খুঁজুন
                               
, ,

নতুন যুগের সাংবাদিকতা : ডিজিটাল মিডিয়া ও ভবিষ্যৎ

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
নতুন যুগের সাংবাদিকতা : ডিজিটাল মিডিয়া ও ভবিষ্যৎ

নতুন যুগের সাংবাদিকতা : ডিজিটাল মিডিয়া ও ভবিষ্যৎ
উজ্জ্বল হোসাইন
সাংবাদিকতা সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এটি তথ্য সরবরাহ, জনমত গঠন ও গণতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে সাংবাদিকতার ধরনেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। প্রিন্ট মিডিয়া থেকে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, আর এখন ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে প্রবেশ করেছে সাংবাদিকতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইউটিউব চ্যানেলের উত্থান সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
সাংবাদিকতা মানব সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সময়ের সাথে সাথে এটি নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, বিশেষ করে ডিজিটাল যুগের আগমনের পর সাংবাদিকতার চেহারা একেবারেই বদলে গেছে। এরমধ্যে অন্যতম মৌখিক ও লিপিবদ্ধ সংবাদ প্রচার। রাজা-বাদশাহদের ফরমান ও বার্তাবাহক ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান। চীনে প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র (Kaiyuan Za Bao, ৭১৩ খ্রিস্টাব্দ)।
আধুনিক মুদ্রণ সাংবাদিকতার উত্থান (১৫-২০ শতক) হয়েছে –১৪৪০ সালে গুত্তেনবার্গের মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কার, ১৬০৫ সালে প্রথম আধুনিক সংবাদপত্র, ১৬০৫ সালে প্রথম আধুনিক সংবাদপত্র (Relation aller Fürnemmen und gedenckwürdigen Historien), ১৯ শতকে দৈনিক পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি ও সম্পাদকীয় স্বাধীনতার বিকাশ, সংবাদ সংস্থার (যেমন, রয়টার্স, এপি) আবির্ভাব। সম্প্রচার সাংবাদিকতার যুগ (২০ শতক)-১৯২০-এর দশকে রেডিও সাংবাদিকতার শুরু, ১৯৫০-এর দশকে টেলিভিশন সাংবাদিকতার উত্থান, সরাসরি সম্প্রচার ও রিয়েল-টাইম সংবাদ পরিবেশনের প্রচলন। ইন্টারনেট ও অনলাইন সংবাদ (১৯৯০-এর দশক)-সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ চালু, দ্রুতগতির তথ্যপ্রবাহ ও বৈশ্বিক তথ্য প্রবেশাধিকার, বিনামূল্যে সংবাদপাঠের অভ্যাস তৈরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব (২০০০-এর পর থেকে)-ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে খবর প্রচার, নাগরিক সাংবাদিকতার বিকাশ যে কেউ সংবাদ পরিবেশন করতে পারে, ভুয়া সংবাদ ও গুজব ছড়ানোর ঝুঁকি বৃদ্ধি।
মোবাইল সাংবাদিকতা ও কনভার্জেন্স মিডিয়া-স্মার্টফোন ও অ্যাপ-ভিত্তিক সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টিং—ভিডিও, টেক্সট, অডিও একসাথে, ব্লগিং, পডকাস্ট ও লাইভ স্ট্রিমিং জনপ্রিয়তা লাভ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও অ্যালগরিদম-নির্ভর সাংবাদিকতা-নিউজ অ্যালগরিদম ও পার্সোনালাইজড কন্টেন্ট, ফ্যাক্ট-চেকিং ও স্বয়ংক্রিয় সংবাদ লেখা, সাংবাদিকতায় ডেটা অ্যানালিটিক্সের ব্যবহার বৃদ্ধি।

ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা : ভুয়া খবর ও মিথ্যা তথ্য, সংবাদপত্রের আর্থিক সংকট (প্রিন্ট মিডিয়ার ক্ষতি), সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত ঝুঁকি, নাগরিক সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের সুযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সাংবাদিকতার মাধ্যমে গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন, ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন মডেল ও বিকল্প আয়ের উৎস।
সাংবাদিকতা আজ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে তথ্য প্রবাহ দ্রুত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক। যদিও ডিজিটাল যুগ নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তবুও এটি গণমাধ্যমের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই এবং নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে ডিজিটাল সাংবাদিকতা আরও কার্যকর হতে পারে।সাংবাদিকতার ইতিহাস বহু পুরোনো। পাথরের ফলক, হস্তলিখিত চিঠি, প্রিন্ট মিডিয়া, বেতার, টেলিভিশন—এসব মাধ্যম একসময় মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপায় ছিল। কিন্তু ২১শ শতাব্দীর শুরু থেকে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার সাংবাদিকতায় আমূল পরিবর্তন এনেছে।
পরিবর্তনের কয়েকটি ধাপ : প্রিন্ট মিডিয়া (সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন) ১৮-২০ শতকে মানুষের তথ্যপ্রাপ্তির প্রধান মাধ্যম ছিল সংবাদপত্র। ইলেকট্রনিক মিডিয়া (রেডিও ও টেলিভিশন): ২০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে রেডিও ও টেলিভিশন খবর প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: ২১ শতকে ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে সংবাদমাধ্যম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হয়েছে।
আজকের যুগে মানুষ দ্রুততম সময়ে সংবাদ পেতে চায়, যা সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ব্লগ এবং পডকাস্ট এখন তথ্য প্রচারের অন্যতম মাধ্যম। তাৎক্ষণিক সংবাদ পরিবেশন : যেকোনো বড় ঘটনা মুহূর্তের মধ্যেই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।
ইন্টারঅ্যাকটিভিটি : পাঠকরা মন্তব্য, শেয়ার এবং লাইভ আলোচনার মাধ্যমে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন।
বহুমাত্রিক উপস্থাপন  : টেক্সট, ছবি, ভিডিও, অ্যানিমেশন ও লাইভ স্ট্রিমিং ব্যবহার করা হয়।
কম খরচে সংবাদ পরিবেশন: প্রচলিত সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেলের তুলনায় অনলাইন সংবাদমাধ্যম পরিচালনার খরচ অনেক কম।
ডিজিটাল সাংবাদিকতার ইতিবাচক দিক : ডিজিটাল মিডিয়া সাংবাদিকতাকে দ্রুত ও কার্যকর করে তুলেছে। আগে যেখানে সংবাদপত্র ছাপতে বা টিভি সম্প্রচারের জন্য সময় লাগত, এখন তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে খবর প্রকাশ করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে সংবাদ এখন আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। একটি ঘটনা শুধু স্থানীয় নয়, কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তা বৈশ্বিক সংবাদে পরিণত হতে পারে। ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষও সাংবাদিকতার অংশ হতে পারছে। মোবাইল ফোনে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার মাধ্যমে যে কেউ সংবাদ প্রচার করতে পারছে। আগে কেবলমাত্র নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে হতো, কিন্তু এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
ডিজিটাল সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও নেতিবাচক দিক : অনলাইন মিডিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভুয়া খবর বা ‘ফেক নিউজ’। অনেক সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যে কেউ সংবাদ প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করা হয় না। ফলে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। অনেক অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্লিকবেইট শিরোনাম ব্যবহার করে শুধুমাত্র ট্রাফিক বাড়ানোর জন্য মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ করে। অনেক সময় ডিজিটাল সাংবাদিকরা অনলাইনে হয়রানির শিকার হন। সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় হুমকি, সাইবার আক্রমণ বা ট্রোলিং-এর সম্মুখীন হন অনেকে। অনেক সময় অনলাইন মিডিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যায়, যা ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পারে।
ডিজিটাল সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ : ডিজিটাল সাংবাদিকতা ক্রমাগত উন্নতি করছে এবং ভবিষ্যতে এটি আরও আধুনিক ও কার্যকর হয়ে উঠবে। এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি সংবাদ বিশ্লেষণ, তথ্য যাচাই ও অটোমেটেড রিপোর্টিংয়ে সহায়তা করছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত এআই সিস্টেম সাংবাদিকদের কাজ সহজ করবে। সংবাদ পরিবেশন আরও আকর্ষণীয় করতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। ফেক নিউজ প্রতিরোধে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনার দিকে যাচ্ছে। এটি উচ্চমানের সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে পারে। ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যমের জন্য নৈতিকতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
ডিজিটাল সাংবাদিকতা আধুনিক বিশ্বের তথ্য প্রবাহের মূল চালিকা শক্তি। এটি যেমন দ্রুত সংবাদ সরবরাহের সুযোগ দিচ্ছে, তেমনি ভুয়া খবর ও হলুদ সাংবাদিকতার মতো চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।
তাই সাংবাদিকতা যেন বস্তুনিষ্ঠ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, সে জন্য সংবাদমাধ্যম, সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও সাংবাদিকতার আরও সমন্বিত ব্যবহার সমাজকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল করে তুলবে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রচারের মাধ্যম হিসেবেই ডিজিটাল সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে—এই প্রত্যাশা করছি।
লেখক পরিচিতি : সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক, চাঁদপুর।

