খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

সাংবাদিকতায় কম্পোজিট স্টোরি : একটি সমন্বিত প্রতিবেদন

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকতায় কম্পোজিট স্টোরি : একটি সমন্বিত প্রতিবেদন

সাংবাদিকতা হলো সমাজের চিত্র তুলে ধরা এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে পাঠকের সামনে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র উপস্থাপন করা। কম্পোজিট স্টোরি সাংবাদিকতার এমন একটি ধরণ, যা জটিল বা বহুস্তরীয় বিষয়ের গভীর বিশ্লেষণ করতে এবং বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে ব্যবহৃত হয়। এটি একাধিক সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং একত্রিত করে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর আলোকপাত করে।

এ প্রতিবেদনে আমরা কম্পোজিট স্টোরির কার্যকারিতা, প্রক্রিয়া, উপাদান এবং এর গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা করব।

কম্পোজিট স্টোরি কী?

সাংবাদিকতায় কম্পোজিট স্টোরি এমন একটি প্রতিবেদন, যেখানে একটি বিষয়কে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্লেষণ করে একটি সুসংগঠিত ও সমন্বিত চিত্র তৈরি করা হয়। এটি একাধিক উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষাৎকার, প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ, শহরের পানি সংকট নিয়ে একটি কম্পোজিট স্টোরিতে থাকতে পারে :

1. পানির অভাবের কারণ।

2. সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা।

3. বিশেষজ্ঞদের মতামত।

4. সরকারের কার্যক্রম ও নীতিমালা।

5. পানির সংকটের ভবিষ্যৎ প্রভাব।

কম্পোজিট স্টোরি তৈরির প্রক্রিয়া : কম্পোজিট স্টোরি তৈরির সময় একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করা হয়। এর প্রক্রিয়াগুলো হলো:

১. বিষয় নির্বাচন : প্রথম ধাপে এমন একটি বিষয় নির্বাচন করতে হয়, যা বহুমুখী এবং জটিল। বিষয়টি অবশ্যই পাঠকের কাছে প্রাসঙ্গিক হতে হবে।

২. উৎস ও তথ্য সংগ্রহ : তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করা হয়। যেমন:

সাক্ষাৎকার: প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের (বিশেষজ্ঞ, ভুক্তভোগী, নীতিনির্ধারক) সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা।

পরিসংখ্যান: সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার ডেটা বিশ্লেষণ।

নথি ও প্রতিবেদন: পূর্বের গবেষণা বা প্রতিবেদন পর্যালোচনা।

৩. দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ:

একই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা বিশ্লেষণ করা। উদাহরণস্বরূপ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে কৃষক, বিজ্ঞানী এবং পরিবেশবাদীদের মতামত ভিন্ন হতে পারে।

৪. তথ্যের সংহতকরণ:

প্রাপ্ত তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে একটি সুসংগঠিত কাঠামো তৈরি করা হয়।

৫. স্টোরির কাঠামো নির্ধারণ:

কম্পোজিট স্টোরির ক্ষেত্রে সাধারণত নিম্নলিখিত কাঠামো অনুসরণ করা হয় :

ভূমিকা বা প্রারম্ভিকা।

সমস্যার বিশ্লেষণ।

বিভিন্ন পক্ষের মতামত।

সমাধানের দিকনির্দেশনা।

উপসংহার

কম্পোজিট স্টোরির উপাদান :একটি কার্যকরী কম্পোজিট স্টোরি তৈরির জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রয়োজন। সেগুলো হলো:

১. প্রাসঙ্গিকতা :পাঠকের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় নির্বাচন করা।

২. বিশ্বাসযোগ্যতা:

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে তা সংগ্রহ করা।

৩. ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপন:

স্টোরিতে কোনো পক্ষপাতিত্ব না করে বিভিন্ন দিক সমানভাবে তুলে ধরা।

৪. গভীর বিশ্লেষণ:

বিষয়টির গভীরে গিয়ে এর কারণ, প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা।

৫. পাঠকের আকর্ষণ ধরে রাখা:

গল্প বলার কৌশল এবং সহজ ভাষার ব্যবহার।

একটি উদাহরণ: শহরের বায়ু দূষণ নিয়ে কম্পোজিট স্টোরি

বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শহুরে এলাকাগুলোতে এর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরে বায়ু দূষণ জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

বায়ু দূষণের কারণ:

যানবাহনের কালো ধোঁয়া।

শিল্প কারখানার বর্জ্য।

নির্মাণ কাজের ধুলো।

উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পোড়ানো।

ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা:

রিকশাচালক আব্দুল মালেক বললেন, “দিনশেষে আমার মাথা ব্যথা শুরু হয়, আর নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।”

