খুঁজুন
                               
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

অনলাইনে কী এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎই না অপেক্ষা করছে এই মানবজাতির জন্যে!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
অনলাইনে কী এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎই না অপেক্ষা করছে এই মানবজাতির জন্যে!

কথিত সংবাদমাধ্যমের কয়েকটি ফটোকার্ডের শিরোনাম :
১. সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করলেন ড. ইউনূস।
২. প্রবাসে থেকেই আমি নির্বাচনে অংশ নেব : তারেক রহমান।
৩. ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না দিলে আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে আন্দোলন শুরু করব : সালাউদ্দিন।
৪. বিরোধী দল থেকে উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না দিলে নির্বাচনে যাব না : জামায়াত আমির।
এর একটিও সত্য খবর নয় এবং যেসব মাধ্যমে এই খবরগুলো এসেছে, তার একটিও দেশের প্রচলিত সংবাদমাধ্যম নয়। এগুলোর নাম কামবেলা, প্রথম আলু, জনকষ্ট, চেন্নাই টোয়েন্টিফোর, জানিনা টিভি ইত্যাদি। অর্থাৎ মূলধারার টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের আদলে ডিজাইন করে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অসংখ্য মানুষ তা বিশ্বাস করছে। কারণ প্রথম দেখায় এটা বুঝতে পারা কঠিন যে, আসলেই এসব ফটোকার্ড ভুয়া নাকি সঠিক।
শুধু তাই নয়, মূলধারার পত্রিকা বা টিভির হুবহু নাম, লোগো ও ডিজাইনেও এরকম ভুল ও বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে মানুষ বিশ্বাস করছে। ভাইরাল হওয়ার পরে জানা যাচ্ছে সেটা ফেইক। অর্থাৎ ফেইক ফটোকার্ডের মহামারি শুরু হয়েছে—যা সমাজে তৈরি করছে অস্থিরতা। মূলধারার সংবাদমাধ্যম পড়ছে চ্যালেঞ্জের মুখে।
চ্যানেল ওয়ানের লোগো ও ডিজাইন কপি করে একটি ফটোকার্ডে লেখা হয়েছে, ‘জামাত শিবিরের গুপ্ত লীগ ওসমান হাদিকে গুলি করেছে।’ অথচ চ্যানেল ওয়ান এরকম কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। ‘বোনকে সঙ্গে নিয়ে মির্জা ফখরুলের জন্য দোয়া করলেন শেখ হাসিনা’—এই শিরোনামে একটি ফটোকার্ড বানানো হয়েছে প্রথম আলোর লোগো দিয়ে। এটিও ভুয়া। কিন্তু প্রথম দেখায় খুব কম লোকই এটাকে সন্দেহ করবেন। কালবেলা পত্রিকার হুবহু নাম, লোগো ও ডিজাইনে বানানো একটি ফটোকার্ডে প্রধান উপদেষ্টার উদ্ধৃতি নিয়ে লেখা হয়েছে, ‘২০২৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই’। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন এ রকম অসংখ্য গুজব ও বিভ্রান্তি পরিবেশিত হচ্ছে সংবাদের মোড়কে। শুধু তাই নয়, এরকম ভুয়া, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারকারী কোনো কোনো পেইজ তাদের ফলোয়ার সংখ্যা বাড়লে সেটি নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেয়। যেমন জানিনা টেলিভিশনের লোগো সম্বলিত একটি ফটোকার্ডে লেখা হয়েছে : জানিনা টেলিভিশন ১০ হাজারের পরিবার।
বলা হয়, বাংলাদেশে যত দ্রুত স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ হয়েছে, ওই তুলনায় যথেষ্ট পিছিয়ে আছে ডিজিটাল লিটারেসি। যে কারণে কোনটা খবর আর কোনটা গুজব; কোনটা জনকণ্ঠ আর কোনটা জনকষ্ট; কোনটা যমুনা টিভি আর কোনটা জানিনা টিভি—সেটি প্রথম দর্শনে অনেকেই ঠাওর করতে পারেন না। না পেরে তিনিও ওই ‘খবর’ বিশ্বাস করে নিজের ফেইসবুক ওয়ালে শেয়ার করেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনাই এভাবে বিভ্রান্তির মোড়কে ছড়িয়ে পড়ে লাখ লাখ বা কোটি কোটি মানুষের মধ্যে। এটা এখন আর নিরব নয়, বরং সরব মহামারী। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে একটি অবিশ্বাসী বা ‘ফেইক প্রজন্ম’।
অসংখ্য মানুষ ফেইসবুককে সংবাদমাধ্যম মনে করে। তারা পরস্পরের আলাপচারিতায় বলে, “দেখেন তো খবরটা ফেসবুকে দিছে কি না।” অথচ ফেসবুক যে খবরের জায়গা নয়, এই সাধারণ জ্ঞান ও কাণ্ডজ্ঞান তৈরির আগেই মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে ইন্টারন্টে সংযুক্ত স্মার্টফোন ও ফেসবুক।
