খুঁজুন
                               
, ,

প্রবীণ জীবন সমাজ ও অভিজ্ঞতার আয়নায়

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
প্রবীণ জীবন সমাজ ও অভিজ্ঞতার আয়নায়

প্রবীণ জীবন সমাজ ও অভিজ্ঞতার আয়নায়
উজ্জ্বল হোসাইন
প্রবীণরা সমাজের অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান অংশ। তাঁদের জীবন সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা সমাজের জন্য অমূল্য সম্পদ। প্রবীণদের জীবন কেবলই বার্ধক্যের গল্প নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ পথচলার প্রতিচ্ছবি, যেখানে রয়েছে ইতিহাসের সাক্ষী হওয়া, পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সমাজে প্রবীণদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত, তাঁদের অভিজ্ঞতার মূল্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এবং কীভাবে তাঁদের জীবনকে আরো সম্মানজনক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করা যায়—এসব বিষয় প্রবন্ধে বিশদভাবে আলোচনা করা হবে।
প্রবীণদের অভিজ্ঞতা একটি সমাজের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের অংশ। তাঁদের সংগ্রামী জীবন, কাজের অভিজ্ঞতা, পারিবারিক দায়িত্ব, নৈতিক শিক্ষা—এসবই নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়। একজন প্রবীণ ব্যক্তি জীবনে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছেন। তাঁরা দেখেছেন কিভাবে সমাজ পরিবর্তিত হয়েছে, জীবনযাত্রা সহজ হয়েছে, আবার কখনো কঠিন চ্যালেঞ্জ এসেছে। এই অভিজ্ঞতাগুলো ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। প্রবীণদের কাছ থেকে পারিবারিক বন্ধন, ত্যাগ, ভালোবাসা ও দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা পাওয়া যায়। অতীত প্রজন্মের অভিজ্ঞতা পারিবারিক সম্পর্ককে মজবুত করতে সহায়ক হতে পারে। প্রবীণরা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের কর্মজীবনের গল্প পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারে, বিশেষ করে যখন একজন তরুণ ব্যক্তি নিজের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। একটি সভ্য সমাজের বৈশিষ্ট্য হলো প্রবীণদের যথাযথ সম্মান ও যত্ন প্রদান করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, অনেক সমাজেই প্রবীণদের অবহেলা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রবীণদের কথা গুরুত্বসহকারে শোনা হয় না। তাঁদের সিদ্ধান্ত ও মতামতকে মূল্যহীন মনে করা হয়, যা তাঁদের মানসিকভাবে কষ্ট দেয়। অনেক প্রবীণ মানুষ একাকীত্বে ভোগেন, বিশেষ করে যদি তাঁরা পরিবারের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হন। আধুনিক সমাজে কর্মব্যস্ত জীবনধারার কারণে অনেক সময় সন্তানরা বাবা-মাকে যথাযথ সময় দিতে পারেন না, যা প্রবীণদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সমাজের উচিত প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল হওয়া। তাঁদের প্রতি সহানুভূতি, যত্ন ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত। প্রবীণদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য পরিবার, সমাজ ও সরকারকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। তাই প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতা ও উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রবীনদের শারীরিক সুস্থতার জন্য-সুষম খাদ্য গ্রহণ করা, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও হালকা ব্যায়াম করা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া
প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পরিবার ও সমাজের সাপোর্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। একাকীত্ব, অবহেলা ও মানসিক চাপ প্রবীণদের বিষণ্ণতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই—তাঁদের সাথে সময় কাটানো, তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে যুক্ত রাখা, প্রযুক্তির এই যুগে প্রবীণদের ডিজিটাল দুনিয়ার সাথে পরিচিত করানো দরকার। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, অনলাইন ব্যাংকিং, টেলিমেডিসিন ইত্যাদি শেখানোর মাধ্যমে তাঁদের জীবনকে সহজ করা সম্ভব।অনেক প্রবীণ মানুষ প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হলেও তাঁদের শেখানোর মতো কেউ থাকে না। তরুণ প্রজন্ম যদি তাঁদের সাহায্য করে, তাহলে তাঁরা প্রযুক্তির সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন এবং একাকীত্ব কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
প্রবীণদের জন্য করণীয় উদ্যোগ হলো- পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব, প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করা, তাঁদের সাথে সময় কাটানো, মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার খোঁজ রাখা, প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, প্রবীণ ভাতা ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করা, প্রবীণদের জন্য বিনোদনমূলক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা। অনেক দেশে প্রবীণদের জন্য বিশেষ সংগঠন রয়েছে, যেখানে তাঁরা সময় কাটাতে পারেন, বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন এবং নিজেদের মতামত ভাগ করে নিতে পারেন। আমাদের সমাজেও প্রবীণদের জন্য এমন সংগঠন গড়ে তোলা উচিত।
প্রবীণরা আমাদের সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, এবং অর্জন নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণার উৎস। জীবনের প্রতিটি ধাপে তাঁরা সংগ্রাম করেছেন, সমাজ ও পরিবারের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং দেশ ও জাতির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পর অনেক প্রবীণ মানুষ অবহেলা ও একাকীত্বের শিকার হন। প্রবীণদের জীবন শুধু দীর্ঘ সময়ের সমষ্টি নয়; এটি সংগ্রামের, অর্জনের, শিক্ষা ও মূল্যবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সমাজ ও পরিবার গঠনে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য।
