খুঁজুন
                               
সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রাবির ৬ ডিনের পদত্যাগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রাবির ৬ ডিনের পদত্যাগ

দিনব্যাপী আন্দোলন, চেম্বারে তালা ও রেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করে রাখার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় ডিন পদত্যাগ করেছেন। রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় এক সভায় তারা দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার।
এ বিষয়ে আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, আমরা শিক্ষার্থী ও ডিনদের সাথে আলোচনা করেছি। সেখানে ডিনরা তাদের দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন। এই বিষয়ে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) হয়তোবা উপাচার্য একটা সিদ্ধান্ত জানাবেন।
পদত্যাগ করা ছয় ডিন হলেন আইন অনুষদের অধ্যাপক ড. আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. নাসিমা আখতার, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক ড. এ এস এম কামরুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. এস এম একরাম উল্লাহ, প্রকৌশল অনুষদের অধ্যাপক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. এএইচএম সেলিম রেজা।
এদিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এসএম এক্রাম উল্ল্যাহ বলেন, আজ কী হয়েছে সেটা জানি না, তবে আমরা দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক না বলে জানিয়ে দিয়েছি।এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেয়নি।
এর আগে আওয়ামীপন্থি ছয় ডিনের পদত্যাগ দাবিতে রোববার সকাল ১০টার দিকে ডিনস কমপ্লেক্সে যান শিক্ষার্থীরা। পরে ডিনস কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ভবনে অবস্থিত এই ডিনদের চেম্বারে তালা দেন তারা। তবে এদিন ডিনদের কেউ বিভাগের শিক্ষক ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন না।
পরে দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার দপ্তরে এসে তাদের দাবি জানান। এ সময় শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ ফয়সাল দাবি আদায়ের আগে রেজিস্ট্রার ভবন ত্যাগ না করার ঘোষণা দেন। পরে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার দপ্তরসহ উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর দপ্তরেও তালা ঝুলিয়ে দেন।
প্রায় আধা ঘণ্টা তালাবদ্ধ রাখার পর তালা খুলে দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টর ও জনসংযোগ দপ্তর প্রশাসক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সভায় বসেন। সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই রাতে আরেকটি সভা ডাকা হবে বলে ওই সভা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর শিক্ষক সমিতি, ডিন, সিন্ডিকেট, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি এবং শিক্ষা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১২টি অনুষদের ডিন নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি হলুদ প্যানেল থেকে ছয় প্রার্থী নির্বাচিত হন। গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ডিনদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে উপাচার্য ১১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এসব ডিনের নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত স্ব-পদে থাকার নির্দেশ দেন।

বিষ্ণপুরবাসীকে প্রকৃত সেবা দিতে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে চাই : এনাম চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
বিষ্ণপুরবাসীকে প্রকৃত সেবা দিতে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে চাই : এনাম চৌধুরী

