খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

প্রথম পিতৃত্ব: দায়িত্ব ও ভালোবাসার এক নতুন অধ্যায়

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রথম পিতৃত্ব: দায়িত্ব ও ভালোবাসার এক নতুন অধ্যায়

জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ই যেন একেকটি অমূল্য গল্প। তবে কিছু গল্পের স্বাদ অন্যরকম—অপরূপ, অতুলনীয়। এমনই এক অনন্য অভিজ্ঞতা হলো পিতৃত্ব। সেই প্রথমবার, যখন একজন পুরুষের মনে আসে একটি নতুন পরিচয়ের আনন্দ, দায়িত্ব এবং ভালোবাসা, তখন তার জীবন যেন নতুন এক রঙে রঞ্জিত হয়। আমি যখন প্রথম জানতে পারি, আমি বাবা হতে চলেছি, তখন মুহূর্তটি ছিল এক মিশ্র অনুভূতির। আনন্দ, উত্তেজনা, শঙ্কা—সবকিছু একসাথে। কোনো কিছুর সাথেই সেই অনুভূতিকে তুলনা করা যায় না। মনে হয়েছিল, যেন জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রতিটি দিনই হবে শেখার, বোঝার, এবং অনুভব করার এক অসাধারণ সুযোগ।

যে মুহূর্তে জানতে পারলাম, আমার স্ত্রী মা হতে চলেছেন আর আমি বাবা হতে চলছি, আমার মনের মধ্যে কেমন যেন একটা অদ্ভুত আলোড়ন বয়ে গেল। আমার চারপাশটা কেমন যেন বদলে গেল। তখন মনে হচ্ছিল, আমি শুধু একজন মানুষ নই, একজন বাবা হতে চলেছি। আমার বুকে নতুন দায়িত্বের এক ভার যেন ধীরে ধীরে জমা হচ্ছিল। যে মানুষটা আগে নিজের প্রয়োজন আর আরামকেই বেশি গুরুত্ব দিত, সে হঠাৎ বুঝতে পারল, এখন থেকে আমার জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত আর ভাবনা আমার সন্তানকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে।

আমার স্ত্রীর গর্ভাবস্থায় নয়টি মাস ছিল অপেক্ষার এক দীর্ঘ উৎসব। প্রতিদিনই নতুন নতুন কিছু ঘটত। স্ত্রীর শারীরিক পরিবর্তন, তার চাহিদা, তার অনুভূতিগুলো আমার মনকে আরও গভীরভাবে সংবেদনশীল করে তুলেছিল। এই সময়টাতে আমার ভেতরে একটা অন্যরকম ভালোবাসার জন্ম নিল। হঠাৎ একদিন কালো অধ্যায় শুরু হলো-আমার স্ত্রী একটি ছোট্ট দূর্ঘটনায় বাম পায়ের হাঁটুর নিচে প্রধান যে দুটি  হাড় টিবিও-ফিবুলা মাঝ বরাবর ভেঙ্গে যায়। আমি সকালের নাস্তা সেরে অন্য দিনের মতো রেডি হয়ে অফিসে চলে যাই।  গাড়ি থেকে নামতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হই মনে মধ্যে একটা

প্রতিদিনই মনে হতো, আমার সন্তানটি কেমন হবে? তার চেহারা কেমন হবে? সে কি আমার মতো হবে, নাকি তার মায়ের মতো? এই কল্পনাগুলো আমাকে এক অদ্ভুত আনন্দ দিত। আর এই অপেক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে শিখিয়েছিল ধৈর্য আর ত্যাগের মানে।-++++

যে দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে, সেটি হলো আমার সন্তানের জন্মদিন। সেই প্রথমবার, ১৩ জুন ২০১৩ শান্ত এক বিকেলে যখন তার কান্নার শব্দ শুনলাম, আমার মনে হলো যেন পুরো পৃথিবী আমার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। তাকে আমার হাতে প্রথমবার ধরে মনে হয়েছিল, আমি একটি স্বর্গীয় অনুভূতির অংশীদার। তাকে দেখে আমার মনে হচ্ছিল, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। ছোট্ট একটি প্রাণ, যার মুখে নিষ্পাপ একটি হাসি, সেই মুহূর্তেই আমার জীবনের সকল কষ্ট, সব ক্লান্তি হারিয়ে গিয়েছিল। পিতৃত্ব মানেই শুধু আনন্দ নয়, এটি একটি বিশাল দায়িত্ব। সন্তানের প্রতি যত্ন নেওয়া, তাকে সঠিক পথে চালিত করা, তার জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা—এসব কিছুই আমার কাছে ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।