পারিবারিক ও সামাজিক অবদান : প্রবীণরা পরিবারের মূল ভিত্তি। তাঁদের অভিজ্ঞতা, নৈতিকতা ও আদর্শ পরিবার ও সমাজের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে। তাঁরা সন্তানদের লালন-পালন করেন, শিক্ষা দেন, এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা : একজন প্রবীণ ব্যক্তি জীবনের বেশিরভাগ সময় কর্মক্ষেত্রে অতিবাহিত করেন। শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক—যে কোনো পেশাতেই থাকুক না কেন, তাঁরা সমাজের অগ্রগতির অংশ। তাঁদের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্য মূল্যবান হতে পারে, যদি সেটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা যায়।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সাক্ষী : প্রবীণরা অতীতের জীবন্ত দলিল। তাঁরা একসময়ে প্রত্যক্ষ করেছেন রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, যুদ্ধ, বিপ্লব, প্রযুক্তির অগ্রগতি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করতে পারে।
প্রবীণদের প্রতি সমাজের দায়িত্ব : একটি উন্নত ও মানবিক সমাজের চিহ্ন হলো প্রবীণদের প্রতি যথাযথ যত্ন ও সম্মান প্রদান করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, অনেক প্রবীণ মানুষ বার্ধক্যে একাকীত্ব ও অবহেলার শিকার হন। সমাজের উচিত প্রবীণদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে সম্মানের চোখে দেখা। তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, পারিবারিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা, এবং তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবীণরা বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হন। তাঁদের জন্য উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, এবং মানসিক প্রশান্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। পরিবার ও সমাজের উচিত তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং মানসিক সমর্থন দেওয়া। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর উচিত প্রবীণদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা, যেমন : বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে যানবাহনে যাতায়াত, প্রবীণ ভাতা ও পেনশন সুবিধা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ
প্রবীণদের চ্যালেঞ্জ ও সমাধান : বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে অনেক প্রবীণ মানুষ একাকীত্বে ভোগেন। সন্তানরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে, বন্ধুরা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়, এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে অনেকেই বাইরে যেতে পারেন না। ফলে তাঁরা মানসিক অবসাদে ভোগেন। পরিবারের উচিত নিয়মিত সময় দেওয়া, প্রবীণদের জন্য সামাজিক সংগঠন তৈরি করা, প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা, অনেক প্রবীণ মানুষ কর্মক্ষমতা হারানোর পর আর্থিক সংকটে পড়েন। পেনশন ব্যবস্থা না থাকলে বা পর্যাপ্ত সঞ্চয় না থাকলে তাঁদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে যায়। প্রবীণ ভাতা ও পেনশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, বয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা, আর্থিক সহায়তার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যেমন : উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, বাত, হৃদরোগ ইত্যাদি। অনেক প্রবীণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা পান না। বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা। প্রবীণদের জন্য বিশেষ হাসপাতাল ও ক্লিনিক স্থাপন করা।
বর্তমান যুগে প্রযুক্তি প্রতিটি ক্ষেত্রকে সহজ করে তুলেছে, কিন্তু প্রবীণদের অনেকেই ডিজিটাল দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে পড়ছেন। ফলে তাঁরা ব্যাংকিং, টেলিমেডিসিন, অনলাইন যোগাযোগ ইত্যাদি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। প্রবীণদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া। সহজ ও ব্যবহারবান্ধব প্রযুক্তি তৈরি করা। পরিবারের তরুণদের উচিত প্রবীণদের ডিজিটাল দক্ষতা শেখানো।
প্রবীণদের জন্য করণীয় : প্রবীণদের জীবনকে সুন্দর ও সম্মানজনক করতে তাঁরা নিজেরাও কিছু উদ্যোগ নিতে পারেন। সক্রিয় ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। নিয়মিত ব্যায়াম করা। সুষম খাদ্য গ্রহণ করা। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া। সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকা। বন্ধু ও পরিবারের সাথে সময় কাটানো। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা। বই পড়া, লেখালেখি করা বা নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করা। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা
ছোটখাটো ব্যবসা বা হস্তশিল্পে যুক্ত থাকা। পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করা। ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন কাজ শেখা
প্রবীণরা আমাদের সমাজের ইতিহাসের ধারক এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনের প্রেরণা। তাঁদের অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও পরামর্শ আমাদের জন্য অমূল্য সম্পদ। প্রবীণদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও যত্ন নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একটি সুস্থ, মানবিক ও উন্নত সমাজ গড়তে হলে প্রবীণদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা জরুরি। তাঁদের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলে তাঁরা বার্ধক্যেও সম্মানজনক ও সুখী জীবনযাপন করতে পারবেন। প্রবীণরা আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতার ধারক ও বাহক। তাঁদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ আমাদের জীবনের জন্য অমূল্য সম্পদ। প্রবীণদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও যত্ন প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সমাজের সকল স্তরের মানুষের উচিত প্রবীণদের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং তাঁদের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে তোলার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা। প্রবীণদের প্রতি আমাদের সম্মান ও ভালোবাসাই প্রমাণ করে আমরা কতটা সভ্য ও মানবিক সমাজে বাস করি।
লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক, চাঁদপুর।

