খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

নতুন যুগের সাংবাদিকতা : ডিজিটাল মিডিয়া ও ভবিষ্যৎ

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
নতুন যুগের সাংবাদিকতা : ডিজিটাল মিডিয়া ও ভবিষ্যৎ

নতুন যুগের সাংবাদিকতা : ডিজিটাল মিডিয়া ও ভবিষ্যৎ
উজ্জ্বল হোসাইন
সাংবাদিকতা সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এটি তথ্য সরবরাহ, জনমত গঠন ও গণতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে সাংবাদিকতার ধরনেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। প্রিন্ট মিডিয়া থেকে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, আর এখন ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে প্রবেশ করেছে সাংবাদিকতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইউটিউব চ্যানেলের উত্থান সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
সাংবাদিকতা মানব সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সময়ের সাথে সাথে এটি নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, বিশেষ করে ডিজিটাল যুগের আগমনের পর সাংবাদিকতার চেহারা একেবারেই বদলে গেছে। এরমধ্যে অন্যতম মৌখিক ও লিপিবদ্ধ সংবাদ প্রচার। রাজা-বাদশাহদের ফরমান ও বার্তাবাহক ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান। চীনে প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র (Kaiyuan Za Bao, ৭১৩ খ্রিস্টাব্দ)।
আধুনিক মুদ্রণ সাংবাদিকতার উত্থান (১৫-২০ শতক) হয়েছে –১৪৪০ সালে গুত্তেনবার্গের মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কার, ১৬০৫ সালে প্রথম আধুনিক সংবাদপত্র, ১৬০৫ সালে প্রথম আধুনিক সংবাদপত্র (Relation aller Fürnemmen und gedenckwürdigen Historien), ১৯ শতকে দৈনিক পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি ও সম্পাদকীয় স্বাধীনতার বিকাশ, সংবাদ সংস্থার (যেমন, রয়টার্স, এপি) আবির্ভাব। সম্প্রচার সাংবাদিকতার যুগ (২০ শতক)-১৯২০-এর দশকে রেডিও সাংবাদিকতার শুরু, ১৯৫০-এর দশকে টেলিভিশন সাংবাদিকতার উত্থান, সরাসরি সম্প্রচার ও রিয়েল-টাইম সংবাদ পরিবেশনের প্রচলন। ইন্টারনেট ও অনলাইন সংবাদ (১৯৯০-এর দশক)-সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ চালু, দ্রুতগতির তথ্যপ্রবাহ ও বৈশ্বিক তথ্য প্রবেশাধিকার, বিনামূল্যে সংবাদপাঠের অভ্যাস তৈরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব (২০০০-এর পর থেকে)-ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে খবর প্রচার, নাগরিক সাংবাদিকতার বিকাশ যে কেউ সংবাদ পরিবেশন করতে পারে, ভুয়া সংবাদ ও গুজব ছড়ানোর ঝুঁকি বৃদ্ধি।
মোবাইল সাংবাদিকতা ও কনভার্জেন্স মিডিয়া-স্মার্টফোন ও অ্যাপ-ভিত্তিক সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টিং—ভিডিও, টেক্সট, অডিও একসাথে, ব্লগিং, পডকাস্ট ও লাইভ স্ট্রিমিং জনপ্রিয়তা লাভ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও অ্যালগরিদম-নির্ভর সাংবাদিকতা-নিউজ অ্যালগরিদম ও পার্সোনালাইজড কন্টেন্ট, ফ্যাক্ট-চেকিং ও স্বয়ংক্রিয় সংবাদ লেখা, সাংবাদিকতায় ডেটা অ্যানালিটিক্সের ব্যবহার বৃদ্ধি।

ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা : ভুয়া খবর ও মিথ্যা তথ্য, সংবাদপত্রের আর্থিক সংকট (প্রিন্ট মিডিয়ার ক্ষতি), সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত ঝুঁকি, নাগরিক সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের সুযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সাংবাদিকতার মাধ্যমে গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন, ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন মডেল ও বিকল্প আয়ের উৎস।
সাংবাদিকতা আজ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে তথ্য প্রবাহ দ্রুত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক। যদিও ডিজিটাল যুগ নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তবুও এটি গণমাধ্যমের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই এবং নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে ডিজিটাল সাংবাদিকতা আরও কার্যকর হতে পারে।সাংবাদিকতার ইতিহাস বহু পুরোনো। পাথরের ফলক, হস্তলিখিত চিঠি, প্রিন্ট মিডিয়া, বেতার, টেলিভিশন—এসব মাধ্যম একসময় মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপায় ছিল। কিন্তু ২১শ শতাব্দীর শুরু থেকে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার সাংবাদিকতায় আমূল পরিবর্তন এনেছে।
পরিবর্তনের কয়েকটি ধাপ : প্রিন্ট মিডিয়া (সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন) ১৮-২০ শতকে মানুষের তথ্যপ্রাপ্তির প্রধান মাধ্যম ছিল সংবাদপত্র। ইলেকট্রনিক মিডিয়া (রেডিও ও টেলিভিশন): ২০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে রেডিও ও টেলিভিশন খবর প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: ২১ শতকে ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে সংবাদমাধ্যম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হয়েছে।
আজকের যুগে মানুষ দ্রুততম সময়ে সংবাদ পেতে চায়, যা সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ব্লগ এবং পডকাস্ট এখন তথ্য প্রচারের অন্যতম মাধ্যম। তাৎক্ষণিক সংবাদ পরিবেশন : যেকোনো বড় ঘটনা মুহূর্তের মধ্যেই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।
ইন্টারঅ্যাকটিভিটি : পাঠকরা মন্তব্য, শেয়ার এবং লাইভ আলোচনার মাধ্যমে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন।
বহুমাত্রিক উপস্থাপন  : টেক্সট, ছবি, ভিডিও, অ্যানিমেশন ও লাইভ স্ট্রিমিং ব্যবহার করা হয়।
কম খরচে সংবাদ পরিবেশন: প্রচলিত সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেলের তুলনায় অনলাইন সংবাদমাধ্যম পরিচালনার খরচ অনেক কম।
ডিজিটাল সাংবাদিকতার ইতিবাচক দিক : ডিজিটাল মিডিয়া সাংবাদিকতাকে দ্রুত ও কার্যকর করে তুলেছে। আগে যেখানে সংবাদপত্র ছাপতে বা টিভি সম্প্রচারের জন্য সময় লাগত, এখন তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে খবর প্রকাশ করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে সংবাদ এখন আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। একটি ঘটনা শুধু স্থানীয় নয়, কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তা বৈশ্বিক সংবাদে পরিণত হতে পারে। ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষও সাংবাদিকতার অংশ হতে পারছে। মোবাইল ফোনে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার মাধ্যমে যে কেউ সংবাদ প্রচার করতে পারছে। আগে কেবলমাত্র নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে হতো, কিন্তু এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
ডিজিটাল সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও নেতিবাচক দিক : অনলাইন মিডিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভুয়া খবর বা ‘ফেক নিউজ’। অনেক সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যে কেউ সংবাদ প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করা হয় না। ফলে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। অনেক অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্লিকবেইট শিরোনাম ব্যবহার করে শুধুমাত্র ট্রাফিক বাড়ানোর জন্য মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ করে। অনেক সময় ডিজিটাল সাংবাদিকরা অনলাইনে হয়রানির শিকার হন। সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় হুমকি, সাইবার আক্রমণ বা ট্রোলিং-এর সম্মুখীন হন অনেকে। অনেক সময় অনলাইন মিডিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যায়, যা ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পারে।
ডিজিটাল সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ : ডিজিটাল সাংবাদিকতা ক্রমাগত উন্নতি করছে এবং ভবিষ্যতে এটি আরও আধুনিক ও কার্যকর হয়ে উঠবে। এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি সংবাদ বিশ্লেষণ, তথ্য যাচাই ও অটোমেটেড রিপোর্টিংয়ে সহায়তা করছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত এআই সিস্টেম সাংবাদিকদের কাজ সহজ করবে। সংবাদ পরিবেশন আরও আকর্ষণীয় করতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। ফেক নিউজ প্রতিরোধে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনার দিকে যাচ্ছে। এটি উচ্চমানের সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে পারে। ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যমের জন্য নৈতিকতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
ডিজিটাল সাংবাদিকতা আধুনিক বিশ্বের তথ্য প্রবাহের মূল চালিকা শক্তি। এটি যেমন দ্রুত সংবাদ সরবরাহের সুযোগ দিচ্ছে, তেমনি ভুয়া খবর ও হলুদ সাংবাদিকতার মতো চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।
তাই সাংবাদিকতা যেন বস্তুনিষ্ঠ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, সে জন্য সংবাদমাধ্যম, সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও সাংবাদিকতার আরও সমন্বিত ব্যবহার সমাজকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল করে তুলবে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রচারের মাধ্যম হিসেবেই ডিজিটাল সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে—এই প্রত্যাশা করছি।
লেখক পরিচিতি : সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক, চাঁদপুর।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।