মূলধারার টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের আদলে ডিজাইন করে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রথম দেখায় এটা বোঝা কঠিন যে, আসলেই এসব ফটোকার্ড ভুয়া নাকি সঠিক।
মূলধারার টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের আদলে ডিজাইন করে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রথম দেখায় এটা বোঝা কঠিন যে, আসলেই এসব ফটোকার্ড ভুয়া নাকি সঠিক।
প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করা তথা দৃশ্যত শিক্ষিত মানুষজনও কোনটা খবর, কোনটা বেখবর, কোনটা প্রোপাগান্ডা, কোনটা গুজব—সেটি বুঝতে পারে না। পারার কথাও নয়। কারণ এই শিক্ষাটা তিনি পাননি। যে কারণে ফেসবুকে কে কী লিখলেন, কে প্রোফাইল লাল বা কালো করলেন, কে কার ছবিতে লাইক ও কমেন্ট করলেন—এসব দিয়েই একজন মানুষ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। অথচ ফেসবুক পোস্ট বা কমেন্টই যে একজন মানুষকে বোঝা বা তাকে বিচার করার একমাত্র উপায় নয়; বরং ভার্চুয়াল দুনিয়ার বাইরেও যে প্রত্যেকের একটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জীবন রয়েছে; ফেসবুকের বাইরেও যে তিনি আরেকজন স্বতন্ত্র মানুষ—ওই চিন্তাটা অনেকেই করেন না। করতে চান না।
প্রায়শই অফিসের লিফটে খেয়াল করি, শিক্ষিত সচেতন বলে মনে হয় এমন মানুষেরাও মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে স্ক্রল করতে করতে এসব বিভ্রান্তিকর খবর, গুজব ও ফেইক ফকোটকার্ড বিশ্বাস করে আরেকজনকে বলছেন। যার সঙ্গে বলছেন তিনিও বিশ্বাস করছেন। কিন্তু কালবেলা যে কামবেলা, আর যমুনা টিভি যে আনোয়ার টিভি হয়ে গেছে, সেটা হয়তো অনেকেই খেয়াল করছেন না বা এটুকু খেয়াল করার মতো সচেতনতাও হয়তো তার নেই। সমাজের শিক্ষিত মানুষের যখন এই দশা, তখন ইন্টারনেট সংযুক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারকারী একজন দিনমজুর বা কম পড়ালেখা জানা মানুষের বিভ্রান্ত হওয়া কতটা সহজ—তা সহজেই অনুমেয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার শেয়ার করা বিভ্রান্তিকর, অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ কনটেন্টের আরেকটা বড় সমস্যা হলো, কোনো একজন ব্যক্তির অনেক কথার মাঝখান থেকে একটি বা দুটি লাইন নিয়ে কনটেন্ট বানিয়ে সেটি ছড়িয়ে দেয়া হয়। তার ফলে ওই বক্তব্যের আগে পরে কী আছে, সেটা মানুষ জানে না। অনেক সময় কারও বক্তব্যের খণ্ড খণ্ড অংশ জোড়া দিয়ে এমন একটি বাক্য তৈরি করা হয়, যে কথা আদৌ ওই ব্যক্তি বলেননি। বিশেষ করে রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্টজন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। ফলে ওইসব বক্তব্য নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। এই প্রবণতা শুধু ভুয়া সংবাদমাধ্যমের নয়, বরং অনেক সময় কোনো কোনো মূলধারার সংবাদমাধ্যমও এইধরনের কাটপিস তৈরি করে বেশি ভিউয়ের নেশায়।
কোনো সমাজে যখন খবর আর গুজব এক হয়ে যায়, যখন সমাজের বিরাট অংশের মানুষ গুজবকে খবর বলে বিশ্বাস করে, তখন সেখানে প্রথম চোটে মার খায় ইথিক্যাল জার্নালিজম বা নীতিবান সাংবাদিকতা। দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে যখন সকল সত্যকেই মিথ্যা এবং সকল মিথ্যাকেই সত্য বলা হয়, তখন মানুষ সবই বিশ্বাস করে এবং সবই অবিশ্বাস করে। সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ কিংবা বিরোধী দল থেকে উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়ে জামায়াতের দাবিসম্বলিত ফটোকার্ডকেও মানুষ সংবাদ বলে মনে করে এবং সেটি  চায়ের দোকানে, অফিসে বা সামাজিক আলাপচারিতায় আলোচিত হয়।
এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে ভিউ বাণিজ্য। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো পেইজ মনিটাইজড হয়ে গেলেই সেখান থেকে টাকা আসে, আর যে কনটেন্টের যত বেশি ভিউ তত বেশি টাকা, অতএব ভিউয়ের নেশায় ছুটছে পুরো সোশ্যাল মিডিয়া। তবে এটা ঠিক যে, ভিউয়ের নেশায় মূলধারার সংবাদমাধ্যমও পিছিয়ে নেই। অনেক পত্রিকা ও টেলিভিশনও চটকদার শিরোনাম আর বিভ্রান্তির খবর পরিবেশ করে বেশি ভিউয়ের আশায়। যার ফলে যেসব সংবাদমাধ্যম প্রকৃতই বস্তুনিষ্ঠ ও ইথিক্যাল জার্নালিজমের চর্চা করে, তারা অনেক সময় বাণিজ্যিকভাবে পিছিয়ে পড়ে। ফলে একসময় তারাও এই ইঁদুর দৌড়ে শামিল হয়।
