খুঁজুন
                               
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

সাতক্ষীরায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতি ৭০০ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৩:০০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতি ৭০০ কোটি টাকা

টানা বৃষ্টি ও বেতনা নদীর রিং বাঁধ ভেঙে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় মৎস্য ও কৃষি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মাছচাষি ও কৃষকেরা।

কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা আছে এসব খাতে। টানা বর্ষণে ভেসে গেছে বহু মাছের ঘের, পুকুর ও কৃষকের ফসল। একই সঙ্গে ভেসে গেছে ছয় হাজার মৎস্যঘের ও দেড় হাজার পুকুর।

ফলে মৎস্য ও কৃষি খাতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর।

জানা গেছে, তিনদিনের ভারী বর্ষণের কারণে সদর উপজেলার বিনেরপোতা এলাকার শ্মশানঘাটের পাশের বেতনা নদীর পাউবোর রিং বাঁধ গত রোববার সন্ধ্যায় ভেঙে গিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকতে থাকে। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ সংস্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে। বাঁধ ভেঙে কমপক্ষে ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের পুরারবাজার এলাকার সমির উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে আমাদের এলাকায় মাছের ঘের ও বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। বাঁধ ভাঙার কারণে বেশি অসুবিধা হচ্ছে। আমি ব্যক্তিগত ৩১০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করেছিলাম, সেই মাছ ভেসে গেছে। আড়াই কোটি থেকে তিন কোটি টাকা বিক্রি হতো কিন্তু এখন ঘেরে কিছুই নেই। এলাকার আরও অনেক ঘের তলিয়ে গেছে। বাড়িতেও পানি উঠেছে। সে কারণে এলাকায় থাকা ও খাওয়ার বেশ সমস্যা হচ্ছে।

একই এলাকার মো. জাবির আলী বলেন, আমার প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। আগে একবার বাঁধ বাধা হয়েছিল। কিন্তু আবারও তা ভেঙে যায়। ১০ দিনেও সেই বাঁধ বাধা সম্ভব হয়নি।

সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বলেন, আমার ১২০ বিঘা জমির ওপর তিনটি ঘের রয়েছে। সেখানে চাষ করা হয়েছিল সাদামাছ। বৃষ্টিতে সবগুলো ঘের তলিয়ে গেছে। সবমিলিয়ে আমার প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার আগরদাড়ি ইউনিয়নের কৃষক মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, আমি আট বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছিলাম। এর মধ্যে ছয় বিঘা পানিতে তলিয়ে গেছে। আমার প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছিল। বৃষ্টির পানি বেড়ে পুরো খেত তলিয়ে গেছে। ধান গাছগুলো পানির নিচে থাকায় পচে গেছে। এভাবে বৃষ্টি হতে থাকলে গাছগুলো সব মারা যাবে।

সাতক্ষীরা জেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে অতিবৃষ্টির কারণে জেলার শ্যামনগর উপজেলা ও সাতক্ষীরা সদরের বেতনা নদীর একটি অংশের বাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে আশপাশের ঘেরগুলো পানির সঙ্গে মিশে গেছে।

তিনি বলেন, আমাদের মোট পাঁচ হাজার ২৩০ হেক্টর ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে অধিকাংশ মাছ। ফলে মৎস্যচাষিদের ৬০০ কোটি টাকার অধিক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে চার কোটি টাকার অধিক। এখন কৃষক ও মৎস্যচাষিদের রক্ষা করতে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে কিংবা তাদের প্রণোদনা দেওয়া হলে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পাঁচ হাজার ৪৫২ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৯ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, চলতি আমন মৌসুমে মাঠের শাকসবজিসহ ৯৮ হাজার ৭৮৩ হেক্টর জমিতে ধান লাগানো হয়। এর মধ্যে হঠাৎ অতিরিক্ত বৃষ্টিতে পাঁচ হাজার ৪৫২ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। ১৪৯ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বাজার মূল্য নয় কোটি টাকার ঊর্ধ্বে।

তিনি বলেন, এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসিত করা। আবারও তাদের শাকসবজি ও আগাম খাদ্যশস্য আবাদের ব্যবস্থা করা। আশা করছি, আমরা আমাদের খাদ্যশস্য উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারব। যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।