খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা : অনিশ্চয়তায় বিপন্ন

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা : অনিশ্চয়তায় বিপন্ন

সহ-শিক্ষা কার্যক্রম কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায় না। বক্তৃতা, বিতর্ক, নাটক, আবৃত্তি, সংগীত কিংবা খেলাধুলা এসবই শিক্ষার অঙ্গ হিসেবে শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে সহায়তা করে। বিশেষত বিতর্ক প্রতিযোগিতা একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি, যুক্তি উপস্থাপনের দক্ষতা, বক্তৃতার গুণাবলি এবং দলগতভাবে কাজ করার ক্ষমতা বাড়ায়। বাংলাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনেক বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়, তবে ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকা আয়োজন খুব বেশি নেই।
চাঁদপুর জেলায় ‘পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা’  এক অনন্য উদ্যোগ। একটানা ১২ বছর ধরে এ প্রতিযোগিতা জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতর্কচর্চা, যুক্তিবাদী মনোভাব এবং মুক্তচিন্তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিক্ষার্থীদের জন্যে এটি হয়ে উঠেছিলো বার্ষিক উৎসবের মতো। কিন্তু সম্প্রতি এ প্রতিযোগিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এটি কি আর চালু থাকবে, না কি এ মূল্যবান উদ্যোগটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে?
প্রতিযোগিতার সূচনা : চাঁদপুর একটি সংস্কৃতি -শিক্ষাবান্ধব জেলা। এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা বরাবরই মেধা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় সুনাম কুড়িয়েছে। কিন্তু ১৯৮৩ সালের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের সহ-শিক্ষা কার্যক্রম ধীরে ধীরে সীমিত হতে থাকে। দীর্ঘ সময় ব্যবধানে ২০০৯ সালে চাঁদপুর কণ্ঠ একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা হিসেবে জেলার শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু করে। পরে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়। এভাবেই জন্ম নেয় পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা।
প্রতিযোগিতার ইতিহাস : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-চাঁদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর অফিস যখন কালীবাড়ি মোড়ের নূর ম্যানশনে ছিলো তখন আমরা ইয়েস সদস্য হিসেবে সনাক-টিআইবির সাথে জড়িত ছিলাম। তখন সারা বাংলাদেশে মাত্র ৩৪টি সনাক ছিলো। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের দুই ধরনের কমিটি ছিলো, একটি হলো সনাক ও অন্যটি ইয়েস। তখনকার সনাক-টিআইবি, চাঁদপুর গঠিত হয়েছিল চাঁদপুরের সুধীজনদের একাংশ নিয়ে। তৎকালীন সনাক সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক মনোহর আলী (বর্তমানে প্রয়াত) এবং সনাক সদস্য ছিলেন প্রথিতযশা চিকিৎসক আলহাজ্ব ডা. এম. এ. গফুর, ডা. মো. এ কিউ রুহুল আমিন, কাজী শাহাদাত, অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন খান, প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মোশারেফ হোসেন, রূপালী চম্পক ও কৃষ্ণা সাহাসহ বিশিষ্টজনরা। তখন টিআইবির আয়োজনে জাতীয়ভাবে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সেখানে চাঁদপুর থেকে ইয়েস সদস্য ওমর ফারুক ফাহিম (বর্তমানে জজশীপে কর্মরত) অংশগ্রহণ করেন। ফাহিম সেখানে অংশগ্রহণ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। তিনি সারাদেশের সকল বিতার্কিককে পেছনে ফেলে প্রথম হয়েছিলেন। অনুজপ্রতিম ওমর ফারুক ফাহিমের সেই বিজয় সারাদেশের সাথে চাঁদপুরে আলোচিত বিষয় ছিলো। আর এই ফাহিমের বিতর্কের জয়গানের আলোচনার মাধ্যমেই চাঁদপুরে কীভাবে বিতর্ক চর্চা শুরু করা যায় সেটি নিয়ে ভাবতে থাকেন সনাক-টিআইবির ইয়েস সদস্যরা। তখনকার ইয়েস সদস্যদের মধ্যে ইবনে আজম সাব্বির, হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, এহসান ফারুক ছন্দ, নাঈম হোসেন, উজ্জ্বল হোসাইন, নুরে আলম নয়ন, কেএম মাসুদ, দৌলত হোসেন শান্ত, ইকরাম হোসেন পুতুল, নেয়ামুল হক, বিপ্লব, আছমা আক্তার আঁখি, নাজিয়া আহমেদ পিকসী, ওমর ফারুক ফাহিমসহ আরো অনেকেই জড়িত ছিলেন। ইয়েস সদস্যদের মধ্যে আবার দুটি ভাগ ছিলো। এদের কিছু সংখ্যক নিয়ে সনাকের গণনাট্য দল ছিলো এবং কিছু সংখ্যককে নিয়ে ইয়েস কার্যক্রম পরিচালিত হতো। মূলত গণনাটক আর ইয়েস সদস্য সকলে ইয়েস সদস্য হিসেবেই পরিচিত ছিলো। ওমর ফারুক ফাহিমের বিতর্কের সাফল্যের কারণে ইবনে আজম সাব্বিরের নেতৃত্বে ইয়েস মিটিংয়ের আলোচনায় চাঁদপুরে বিতর্ক চর্চা এবং বিতর্ক সংগঠন করার প্রস্তাব আসে। যেহেতু টিআইবি একটি স্বতন্ত্র সংগঠন, সেহেতু সনাক-টিআইবির ব্যানারে বিতর্ক চর্চাকে সাংগঠনিক কাঠামোতে নেয়া যায়নি। কারণ, টিআইবির ব্যানারে কোনো সংগঠন করার এখতিয়ার ছিলো না। তাই ইয়েস সদস্যরা চিন্তা করে, যে কোনোভাবেই হোক একটি বিতর্ক সংগঠনের করার ব্যবস্থা করতে হবে।
