খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

এক স্বপ্ন ভরা জীবনের অসমাপ্ত বিদায়

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
এক স্বপ্ন ভরা জীবনের অসমাপ্ত বিদায়

চাঁদপুর শহরের মমিনপাড়ার একজন সাধারণ ছাত্র আল-আমিন। সে গনি মডেল হাই স্কুল থেকে সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। ভবিষ্যতের স্বপ্নে উজ্জীবিত এই তরুণের জীবনের জন্য এটি ছিল অবিস্মরণীয় সাফল্যের বছর । কিন্তু ১২ জুলাই (শনিবার) সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে চাঁদপুর শহরের লেকেরপাড়ে আড্ডার সময় বাজি ধরার নামে সাঁতার প্রতিযোগিতার এক অদ্ভুত দুর্বৃত্ততা আল-আমিনের জীবন ছিনিয়ে নেয় । তার মৃত্যুতে স্বপ্ন অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে—এটি হতে পারতো আনন্দঘন এক স্মরণযাত্রা, যা হয়ে দাঁড়ায় শোকাবহ পতনের গল্প। দুর্ঘটনা না পরিকল্পিত হত্যা—সন্ধানে এখনো অমীমাংসা। কারণ বন্ধুদের কথা অনুযায়ী ঘটেছে দুর্ঘটনা- ৫০০ টাকা বাজি ধরে সে লেকে সাঁতার কাটার চেষ্টা করছিল। আর হঠাৎ পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়। অথচ পরিবারের বক্তব্য ভিন্ন-কিশোর গ্যাং পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লেকে ফেলে দিয়েছে, চোখ ও হাতে আঘাতের চিহ্ন থেকে সন্দেহ জন্মে । এ ঘটনায় পুলিশ সাতজন সহপাঠীকে আটক করেছে এবং ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় ঘটনা তদন্ত চলছে । লেকেরপাড় এলাকায় তরুণদের ঘোরাঘুরি কমে না। মাঝে মাঝে আড্ডা, মাঝে মাঝে বাজি, বন্ধুত্বের ছলনা—এ সবই সাধারণ দৃশ্য লেকপাড়ে। কিন্তু সেটি কী সহজেই নিরাপদ? এই ঘটনা আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক করে—পানির গভীরতা, মলিনতা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকা ও অসচেতনতার মিশ্রণে এক সময় অভিশাপে পরিণত হয়। চাঁদপুর পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এখন থেকেই ব্যবস্থা নেয়া উচিত—চাঁদপুর লেকেরপাড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো, লাইফ‌গার্ডের ব্যবস্থা, নিরাপদ সতর্কতা বার্তা, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে জলনিরাপত্তা বিষয়ে জাগরণমূলক পাঠদান। ছোট ছোট পদক্ষেপ এ রকম অকাল মৃত্যু থেকে প্রাণে বাঁচাতে পারে।

পরিবারের দাবি—পরিকল্পিত হত্যার পেছনে সামাজিক ব্যাধি বিদ্যমান। আদালতে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার প্রণয়ন নিশ্চিত করতে হবে। যখতে এমন অনৈতিক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রুখতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসন যেন চলমান ময়নাতদন্ত  প্রমাণসহ সম্পূর্ণ তদন্ত নিশ্চিত করে দ্রুত অপরাধী হলে বিচারের আওতায় আনে।

বর্তমান কালে ফেসবুক, ইউটিউব, টিভি নিউজে ট্র্যাজেডি ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। আল আমিনের পরিবারের কান্না, হতাশা, বিক্ষোভ—সবাই জানে, সবাই শোনে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কজন এগিয়ে এসে পরিবারকে সহায়তা করলাম? আইন-আদালতের বাইরে জনবিচার কখনই স্থায়ী নয়। বরং, বজায় রাখা উচিত শুধু মানবিক সহানুভূতি ও সমাজের নৈতিক সুরক্ষা—যাতে নতুন কোনো আল আমিন আর কখনও প্রাণ না হারায়।

“জীবন বাজি নয়—নিরাপদ যাপনই জীবনের লক্ষ্য”—এই শিক্ষাটি নিশ্চয়ই যেকোনো পিতামাতার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে মৌলিক অভিযোজন। আমরা বলবো বন্ধুর প্রলুব্ধতা থেকে দূরে থাকো, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করো—এরকম বার্তা যারা বুঝতে পারবে তারা জীবনকে বাজি করে কোনো বড় অপকর্ম সংঘটিত হতে দিবে না। এই ক্ষতিকারক বাজি প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক না হয়ে আবারো শিক্ষাদানের প্রকল্প হিসেবে সে এক উদাহরণ।

আল-আমিনের মর্মান্তিক এই মৃত্যু আমাদের জাতি, সমাজের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা—সমাজ কতটা সচেতন, বিপদের মুহূর্তে কতটা সজাগ, এবং কেউ কেউ কতটা উদাসীন। শিক্ষক, অভিভাবক, রাজনৈতিক নেতা সবাইকেই একত্রে কাজ করতে হবে, যাতে আর কোন তরুণ প্রকৃত মৃত্যুর মুখে না ঠেকতে হয়। বছরের পর বছর মৃত্যুর গল্প বলার আগে, এ জাতি কবে বুঝবে প্রতিটি অমীমাংসিত মৃত্যু ? বিচার, সতর্কতা ও নৈতিকতা এই তিন স্তম্ভ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

আল-আমিনের জন্য আমরা যে চোখের জল ফেলি, তা যেন নিছকই বোবা কান্নায় রূপান্তরিত না হয়—তা যেনো সচেতনতা, সহানুভুতি ও আইন‌শৃঙ্খলার উদ্ভাবনী গোড়া হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই লেকের পাড়ে আল আমিনের মৃত্যু শুধুমাত্র একটি প্রাসঙ্গিক সংবাদ নয়—এটি জাতির নিজস্বতার কম্পাস যা বলে দেয়, আল আমিন্‌দের মৃত্যু আমরা আর মেনে নিতে পারি না।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।