খুঁজুন
                               
, ,

আজ ভাষা সৈনিক ডাঃ এমএ গফুরের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
আজ ভাষা সৈনিক ডাঃ এমএ গফুরের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

চাঁদপুরের কিংবদন্তীতুল্য নিভৃতচারী সমাজসেবক, সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব, চাঁদপুর ডায়াবেটিক ও মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ভাষা সৈনিক আলহাজ্ব ডাঃ এমএ গফুরের আজ ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। উল্লেখ্য, মরহুম ডাঃ এম এ গফুর ২০১৯ সালের ২৩ আগস্ট ভোর ৪টার সময় ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে, ১ মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। এ উপলক্ষে আজ ২৩ আগস্ট বাদ জোহর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্যোগে চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের এবাদতখানায় মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
ডাঃ এমএ গফুরের পরিচিতি : চাঁদপুরবাসীর সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব ডাঃ এমএ গফুর। নিঃস্বার্থ এই সমাজসেবক পেশায় ছিলেন একজন চিকিৎসক। একাধারে তিনি ছিলেন সমাজসেবক, সমাজকর্মী ও দক্ষ সংগঠক। একজন প্রতিথযশা চিকিৎসক ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে তিনি চাঁদপুর জেলায় স্বাস্থ্যখাত ও সামাজিক খাতে উন্নয়নের জন্যে বিভিন্ন জনহিতকর প্রতিষ্ঠান, সংগঠন প্রতিষ্ঠায় অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে চাঁদপুরে বহু সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠাগুলো এখনও আর্তমানবসেবায় কাজ করে যাচ্ছে। এসব জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সাথে জীবনের দীর্ঘ সময় জড়িত থেকে মানব সেবা করে দেশ ও বিদেশে প্রচুর প্রশংসা অর্জন করেছেন। তিনি ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নের সময় ভাষা আন্দোলনে ভাষা সংগ্রামী হিসেবে এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর পৈত্রিক বাড়ি পাক হানাদার বাহিনী আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলো। চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের জন্য তিনি ০.৩৮২৫ একর ভূ-সম্পত্তি দান করে গেছেন। যার উপরে বর্তমানে চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল ভবন অবস্থিত। প্রতিথযশা চিকিৎসক ও জনহিতৈষী ডাঃ এমএ গফুর ২০১৯ সালের ২৩ আগস্ট ঢাকাস্থ নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত : আলহাজ্ব ডাঃ এমএ গফুর চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার চর কোড়ালিয়া গ্রামে ১৯৩৩ সালের ২৮ অক্টোবর সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম পিয়ার আলী সরকার ও মাতার নাম মরহুমা সৈয়দুন্নেছা। আলহাজ্ব ডাঃ এমএ গফুর চাঁদপুর গনি হাই স্কুল থেকে ১৯৪৮ সালে ম্যাট্রিক, ১৯৫০ সালে ঢাকা জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএসসি ও ১৯৫৬ সনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। একজন মেধাবী চিকিৎসক হিসেবে ১৯৬৫ সালে লন্ডন ও এডিনবার্গে স্নাতকোত্তর চিকিৎসাবিদ্যা ও রেডিওলজিতে অধ্যয়ন করেন। তাঁর স্ত্রী মরহুম অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন ১৯৬৪-১৯৬৭ পর্যন্ত চাঁদপুর সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। সর্বশেষ ১৯৬৭-১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ডাঃ এমএ গফুর ১ কন্যা ও ২ পুত্র সন্তানের জনক। কন্যা মিসেস মাহফুজা হক অর্থনীতিতে এম.