খুঁজুন
                               
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

চাঁদপুরে বহুমুখী পাটজাত পণ্যের তৈরি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ২:১৮ অপরাহ্ণ
চাঁদপুরে বহুমুখী পাটজাত পণ্যের তৈরি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী

এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চাঁদপুরে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের চাঁদপুর মহিলা সংসদ মিনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন (এসএমই) আয়োজনে এবং চাঁদপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহযোগিতায় এইকর্মশালায় অংশ নেওয়া ৩০ জন নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী।‌ চাঁদপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মনিরা আক্তারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, দৈনিক যুগান্তরের সিটি এডিটর সাংবাদিক মিজান মালিক, জেলা মহিলা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসিমা আক্তার, চাঁদপুর মহিলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও উইমেন চেম্বারের পরিচালক বেবী আকন্দ, বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষক কাজী আশরাফুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী বলেন, পাট শিল্প বাংলাদেশের সোনালী আঁশ বলে গোটা পৃথিবীতে খ্যাত ছিল। এই শিল্পকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে বৃহৎ আকারে দুটি পাটকল স্থাপন করা হয়। ওই সময়ে চাঁদপুরের পাট শিল্পের সুনাম গোটা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। কালের পরিক্রমায় বাংলাদেশের পাটশিল্প অনেকটাই বিলুপ্তের পথে। চাঁদপুরের দুটি পাটকলও খুঁড়েয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। তবে গেল কয়েক বছর পাট শিল্প কিছুটা জৌলুস ফিরে পেয়েছে। সরকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পলিথিন নিষিদ্ধ করেছে। এতে করে পাট শিল্পের বিপুল সম্ভাবনার দার উন্মোচিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং চাঁদপুর উইমেন চেম্বার এর আয়োজনে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে বহুমুখী পাটজাত পণ্য তৈরী বিষয়ক পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে। এটি একটি সময়ুপোযোগী সিদ্ধান্ত। আমরা এই প্রশিক্ষণের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং অংশ নেয়া প্রশিক্ষণার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানাই। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের চাঁদপুরে নারী উদ্যোক্তারা অনেক বেশি উপকৃত হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক মিজান মালিক বলেন, নারী উদোক্তাদের এগিয়ে নিতে এ ধরণের প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এখন প্রয়োজন প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেওয়া নারী উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করা। তাদের তৈরি পাটজাত পণ্য বিক্রয়, বিপণন এবং প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা। এ বিষয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারী উদোক্তাদের এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে আমরা উইমেন চেম্বার পাশে আছি।

এ বিষয়ে চাঁদপুর উইমেন চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি মনিরা আক্তার বলেন, চাঁদপুরে অসংখ্য মেধাবী নারী আছে যারা নিজের অঙনে থেকেও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তাদের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত প্রশিক্ষণ। আমরা উইমেন চেম্বারের পক্ষ থেকে সে সব নারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাঁদের যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে চাই। আমরা চাই নারীরা তাদের যোগ্যতা নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াক। আমরা আগামীতে এ ধরনের আরো প্রশিক্ষণ দিব এবং উদোক্তাদের বানানো পণ্য বাজারজাত করার জন্য চেম্বারের পক্ষ থেকে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা চাঁদপুরে শক্তিশালী পাঁচশত উদোক্তা তৈরি করতে চাই। যাদের পণ্য জাতিয় পর্যায় থেকে বিশ্ববাজারে যাবে। দেশ বিদেশ থেকে ক্রতা আসবে পণ্য অর্ডার করতে। তিনি আরো জানান, দেশে বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে‌। যার অংশ হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশব্যাপী নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। উদ্যোক্তাদেরও এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

চাঁদপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য তানিয়া ইসলাম এবং রাখি মনি সিনহার যৌথ পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেওয়া নারী উদ্যোক্তা সুমাইয়া নাজমীন, ফাহিমা মাহজাবীন, উম্মে কুলসুম, তুষমি, সাদিয়া, মালিহা ইসলাম, অর্পিতা মজুমদার।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।