খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:১২ অপরাহ্ণ
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ

গণতন্ত্রের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা, এবং এই স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান বাহক হলো গণমাধ্যম। একটি সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত সমাজ গঠনের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। গণমাধ্যম কেবলমাত্র তথ্য ও সংবাদ প্রচারের মাধ্যম নয়, বরং এটি জনমতের প্রতিফলন ঘটায়, সরকার ও শাসকগোষ্ঠীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং নাগরিকদের সচেতন করে তোলে। গণতান্ত্রিক সমাজে নাগরিকদের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যদি হুমকির সম্মুখীন হয়, তাহলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল তথ্য সরবরাহের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য। যেখানে গণমাধ্যম স্বাধীন, সেখানে জনগণ সঠিক তথ্য পায় এবং ক্ষমতাসীনরা জনতার জবাবদিহিতার আওতায় থাকে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রুদ্ধ হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এটি জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে, সরকারি কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা বজায় রাখে এবং দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সাহায্য করে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশেই গণমাধ্যম নানা বিধিনিষেধের সম্মুখীন হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলতে বোঝায়, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন মিডিয়া এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যম কোনো প্রকার সরকারি, রাজনৈতিক বা কর্পোরেট চাপের বাইরে থেকে সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচার করতে পারবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল দিকগুলো হলো : সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের অধিকার। কোনো ধরনের সেন্সরশিপ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে মত প্রকাশের সুযোগ।গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক প্রভাবের অনুপস্থিতি। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যত বেশি নিশ্চিত করা যায়, তত বেশি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমকে “চতুর্থ স্তম্ভ” (Fourth Estate) বলা হয়, কারণ এটি নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের পর রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে। গণমাধ্যম সমাজে যেসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তা নিম্নে আলোচনা করা হলো : গণমাধ্যম জনগণের কাছে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তথ্য পৌঁছে দেয়, যার মাধ্যমে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নির্বাচন, নীতিনির্ধারণী প্রসঙ্গ বা সামাজিক আন্দোলনে জনগণকে সচেতন করে তুলতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গণমাধ্যম বিভিন্ন সরকারি নীতির ভালো-মন্দ বিশ্লেষণ করে এবং জনগণের মতামত তুলে ধরে। এটি সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে সাহায্য করে, যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা যায়। গণমাধ্যম দুর্নীতি উন্মোচন, অবিচার ও অনিয়মের প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার কারণে অনেক সময় বড় বড় কেলেঙ্কারি উন্মোচিত হয়। গণতান্ত্রিক সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিন্নমত থাকতেই পারে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকলে এই মতামতগুলো উন্মুক্তভাবে প্রকাশিত হয়, যা সমাজে বহুমাত্রিক চিন্তার বিকাশ ঘটায়। যখন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অধিকার লঙ্ঘিত হয় বা রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার হয়, তখন গণমাধ্যম সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পারে। এটি নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার চ্যালেঞ্জ : গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই এটি নানা ধরনের হুমকির সম্মুখীন। বর্তমান বিশ্বে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বিভিন্ন বাধা বিদ্যমান, যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক। অনেক দেশে সরকার গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বাধা সৃষ্টি করে। কিছু দেশে সরকার-বিরোধী সংবাদ প্রকাশ করলেই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হয় বা সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা হয়। গণমাধ্যমের অনেক প্রতিষ্ঠান কর্পোরেট বা রাজনৈতিক দলের মালিকানাধীন হওয়ায় সংবাদ পরিবেশনে নিরপেক্ষতা বিঘ্নিত হয়। অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে অনেক সময় সত্য গোপন করা হয় বা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রসারের কারণে ভুয়া সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকরা হত্যার শিকার হচ্ছেন, কারাবন্দি হচ্ছেন, কিংবা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই হুমকি ও নির্যাতন স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করে। ডিজিটাল যুগে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনেক দেশে ইন্টারনেটের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। অনেক দেশে সরকার গণমাধ্যমের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। কিছু দেশে কঠোর সেন্সরশিপের মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়।রাজনৈতিক দল বা সরকারের মদতপুষ্ট মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের পরিবর্তে পক্ষপাতমূলক সংবাদ প্রচার করে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ব্যাহত করে। অনেক সময় বড় কর্পোরেট সংস্থা গণমাধ্যমকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করে, যার ফলে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকরা হামলা, গ্রেফতার, হত্যা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বড় বাধা। ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য বা ‘ফেক নিউজ’ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা প্রকৃত সাংবাদিকতার জন্য হুমকি স্বরূপ।

 গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। নিচে কিছু কার্যকর উপায় আলোচনা করা হলো : একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংবিধানে অবশ্যই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিধান থাকতে হবে, যাতে সাংবাদিকরা ভয় ও প্রতিকূলতার বাইরে থেকে কাজ করতে পারেন। গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত আইন প্রণয়ন এবং এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন জরুরি। সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অন্যায়মূলক মামলা বা হয়রানি বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। গণমাধ্যমের উপর রাজনৈতিক বা কর্পোরেট প্রভাব কমানোর জন্য স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা উচিত, যা সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হতে হবে। সাংবাদিক নির্যাতন বা হত্যার ঘটনাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করে গ্রহণ করতে পারেন এবং ভুয়া সংবাদ থেকে দূরে থাকতে পারেন।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলতে বোঝায়, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন মিডিয়া এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যম কোনো প্রকার সরকারি, রাজনৈতিক বা কর্পোরেট হস্তক্ষেপ ছাড়াই তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রচার করতে পারবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে : সরকার ও প্রশাসনের কর্মকাণ্ড জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত রাখে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে : নাগরিকদের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদান করে : নির্বাচনের সময় বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণকে সচেতন রাখে।  সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায় ক: একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যম সরকারকে দায়বদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গণমাধ্যম যদি সত্য প্রকাশে স্বাধীন না হয়, তবে ক্ষমতার অপব্যবহার বৃদ্ধি পায়, জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  একটি গণতান্ত্রিক সমাজে জনগণকে সঠিক তথ্য না দিলে তারা সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। গণমাধ্যম নির্বাচন, আইন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনগণকে আপডেট রাখে। গণমাধ্যম জনগণের মত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে বিতর্ক ও আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করে, যা জনমতের দিকনির্দেশনা দেয়। গণমাধ্যম দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখে। অনেক সময় সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুর্নীতির চিত্র উন্মোচিত হয় এবং প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। গণমাধ্যম বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বৈষম্য, দমন-পীড়ন ইত্যাদি বিষয় জনসমক্ষে তুলে ধরে এবং এসবের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সহায়তা করে। গণমাধ্যম নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি, নীতি এবং কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করে। এটি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে— গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য নিরপেক্ষ আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হয়রানি ও দমন-পীড়ন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা উচিত, যা সংবাদমাধ্যমের নীতিমালা নির্ধারণ করবে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। একই ব্যক্তি বা সংস্থার একাধিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিকানা থাকা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। মালিকানার বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা হলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা নিশ্চিত হবে। গণমাধ্যমের গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা সঠিক তথ্য যাচাই করে গ্রহণ করতে পারে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার হতে পারে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এটি জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে, সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করে এবং স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। তবে বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। সুতরাং, একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ গঠনের জন্য স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এজন্য সরকার, জনগণ, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের অপরিহার্য উপাদান। এটি জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে, সরকারের কার্যক্রমের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করে এবং সুশাসনের ভিত্তি গড়ে তোলে। তবে বর্তমান বিশ্বে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। সুতরাং, একটি সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সরকার, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার নিশ্চিত হয় এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।

লেখক পরিচিতি  : উজ্জ্বল হোসাইন, লেখক ও সাংবাদিক, চাঁদপুর।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।