খুঁজুন
                               
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

চাঁদপুরের কাউসারের প্রতারণায় নিঃস্ব অনেক প্রবাসী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরের কাউসারের প্রতারণায় নিঃস্ব অনেক প্রবাসী

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০নং মডেল লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের নান্নু উকিল বাড়ির কাউসার আলমের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়ে সৌদি আরবে বহু প্রবাসী যুবক নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এমনকি ছুটিতে বাংলাদেশেও আসতে পারছেন না অনেকে। বাঙালি প্রবাসীদের সাথে তার আর্থিক প্রতারণা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব থেকে একাধিক প্রবাসী এ তথ্য জানিয়েছেন। গত বছর ২২ মে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২ নং বালিথুবা, মুলপাড়া, মাছিমপুর তপদার বাড়ির মোঃ মুনছুর ও তাছলিমা বেগমের বড় ছেলে মুছা তপদারকে ফ্রি ভিসায় সৌদি আরবে নেন তার ভগ্নিপতি কাউসার আলম। সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয় মুছা তপাদার।
ঘটনা জানতে চাইলে মুছা তপদারের মা তাছলিমা বেগম বলেন, মুছা পড়াশোনার পাশাপাশি চাঁদপুরে একটি স্থানীয় পত্রিকায় চাকরী ও একটি কম্পিউটারে দোকানে কাজ করতো। এতে সে নিজের খরচ নিজে বহন করা সহ মোটামুটি ভালোই চলছিল। হঠাৎ তার বড় বোনের জামাই কাউসার বিভিন্ন কথা বলে ৪ লক্ষ ২০ হাজান টাকায় সৌদি আরব নিয়ে ৩৮ হাজর টাকা বেতনে কম্পিউটারের ভালো কাজ ও ভিসা, আকামা এবং থাকা কোম্পানি বহন করবে বলে গত বছরে মৌখিক চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে কাউসার মুছাকে সৌদি আরব নিয়ে যান।

সেখানে পৌঁছানোর কিছুদিন পর কাজের জন্য বললে কাউসার আরেক দালালের কাছে আমার ছেলেকে ভিন্ন একটি কাজের জন্য দিয়ে দেন। মুছার সাথে কোম্পানির ও কম্পিউটারের কাজের কথা বলে থাকলেও প্রথমে (মাজরাতে) কৃষি কাজে শ্রমিক হিসেবে কাজ দেয়া হয়। তারপরে একটা সুপার মার্কেটে কাজের ব্যবস্থা করে ভুক্তভোগী মুছার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন দালাল কাউসার। কাউসার ও তার পরিবারের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে কাউসার অকথ্য ভাষায় গালাগালি সহ অনেক অপমানজনক কথাবার্তা বলেন। সুপার মার্কেটে কাফেলা না করায় এবং দালালের সাথে যোগাযোগ করা ব্যর্থ হওয়ায় আমার ছেলে সৌদি আরবে অবৈধ হিসেবে হিসাবে অবস্থান করছেন। এতে করে আমার ছেলের সাথে কাউসার প্রতারণা করেছেন এবং বর্তমানে সে দেশে অবস্থান করে বিভিন্ন মানুষদের প্ররোচনা করে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা বলতেছেন। এছাড়াও দালাল কাউসার চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নসহ উপজেলায় একাধিক ব্যক্তির সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে। এই সকল প্রতারণার তথ্য ও প্রমাণ ভুক্তভোগী একাধিক পরিবারগুলো প্রতিবেদককের কাছে জমা দিয়েছে।

কাউসার চাঁদপুর সদর উপজেলা লক্ষীপুর ইউনিয়নের বহরিয়া, শ্রিরামপুর নান্নু উকিল বাড়ির বাদশা সেকান্তর হাওলাদার এর বড় ছেলে। পেশায় কাউসার আদম ব্যবসায়ী এবং দালাল। সে বর্তমানে চাঁদপুর শহরে চেয়্যারঘাট উত্তর জিটি রোডে আখন্দ বাড়ি সংলগ্ন বসবাস করছেন। কাউসার আলমের প্রতারণা থেকে বাঁচতে এবং সকলে পাওনা টাকা ফেরৎ পেতে বাংলাদেশী দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রবাসীরা। তার গ্রামের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে বাড়িতে থাকতেও মানুষের সাথে প্রতারণা করে বেড়াতো। প্রবাসে গিয়েও সে কাজ না করে প্রতারণা করে দিন পার করছে। তার প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে খেটে খাওয়া প্রবাসী যুবকরা।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।