খুঁজুন
                               
, ,

আধুনিক সাংবাদিকতায় জনজীবনের উপর প্রভাব

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৫, ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
আধুনিক সাংবাদিকতায় জনজীবনের উপর প্রভাব

আধুনিক সাংবাদিকতা জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে, কারণ এটি শুধু তথ্য পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের মতামত গঠন, সামাজিক পরিবর্তন এবং নীতি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং অনলাইন সাংবাদিকতার কারণে তথ্য এখন দ্রুত এবং সহজলভ্য। এটি মানুষকে বিশ্বব্যাপী ঘটমান ঘটনা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। সাংবাদিকতা জনমত তৈরির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। প্রতিবেদনের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত করা সম্ভব। বিশেষত, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে সংবাদ পরিবেশন জনমতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকার, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের দায়বদ্ধ রাখা সম্ভব। দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অন্যায় প্রকাশ করার মাধ্যমে সাংবাদিকতা জনস্বার্থ রক্ষা করে। সাংবাদিকতা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করে এবং সচেতন করে। এটি স্বাস্থ্য, পরিবেশ, অধিকার, এবং সামাজিক সমস্যাগুলোর বিষয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সাংবাদিকতা সামাজিক আন্দোলন এবং সংস্কৃতির পরিবর্তনে ভূমিকা পালন করে। নারী অধিকার, মানবাধিকার, এবং পরিবেশগত ইস্যুতে জনমত গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আধুনিক সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ভুয়া খবর এবং প্রোপাগান্ডার বিস্তার। ভুল তথ্য জনজীবনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, যা সামাজিক অস্থিরতা বাড়ায়। একটানা নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের কারণে মানুষ মানসিক চাপ এবং হতাশার শিকার হতে পারে। তাই সাংবাদিকতার ইতিবাচক এবং ভারসাম্যপূর্ণ দিকও জরুরী।

আধুনিক সাংবাদিকতা জনজীবনে একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। তবে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এর ইতিবাচক দিকগুলোকে কাজে লাগানো সম্ভব, যা একটি সচেতন ও উন্নত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে। গণমাধ্যমকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আধুনিক সাংবাদিকতা জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে এবং শাসকগোষ্ঠীকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসে। এটি নির্বাচন, রাজনৈতিক আলোচনা এবং নীতিনির্ধারণী বিষয়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে সাংবাদিকতা আরও গতিশীল ও বহুমাত্রিক হয়েছে। এখন প্রত্যেকেই সাংবাদিকতার একটি অংশ হয়ে উঠছে (যেমন: সিটিজেন জার্নালিজম)। এটি তথ্য প্রবাহকে আরও বিস্তৃত করেছে এবং জনগণকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মহামারি বা রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো পরিস্থিতিতে সাংবাদিকতা জরুরি তথ্য দ্রুত পৌঁছে দিয়ে জীবন রক্ষায় ভূমিকা পালন করে। এটি দুর্যোগকালীন সময়ে জনগণের সঠিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সহায়ক।

সাংবাদিকতা অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে, যেমন শেয়ারবাজারের খবর, পণ্যমূল্যের ওঠানামা বা নতুন নীতিমালা। এটি ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।

সাংবাদিকতা ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পণ্যের গুণগত মান, প্রতারণা, এবং বিজ্ঞাপনের সত্যতা যাচাই করে সাংবাদিকতা জনগণের স্বার্থে কাজ করে।

শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় যেমন নতুন নীতি, পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন, এবং শিক্ষার সুযোগ নিয়ে আধুনিক সাংবাদিকতা জনগণকে সচেতন করে। এটি শিক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়।

আধুনিক সাংবাদিকতা মানুষকে শুধু তাদের স্থানীয় পরিবেশের খবর জানায় না, বরং বিশ্বব্যাপী সংযোগ ঘটায়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক রাজনীতি, এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তন নিয়ে তথ্য মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে।

সাংবাদিকতা বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়। এটি সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখে এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা বাড়ায়।

আধুনিক সাংবাদিকতা মানুষের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে এবং অসাম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলে। এটি অবহেলিত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরে।

সাংবাদিকতা প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন নিয়ে সচেতনতা তৈরি করে। নতুন আবিষ্কার, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি নিয়ে রিপোর্টিং মানুষকে উন্নত জীবনের দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। তরুণ প্রজন্ম সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্কে সচেতন হয়। এটি তাদের ভবিষ্যৎ গঠন এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য প্রভাবিত করে।

