খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

কাঙাল হরিনাথ বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:৫১ অপরাহ্ণ
কাঙাল হরিনাথ বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

কাঙাল হরিনাথ, প্রকৃত নাম হরিনাথ মজুমদার, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং পথিকৃৎ। উনিশ শতকের মধ্যভাগে যখন ব্রিটিশ উপনিবেশের চাপে বাঙালি জাতি সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছিল, তখন তিনি একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন। তিনি সাংবাদিকতা, সাহিত্য এবং সমাজ সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কেবল সংবাদ পরিবেশনই নয়, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনন্য।

কাঙাল হরিনাথের জন্ম ১৮৩৩ সালে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার অন্তর্গত গ্রাম চাপড়াতে। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় তাঁর শৈশব ছিল অভাব-অনটনে ভরা। তিনি প্রথাগত শিক্ষায় খুব বেশি অগ্রসর হতে পারেননি। তবে নিজের প্রচেষ্টায় বাংলাসহ সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা আয়ত্ত করেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে জ্ঞানার্জনের প্রবল তৃষ্ণা ছিল, যা তাঁকে স্বশিক্ষিত করে তোলে।

১৮৬৩ সালে, হরিনাথ “গ্রামবার্তা প্রকাশিকা” নামক একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন। এটি ছিল গ্রামের সাধারণ মানুষের সমস্যা, তাঁদের জীবনের কথা এবং সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম। তাঁর এই পত্রিকা একসময় সাপ্তাহিক রূপ নেয় এবং তা পুরো বাংলায় জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ব্রিটিশ শাসনের দুর্নীতি, জমিদারদের অত্যাচার এবং সমাজের নানা অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি তাঁর কলমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন।

“গ্রামবার্তা প্রকাশিকা”র বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল এর সহজ-সরল ভাষা। হরিনাথ বিশ্বাস করতেন, সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের কাছে সত্য তুলে ধরা। তাই তাঁর পত্রিকার ভাষা ছিল প্রাঞ্জল এবং সহজবোধ্য। তিনি গ্রামের কৃষক, শ্রমিক এবং দরিদ্র মানুষের জন্য লিখতেন, যা তখনকার অভিজাতদের সাংবাদিকতার ধরন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল।

কাঙাল হরিনাথ কেবল সাংবাদিকই ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। তিনি জমিদারদের শোষণ এবং মহাজনদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। তাঁর পত্রিকার মাধ্যমে তিনি কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাঁদের কষ্টের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষাই পারে সমাজকে পরিবর্তন করতে। তাই গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার প্রসারে কাজ করেছেন।

হরিনাথ নারীদের শিক্ষা এবং অধিকারেও জোর দিয়েছিলেন। যদিও সে সময় নারী শিক্ষা নিয়ে সামাজিকভাবে প্রচুর বাধা ছিল, তবুও তিনি এ বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, নারীদের উন্নয়ন ছাড়া সমাজের প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব নয়।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি হরিনাথ সাহিত্যচর্চাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর লেখায় সমাজের বাস্তবতা, মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং তাদের সংগ্রামের চিত্র উঠে আসে। তিনি বিভিন্ন কবিতা, গান এবং প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তিনি নিজে একজন গীতিকার এবং সুরকার ছিলেন। তাঁর রচিত গানগুলো মানুষের হৃদয়ে দেশপ্রেম এবং সমাজ সংস্কারের জন্য উদ্বুদ্ধ করত।

তাঁর দারিদ্র্যপীড়িত জীবনের জন্য তিনি নিজেকে “কাঙাল” বলে অভিহিত করতেন। তবে তাঁর দারিদ্র্য কখনোই তাঁর মানসিক শক্তি এবং সৃজনশীলতার উপর প্রভাব ফেলেনি। তাঁর “কাঙাল” পরিচিতি তাঁকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়। তিনি তাঁদের দুঃখ-দুর্দশা নিজের জীবনের সঙ্গে একাত্ম করে ফেলেছিলেন।