এ (ঢাবি)। জেষ্ঠ্য পুত্র অধ্যাপক ডাঃ শাকিল গফুর, এমবিবিএস, ডিটিসিডি, এমডি (কার্ডিওলজি) রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। কনিষ্ঠ পুত্র অধ্যাপক ড. শায়ের গফুর, পিএইচডি, এফআইএবি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত।
সংক্ষিপ্ত সাংগঠনিক পরিচিত : ১। প্রতিষ্ঠাতা, দাতা ও আজীবন সদস্য : চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতি ২। অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক (১৯৮৭-২০১৫) : চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতি ৩। অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক (১৯৮২-২০১০) : মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল, চাঁদপুর ৪। পরিচালনা পর্ষদ সদস্য (তিনবার) : বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস) ৫। প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ও সভাপতি (১৯৭৬-৭৭) : চাঁদপুর রোটারী ক্লাব ৬। প্রতিষ্ঠাতা : রোটারী দাতব্য চিকিৎসালয় ৭। প্রাক্তন সভাপতি : চাঁদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন ৮। প্রাক্তন সভাপতি : বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), চাঁদপুর ৯। প্রাক্তন সভাপতি : জাতীয় যক্ষা নিরোধ কমিটি (নাটাব), চাঁদপুর ১০। প্রাক্তন সভাপতি : আমরা ধুমপান না করি (আধুনিক), চাঁদপুর ১১। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য : বিএভিএস, চাঁদপুর ১২। সাবেক সভাপতি : বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, চাঁদপুর ১৩। প্রাক্তন উপদেষ্টা : জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি, চাঁদপুর ১৪। প্রাক্তন পরিচালনা কমিটির সদস্য : চাঁদপুর সরকারি কলেজ ১৫। প্রাক্তন পরিচালনা কমিটির সদস্য : চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ ১৬। প্রাক্তন পরিচালনা কমিটির সদস্য : চাঁদপুর ল’ কলেজ ১৭। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য : পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজ ১৮। প্রাক্তন সভাপতি : সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চাঁদপুর ১৯। প্রাক্তন সভাপতি : জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, চাঁদপুর ২০। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য : চাঁদপুর ফাউন্ডেশন ২১। প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি : চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমি ২২। প্রতিষ্ঠাতা : বাইতুল গাফ্ফার জামে মসজিদ, হাইমচর ২৩। প্রতিষ্ঠাতা : সৈয়দুন্নেছা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, হাইমচর ২৪। প্রাক্তন সভাপতি : চৌধুরী জামে মসজিদ, চাঁদপুর ২৫। প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্ত্বাধিকারী : পির্য়াস মেমোরিয়াল হাসপাতাল ২৬। পরিচালক : চাঁদপুর এক্স-রে ক্লিনিক।