দুই দিনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
দুই দিনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে অস্থিরতার সময়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতি না মেনে টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প নেওয়া, কোথাও কাজ না করে এবং কোথাও নামমাত্র কাজ করে পুরো বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে মাত্র দুই দিনে ২১টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ওসমান গণি পাটোয়ারী অপসারণের এক দিন আগে, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ১৭টি চেক ইস্যু করে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এর আগে ১৪ আগস্ট চারটি প্রকল্পের বিপরীতে আরও ১৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য রয়েছে। জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যে দুই দিনের উত্তোলনের পরিমাণ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বলা হয়েছে।
নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনায় কয়েকটি প্রকল্পে কাজ না হওয়া এবং কিছু প্রকল্পে আংশিক কাজ করে পুরো বিল দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন ঠিকাদার দাবি করেছেন, তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ ও বিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও প্রকল্প সম্পর্কে তারা জানতেন না।
১৮ আগস্ট ইস্যু করা চেকগুলোর মধ্যে চেয়ারম্যানের আত্মীয় ঠিকাদার শেখ নজরুল ইসলামের নামে সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার বিল দেওয়ার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে বাবুরহাট মার্কেটের সাইট প্রস্তুত ও বালু ভরাটের দুটি কাজের বিপরীতে প্রায় ২৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, সেখানে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ গাড়ি বালু ফেলা হয়েছিল এবং পুরো জায়গা ভরাট হয়নি। শেখ নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি যে কাজ করেছেন শুধু সেই কাজের বিল নিয়েছেন।
জেলা পরিষদের হলরুমের ওয়াল টাইলসকরণ এবং ভবন সংস্কার ও রংকরণ প্রকল্পে প্রায় ১৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে এসব কাজে বাস্তবে কাজ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বক্তব্যেও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। একজন ঠিকাদার প্রথমে হলরুমে কাজ না করার কথা বললেও পরে নিজের লাইসেন্সে কাজ হয়েছে বলে জানান। আরেক ঠিকাদার দাবি করেন, প্রকল্প সম্পর্কে তিনি জানতেন না এবং টাকা উত্তোলনের পর প্রকৌশলী তার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে যান।
এ ছাড়া আরও পাঁচটি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। চেয়ারম্যান অপসারিত হওয়ায় ওই অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি; পরে চেকগুলো বাতিল করা হয়। জেলা পরিষদ প্রশাসকের দাবি, এসব চেকের বিপরীতে কোনও ফাইল বা প্রকল্প ছিল না। সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, ফাইলগুলো সঠিক না হওয়ায় চেক বাতিল করা হয় এবং ভুল করে লেখা হয়েছিল।
জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আব্দুল কুদ্দুস ভাটের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু কাজ হয়নি, কিছু কাজ আংশিক হয়েছে এবং কয়েকটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, প্রকল্প পরিদর্শন ও কাজের পরিমাণ যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রকৌশলীর। সাবেক প্রকৌশলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কাজ হওয়ার পরই বিল দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সরদার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দুদক তথ্য চেয়েছে এবং তদন্ত করছে। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ দুদককে প্রয়োজনীয় তথ্য দেবে।
নথিতে থাকা অর্থ উত্তোলন, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঠিকাদারদের লাইসেন্স ব্যবহারের দাবি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। কোন প্রকল্প বাস্তবে হয়েছে, কে কাজ করেছেন, কে প্রত্যয়ন দিয়েছেন এবং অর্থ কার হাতে গেছে—এসব বিষয় এখন দুদকের তদন্তে নির্ধারিত হবে।

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০ বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া।
প্রস্তাবিত ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে। ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠির সঙ্গে আইনের খসড়ার সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে জানা যায়, ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করতে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ৮ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত সচিবকে সভাপতি করে আট সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
গঠিত কমিটি কর্তৃক একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী- খসড়া আইনটির ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: এখনও নিখোঁজ ৫ জেলে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: এখনও নিখোঁজ ৫ জেলে

উত্তাল বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটার ‘এফবি বরকত’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এখনও পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরও আট জেলেকে। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ট্রলার মালিক সমিতি। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে গভীর সমুদ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির মালিক বরগুনার পাথরঘাটার আশরাফ কোম্পানি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার দিন আগে ১৩ জন জেলে পাথরঘাটা থেকে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যায় ‘এফবি বরকত’। গতকাল সোমবার বিকেলে সাগরে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে ডুবে যাওয়া ট্রলারের কাছাকাছি থাকা পাথরঘাটার অপর একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা পানিতে ভাসতে থাকা আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া জেলেদের বরাত দিয়ে তারা ট্রলারডুবির বিষয়টি মালিকপক্ষকে জানান। এ ঘটনায় এখনো পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে কাজ করছে ট্রলার মালিক সমিতি। নিখোঁজ পাঁচ জেলের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ‘এফবি বরকত’ নামে একটি ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার খবর তারা অপর একটি ট্রলারের জেলেদের মাধ্যমে পেয়েছেন। খবর পাওয়ার পর ট্রলার ও জেলেদের উদ্ধারের জন্য ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলার পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আট জেলেকে উপকূলে নিয়ে আসা হচ্ছে।