হরিনাথ ব্রিটিশ শাসনের অবিচার এবং তাদের শোষণমূলক নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর পত্রিকায় তিনি এই শোষণ, বিশেষ করে নীলকর সাহেবদের অত্যাচার, তুলে ধরেছিলেন। নীলকরদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সময় তাঁর কলম হয়ে ওঠে এক শক্তিশালী অস্ত্র।

গ্রামবার্তা প্রকাশিকা প্রকাশিত হওয়ার পর এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও, জমিদার এবং ব্রিটিশ শাসকদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হরিনাথকে নানাভাবে বাধা দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত আর্থিক সংকটের কারণে পত্রিকাটি বন্ধ করতে হয়। তবে তাঁর সাংবাদিকতার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি ছিল।

১৮৯৬ সালে হরিনাথের মৃত্যু হয়। তাঁর কাজ এবং আদর্শ বাঙালির সাংবাদিকতার ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন যে সাংবাদিকতা কেবল তথ্য প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি সমাজের পরিবর্তনের একটি হাতিয়ার। তাঁর সাহসী এবং সৎ সাংবাদিকতার ধারা আজও অনুসরণীয়।

কাঙাল হরিনাথের জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি, নিষ্ঠা এবং ইচ্ছাশক্তি দিয়ে সমাজে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাঁর কাজ এবং সংগ্রাম আজও আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়। তিনি কেবল একজন সাংবাদিক বা লেখক নন; তিনি একজন যোদ্ধা, যিনি সাধারণ মানুষের অধিকারের জন্য জীবনভর লড়াই করেছেন।

কাঙাল হরিনাথ তাঁর সাংবাদিকতায় যে বৈপ্লবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছিলেন, তা ছিল সেই সময়ের জন্য এক নতুন দিগন্ত। তখনকার সমাজে সাংবাদিকতা মূলত অভিজাত শ্রেণির কণ্ঠস্বর হিসেবেই পরিচিত ছিল। জমিদার, ব্রিটিশ প্রশাসন ও ধনিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষা ছিল প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু হরিনাথ এই প্রথার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকতাকে সাধারণ মানুষের সমস্যার কণ্ঠস্বর করে তোলেন। তিনি মনে করতেন, সাংবাদিকতার মাধ্যমে কৃষক, শ্রমিক ও সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের সমস্যাগুলোকে তুলে ধরা প্রয়োজন।

“গ্রামবার্তা প্রকাশিকা”র প্রতিটি সংখ্যায় তখনকার সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়গুলো উঠে আসত। এর মধ্যে জমিদারদের অত্যাচার, ব্রিটিশ শাসকদের শোষণ, মহাজনদের চক্রান্ত এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার দুঃখ-কষ্ট ছিল মূল প্রতিপাদ্য। হরিনাথ তাঁর কলামে গ্রামের কৃষকদের শোষণ এবং নীল চাষের ভয়াবহতা তুলে ধরেন, যা ব্রিটিশ শাসক ও স্থানীয় জমিদারদের কাছে অপছন্দনীয় হয়ে ওঠে।

তাঁর সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সমাজের দুর্নীতি, কুসংস্কার, বর্ণবৈষম্য এবং নারী অধিকার নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়, বরং এর মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা তৈরি করা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাই সাংবাদিকতার আসল লক্ষ্য।

নীল বিদ্রোহ বাংলার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন। নীলচাষীদের ওপর নীলকর সাহেবদের অত্যাচার এবং তাদের শোষণের কাহিনী কাঙাল হরিনাথ তুলে ধরেন তাঁর পত্রিকায়। নীলচাষীদের দুরবস্থা এবং তাদের প্রতি ব্রিটিশ ও জমিদারদের নিষ্ঠুর আচরণ নিয়ে তাঁর প্রতিবেদনগুলো মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।