পরবর্তী ইয়েস মিটিংয়ে বিতর্ক সংগঠন করার বিষয়ে ইয়েস সদস্যরা সবাই আলোচনায় মিলিত হন। সেই সভায় সনাক-টিআইবি কার্যালয়ে সকলের প্রস্তাব ও সম্মতির ভিত্তিতে একটি নাম নির্ধারণ করা হয়। নামটি হচ্ছে চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলন, ইংরেজিতে চাঁদপুর ডিবেট মুভমেন্ট, সংক্ষেপে সিডিএম। ইয়েস সদস্য ইবনে আজম সাব্বির, ওমর ফারুক ফাহিম, আহসান ফারুক ছন্দ, আশিক-বিন-ইকবাল আনন্দ এবং আমিসহ একটি খসড়া কমিটির তালিকাও প্রস্তুত করি। আমি বয়সে সিনিয়র হওয়ায় সকলে আমাকে সভাপতি হওয়ার জন্যে অনুরোধ জানান। কিন্তু আমি দেখেছি যে, আমার দ্বারা বিতর্কের মঞ্চে বিতর্ক করা সম্ভব নয়, তাই বিতর্ক সংগঠক হতে পারবো এটাই আমার জন্যে গর্বের বিষয় ছিলো। ইবনে আজম সাব্বিরকে সভাপতি এবং ওমর ফারুক ফাহিমকে সেক্রেটারী করে চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলনের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিষ্ঠাকালীন সহ-সভাপতি নির্বাচন করা হয় আমাকে। এভাবেই শুরু হলো চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলনের বিতর্ক চর্চা। বিতর্ক আন্দোলন সৃষ্টির পর থেকেই চাঁদপুর রোটারী ভবনে তখন এটির প্রথম আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা করা হয় প্রয়াত অধ্যাপক মনোহর আলী স্যারকে এবং সাথে উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তৎকালীন সনাক সদস্যদের। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ও চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী শাহাদাত, প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মোশারেফ হোসেন, অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার প্রমুখ। প্রথম বিতর্ক কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় চাঁদপুর রোটারী ভবনে, সেখানে আমাদের সকলের উপস্থিতিতে খুব সুন্দর একটি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এরপর আর চাঁদপুরে বিতর্ক চর্চার জন্যে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শুরু থেকেই চাঁদপুরে বিশিষ্টজনদের নামে বিতর্ক উৎসব করা হতো। এরপর চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলনের আয়োজনে চাঁদপুর ক্লাবে জাতীয় বিতর্ক উৎসব করা হয়। এ উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা, সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাড. ইকবাল-বিন-বাশার। আমরা যারা সামনে থেকে বিতর্ক যোদ্ধা হিসেবে কাজ করি, তাদের নেপথ্যে ছিলেন ইকবাল-বিন-বাশার ও শাহিদুর রহমান চৌধুরীর মতো সমাজসেবীরা। তবে বিতর্ক চর্চার প্রসার ও প্রচারের কাজটি খুবই সহজতর হয়েছে শুধুই চাঁদপুর কণ্ঠ ও কাজী শাহাদাতের মতো বিতর্ক-জ্বরে আক্রান্ত মানুষের জন্যে।
বিতর্ক আন্দোলনের শুরুতেই  দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ এবং টাইটেল স্পন্সর হিসেবে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সকে সংযুক্ত করা হয়। কয়েক বছর চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে জেলাব্যাপী একসাথে বিতর্ক চর্চা করার পর চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলন তাদের নিজস্ব গণ্ডিতে ফিরে যায়। ঠিক তখনই কাজী শাহাদাত চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে সাথে ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজন চন্দ্র দে, সাইফুল ইসলাম, আরিফ হোসেনসহ আরো অনেকে।
কাজী শাহাদাত বিতর্কের প্রাণপুরুষ। একটু রেগে গেলেও কাজের বেলায় আসলে তিনিই কাজী। তার কাজে রয়েছে একটি নিজস্বতা। কোনো কাজ সঠিকভাবে না হলে তিনি সেটি কখনোই করেনই না। আর তিনি যে কাজে হাত দেন সেটি অবশ্যই সঠিকভাবে করেই ছাড়েন। চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন শুরু থেকেই যাত্রা করে এ পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা সদর ও উপজেলাগুলোতে বিতর্কের প্রচার-প্রসার ও বীজ বপন করে আজ ফলবান বৃক্ষ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। যার ফলস্বরূপ প্রতিবছর পাঞ্জেরী-চাঁদপুর বিতর্ক প্রতিযোগিতার মহাযজ্ঞ চলে। ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা ১১টি প্রতিযোগিতার সফল সমাপ্তির পর করোনা মহামারীর কারণে দ্বাদশ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আসর হয়নি। সেটি হয়েছে ২০২৩-২৪ বছরে।