শুধু সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ডই নয়, বরং রাজনৈতিক দলের প্যাডে কোনো ঘোষণা বা বার্তা দিয়ে সেগুলোও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। যেমন গত বছরের ১১ নভেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জানান, কোনো স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল তার স্বাক্ষর জাল করে ফেসবুকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেছে, যা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
যদিও সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলোর মধ্যে কোনটি আসল আর কোনটি ফেইক, সেটি বোঝা হয়তো খুব কঠিন নয়। একটু ভালো করে কার্ডগুলো খেয়াল করলে হয়তো এর ফাঁকফোকর ধরা সম্ভব। কিন্তু সেই ন্যূনতম সচেতনতার বোধ কত শতাংশ মানুষের আছে সেটি যেমন প্রশ্ন, তেমনি মানুষ আদৌ ফটোকার্ডের সত্যমিথ্যা যাচাই করতে চায় কি না, সেটিও প্রশ্ন। কেননা, বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া ফটোকার্ডগুলো বানানো হয় মানুষ যা শুনতে চায়, এমন সব বিষয়ে। ফলে সে যখন ভুল ও ভুয়া খবরও দেখে, সে এটা এনজয় করে। শেয়ার করে। কিন্তু তার এই মেনে নেয়া ও নির্ভারতাই ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর সাবস্ক্রাইবার ও ভিউ বাড়াতে সহায়তা করে। মানুষের এই বোকামি, উন্মাদনা, উন্নাসিকতা, অশিক্ষা ও অসচেনতনার সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ টাকা কামাচ্ছে। অন্যদিকে সমাজে বাড়ছে বিভ্রান্তি। বিভেদ।
গত ১৫ নভেম্বর বিবিসির সাংবাদিক মিজানুর রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, এআই দিয়ে তো আজকাল সবই করা সম্ভব। একটা স্টিল ছবি দিলে ভিডিও বানিয়ে দেয়। এমনকি, ব্যাংক নোটে দোয়েল পাখির ছবি পাখা ঝাপটায়, কৃষকরা পানিতে পাট ধুয়ে নেয়! এসব দেখতে দেখতে ভাবি, কী এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎই না অপেক্ষা করছে এই মানবজাতির জন্য। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই। ভালো হোক মন্দ হোক এই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করে নিতেই হবে। আর পেছনে ফেরা যাবে না। মানুষ যদি এই প্রযুক্তিকে ঠিকভাবে ব্যবহার করে, তাহলে সভ্যতার আরও উন্নতি হবে। সেরকম না হলে এই এআই-এর কাছেই পরাজয় ঘটবে মানুষের। (সূত্র : বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম)

চাঁদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করায় দুই রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করায় দুই রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ অভিযানের অংশ হিসেবে শহরের দুটি নামী রেস্তোরাঁকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ এবং ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণ করার অপরাধে এই অর্থদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১০ মে ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা আফরোজ নিপার নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে শহরের হকার্স মার্কেটের বিপরীত দিকে অবস্থিত তাজ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এবং তালতলা রোডের কালাম বিরিয়ানি হাউজকে পৃথকভাবে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তাজ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট : হকার্স মার্কেটের বিপরীতে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া সেখানে তৈরিকৃত দইয়ের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ বা মেয়াদের কোনো উল্লেখ ছিল না। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি চায়ের মূল্য বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি রাখছিল। এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কালাম বিরিয়ানি হাউজ : তালতলা রোডের এই প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ফ্রিজে রাখা পচা-বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত পুরাতন মাংস পাওয়া যায়। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর উপায়ে মেয়াদবিহীন বোরহানি ও দই উৎপাদন ও বিক্রয়ের দায়ে তাদেরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানার আদেশ প্রদান করলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটির মালিকপক্ষ স্বেচ্ছায় জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের জনস্বাস্থ্যবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর প্রদান করেন।