নীল বিদ্রোহের সময় হরিনাথ তাঁর কলমকে একটি শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তিনি “গ্রামবার্তা প্রকাশিকা”র মাধ্যমে নীল চাষের শোষণ ও অত্যাচারের বিষয়টি জনসম্মুখে আনেন। সাধারণত, নীলকর সাহেবদের ক্ষমতা ও প্রভাবের কারণে এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। কিন্তু হরিনাথ সাধারণ কৃষকদের পক্ষে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যা তুলে ধরতে দ্বিধা করেননি। তিনি বিভিন্ন প্রতিবেদনে চাষিদের দুঃখ-দুর্দশার কাহিনী বর্ণনা করেন এবং ব্রিটিশ শাসনের শোষণমূলক নীতিগুলোর প্রতি জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রতিবেদনগুলো ব্রিটিশ শাসকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তাঁর লেখার মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে প্রতিরোধের চেতনা জাগ্রত হয় এবং তাদের একত্রিত করে আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর এই ভূমিকা তাঁকে শুধু সাংবাদিকই নয়, একজন সমাজসংস্কারক এবং সংগ্রামী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করে।

কাঙাল হরিনাথের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর ভাষার সহজতা। তিনি গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের কথা সহজ, সরল এবং প্রাঞ্জল ভাষায় প্রকাশ করতেন। “গ্রামবার্তা প্রকাশিকা”র প্রতিটি লেখায় গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং তাঁদের সংকটগুলো উঠে আসত। তিনি মনে করতেন, সাংবাদিকতার ভাষা এমন হওয়া উচিত যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে। এর ফলে তাঁর পত্রিকা গ্রামবাংলার কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

হরিনাথ সাংবাদিকতার পাশাপাশি গীতিকার, সুরকার এবং কবি হিসেবেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বহু গান রচনা করেছিলেন, যা পরবর্তীতে গ্রামবাংলার মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। তাঁর গানগুলোয় সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, প্রেম এবং সমাজের অসঙ্গতিগুলো প্রতিফলিত হয়। বিশেষ করে, তাঁর রচিত “পল্লীগীতি” এবং “বাউল গান” সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

তাঁর রচনাগুলো কেবল সাহিত্যিক গুরুত্বের জন্যই নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তন এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্যও তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশ্বাস করতেন, সঙ্গীত এবং সাহিত্য সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে।

দারিদ্র্যের মধ্যে থেকেও হরিনাথের মানবিকতা ছিল গভীর। তিনি সবসময় অসহায় এবং দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে কখনো পিছপা হননি। “কাঙাল” উপাধিটি নিজেই ধারণ করে তিনি দেখিয়েছেন, দারিদ্র্য মানুষকে মহৎ হওয়ার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। বরং তিনি প্রমাণ করেছেন যে, আত্মনিবেদন এবং সৎ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দারিদ্র্যকে জয় করা সম্ভব।

হরিনাথ মজুমদারের কাজ ও আদর্শ বাংলা সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। তিনি সাংবাদিকতাকে কেবল তথ্যানুসন্ধান এবং পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং সাংবাদিকতাকে সমাজের সমস্যার সমাধান ও জনমতের পরিবর্তনের হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেছিলেন।

তাঁর সাহসিকতা এবং নীতিবোধ নতুন প্রজন্মের সাংবাদিক ও লেখকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। তাঁর দেখানো পথ ধরে পরবর্তীতে আরও অনেক সাংবাদিক এবং সমাজ সংস্কারক এগিয়ে এসেছেন।

১৮৯৬ সালে কাঙাল হরিনাথের জীবনাবসান ঘটে। কিন্তু তাঁর কাজ এবং আদর্শ তাঁকে চিরকাল স্মরণীয় করে রেখেছে। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন যে, কঠিন পরিস্থিতিতেও নৈতিকতা এবং সাহস বজায় রেখে সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

কাঙাল হরিনাথ ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য। সাংবাদিকতা, সাহিত্য, সংগীত এবং সমাজসেবার মাধ্যমে তিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক অগ্রগতিতে বিশাল অবদান রেখেছেন। তিনি ছিলেন এমন একজন পথিকৃৎ, যিনি নিজের সীমিত সম্পদ এবং অসুবিধা সত্ত্বেও সমাজের জন্য অবিচলভাবে কাজ করে গেছেন। তাঁর জীবন ও কাজ আমাদের দেখায় যে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো কখনো বৃথা যায় না।

লেখক পরিচিতি  : উজ্জ্বল হোসাইন, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় মাস্টার্স (ব্যাচ ২০২১), পিআইবি।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।