খুঁজুন
                               
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

চাঁদপুরের কাউসারের প্রতারণায় নিঃস্ব অনেক প্রবাসী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরের কাউসারের প্রতারণায় নিঃস্ব অনেক প্রবাসী

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০নং মডেল লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের নান্নু উকিল বাড়ির কাউসার আলমের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়ে সৌদি আরবে বহু প্রবাসী যুবক নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এমনকি ছুটিতে বাংলাদেশেও আসতে পারছেন না অনেকে। বাঙালি প্রবাসীদের সাথে তার আর্থিক প্রতারণা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব থেকে একাধিক প্রবাসী এ তথ্য জানিয়েছেন। গত বছর ২২ মে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২ নং বালিথুবা, মুলপাড়া, মাছিমপুর তপদার বাড়ির মোঃ মুনছুর ও তাছলিমা বেগমের বড় ছেলে মুছা তপদারকে ফ্রি ভিসায় সৌদি আরবে নেন তার ভগ্নিপতি কাউসার আলম। সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয় মুছা তপাদার।
ঘটনা জানতে চাইলে মুছা তপদারের মা তাছলিমা বেগম বলেন, মুছা পড়াশোনার পাশাপাশি চাঁদপুরে একটি স্থানীয় পত্রিকায় চাকরী ও একটি কম্পিউটারে দোকানে কাজ করতো। এতে সে নিজের খরচ নিজে বহন করা সহ মোটামুটি ভালোই চলছিল। হঠাৎ তার বড় বোনের জামাই কাউসার বিভিন্ন কথা বলে ৪ লক্ষ ২০ হাজান টাকায় সৌদি আরব নিয়ে ৩৮ হাজর টাকা বেতনে কম্পিউটারের ভালো কাজ ও ভিসা, আকামা এবং থাকা কোম্পানি বহন করবে বলে গত বছরে মৌখিক চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে কাউসার মুছাকে সৌদি আরব নিয়ে যান।

সেখানে পৌঁছানোর কিছুদিন পর কাজের জন্য বললে কাউসার আরেক দালালের কাছে আমার ছেলেকে ভিন্ন একটি কাজের জন্য দিয়ে দেন। মুছার সাথে কোম্পানির ও কম্পিউটারের কাজের কথা বলে থাকলেও প্রথমে (মাজরাতে) কৃষি কাজে শ্রমিক হিসেবে কাজ দেয়া হয়। তারপরে একটা সুপার মার্কেটে কাজের ব্যবস্থা করে ভুক্তভোগী মুছার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন দালাল কাউসার। কাউসার ও তার পরিবারের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে কাউসার অকথ্য ভাষায় গালাগালি সহ অনেক অপমানজনক কথাবার্তা বলেন। সুপার মার্কেটে কাফেলা না করায় এবং দালালের সাথে যোগাযোগ করা ব্যর্থ হওয়ায় আমার ছেলে সৌদি আরবে অবৈধ হিসেবে হিসাবে অবস্থান করছেন। এতে করে আমার ছেলের সাথে কাউসার প্রতারণা করেছেন এবং বর্তমানে সে দেশে অবস্থান করে বিভিন্ন মানুষদের প্ররোচনা করে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা বলতেছেন। এছাড়াও দালাল কাউসার চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নসহ উপজেলায় একাধিক ব্যক্তির সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে। এই সকল প্রতারণার তথ্য ও প্রমাণ ভুক্তভোগী একাধিক পরিবারগুলো প্রতিবেদককের কাছে জমা দিয়েছে।

কাউসার চাঁদপুর সদর উপজেলা লক্ষীপুর ইউনিয়নের বহরিয়া, শ্রিরামপুর নান্নু উকিল বাড়ির বাদশা সেকান্তর হাওলাদার এর বড় ছেলে। পেশায় কাউসার আদম ব্যবসায়ী এবং দালাল। সে বর্তমানে চাঁদপুর শহরে চেয়্যারঘাট উত্তর জিটি রোডে আখন্দ বাড়ি সংলগ্ন বসবাস করছেন। কাউসার আলমের প্রতারণা থেকে বাঁচতে এবং সকলে পাওনা টাকা ফেরৎ পেতে বাংলাদেশী দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রবাসীরা। তার গ্রামের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে বাড়িতে থাকতেও মানুষের সাথে প্রতারণা করে বেড়াতো। প্রবাসে গিয়েও সে কাজ না করে প্রতারণা করে দিন পার করছে। তার প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে খেটে খাওয়া প্রবাসী যুবকরা।

চাঁদপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

একদিনের সফরে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শবিবার (১৬ মে) সকালে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে চাঁদপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সফরসূচি অনুযায়ী, চাঁদপুরে যাওয়ার পথে বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত পথ সভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন।
এরপর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন বিশ্ব খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং তা উদ্বোধন করবেন। দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার মধ্য দিয়ে এ সফর শেষ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সর্বশেষ ২০১২ সালে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চাঁদপুর সফর করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর দলের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান এ জেলা সফর করলেন।

হামে আক্রান্ত শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
হামে আক্রান্ত শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের টিকা নিয়ে কোথায় কী ভুল হয়েছে তা খুঁজে বের করার আগে মানুষের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন মূল অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পোলিও ভ্যাকসিন গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, হামের টিকা নিয়ে কে দোষ করেছে সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা এটাই চেষ্টা করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিকাদান ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল বা অব্যবস্থাপনা হয়ে থাকলে তা নিয়ে তদন্ত করার বিষয়টি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। এই সংকট মোকাবিলার পর সরকার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো হলেও, সরকার এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বেশিরভাগ জেলাতেই টিকাদান শেষ হয়েছে। বাকি শিশুদেরকেও টিকার আওতায় আনা হবে। এছাড়া, আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, আজকে চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক চায়না সরকারের এনড্রোসমেন্টসহ ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল, যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজের সমপরিমাণ ভ্যাকসিন হাতে পেয়েছি। আমাদের হাতেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন রয়েছে। আমরা পোলিও ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করব। এটাতে কোনো অসুবিধা হবে না। মন্ত্রী বলেন, আমরা অ্যান্টির‌্যাবিস টিকাও দেওয়া শুরু করছি। একটা রোগীও এই ভ্যাকসিনের বাইরে থাকবে না। প্রতিটা ভ্যাকসিন এখন চলছে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল একটু শর্ট আছে। জুন নাগাদ আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ পেয়ে যাব। পূর্ব নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমরা বছরে দুইবার ভিটামিন-এ দেব। এই সেক্টরে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না। অনুষ্ঠানে সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা এবং ইপিআই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকারকে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে দিয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন।

২৭তম বিসিএস থেকে নিয়োগ পেলেন আরও ৯৬ জন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
২৭তম বিসিএস থেকে নিয়োগ পেলেন আরও ৯৬ জন

দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও অপেক্ষার পর ২৭তম বিসিএসের আরও ৯৬ নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (১৩ মে) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের ভিত্তিতে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৮ মে’র মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত দপ্তরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই তারিখের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অন্য কোনো নির্দেশনা না এলে ১৮ মে থেকেই তাদের যোগদান কার্যকর হবে। নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে তা চাকরিতে অনাগ্রহ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং নিয়োগ আদেশ বাতিল হয়ে যাবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা রক্ষার জন্য তাদের নিয়োগ কার্যকর ধরা হবে ওই ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে। অর্থাৎ, ধারণাগতভাবে তারা ব্যাচের অন্য কর্মকর্তাদের সমপর্যায়ের জ্যেষ্ঠতা পাবেন। তবে এই সুবিধার বিপরীতে কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা বা বেতন-ভাতা প্রদান করা হবে না। ২৭তম বিসিএসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জটিলতা চলছিল। প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হলেও ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সেই ফল বাতিল করে পুনরায় মৌখিক পরীক্ষা নেয়।
পরে প্রথম ভাইভার ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০০৮ সালে হাইকোর্ট ফল বাতিলকে বৈধ ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে আপিল বিভাগে বিষয়টি গড়ায়। অবশেষে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ ১ হাজার ১৩৭ জন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীকে চাকরিতে নিয়োগের নির্দেশ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ৬৭৩ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এবার আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়ার নতুন অগ্রগতি হলো।