খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

মানবতা : সঙ্কটময় সময়ে সম্প্রীতিই একমাত্র পথ

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
মানবতা : সঙ্কটময় সময়ে সম্প্রীতিই একমাত্র পথ

মানবতা একটি সর্বজনীন অনুভূতি, যা মানুষকে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি, এবং সহমর্মিতা দেখাতে উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমান সময়ে মানবতার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। প্রযুক্তি, আধুনিকতা, এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে মানুষ তার মানবিক গুণাবলি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই, সমাজ ও বিশ্বের কল্যাণে মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

মানবতা এবং এর তাৎপর্য : মানবতা হলো একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি। এটি কোনো ধর্ম, বর্ণ বা জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সর্বজনীন। যখন একজন ব্যক্তি অন্যের কল্যাণে কাজ করে, তখন তিনি মানবতাকে এগিয়ে নিয়ে যান। এটি কেবল সাহায্য নয়, বরং একটি মনের অবস্থা যেখানে মানুষ অন্যদের প্রতি দয়া, উদারতা এবং সেবার মনোভাব দেখায়। মানবতার সেবা শুধু অন্যের উপকারের জন্য নয়, নিজের আত্মার শান্তি এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য অপরিহার্য। এর মধ্যে রয়েছে : সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠা-মানবতার সেবার মাধ্যমে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান কমানো যায়। সম্প্রীতি বজায় রাখা-একে অপরের সাহায্যে সমাজে শান্তি এবং সম্প্রীতি বজায় থাকে। মর্যাদা রক্ষা-প্রত্যেক মানুষের জীবনের গুরুত্ব উপলব্ধি করা এবং তাদের মর্যাদাকে সম্মান জানানো মানবতার অংশ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদান-শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো মানবতাবাদী দায়িত্ব।

মানবতার সেবার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ : মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার পথে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নিজেদের স্বার্থ ছাড়া অন্যদের সাহায্য করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেছেন। বৈষম্য এবং দারিদ্র্যের কারণে মানুষ একে অপরের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। সমাজে সচেতনতার অভাব অনেক সমস্যার মূল কারণ। ধর্ম, জাতি, এবং ভাষার ভিত্তিতে বিভাজন মানবতার সেবার পথে একটি বড় বাধা।

কীভাবে মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা যায় : মানবতার সেবায় নিজেকে নিবেদিত করার জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির সচেতন প্রচেষ্টা প্রয়োজন। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাথে যুক্ত হয়ে সমাজের উন্নয়নে কাজ করা। অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। অশিক্ষিত জনগণের মাঝে শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া মানবতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দরিদ্র শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পরিবেশের সুরক্ষা মানবতারই একটি অংশ। বৃক্ষরোপণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার, এবং পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে মানবতা রক্ষা করা। থেকে বঞ্চিত মানুষদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। রক্তদান, অঙ্গদান এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া।অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য যেকোনো বিপর্যয়ের সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো। যেমন : বন্যা, ভূমিকম্প, কিংবা মহামারীর সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে রোটারী, লায়ন, রেড ক্রিসেন্ট, ইনার হুইলসহ এ জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে কাজগুলো করা।

মানবতার সেবা এবং ধর্ম : প্রত্যেক ধর্ম মানবতার সেবার উপর গুরুত্বারোপ করে। ইসলাম বলে, মানবতার সেবা করা মহান কাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা একে অপরের প্রতি দয়া প্রদর্শন করো। হিন্দু ধর্মে মানবসেবা পরম ধর্ম হিসেবে বিবেচিত। খ্রিস্টধর্ম বলে, তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসো। বৌদ্ধধর্মে সহমর্মিতা এবং দয়াকে সর্বোচ্চ মূল্য দেওয়া হয়।

উদাহরণস্বরূপ মহান ব্যক্তিত্ব ; ইতিহাসে বহু ব্যক্তিত্ব মানবতার সেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। মাদার তেরেসা-তিনি তার পুরো জীবন দরিদ্র ও অসহায়দের সেবায় কাটিয়েছেন। নেলসন ম্যান্ডেলা, তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন। বেগম রোকেয়া, নারীদের শিক্ষা এবং অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। আব্রাহাম লিংকন, দাসত্ব প্রথার অবসান ঘটিয়ে মানবতার সেবা করেছ।

