খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

জুলাই-আগস্ট হত্যা মামলায় জামিন প্রশ্নে জিরো টলারেন্স

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
জুলাই-আগস্ট হত্যা মামলায় জামিন প্রশ্নে জিরো টলারেন্স

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি-নির্যাতন চালিয়ে হত্যার ঘটনায় একদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায়-আদালতে বিভিন্ন ব্যক্তি-ভিকটিম, ভিকটিমের পরিবার হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিরা নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে উচ্চ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জুলাই-আগস্ট হত্যা মামলার আসামিদের জামিন প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেছেন। তারা বলছেন, জুলাই-আগস্ট হত্যা মামলা সাধারণ কোনো হত্যা মামলা নয়। এসব হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্তরা উচ্চ আদালত থেকে জড়িতরা জামিন পেলে সমাজে ভুল বার্তা যাবে। সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটির করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের বন্ধু সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরীর জামিনের বিরুদ্ধে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আপিল বিভাগে বলেছেন, জুলাই- আগস্টের হত্যা মামলা সাধারণ কোনো মামলা নয়। এসব মামলায় যদি আসামিরা জামিন পান সমাজে ভুল মেসেজ যাবে। মনে হবে জুলাই-আগস্টে দেড় হাজার মানুষ এমনি এমনি মারা গেছেন। কোনো হত্যাকাণ্ডই ঘটেনি। জুলাই-আগস্ট হত্যা মামলায় কোনো আসামির জামিন হলে ‘ফ্লাডগেট’ ওপেন হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা ঢালাওভাবে জামিনের বিরোধিতা করছি না। কিন্তু জুলাই আগস্ট হত্যাকাণ্ডে যারা সরাসরি সম্পৃক্ত, যারা চিহ্নিত, যারা গণহত্যায় সরাসরি উসকানি দিয়েছেন তারা যেন জামিন নিয়ে বের না হয়, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ সজাগ ও তৎপর রয়েছে। জুলাই-আগস্ট হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে কোনো কোনো আসামি জামিন পেলেও রাষ্ট্রপক্ষের জিরো টলারেন্স ভূমিকার কারণে চেম্বার আদালত ও আপিল বিভাগে অনেকের জামিন স্থগিত রয়েছে।

সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি মেহেদীর জামিন স্থগিত

গত ২১ নভেম্বর জুলাই-আগস্টের ঘটনায় হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। সেদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। আসামির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না। সুপ্রিম কোর্ট বারের পক্ষে শুনানি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভেকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল।

এর আগে গত ১৯ নভেম্বর মেহেদী হাছান চৌধুরীকে ৬ মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর সীমান্ত পথে দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. মেহেদী হাসান চৌধুরী। পরে তাকে জুলাই-আগস্টের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ৮ আগস্ট অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ব্যারিস্টার মো. মেহেদী হাসান।

শমী কায়সারের জামিন স্থগিত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই ইশতিয়াক মাহমুদ নামে এক ব্যবসায়ীসহ অন্যরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। উত্তরা পূর্ব থানাধীন ৪ নম্বর সেক্টরের আজমপুর নওয়াব হাবিবুল্লাহ হাই স্কুলের সামনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ হামলা চালায় এবং গুলিবর্ষণ করে। এসময় ইশতিয়াকের পেটে গুলি লাগে। তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত ৫ নভেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে ই-কর্মাস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাবেক সভাপতি ও অভিনেত্রী শমী কায়সারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৬ নভেম্বর তাকে আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

এরপর গত ৯ নভেম্বর শমী কায়সারকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠান আদালত। ১০ ডিসেম্বর শমী কায়সারকে ৩ মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এরপর ১১ ডিসেম্বর অভিনেত্রী শমী কায়সারের জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। গত ১২ ডিসেম্বর শমী কায়সারের জামিন স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে তার জামিন বিষয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে শমী কায়সারের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর জামিন স্থগিত

গত ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর থানার সিয়াম হত্যা মামলায় সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন আদালত। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে মাহবুব আলীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন। গত ১০ ডিসেম্বর সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীকে জামিন দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। এর আগে মাহবুব আলীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। তার আগে রাজধানীর মিরপুর থানার সিয়াম হত্যা মামলায় সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীকে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ সময় তাদের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী জামিন আবেদন করেন।

১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল।

মমতাজ উদ্দিন মেহেদীর জামিন স্থগিত থাকবে

সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন মেহেদীর জামিনের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তার জামিন স্থগিত থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আদালতে মেহেদীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ। এর আগে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন মেহেদীকে জামিন দেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত সপ্তাহে চেম্বার বিচারপতির আদালত তার জামিন স্থগিত করে শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন।

গত ১০ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন মেহেদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।