খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সংবাদ না বয়ান : গণমাধ্যমের ঝোঁক ও ঝুঁকি

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
সংবাদ না বয়ান : গণমাধ্যমের ঝোঁক ও ঝুঁকি

গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত। এর ভূমিকা নিরপেক্ষ ও সত্য সংবাদ পরিবেশন করা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। গণমাধ্যম কি শুধু খবর পৌঁছে দিচ্ছে, নাকি নিজের বয়ান তৈরি করছে? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হলে আমাদের গণমাধ্যমের ঝোঁক, তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ, রাজনৈতিক আনুগত্য এবং এর ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলোকে মূল্যায়ন করতে হবে।

গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হলো জনগণকে সঠিক তথ্য সরবরাহ করা। কিন্তু দিন দিন আমরা লক্ষ্য করছি, সংবাদ পরিবেশনে নিরপেক্ষতার অভাব এবং পক্ষপাতিত্বের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সংবাদ আর তথ্য নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট মতবাদ বা বয়ানের রূপ নিচ্ছে।
এর পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করে, গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ এখন ব্যবসায়িক মডেলের ওপর নির্ভরশীল। বিজ্ঞাপনদাতা এবং পৃষ্ঠপোষকদের চাপে তারা এমন খবর পরিবেশন করে যা জনমত প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে, সংবাদ পরিবেশনের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানগুলো গল্প বা বয়ান তৈরি করছে যা তাদের আর্থিক স্বার্থে সহায়ক। গণমাধ্যমের একটি অংশ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বা মতবাদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ে। তারা একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে সংবাদ পরিবেশন করে, যেখানে তাদের রাজনৈতিক আনুগত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এতে জনগণ বিভ্রান্ত হয় এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস পায়। সামাজিক মাধ্যমে প্রতিযোগিতার কারণে অনেক গণমাধ্যম “সংবাদের” পরিবর্তে “সেনসেশন” পরিবেশনে ঝুঁকছে। টিআরপি বাড়ানোর জন্য নাটকীয় এবং উত্তেজনাপূর্ণ খবর পরিবেশনের প্রবণতা বেড়ে গেছে। ফলে সত্য ঘটনা আড়ালে থেকে যায়।

সংবাদ হলো নিরপেক্ষ তথ্য উপস্থাপন। এটি কোনো মতামত বা অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে নয়। বয়ান, অন্যদিকে, একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি বা চিন্তা উপস্থাপন করে। তবে গণমাধ্যম যখন সংবাদকে বয়ান হিসেবে রূপান্তরিত করে, তখন এটি একটি গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ-একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির খবর যখন নিরপেক্ষভাবে পরিবেশন করা হয়, তখন এটি সংবাদ। কিন্তু সেই খবর যখন একটি দলের সাফল্যের গল্প হিসেবে উপস্থাপিত হয়, তখন তা বয়ানে রূপান্তরিত হয়।

তেমনই, একটি সামাজিক ইস্যুকে অযথা সেনসেশন তৈরি করে পরিবেশন করাও বয়ানের আরেকটি উদাহরণ । গণমাধ্যমের এই ঝোঁক সমাজ, রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। এর ফলে: পক্ষপাতদুষ্ট বয়ান সমাজকে বিভক্ত করে। মানুষ নিরপেক্ষ খবর পাওয়ার পরিবর্তে পক্ষপাতদুষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়।গণমাধ্যম যদি বয়ান তৈরিতে মনোযোগ দেয়, তাহলে তথ্যের বিকৃতি ঘটতে পারে। এর ফলে ভ্রান্ত তথ্যের প্রসার ঘটে এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়। যখন জনগণ গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষ হিসেবে দেখতে পায় না, তখন এটি তার প্রভাব হারায়।