মানবতার সেবা এবং আধুনিক প্রজন্ম : বর্তমান প্রজন্মের কাছে মানবতার সেবা করার অনেক সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তারা দ্রুত সমাজের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করতে পারে। তরুণদের উচিত তাদের প্রতিভা এবং শক্তি মানবতার কল্যাণে ব্যবহার করা। এসো মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করি এই আহ্বান কেবল একটি বাক্য নয়; এটি একটি দায়িত্ব, একটি নৈতিক আদর্শ। মানবতার সেবা আমাদের সমাজকে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ এবং উন্নত করতে সাহায্য করে। আমরা যদি একে অপরের পাশে দাঁড়াই, তবে একটি মানবিক পৃথিবী গড়া সম্ভব। তাই আসুন, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করি এবং সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করি।মানবতার সেবা কেবল দয়া প্রদর্শন নয়। এটি সমাজের ভিত্তি গড়ে তোলার একটি প্রক্রিয়া। এটি ব্যক্তি থেকে শুরু করে পুরো জাতির উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। একজন মানুষ যখন মানবতার কল্যাণে কাজ করেন, তখন তার প্রভাব সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে অনেকের জীবনে পড়ে। মানবতার সেবা কেবল আর্থিক সাহায্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সময়, জ্ঞান, এবং সহানুভূতি প্রদানের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দৈনন্দিন জীবনে মানবতার সেবা : মানবতার সেবা বড় কিছু করতে হবে এমন নয়; এটি দৈনন্দিন ছোট ছোট কাজের মাধ্যমেও করা সম্ভব। অন্যকে সাহায্য করা : রাস্তায় অসহায় কারো পাশে দাঁড়ানো বা অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছাতে সাহায্য করা। সময় দান : বৃদ্ধাশ্রম বা এতিমখানায় সময় কাটানো। সচেতনতা বৃদ্ধি : জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এবং পরিবেশ সংক্রান্ত সচেতনতা তৈরি করা। পরিচ্ছন্নতা : সমাজের পরিবেশ সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রাখতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা।

মানবতার সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার : প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট মানবতার সেবায় নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। উদাহরণস্বরূপ : অনলাইন দান প্ল্যাটফর্ম : বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় অনলাইনের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম : দারিদ্র্যপীড়িত মানুষদের অবস্থা তুলে ধরে সমাজের সচেতনতা বাড়ানো। মানবিক উদ্যোগের প্রচার : অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা। ডিজিটাল শিক্ষা : অনলাইন শিক্ষা প্রদান করে শিক্ষার সুযোগ বিস্তৃত করা।

মানবতার সেবা এবং নারীর ভূমিকা : নারীরা সমাজের অর্ধেক। তারা মানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ : শিক্ষা ক্ষেত্রে নারী শিক্ষকরা সমাজে শিক্ষার আলো ছড়াতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। স্বাস্থ্যসেবায় নারী ডাক্তার, নার্স, এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের জীবন বাঁচাতে দিন-রাত কাজ করেন। পরিবারে মানবিক মূল্যবোধ, একজন মা সন্তানের মধ্যে মানবিক গুণাবলী গড়ে তোলার প্রধান ভূমিকা পালন করেন।

সংকটময় সময়ে মানবতার সেবা : সংকটকালীন সময়ে মানবতার সেবা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোভিড-১৯ এর সময় ডাক্তার, নার্স, এবং স্বেচ্ছাসেবীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ভূমিকম্প, কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের খাদ্য, আশ্রয়, এবং চিকিৎসা প্রদান করা। যুদ্ধ ও শরণার্থী সঙ্কট, যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

সমাজের উন্নয়নে মানবতার সেবার অবদান : মানবতার সেবার মাধ্যমে সমাজে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন সম্ভব। দারিদ্র্য দূরীকরণ-দারিদ্র্যের চক্র থেকে মানুষকে বের করে এনে তাদের স্বাবলম্বী করা। শিক্ষা ও কর্মসংস্থান-দরিদ্রদের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। সমাজের অগ্রগতি-মানবতার সেবা সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সমঝোতা বৃদ্ধি করে।

মানবতার সেবার নৈতিক দিক : মানবতার সেবা কোনো প্রতিদান পাওয়ার প্রত্যাশায় করা হয় না। এটি আত্মিক এবং নৈতিক দায়িত্ব।অন্যের কল্যাণে কাজ করার মাধ্যমে যে মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়, তা অন্য কিছুতে পাওয়া সম্ভব নয়। সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের উচিত নিজের ভূমিকা পালন করা।: মানবতার সেবা আমাদের নৈতিক চরিত্রকে উন্নত করে এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা দেয়।

শিক্ষার্থীদের মানবতার সেবায় অংশগ্রহণ : শিক্ষার্থীরা সমাজের ভবিষ্যৎ। তারা মানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজসেবা প্রকল্প বা ক্লাবের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করা। স্কুল, কলেজে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা। স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে কাজ করা।

দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ : বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা মানবতার সেবায় অসাধারণ অবদান রেখেছেন। রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট : দুর্যোগকালীন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। রোটারী ও রোটার‌্যাক্ট-বিভিন্ন সময়ে দেশে প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও মহামারিসহ সঙ্কটকালীন সময়ে রোটারী ও রোটার‌্যাক্ট মানবতার সেবায় কাজ করছে। গ্রামীণ ব্যাংক : ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আশা সংস্থা : গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

সর্বোপরি-এসো মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করি—এই আহ্বানকে বাস্তবায়িত করার জন্য আমাদের প্রত্যেককে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

লেখক : উজ্জ্বল হোসাইন, সংগঠক, লেখক ও সাংবাদিক, চাঁদপুর। যোগাযোগ : 01710802899, rtrujjal@gmail.com

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।