স্বপ্নদ্রষ্টার ভূমিকা : এই প্রতিযোগিতার আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন চাঁদপুরের বিতর্ক জগতের কর্ণধার কাজী শাহাদাত। তিনি শুধু সংগঠকই নন, একজন দক্ষ বিতর্ক সংগঠক হিসেবে তরুণ প্রজন্মকে বিতর্কচর্চায় অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর সঙ্গে আরও ক’জন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি দীর্ঘ ১২ বছর নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তাদের প্রচেষ্টা ছাড়া এতো বড়ো একটি প্রতিযোগিতা ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা সম্ভব হতো না। তারা বিচারক খুঁজে বের করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্বুদ্ধ করা, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, স্পন্সর সংগ্রহ করা সব কিছুতেই সক্রিয় ছিলেন। ফলে চাঁদপুরে একটি শক্তিশালী বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে উঠে।
শিক্ষার্থীদের বিকাশ ও প্রভাব : বিতর্ক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তি-তর্কের সঠিক চর্চা গড়ে তোলে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চাঁদপুরের বহু শিক্ষার্থী পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ের বিতর্কে সাফল্য অর্জন করেছে। অনেকে আবার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিখ্যাত বিতর্ক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ প্রতিযোগিতা শুধু মেধা বিকাশই করেনি, বরং শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করেছে। তারা জনসম্মুখে সাবলীলভাবে বক্তব্য রাখার অভ্যাস অর্জন করেছে। অনেক শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতা থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলি শিখে নিয়েছে, যা পরবর্তীতে তাদের জীবনে কাজে লেগেছে।
১২ বছরের ধারাবাহিকতা একটি মাইলফলক : একটানা ১২ বছর ধরে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ প্রতিযোগিতা আয়োজন চাঁদপুরে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশে খুব কম জেলায় এতো দীর্ঘ সময় ধরে জেলা পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতা টিকেছিলো। এ কারণে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের জন্যে এক অনন্য অর্জন।
চ্যালেঞ্জ ও সংকট : তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রতিযোগিতার সামনে নানা চ্যালেঞ্জ এসেছে। প্রধান সমস্যাগুলো হলো :
অর্থনৈতিক সংকট : স্পন্সরদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা আয়োজন কঠিন হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনিক জটিলতা : অনেক সময় স্থানীয় প্রশাসন বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত সহযোগিতা দেয় না।
নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়া : মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতর্কের প্রতি আগ্রহ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
সংগঠকদের ক্লান্তি : দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করলেও নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠেনি, ফলে পুরানো সংগঠকদের ওপর চাপ বেড়েছে। ফলে ১২ বছরের একটানা এই প্রতিযোগিতার ইতি টানতে হয়েছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ : প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে চালু হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। একদিকে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ হ্রাস এসব মিলিয়ে আয়োজন ঝুঁকির মুখে। যদি এটি বন্ধ হয়ে যায় বা চালু করা না যায়, তাহলে চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের জন্যে একটি বড়ো সুযোগ হারিয়ে যাবে। এক সময় হয়তো এটি ইতিহাসেই থেকে যাবে। তবে অনেকেই বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা থাকলে আবারও এ প্রতিযোগিতা নবউদ্যমে শুরু হতে পারে। এর জন্যে প্রয়োজন স্থানীয় সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ, নতুন সংগঠক তৈরির উদ্যোগ এবং সরকারের সহযোগিতা।
সমাধান ও সুপারিশ : স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে। জেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাঞ্জেরী বা অন্যান্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে যুক্ত করতে হবে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিতর্ক ক্লাব গঠন করে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ জাগাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিতর্কের প্রচার করতে হবে।
সারমর্ম : পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুধু একটি সহ-শিক্ষা কার্যক্রম নয়; এটি চাঁদপুরের তরুণ প্রজন্মের চিন্তা, যুক্তি ও সৃজনশীলতার বিকাশের প্রতীক ছিলো। একটানা ১২ বছর ধরে যে মাইলফলক অর্জিত হয়েছে, সেটি হারিয়ে গেলে শুধু একটি প্রতিযোগিতাই বন্ধ হবে না, বরং শিক্ষার্থীদের জন্যে একটি অনন্য শিক্ষার ক্ষেত্রও সংকুচিত হবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু রাখা এবং আরও প্রসারিত করা জরুরি। চাঁদপুরবাসীকে এই উদ্যোগ রক্ষার জন্যে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।
লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক, চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।