এদিন শুধু জরিমানাই নয়, বরং সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহরের ‘বাঙালিয়ানা হোটেল’ সহ আরও বেশ কিছু খাবারের দোকান পরিদর্শন করেন। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। যারা তুলনামূলক পরিষ্কার পরিবেশে কাজ করছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে মান বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযানটি সফলভাবে পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চাঁদপুর জেলা শাখার প্রতিনিধি মোঃ বিপ্লব সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা আফরোজ নিপা গণমাধ্যমকে জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের এই অভিযান একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, সেমাই কারখানা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় যেখানেই অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শহরের সাধারণ নাগরিকরা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল বিশেষ দিবস নয়, বছরজুড়েই যেন এমন তদারকি বজায় থাকে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়।

চাঁদপুরে পাবলিক টয়লেট এখন পরিত্যক্ত আস্তাবলে, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরে পাবলিক টয়লেট এখন পরিত্যক্ত আস্তাবলে, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

চাঁদপুর শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ডব্লিউ রহমান জুট মিলের সামনের চিত্রটি এখন এক ভয়াবহ জনদুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি। জনসাধারণের সুবিধার্থে নির্মিত পৌরসভার পাবলিক টয়লেটটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, অব্যবস্থাপনা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন কার্যত একটি পরিত্যক্ত স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। এক সময়ের পরিচ্ছন্ন এই স্থাপনাটি এখন ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধের ভাগাড়ে রূপ নেয়ায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার পথচারী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে।
সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে দেখা যায়, পাবলিক টয়লেটটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। স্থাপনার দেয়ালগুলো শ্যাওলা ধরে কালচে হয়ে গেছে, অনেক জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়ছে। প্রবেশপথের অবস্থা এতটাই নাজুক যে, ময়লা-আবর্জনা ও মাটির স্তূপ ডিঙিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, টয়লেটের কোনো দরজাই অবশিষ্ট নেই। ভাঙাচোরা কাঠামো আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এটি এখন ব্যবহারের উপযোগিতা সম্পূর্ণ হারিয়েছে। পর্যাপ্ত পানি বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো চিহ্ন সেখানে নেই। ডব্লিউ রহমান জুট মিল এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল। এখানে প্রতিদিন শত শত শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়া অটোরিকশা চালক, স্থানীয় দোকান কর্মচারী এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের আনাগোনা থাকে সবসময়। টয়লেটটি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক হানিফ তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারাদিন রাস্তায় গাড়ি চালাই। প্রয়োজনে এখানে আসতে হয়, কিন্তু টয়লেটের যে দশা, তাতে ভেতরে পা দেওয়ার পরিবেশ নেই। দরজা নেই, নোংরা পানি জমে আছে। বাধ্য হয়ে অনেক সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় এটি ব্যবহার করতে