প্রথমবার, যখন রাতে সন্তানকে ঘুম পাড়াতে পারিনি, তখন বুঝেছিলাম, বাবা হওয়া কতটা কঠিন। একটি ছোট শিশুর চাহিদা, তার কান্না, তার আনন্দ, সবকিছু বুঝতে শিখতে হয়। কিন্তু সেই কঠিন মুহূর্তগুলোও আমার জন্য এক নতুন শিক্ষার দরজা খুলে দিয়েছিল। আমার সন্তান আমাকে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখিয়েছে। ধৈর্য ধরার শিক্ষা, ত্যাগের মানে বোঝা, আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আসল অনুভূতি—এগুলো সবই আমি শিখেছি আমার সন্তান থেকে।

আমি অনুভব করেছি, বাবা হওয়া মানে শুধুই একজন অভিভাবক হওয়া নয়। এটি মানে, একজন পথপ্রদর্শক, একজন রক্ষক, এবং একজন সঙ্গী হওয়া। আমার সন্তান আমাকে নতুনভাবে জীবনকে দেখতে শিখিয়েছে। পিতৃত্বের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। সন্তানের প্রতি ভালোবাসার কোনো শর্ত থাকে না, কোনো সীমা থাকে না। তার হাসি, তার ছোট ছোট কাণ্ডকারখানা, তার প্রথম শব্দ—বা-বা, মা এসবই জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ এনে দেয়। আমি বুঝেছি, পিতৃত্ব মানে নিজের সুখকে পেছনে রেখে সন্তানের সুখকে সামনে রাখা। তার জন্য কিছু করতে পারা মানেই জীবনের আসল তৃপ্তি।

সন্তানের আগমন শুধু আমার জীবনেই নয়, পুরো পরিবারকেই বদলে দিয়েছিল। আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্য যেন আরও কাছাকাছি এসে গেল। সন্তানের জন্য আমরা সবাই একসাথে কাজ করতাম, একে অপরের প্রতি আরও যত্নশীল হয়ে উঠেছিলাম। সন্তানের মাধ্যমে আমি বুঝতে পেরেছি, একটি পরিবার কীভাবে একসঙ্গে এগিয়ে যায়। পরিবার মানে কেবল রক্তের বন্ধন নয়, এটি ভালোবাসা, ত্যাগ, এবং একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস।

পিতৃত্ব একটি অনন্ত যাত্রা, যা প্রতিনিয়ত চলতে থাকে। প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার থাকে, নতুন কিছু অনুভব করার থাকে। আমার সন্তানের বড় হওয়া, তার বেড়ে ওঠা, তার জীবনের প্রতিটি ছোট ছোট সাফল্য আমাকে গর্বিত করে।

আমি জানি, সামনে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে। কিন্তু আমি সেই চ্যালেঞ্জগুলো গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত। কারণ আমি জানি, আমার সন্তানের হাসির জন্য, তার সুখের জন্য আমি যে কোনো কিছু করতে পারি।

পিতৃত্বের স্বাদ এমন এক অভিজ্ঞতা, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এটি এমন এক অনুভূতি, যা প্রথমবার অনুভব করার পর জীবনের সমস্ত কিছু বদলে যায়। সন্তান জন্মের আগে পর্যন্ত হয়তো নিজের জীবনকেই কেন্দ্র করে সবকিছু আবর্তিত হয়। কিন্তু বাবা হওয়ার পর, জীবন যেন অন্যরকম এক অর্থ পায়।

পিতৃত্ব আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। প্রথমেই শিখিয়েছে ধৈর্য। সন্তান লালন-পালনের প্রতিটি মুহূর্তেই ধৈর্যের প্রয়োজন। তার কান্না, খাওয়া, আরাম—সবকিছুতে আমাকে ধৈর্য ধরে তার চাহিদাগুলো বুঝতে হয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। বাবা হওয়ার পর বুঝেছি, সন্তানের জন্য ত্যাগ করতে কখনোই কষ্ট হয় না। তার সুখই আমার সুখ, তার স্বস্তিই আমার স্বস্তি।

