সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্দেশনা: অফিস উপস্থিতি ও সাশ্রয়ে কড়াকড়ি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন করে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এই আদেশ জারি করা হয়। মূলত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পূর্বতন নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে প্রতিপালনের লক্ষ্যেই এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতির বিষয়ে কোনো শিথিলতা সহ্য করা হবে না: প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে। কর্মসূচি প্রণয়ন: দাপ্তরিক অন্য কোনো কর্মসূচি বা মিটিং এমনভাবে নির্ধারণ করা যাবে না, যাতে উল্লিখিত সময়ে অফিস কক্ষে উপস্থিতিতে বিঘ্ন ঘটে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
- প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার: দিনের বেলায় পর্যাপ্ত আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি পরিহার করে জানালা ও পর্দা খুলে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে।
- এসি নিয়ন্ত্রণ: এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখতে হবে।
- যথাযথ ব্যবহার: অফিস কক্ষে অবস্থানকালে কেবল প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান ও এসি চালু রাখা যাবে। কক্ষ ত্যাগের সময় বা অফিস শেষ হওয়ার পর কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ সব ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
- অপ্রয়োজনীয় বাতি: করিডোর, সিঁড়ি বা ওয়াশরুমে অপ্রয়োজনীয় বাতি জ্বালানো যাবে না এবং সরকারি বিশেষ নির্দেশনা ছাড়া কোনো ধরণের আলোকসজ্জা করা যাবে না।
- জ্বালানি সাশ্রয়: সরকারি যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অধিকতর সাশ্রয়ী হতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় দাপ্তরিক কক্ষের পাশাপাশি করিডোর, টয়লেট ও সিঁড়ির হাতল নিয়মিত পরিষ্কার রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া এসব নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা তদারকি ও মনিটরিং করার জন্য প্রতিটি দপ্তর, সংস্থা ও কার্যালয়কে দ্রুত ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন