খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

সাহিত্য একাডেমী আমাদের শিল্পগৌরব সৃষ্টিশীল লেখনিতে আনন্দের পৃথিবী

সামীম আহমেদ খান
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০২৫, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
সাহিত্য একাডেমী আমাদের শিল্পগৌরব সৃষ্টিশীল লেখনিতে আনন্দের পৃথিবী

সাহিত্য মানেই আড়ালে থেকে যাওয়া সুন্দর, সাহিত্য মানেই ঊষাবেলার রঙ, সাহিত্য মানেই সন্ধ্যার সাজ, সাহিত্য মানেই কালোত্তীর্ণ কর্মের অনবদ্য ফসল। সাহিত্য মানেই শেক্সপীয়র, শেলী, কীট্স, পাবলো নেরুদা, বেঞ্জামিন মলিয়ের, রবীন্দ্র, নজরুল, জীবনানন্দ ও সুকান্ত অর্থাৎ সাহিত্য শিল্পী মননশীল শিল্পকর্মের স্রষ্টা। শিল্প-সাহিত্য এবং সংস্কৃতির শতাব্দীপ্রাচীন পূর্ণতার ঐতিহ্য বহন করছে চাঁদপুর জেলা। এক অর্থে সংস্কৃতির এক চারণভূমি চাঁদপুর। মেধা ও প্রজ্ঞার সমন্বয় ঘটিয়ে চাঁদপুরের সংস্কৃতিকর্মীরা স্বাক্ষর রেখেছেন বিভিন্ন পর্যায়ে। ভৌগোলিক পরিচিতিকে করেছেন আপন মহিমায় ভাস্বর। এখানকার প্রত্যেকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন স্ব স্ব আভিজাত্য এবং শুভ্রতা নিয়ে সাংস্কৃতিক তথা সামাজিক বলয় সৃষ্টি করে চলছে অবিরত। প্রশান্ত সৃজনশীল বৃত্তিগুলো ব্যক্তিত্ব বিকাশে যেমন সহায়ক, তেমনি সহায়ক মানসিক উৎকর্ষ অর্জনের পথ সুগম করতে। এ উৎকর্ষতার পরিপূর্ণতায় কেটে উঠবে স্থবিরতা, পাশাপাশি আবদ্ধতা। প্রয়োজন তাই মুক্ত চিন্তা এবং সৃষ্টিশীল কর্ম, যা সময়ের দাবিতে উপজীব্য মাধ্যম। এই মহামিলনের অঙ্কুরিত স্বপ্নকে বুকে ধারণ করেই কবি খুরশেদুল ইসলাম তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব এস.এম. শামসুল আলম সাহেবের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে তুলেছিলেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমী এবং তিনি নিজেই ছিলেন সাহিত্য একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক।
|আরো খবর

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঁচদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা উদ্বোধন
সাহিত্য একাডেমী চাঁদপুর-এর ভোটার তালিকায় প্রকাশ
আরিফুল ইসলাম শান্তের ‘মৌন বৃক্ষের রাত্রিদিন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের বরাত দিয়েই বলতে হয়, অন্তত পনেরো বছর যাবৎ সাহিত্য একাডেমীর ওপর নিষ্ক্রিয়তার জগদ্দল পাথর চেপে বসেছিলো। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি লোকজনের শতকরা ৯০ ভাগই নানান উপাধি, পদবীতে ভারাক্রান্ত, বয়সের ভারে এদের গতিশীলতা হারিয়ে গেছে। অতএব গ্রহণযোগ্য যে কোনো পদ্ধতিতে সাহিত্য একাডেমীর কমিটিতে গতিশীল, কর্মোদ্যমী নতুন মুখ আনা দরকার। এজন্যে বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের মধ্যে যদি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় তাও করা দরকার।

উল্লেখিত অংশটুকু নিয়ে ‘সাহিত্য একাডেমী হোক আমাদের সমতা সম্পদ আর আনন্দের পৃথিবী’ এ শিরোনামে এ পত্রিকায়ই লিখেছিলাম ২০০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। তখন কলম ধরেছিলাম সাহিত্য একাডেমীর ব্যর্থতার দায়ভার প্রতিটি প্রতীক্ষিত সুন্দরকে যাতে ম্লান করে না দেয় তার জন্যে, কলম ধরেছিলাম সাহিত্য একাডেমীর অর্বাচীন ভূমিকায় সাহিত্যপিপাসুদের যাতে আলোহীন অন্ধকারে যেতে না হয় তার জন্যে। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের আরো একটি শিরোনাম মনকে নাড়া দিয়েছিলো। ২০০৯ সালে চাঁদপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আ.ক.ম. শাহীদুর রহমান মহোদয় বললেন, সাহিত্য একাডেমী ভবন শিশু একাডেমীকে হস্তান্তর করা হবে। সাহিত্যপ্রেমীদের প্রাণের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আবার কলম ধরলাম ২০০৯ সালের ২৫ জানুযারি।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে হস্তান্তর প্রক্রিয়ার কিছু নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি চোখে পড়ে। যেমন : ১৭৬৫ সালের ১২ আগস্ট রবার্ট ক্লাইভ যখন দ্বিতীয় বারের মতো বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন, তিনি এসেই সম্রাট দ্বিতীয় শাহআলম ও অযোধ্যার নবাবের সঙ্গে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পাদন করেন।

ইতিহাসে এর একটি ইতিবাচক দিক রয়েছে।

ফ্রান্স স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূর্ত প্রতীক ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ ১৮৮৬ সালের ২৮ অক্টোবর আমেরিকার নিকট হস্তান্তর করে, যা মার্কিনীরা লিবার্টি আইল্যান্ড, নিউইয়র্কে ১৯২৪ সালের ১৫ অক্টোবর তাদের জাতীয় স্থাপনা হিসেবে বিশ্বকে পরিচয় করে দেয়।

১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সরকারি নির্দেশে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মাঝে রাখী বন্ধন হস্তান্তর করেন, যা উভয় সম্প্রদায়ের ঐক্যের প্রতীক ছিলো। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সে সময়ের প্রেক্ষাপটে সাহিত্য একাডেমী হস্তান্তর প্রক্রিয়া আমাদের জন্যে গৌরবের ছিলো না বরং হতাশার, সুদীপ্ত ইচ্ছার প্রতিফলনতো নয়ই বরং নির্লিপ্ত চেয়ে থাকা মাত্র।

প্রেক্ষাপট সমৃদ্ধ লেখাটি তৎকালীন জেলা প্রশাসক হৃদয়ঙ্গম করায় সাহিত্য একাডেমী তার নিজস্বতা হারায়নি। সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব বর্তমান জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন মহোদয়কে দূর থেকে যতটুকু আবিষ্কার করেছি, ওনার রয়েছে বর্ণাঢ্য ও মেধাবী জীবনের ইতিবৃত্ত। পাশাপাশি তিনি একজন সফল ও সৃষ্টিশীল জীবনবোধের অধিকারী। এমন অনুভবে সমৃদ্ধ বর্তমান জেলা প্রশাসক মহোদয় সাহিত্য একাডেমীর স্বকীয়তা বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইতোমধ্যে। গত ১৭ মার্চ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের স্বাক্ষরিত ১২০ সদস্যের একটি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যা বাস্তবিক অর্থে ইতিবাচক। এ কথা স্পষ্টতই প্রতীয়মান যে, প্রতিভাধর ব্যক্তির আনন্দবোধের উৎসারণ ঘটে বিভিন্ন উৎস থেকে। সাহিত্যপ্রেমীদের তেমনি এক উৎসের নাম সাহিত্য একাডেমী।

সাহিত্যপ্রেমীদের প্রাণের দাবিকে মূল্যায়ন করে চাঁদপুরের প্রাক্তন জেলা প্রশাসক জনাব মো. আবদুর রব হাওলাদার গণি মডেল হাইস্কুলে সাহিত্যসেবীদের বিশাল সমাবেশে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেন। আমার প্রিয় শিক্ষক চাঁদপুর সরকারি কলেজের তৎকালীন ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কবি খুরশেদুল ইসলাম সাহিত্য একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক। সাহিত্য একাডেমীর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমি একজন সাহিত্যসেবী হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য। প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক কবি খুরশেদুল ইসলাম চিরবিদায় নিয়েছেন। তবে তাঁর আত্মা শান্তি পাবে যদি তাঁর সন্তানতুল্যদের লালিত্যে গড়া সাহিত্য একাডেমী আবার জেগে উঠে। আবার এখানে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, সুকান্তচর্চা শুরু হয়। সময়ের ধমনীতে প্রবহমান স্বচ্ছ প্রাণবিন্দুগুলো, আবার নতুন অবয়বে তার সৌন্দর্য ফিরে পাবে, আবার আমরা সরলা জননীকে নিয়ে লিখবো কবিতা। বর্তমান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন মহোদয়কে বিনীতভাবে বলছি যে, সাহিত্য একাডেমীকে প্রাণসঞ্চার করার জন্যে অতীতের দগ্ধ-বিগলিত ও বিচ্ছিন্ন অসম্পূর্ণতা দূরে ঠেলে দিয়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সাহিত্যপ্রেমীদের প্রতিভার মূল্যায়ন করা হোক। সাহিত্য একাডেমীর সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডের ধমনীতে বিশুদ্ধ চেতনাবোধ প্রবাহিত হোক এটাই প্রত্যাশা। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রলয় শিখা কাব্যগ্রন্থের বিংশ শতাব্দী কবিতার পংক্তিমালা–“সংস্কারের জগদ্দল পাষান/তুলিয়া বিশ্বে আমরা করেছি প্রাণ/সর্ব আচার-বিচার-পঙ্ক হতে/তুলিয়া জগতে এনেছি মুক্ত স্রোতে/অচলায়তনে বাতায়ন খুলি-প্রাণ/এনেছি, গেয়েছি নব আলোকের গান”-এর বাণীমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে সাহিত্য একাডেমী যথার্থভাবে উদ্ভাসিত হোক।
লেখক পরিচিতি : সামীম আহমেদ খান, সভাপতি, জাতীয় কবিতা পরিষদ, চাঁদপুর জেলা শাখা।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।