জাপানের বিশাল বিনিয়োগ: বাংলাদেশের লাভ কতটা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
জাপানের বিশাল বিনিয়োগ: বাংলাদেশের লাভ কতটা?

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেশি বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে জাপান। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি বাংলাদেশের সামনে তৈরি হতে পারে প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের সুযোগ। তবে বড় অঙ্কের এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনবে, তা নির্ভর করবে বিনিয়োগ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুতি নিতে পারছে, তার ওপর।
২৭ অক্টোবর টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্ব পায়। জাপানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১ লাখ কোটি ইয়েন বা ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিনিয়োগ থেকে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে এটি ইতিমধ্যে বাংলাদেশে আসা অর্থ নয়; বরং আগামী পাঁচ বছরের জন্য ঘোষিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা।
বিনিয়োগে বাংলাদেশের লাভ কোথায়?
বাংলাদেশের জন্য এই বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা শুধু নতুন অর্থ আসা নয়, বরং উৎপাদন সক্ষমতা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস এবং শিল্প উৎপাদনে বিনিয়োগ করলে স্থানীয় কর্মীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে শেখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে গাড়ির যন্ত্রাংশ, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিকস ও উচ্চমূল্যের শিল্পপণ্যে বিনিয়োগ বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়তা করতে পারে। বর্তমানে দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ তৈরি পোশাকনির্ভর। নতুন শিল্প খাত শক্তিশালী হলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এখানে মাতারবাড়ী ও মহেশখালীর গুরুত্বও রয়েছে। বন্দর, জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আমদানি-রপ্তানির সক্ষমতা বাড়তে পারে এবং নতুন শিল্প স্থাপনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
জাপান কেন বাংলাদেশে আগ্রহী?
বাংলাদেশের বড় বাজার, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরও বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ খুঁজছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ থাকলেও এই বিনিয়োগ আকর্ষণে অন্য এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে।
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৩২ কোটি ডলার। জাপানে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাপান থেকে যন্ত্রপাতি, লোহা-ইস্পাত, যানবাহন ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য আমদানি করে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হয়েছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে বিভিন্ন পণ্যের শুল্ক সুবিধা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর সুফল পেতে বাংলাদেশের উৎপাদকদের মান, উৎপাদন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের শর্ত পূরণ করতে হবে।
বিনিয়োগের পথে বাধা কী?
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময়, কর ও শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং নীতির ধারাবাহিকতার অভাব বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা জেট্রোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনার পাশাপাশি এসব প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের পরিমাণ ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশের তুলনায় অনেক কম। অর্থাৎ, সম্ভাবনা থাকা আর বিনিয়োগ বাস্তবে আকর্ষণ করা এক বিষয় নয়।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পর্যবেক্ষণেও ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।
দুই লাখ কর্মসংস্থান, কতটা মানসম্মত?
প্রত্যাশিত দুই লাখ কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে চাকরির সংখ্যা ছাড়াও দেখতে হবে, সেগুলো কী ধরনের কাজ, বেতন ও সুযোগ-সুবিধা কেমন এবং স্থানীয় কর্মীরা কতটা দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন।
জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়, বাংলাদেশের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় করে, তাহলে বিনিয়োগের সুফল দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। বিপরীতে, স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে সংযোগ দুর্বল থাকলে বিনিয়োগের সুফল সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
এ কারণে সরকারকে বিনিয়োগের পরিমাণের পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ এবং রপ্তানি বৃদ্ধির মতো বিষয়েও নজর দিতে হবে।

সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চাঁদপুরের চার লেখক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চাঁদপুরের চার লেখক

ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক সাহিত্য সম্মেলন-২০২৬ এ যোগ দিতে যাচ্ছেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক ও সাংবাদিক কাদের পলাশসহ চার লেখক। আগামী ১৪ থেকে ১৯ নভেম্বর ছয় দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে ১৪ জন কবি ও লেখক অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের কবি-সাহিত্যিকরা অংশ নেবেন। এতে বিভিন্ন দেশের সাহিত্যিকদের মধ্যে পারস্পরিক ভাববিনিময়, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন অংশগ্রহণকারীরা।

সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া চাঁদপুরের অন্য তিন লেখক হলেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) ও গবেষক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, কবি ও লেখক নুরুন্নাহার মুন্নি এবং কবি ও সংগঠক ম. নূরে আলম পাটওয়ারী।

আন্তর্জাতিক এ সাহিত্য সম্মেলনে চাঁদপুরের চার লেখকের অংশগ্রহণকে জেলার সাহিত্যাঙ্গনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি চাঁদপুরের সাহিত্যচর্চা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক লেখক ও সাংবাদিক কাদের পলাশ বলেন, সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পারা নিঃসন্দেহে আনন্দের ও গর্বের বিষয়। এ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কবি-লেখকদের সঙ্গে ভাববিনিময়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সাহিত্যিক সম্পর্ক জোরদার হবে। চাঁদপুরের লেখক হিসেবে এ সম্মেলনে অংশ নিয়ে আমরা আমাদের জেলার সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরতে চাই। আশা করি, এ আয়োজন দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্যিকদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।

সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন: এসপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন: এসপি

রাঙামাটির সাজেকে স্থানীয় সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মুখে আটকে পড়া প্রায় দুই হাজার পর্যটককে সম্পূর্ণ নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুর রকিব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের কঠোর পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন পর্যটকরা। তবে দুটি আঞ্চলিক সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে মাঝপথে উজো বাজারসহ কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বাধার মুখে পড়েন তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শেষ পর্যন্ত পর্যটকদের বহর নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বারবার এমন অবরোধের ফলে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং সাধারণ মানুষের জনজীবনও ব্যাহত হচ্ছে।