খুঁজুন
                               
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

সীতাকুণ্ডে একই স্থানে মসজিদ-মন্দির ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল নিদের্শন

মো. রমিজ আলী, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
সীতাকুণ্ডে একই স্থানে মসজিদ-মন্দির ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল নিদের্শন

সীতাকুণ্ডে দেখা যায় ধর্মীয় সম্প্রীতির এমন উজ্জ্বল নিদর্শন। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের, টেলিয়াল ৫নং ওর্য়াড ফেদাই নগর এলাকায় শত বছরের পুরোনো কাশেম আলী চৌধুরী জামে মসজিদ ও শীতলাদেবী মন্দির।

একই স্থানে মসজিদ ও মন্দির। মিলেমিশে চলছে দুই সম্প্রদায়ের ইবাদত ও উপাসনা। সময় মতো হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের আজান, নামাজ, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব। আর সময় করে পালন করা হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা-অর্চনা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব। এক পাশে ধুপকাটি সুভাষ আর অন্য পাশে আতরের সুভাষ। একপাশে চলছে উলুকধ্বনি আর এক পাশে চলছে জিকির। এভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে শত বছর ধরে এই পৃথক দুইটি ধর্মীয় মসজিদ ও মন্দিরে। মসজিদ আর মন্দির রয়েছে এখই স্থানে। এই দুই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাঝখানে রয়েছে একটি দেয়াল। দেয়াল থাকলেও দুই এই ধর্মের মানুষের অন্তরে দেয়াল তৈরি করতে পারেনি। সেখানে মুসলিম ও হিন্দু এই দুই ধর্মের অনুসারীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান। এই দুই ধর্মের মানুষজনই তাদের নিজ নিজ ধর্ম-কর্ম পালন করে আসছে নির্বিঘ্নে।তাদের দুই ধর্মের লোকদের কেউ বাধা দেয় না, যতটুকু সম্ভব একজন আরেকজনকে সাহায্য করেন। প্রায় শত বছর ধরে এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ মানবিক নজির স্থাপন করেছেন চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার টেরিয়ার এলাকার ফেদার নগর বাসিন্দারা। প্রায় শত বছরের অধিক সময় ধরে একে অপরের গা ঘেঁসে দাড়িয়ে আছে ফেদার নগরের কাশেম আলী চৌধুরী জামে মসজিদ আর শীতলাদেবী মন্দির,যা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদের্শন।

শুধু কি তাই, হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের শিক্ষা দিচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবেই দুই ধর্মের মানুষ যেখানে যার যার ধর্ম-কর্ম পালন করে আসছেন। এলাকার বাসির কাছে জানা যায়,প্রায় ১০০ বছর আগে সেখানে মন্দির স্থাপন করা হয়।স্বাধীনতার পর থেকে অনেক বার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উসকানির ঘটনা ঘটলেও তার প্রভাব এ গ্রামে পড়েনি। দুই ধর্মের প্রতিষ্ঠান প্রায় ২৫ গজের ব্যবধানে সহাবস্থানে রয়েছে। প্রথমে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো দেয়ার ছিলো না। তবে বর্তমানে একটি দেয়াল উঠেছে। এ দীর্ঘ সময় ধরে দুই ধর্মের মানুষ কাছাকাছি অবস্থানে তাদের ধর্ম-কর্ম পালন করে আসছে।তাদের দুই ধর্মের মধ্যে কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা ঘটেনি।

কাশেম আলী চৌধুরী জামে মসজিদের ইমাম মো. নুরুল হোসাইন রাশেদ বলেন, এটা আমাদের জন্য একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পারে। পারস্পরিক সহযোগিতায় ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।