গণমাধ্যমের ভূমিকা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা। কিন্তু যখন এটি নিরপেক্ষতার পরিবর্তে পক্ষপাতিত্ব করে, তখন এটি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য গণমাধ্যমের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষ থেকে তথ্য সরবরাহ করতে হবে। বাণিজ্যিক এবং রাজনৈতিক চাপ এড়িয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। সেনসেশনাল খবরের পরিবর্তে গবেষণাধর্মী এবং তথ্যসমৃদ্ধ প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।জনগণকে সচেতন হতে হবে। পক্ষপাতদুষ্ট তথ্য বুঝতে এবং সঠিক তথ্য খুঁজে বের করতে দক্ষ হতে হবে।

গণমাধ্যমকে স্বচ্ছ হতে হবে। তাদের উৎস, গবেষণার প্রক্রিয়া এবং খবর প্রকাশের কারণগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে।সামাজিক মাধ্যমে ভ্রান্ত তথ্যের বিস্তার রোধে গণমাধ্যমকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। সত্য এবং মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে সহায়তা করতে হবে।

গণমাধ্যম মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করার এক শক্তিশালী মাধ্যম। সংবাদ পরিবেশন করার মাধ্যমে এটি শুধু তথ্য সরবরাহ করে না, বরং জনমত তৈরিতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। তবে, গণমাধ্যম যখন সংবাদকে বয়ানে পরিণত করে, তখন এটি তার প্রাথমিক দায়িত্ব থেকে সরে আসে। এতে সাংবাদিকতার মূলনীতি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি সমাজে বিভাজন ও ভুল বোঝাবুঝির জন্ম হয়।
গণমাধ্যমের কার্যক্রম আর আগের মতো সীমাবদ্ধ নয়। একদিকে প্রিন্ট মিডিয়া ও টেলিভিশন যেমন সংবাদ পরিবেশন করছে, অন্যদিকে ডিজিটাল মাধ্যম সমাজে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মুহূর্তের মধ্যেই খবর মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য পরিবেশনের প্রবণতাও বাড়ছে।

আজকের গণমাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই সত্যকে বিকৃত করে এমনভাবে পরিবেশন করা হয়, যা দর্শক বা পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে। এটি শুধু তথ্যের অভাব তৈরি করে না, বরং মানুষের মস্তিষ্কে এমন একটি বয়ান তৈরি করে, যা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে পূরণ করে। গণমাধ্যমের বয়ান তৈরি করার পিছনে কিছু নির্দিষ্ট ঝোঁক কাজ করে। এ প্রসঙ্গে কিছু বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো-গণমাধ্যম অনেকাংশে এখন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞাপনদাতা এবং কর্পোরেট স্বার্থের কারণে গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সংবাদ পরিবেশনের ধরণ নির্ধারিত হয় পৃষ্ঠপোষকদের চাহিদা অনুযায়ী।

গণমাধ্যম অনেক সময় নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে খবর পরিবেশন করে। এর ফলে, প্রকৃত ঘটনা আড়ালে চলে যায় এবং বয়ান তৈরি হয়, যা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শকে সমর্থন করে।

টেলিভিশন চ্যানেল এবং অনলাইন পোর্টালগুলোর জন্য দর্শক ধরে রাখা বা বেশি ভিউয়ারশিপ পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা বেশি দর্শক টানার জন্য উত্তেজনাপূর্ণ এবং সংবেদনশীল খবর পরিবেশন করে। এতে তথ্যের মান ও সত্যতা উপেক্ষিত হয়। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মের উত্থান গণমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। দ্রুত এবং ক্লিক-বেইট শিরোনামে খবর প্রকাশ করার তাড়নায় গণমাধ্যম অনেক সময় যাচাই-বাছাই ছাড়াই খবর প্রকাশ করে।

সংবাদ যখন বয়ানে রূপান্তরিত হয়, তখন তা মানুষের মননে গভীর প্রভাব ফেলে। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে অনেক সময় এমনভাবে খবর প্রচারিত হয়, যা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে। একটি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে সংবেদনশীল শব্দ ব্যবহার করে খবর পরিবেশনের ফলে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি হয়।নির্বাচনের সময় গণমাধ্যমের ভূমিকা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট দলের প্রচারণার অংশ হিসেবে খবর পরিবেশিত হয়। এতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হন এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায়।দারিদ্র্য, নারী নির্যাতন বা পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে গণমাধ্যমে কখনো সত্যকে অতিরঞ্জিত করে বা সংকীর্ণ দৃষ্টিকোণে উপস্থাপন করা হয়। এতে প্রকৃত সমাধান খোঁজার পরিবর্তে সমস্যাগুলো আরও জটিল হয়ে ওঠে।

গণমাধ্যমের বয়ান তৈরির ঝুঁকি বহুমাত্রিক। এর কিছু উল্লেখযোগ্য দিক হলো : যখন সংবাদকে নিরপেক্ষভাবে পরিবেশন করা হয় না, তখন তা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে। বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে মানুষ ভিন্নমত গ্রহণ করতে পারে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ব্যাহত হয়। গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দেয়। এর ফলে নির্বাচন বা নীতি নির্ধারণের মতো প্রক্রিয়াগুলো প্রভাবিত হয়।

গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা হারালে মানুষের আস্থা কমে যায়। এর ফলে, তারা প্রকৃত তথ্যের জন্য বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা সব সময় বিশ্বাসযোগ্য নাও হতে পারে।

বয়ান তৈরি করে জনগণকে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শে পরিচালিত করা হলে, দীর্ঘমেয়াদে এটি সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এই সংকট মোকাবিলায় গণমাধ্যম, নীতিনির্ধারক এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিচে উল্লেখ করা হলো : গণমাধ্যমকে অবশ্যই সাংবাদিকতার নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য সরবরাহ করা এবং পক্ষপাত এড়ানো এর মূলমন্ত্র হওয়া উচিত।

গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। তবে এই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধও থাকতে হবে। গভীর গবেষণা ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশিত হলে, তা বয়ান তৈরির পরিবর্তে সত্য প্রকাশে সহায়ক হবে।
ফ্যাক্ট-চেকিং টুল এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংবাদ যাচাই করা উচিত, বিশেষত সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত খবরের ক্ষেত্রে।
গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল থাকার পাশাপাশি জনগণকেও তথ্য যাচাই করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সচেতন পাঠক ও দর্শক তৈরি হলে, পক্ষপাতদুষ্ট তথ্যের প্রচার সীমিত হবে।
গণমাধ্যম শুধু খবর পরিবেশনের মাধ্যম নয়; এটি একটি শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক হাতিয়ার। কিন্তু এই হাতিয়ার যদি সঠিকভাবে ব্যবহৃত না হয়, তাহলে এটি সমাজে অস্থিরতা এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। সংবাদ এবং বয়ানের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে না পারলে আমরা সত্যকে হারিয়ে ফেলব।

গণমাধ্যমকে অবশ্যই তার প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করতে হবে: নিরপেক্ষ ও সত্য সংবাদ সরবরাহ। পক্ষপাতিত্ব, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং রাজনৈতিক প্রভাব এড়িয়ে যদি গণমাধ্যম কাজ করতে পারে, তবে তা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। অন্যদিকে, জনগণকেও সচেতন হতে হবে এবং সঠিক তথ্যের জন্য বিভিন্ন উৎস যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং জনগণের সচেতনতা একসঙ্গে কাজ করলে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব।গণমাধ্যমের ভূমিকা হলো সমাজকে তথ্যের মাধ্যমে আলোকিত করা। কিন্তু যখন গণমাধ্যম সংবাদকে বয়ানে পরিণত করে, তখন এটি সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। তাই গণমাধ্যমকে নিজের মূল দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করতে হবে। অন্যদিকে, জনগণকেও সচেতন হতে হবে, যাতে তারা সঠিক ও নিরপেক্ষ সংবাদ গ্রহণ করতে পারে।

গণমাধ্যম যখন সত্য, নিরপেক্ষতা এবং নৈতিকতার পথে অটল থাকবে, তখনই এটি তার প্রকৃত ভূমিকা পালন করতে পারবে। অন্যথায়, গণমাধ্যমের বয়ান সমাজে বিভ্রান্তি এবং বিভাজন সৃষ্টি করতে থাকবে।

লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, গণমাধ্যম সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ২০২১, পিআইবি।

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।