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে ও সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে কাজ করছে সরকার। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের দায়িত্ব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ শৃঙ্খলা পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’ এর আগে, সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাড়ি থেকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। এ সময় তিনি উপস্থিত সেনাদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। এরপরে তিনি সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।

দুই বছর পর স্বস্তি, টাকা পাচ্ছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
দুই বছর পর স্বস্তি, টাকা পাচ্ছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা

দীর্ঘ দুই বছরের অনিশ্চয়তা আর ভোগান্তির পর স্বস্তি ফিরছে ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে। আজ থেকে আবারও স্বাভাবিকভাবে টাকা তুলতে পারছেন গ্রাহকরা। নেই আগের মতো নির্দিষ্ট অঙ্কের সীমাবদ্ধতা। দীর্ঘদিন নিজের জমানো টাকা তুলতে না পারার পর অর্থ হাতে পেয়ে খুশি গ্রাহকরা। ব্যাংক কর্মকর্তারাও বলছেন, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। এখন প্রত্যাশা, ঘুরে দাঁড়াবে ন্যাশনাল ব্যাংক।
নিজের জমানো টাকা হাতে পাওয়ার স্বস্তি যেন গ্রাহকদের চোখেমুখে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর নানা দুশ্চিন্তার পর আবারও প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলতে পারছেন তারা। কারও টাকা লাগবে সংসারের খরচে, কারও ব্যবসায়, আবার কারও জরুরি প্রয়োজনে। এত দিন এসব চাহিদা পূরণে ছিল নানা সীমাবদ্ধতা। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে স্বস্তি ফিরেছে গ্রাহকদের মধ্যে।
অনেকগুলো গ্রাহকের সাথে কথা বলেছে ঢাকা জার্নাল। তারা জানিয়েছে, ‘অনেক দিন পর নিজের টাকা তুলতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আগে টাকা তুলতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হতো। এখন টাকা তুলতে পারছি, এতে আমরা খুবই খুশি’।
গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোই এখন ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূল ভিত্তি গ্রাহকের বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা পরিশোধ এবং সেবার মান উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের বাংলামোটর শাখার ম্যানেজার মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন ঢাকা জার্নালকে বলেন, ‘গ্রাহকদের টাকা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা চাই, গ্রাহকরা আবারও স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকিং সেবা নিন এবং আমাদের ওপর আস্থা রাখুন’।
তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে শুধু টাকা উত্তোলনের সুযোগ চালু রাখাই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত ব্যাংকিং সেবা, আমানতের নিরাপত্তা এবং গ্রাহকদের সঙ্গে স্বচ্ছ যোগাযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। গ্রাহকদের আস্থা ফিরে এলে তা ব্যাংকের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নিজের জমানো টাকা তুলতে পারছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা। এতে স্বস্তি ফিরলেও ব্যাংকটির সামনে এখন বড় দায়িত্ব, এই স্বাভাবিক লেনদেন ধরে রাখা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। গ্রাহকদের প্রত্যাশা, আবারও আগের অবস্থানে ফিরে আসবে ন্যাশনাল ব্যাংক। গ্রাহকের আস্থা আর স্বাভাবিক লেনদেনের ধারাবাহিকতাই পারে ন্যাশনাল ব্যাংককে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে এগিয়ে নিতে।

হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধের ঘোষণা ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধের ঘোষণা ইরানের

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সাম্প্রতিক সময়ে এই নৌপথে একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। শনিবার (১৭ অক্টোবর) আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছে বাহিনীটি।
এ ছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তার ওপর নির্ভর করে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলেও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে পানির নিচে থাকা মাইনের আঘাতে একটি বড় তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার খবর প্রকাশিত হয়। এর পরদিন সৌদি আরবের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি এলাকায় আরও অন্তত দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
পরপর এসব হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই প্রণালিটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিল আইআরজিসি। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে এ নৌপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এর মধ্য দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তেলের দামেও ঊর্ধ্বগতির চাপ তৈরি হতে পারে। সূত্র:আল-জাজিরা, ইরনা