, এ আয়োজন দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্যিকদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।

সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন: এসপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন: এসপি

রাঙামাটির সাজেকে স্থানীয় সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মুখে আটকে পড়া প্রায় দুই হাজার পর্যটককে সম্পূর্ণ নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুর রকিব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের কঠোর পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন পর্যটকরা। তবে দুটি আঞ্চলিক সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে মাঝপথে উজো বাজারসহ কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বাধার মুখে পড়েন তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শেষ পর্যন্ত পর্যটকদের বহর নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বারবার এমন অবরোধের ফলে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং সাধারণ মানুষের জনজীবনও ব্যাহত হচ্ছে।