হয়। আমাদের কথা কেউ ভাবে না। একই প্রতিধ্বনি শোনা গেল স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাজির পাটোয়ারীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, পৌরসভা থেকে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল মানুষের উপকারের জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার নেই। রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় এটি এখন অপরাধীদের আড্ডাস্থল কিংবা ময়লা ফেলার জায়গায় পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এই এলাকায় এসে কোনো টয়লেট সুবিধা পায় না, যা অত্যন্ত অমানবিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি জনাকীর্ণ এলাকায় এভাবে উন্মুক্ত ও নোংরা টয়লেট পড়ে থাকা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে। এর ফলে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে এবং ডায়রিয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত ও চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এটি সংস্কার করা না হলে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি বারবার নজরে এলেও চাঁদপুর পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। টয়লেটটি সংস্কারের জন্য কোনো বরাদ্দ বা তদারকি কমিটি আছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় রয়েছে। জনস্বার্থে নির্মিত একটি সরকারি স্থাপনা এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া কেবল অর্থের অপচয় নয়, বরং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
সাধারণ মানুষের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে টয়লেটের ভাঙা অংশ সংস্কার ও নতুন দরজা স্থাপন করতে হবে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ ও আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। টয়লেটের চারপাশের ময়লা ও মাটির স্তূপ দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
চাঁদপুরকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট শহর হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য, তার পথে এই ধরনের অব্যবস্থাপনা একটি বড় বাধা। ডব্লিউ রহমান জুট মিল এলাকার পাবলিক টয়লেটটি দ্রুত সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি জনদুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসবে, নাকি এটি এভাবেই ‘পরিত্যক্ত স্থাপনা’ হিসেবে পড়ে থাকবে—এ প্রশ্নই এখন সাধারণ মানুষের মনে। জনস্বার্থে দ্রুত পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

ফরিদগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নূর রহমান (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে ২০২৬) সকালে উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সকালে পথচারীরা রাস্তার পাশে একটি মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কিছুটা এগিয়ে গেলে সড়কের ওপরই গুরুতর আহত অবস্থায় নূর রহমানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো অজ্ঞাতনামা দ্রুতগতির যানবাহন তাকে চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় আশপাশে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। পরে তারা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িত যানবাহন শনাক্তে চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিহত নূর রহমান ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দোকানের নিয়মিত ক্রেতা ও পরিচিতজনরা তার এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নূর রহমানের পরিবারে রয়েছে তার দুইটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে সন্তান। এছাড়া তিনি আট ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার ওপরই পরিবারের দায়িত্ব ছিল। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তা ও দুঃখের মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়কে নজরদারি বৃদ্ধি, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদানের আহ্বানও জানান তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।