পিতৃত্বের প্রথম স্বাদ আমাকে জীবনের নতুন মানে বুঝিয়েছে। এটি কেবল একটি অনুভূতি নয়, এটি একটি যাত্রা, যা কখনো শেষ হয় না। এই যাত্রা আমাকে আরও ভালো মানুষ হতে সাহায্য করেছে। আমার সন্তান আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। তার জন্য আমি আরও শক্তিশালী, আরও দায়িত্বশীল এবং আরও ভালো বাবা হতে চাই। পিতৃত্বের এই মধুর অভিজ্ঞতা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অধ্যায়, যা আমি সারা জীবন মনে রাখব।

লেখক পরিচিতি: উজ্জ্বল হোসাইন, লেখক ও প্রাবন্ধিক, চাঁদপুর।

কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

কুড়িগ্রামে শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। গত কয়েক দিন থেকে আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও নেই উত্তাপ।হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সোমবার (১২জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এদিকে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার সঙ্গে উত্তরীয় হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। হাসপাতালে আসা চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকার খলিল মিয়া বলেন, আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডায়েরি তাই ভর্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার হোটেল শ্রমিক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল বেলা ঠান্ডা ও শীতে বাড়িত থাকি বের হওয়া যায় না। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ মানুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ চলমান রয়েছে। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, সোমবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই জারি করা হয়েছে এ সতর্কতা। ইসরায়েলের সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে বৈঠক হয়েছে। মূলত ইরান পরিস্থিতিই ছিল সেই ফোনালাপের একমাত্র বিষয়বস্তু। তবে সরকারি সূত্রের বরাতে নেতানিয়াহু-রুবিওর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগের দিন শুক্রবার মার্কিন দৈনিক দ্য ইকোনমিস্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে ইরান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমার মনে হয় কোনো ধারণাগত মন্তব্য না করে আমাদের উচিত হবে ইরানে কী ঘটছে, তা দেখা। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।
তবে ইরানের চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুন মাসে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল ও ইরান। টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল সেবার।

লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৫টায় রায়পুর শহরের প্রধান সড়কে তিনটি ও সদরের দক্ষিণ বাজারের গোডাউন এলাকায় ৪টি অভিযানে সাতটি মামলায় মোট দশ ডিলারকে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পৃথক এই অভিযান পরিচালনা করেন রায়পুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও নিরুপম মজুমদার। ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্যে সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, ‘টিভিতে দামের ঘোষণা শুনি, কিন্তু দোকানে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না।’ ক্রেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে হলেও সহজে গ্যাস পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন।’ খুশবু আক্তার বলেন, ‘তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য করছে।’
পরিবেশক মোহাম্মদ কাজল ও ফাহিম বলেন, ‘গোডাউনে চাহিদার চেয়ে মাল কম। কোম্পানি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক।’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামসুল বলেন, ‘অতিরিক্ত দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে।’ রায়পুর উপজেলা পরিষদের সামনে পিঠা বিক্রেতা আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দৈনিক দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কঠিন হয়ে গেছে।’
ওমেরা ও যমুনা এলপিজির পরিবেশক বেলাল হোসেন বলেন, ‘ওমেরা ও যমুনা কোম্পানির কোনও সংকট নেই। পাইকারি দামে ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দামের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর শহরের ৭ জনকে ৪২ হাজার ও রায়পুর শহরের ৩ জন ব্যাবসায়ীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে সিন্ডিকেট ভাঙ্গা কঠিন হবে।’
রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লুধুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এলপিজি বাজারের অনিয়ম উদ্বেগজনক। সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান, কঠোর শাস্তি ও ভোক্তাদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। না হলে নির্ধারিত দাম কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।’
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাছান বলেন, লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে এলপিজি-এর সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে সদরে ৭টি মামলায় ৪২ হাজার টাকা এবং রায়পুরে তিন মামলায় ১১ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রুখতে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।