চাঁদপুর জেলার ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী (এনাম)। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত এই সদালাপী মানুষটি এবার সরাসরি জনপ্রতিনিধি হয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মনোহরখাদী চৌধুরী বাড়ির কৃতী সন্তান এনাম চৌধুরী একটি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত পরিবারের উত্তরসূরি। তার পিতা গোলাম জিলানী চৌধুরী এবং মাতা সালেহা চৌধুরীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তিনি নিজেও জনসেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গোলাম মোস্তফা চৌধুরী (দুইবার), গোলাম মাওলা চৌধুরী মানিক মিয়া (ছয়বার) এবং গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী (একবার) বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে এনাম চৌধুরীও নিজেকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করতে চান।
একান্ত সাক্ষাাতে এনাম চৌধুরী বলেন, আমি এনাম চৌধুরী ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য আগ্রহী। মূলত জনগণের আহ্বান, ভালোবাসা এবং ইউনিয়নের উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগ আমাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি জানান, শুরুতে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু গত প্রায় ১৫ বছরে ইউনিয়নের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখে তার মধ্যে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, আমাদের ইউনিয়নের অনেক অবহেলিত মানুষ রয়েছে, যারা এখনো মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত। তাদের জন্য কিছু করতে হলে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন, আর সেটি হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ।
এনাম চৌধুরী আরও বলেন, তাদের পরিবার দীর্ঘ ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে এই ইউনিয়নের মানুষের পাশে ছিল। এখনও তারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ফলে ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে তাদের একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সেই আস্থা ও ভালোবাসা তার নির্বাচনী যাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে তিনি জানান, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন নিবেদিত কর্মী। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় তিনি নির্দলীয়ভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যদিও দলের নেতাকর্মীদের সমর্থন তিনি পাবেন বলে আশাবাদী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান যুবদল সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক তার শৈশবের বন্ধু এবং ১৯৯১ সালে ছাত্রদলের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে এনাম চৌধুরী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমি শুধুমাত্র পরিচিতি লাভের জন্য নির্বাচন করতে চাই না। আমি নির্বাচিত হওয়ার জন্যই মাঠে নামতে চাই। কারণ এই ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি মানুষ আমাকে ও আমার পরিবারকে চেনে। তিনি জানান, এর আগে তিনি সরাসরি কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি, তবে ১৯৯১ সাল থেকে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে পরিচালনা কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও জনসংযোগ সম্পর্কে তার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচনী পরিকল্পনা সম্পর্কে এনাম চৌধুরী বলেন, তার লক্ষ্য একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও স্বনির্ভর ইউনিয়ন গড়ে তোলা। তিনি মনে করেন, উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করাই প্রকৃত উন্নয়ন। তিনি বলেন, আমাদের ইউনিয়নে উন্নয়নের অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং নারীর ক্ষমতায়ন—এসব ক্ষেত্রেই কাজ করতে চাই।
সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের পরিবার সবসময়ই বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে তিনি ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগ শুরু করেছেন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের মতামত নিচ্ছেন। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে। আমরা চাই, জনগণের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রতিফলিত হোক। ভোটারদের উদ্দেশ্যে এনাম চৌধুরী বলেন, আমাদের ইউনিয়ন শুধু একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়—এটি আমাদের পরিচয়, আমাদের ভবিষ্যৎ। এই উন্নয়নের দায়িত্ব আমাদের সবার। আমি একা কিছু করতে পারবো না, তবে সবার সহযোগিতা পেলে অবশ্যই একটি মডেল ইউনিয়ন গড়ে তুলতে পারবো।
তিনি দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, একটি সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য এই দুটি বিষয়কে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এ জন্য তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। এনাম চৌধুরী আরও বলেন, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, সততার সঙ্গে কাজ করি, তাহলে কোনো বাধাই আমাদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। আমি চাই, আমাদের সন্তানরা একটি নিরাপদ, শিক্ষিত ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠুক।
নিজের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিতে তিনি জানান, তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে ঢাকায় একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন, যেখানে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি নিজস্ব একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। সর্বশেষে তিনি ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমি আপনাদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। আমরা সবাই মিলে এমন একটি বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন গড়ে তুলবো, যা হবে শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রতীক।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনাম চৌধুরীর পারিবারিক ঐতিহ্য, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা তাকে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। তবে নির্বাচনের মাঠে অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেমন হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সবমিলিয়ে, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এনাম চৌধুরীর নাম আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসায় নির্বাচনটি যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে, তা বলাই যায়।

হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হামজনিত কারণে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাকি ৮ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১১০৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ১৭৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ শিশুর মধ্যে ৬ জনই ঢাকা বিভাগের। এতে বোঝা যাচ্ছে রাজধানীতে সংক্রমণের হার ও তীব্রতা সবথেকে বেশি। গত এক মাসে মোট ১৮,২৩১ জন শিশু উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে, যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯,৩০৪ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব ক্রমান্বয়ে জটিল আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে উপসর্গ নিয়ে
শিশুদের শরীরে জ্বর ও লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা বিভাগের বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অপরিশোধিত তেলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
অপরিশোধিত তেলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ

অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। গতকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল থেকে চট্টগ্রামের এই কারখানাটিতে পরিশোধন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইআরএল কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শোধনাগারটি সচল রাখতে গত কয়েকদিন ধরে বিকল্প সব পথ অবলম্বন করা হয়েছিল:
মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা ৫ হাজার টন এবং চারটি স্টোরেজ ট্যাংকের তলানিতে থাকা ‘ডেড স্টক’ তুলেও পরিশোধন কাজ চালানো হয়। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৪,৫০০ টন তেল পরিশোধন করলেও, সংকটের কারণে গত মাস থেকে তা কমিয়ে ৩,৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। গত ৪ মার্চ থেকেই ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুদ ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসে, যা একটি শোধনাগার চালানোর জন্য একেবারেই অপর্যাপ্ত।
প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হবে কি না—এমন উদ্বেগের মুখে জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করে জানয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ইআরএল বন্ধ থাকলেও জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় বা বাজারে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত এবং বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর একটি বড় অংশই আমদানিকৃত পরিশোধিত তেল দিয়ে মেটানো হলেও, অভ্যন্তরীণভাবে তেল পরিশোধনের একমাত্র উৎসটি বন্ধ হয়ে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।