আধুনিক সাংবাদিকতা জনজীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে। এর ইতিবাচক দিকগুলো যেমন সমাজে সচেতনতা, উন্নয়ন, এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, তেমনই এর অপব্যবহার বিভ্রান্তি, মিথ্যা প্রচার এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। সঠিক নৈতিক মানদণ্ড বজায় রেখে সাংবাদিকতা পরিচালিত হলে এটি সমাজকে আরও উন্নত করতে পারে।

আধুনিক সাংবাদিকতা জনজীবনে গভীর ও বিস্তৃত প্রভাব ফেলছে, এবং এটি সমাজের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূত্রপাত করছে। আরও কিছু দিক বিশদভাবে উল্লেখ করা হলো: সাংবাদিকতা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। প্রথাগত কুসংস্কার ও ধ্যানধারণা ভাঙার মাধ্যমে এটি মানুষকে প্রগতিশীল ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে সহায়তা করে।আধুনিক সাংবাদিকতা পরিবেশের সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে। এটি জনসাধারণ এবং নীতিনির্ধারকদের পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হতে অনুপ্রাণিত করে।

ডিজিটাল সাংবাদিকতা মানুষের জীবনধারা প্রযুক্তি-নির্ভর করে তুলেছে। লাইভ নিউজ, মোবাইল নোটিফিকেশন, এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে গতিশীল করেছে।

সংবাদমাধ্যম অপরাধের ঘটনা তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলিকে সক্রিয় হতে বাধ্য করে। পাশাপাশি, এটি নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

আধুনিক সাংবাদিকতা স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে। যেমন: নতুন রোগ, ভ্যাকসিন, স্বাস্থ্যনীতি, এবং প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা। মহামারীর সময়ে এটি আরও কার্যকর হয়ে ওঠে। সাংবাদিকতা বিনোদন জগতের খবর যেমন সিনেমা, সংগীত, এবং নাটকের প্রচার করে। এটি সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায় এবং শিল্পীদের কাজ সবার সামনে তুলে ধরে। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সাংবাদিকতা যেমন সহজলভ্যতা বাড়িয়েছে, তেমনই এর ফলে ভুল তথ্য ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাংবাদিকতা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং এবং দায়িত্বশীল রিপোর্টিংয়ের গুরুত্ব বাড়াচ্ছে।

আঞ্চলিক সাংবাদিকতা মানুষের স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরে। রাস্তা, পানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভাবের মতো বিষয়গুলো সরকারের নজরে এনে সমাধান করতে সাহায্য করে।

আধুনিক সাংবাদিকতা নারী অধিকার, সমতা এবং তাদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে। এটি নারীশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

সাংবাদিকতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম রাজনীতি, ইতিহাস, অর্থনীতি এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে পারে। এটি তাদের জ্ঞান বৃদ্ধি এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়ক।সাংবাদিকতা মানুষকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের কার্যক্রম নিয়ে বিশ্লেষণ বা বিতর্ক অনুষ্ঠান মানুষের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতা বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং দুর্যোগের খবর পৌঁছে দিয়ে বৈশ্বিক সহানুভূতি সৃষ্টি করে। এটি মানবিক সাহায্যের জন্য জনগণ এবং সংস্থাগুলিকে উৎসাহিত করা।

আধুনিক সাংবাদিকতা শুধুমাত্র তথ্য সরবরাহের মাধ্যম নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তবে এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত করা সম্ভব। এজন্য সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সত্যতা, এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

লেখক: উজ্জ্বল হোসাইন, গনমাধ্যম ও‌ সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ২০২১, পিআইবি।

দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। সে হিসেবে ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারে স্বর্ণের বিক্রয় মূল্য কমানো হচ্ছে। নতুন এই মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হবে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিলো বাজুস। ওই সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৯১ টাকায়।
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার গহনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকবে। ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আলাদাভাবে আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকারের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। অলংকার ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ঘোষিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিনের (মোসলেম আহম্মদ) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন। এদিকে, যৌন নিপীড়নের বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিশুর অভিভাবক শাহজালাল রুমি অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারেন। চড় দেওয়ার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে যৌন হয়রানি করেন উপাধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন। এ সময় বিষয়টি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে নানা ধরনের ভয়ভীতিও দেখানো হয়। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) সকালে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে ঘটনার জবাবদিহি চান।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) তাকে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে শিশু নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে ও সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে কাজ করছে সরকার। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের দায়িত্ব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ শৃঙ্খলা পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’ এর আগে, সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাড়ি থেকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। এ সময় তিনি উপস্থিত সেনাদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। এরপরে তিনি সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।