স্থানীয় এক গৃহবধূ জানালেন, “আমার বাচ্চারা প্রায়ই সর্দি-কাশিতে ভোগে।”

বিশেষজ্ঞদের মতামত:

পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. রফিকুল ইসলাম বললেন, “শহরের বায়ু দূষণ শ্বাসযন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ এবং এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।”

সরকারি উদ্যোগ:

সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন:

নির্গমন নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা প্রণয়ন।

পুরোনো যানবাহন অপসারণ।
তবে এগুলো যথেষ্ট নয়।

সমাধানের উপায়:

যানবাহনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ।

নির্মাণ কাজের ধুলো কমানোর ব্যবস্থা।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

বায়ু দূষণ একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। এটি সমাধানের জন্য সরকার, সাধারণ জনগণ এবং পরিবেশবাদীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কম্পোজিট স্টোরির গুরুত্ব:

১. গভীরতা প্রদান:

এটি একটি বিষয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পাঠককে বিষয়টি বুঝতে সাহায্য করে।

২. ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপন:

স্টোরি সব পক্ষের মতামতকে সমান গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে।

৩. সচেতনতা সৃষ্টি:

এটি পাঠকদের সচেতন করতে এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সাহায্য করে।

৪. সমাধান প্রস্তাব করা:

কম্পোজিট স্টোরি সমস্যার সমাধানে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করতে পারে।

কম্পোজিট স্টোরি সাংবাদিকতার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এটি পাঠকদের কাছে তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের চিন্তাভাবনা এবং দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়তা করে। বর্তমান সময়ের জটিল সামাজিক, রাজনৈতিক এবং পরিবেশগত সমস্যাগুলো বিশ্লেষণের জন্য এই পদ্ধতিটি অপরিহার্য।

এই ধরণের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সাংবাদিকরা শুধু তথ্য পরিবেশন করেন না, বরং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন।

লেখক : উজ্জ্বল হোসাইন, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ব্যাচ ২০২১, প্রেস ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

কুড়িগ্রামে শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। গত কয়েক দিন থেকে আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও নেই উত্তাপ।হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সোমবার (১২জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এদিকে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার সঙ্গে উত্তরীয় হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। হাসপাতালে আসা চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকার খলিল মিয়া বলেন, আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডায়েরি তাই ভর্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার হোটেল শ্রমিক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল বেলা ঠান্ডা ও শীতে বাড়িত থাকি বের হওয়া যায় না। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ মানুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ চলমান রয়েছে। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, সোমবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই জারি করা হয়েছে এ সতর্কতা। ইসরায়েলের সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে বৈঠক হয়েছে। মূলত ইরান পরিস্থিতিই ছিল সেই ফোনালাপের একমাত্র বিষয়বস্তু। তবে সরকারি সূত্রের বরাতে নেতানিয়াহু-রুবিওর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগের দিন শুক্রবার মার্কিন দৈনিক দ্য ইকোনমিস্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে ইরান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমার মনে হয় কোনো ধারণাগত মন্তব্য না করে আমাদের উচিত হবে ইরানে কী ঘটছে, তা দেখা। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।
তবে ইরানের চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুন মাসে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল ও ইরান। টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল সেবার।

লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৫টায় রায়পুর শহরের প্রধান সড়কে তিনটি ও সদরের দক্ষিণ বাজারের গোডাউন এলাকায় ৪টি অভিযানে সাতটি মামলায় মোট দশ ডিলারকে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পৃথক এই অভিযান পরিচালনা করেন রায়পুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও নিরুপম মজুমদার। ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্যে সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, ‘টিভিতে দামের ঘোষণা শুনি, কিন্তু দোকানে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না।’ ক্রেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে হলেও সহজে গ্যাস পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন।’ খুশবু আক্তার বলেন, ‘তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য করছে।’
পরিবেশক মোহাম্মদ কাজল ও ফাহিম বলেন, ‘গোডাউনে চাহিদার চেয়ে মাল কম। কোম্পানি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক।’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামসুল বলেন, ‘অতিরিক্ত দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে।’ রায়পুর উপজেলা পরিষদের সামনে পিঠা বিক্রেতা আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দৈনিক দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কঠিন হয়ে গেছে।’
ওমেরা ও যমুনা এলপিজির পরিবেশক বেলাল হোসেন বলেন, ‘ওমেরা ও যমুনা কোম্পানির কোনও সংকট নেই। পাইকারি দামে ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দামের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর শহরের ৭ জনকে ৪২ হাজার ও রায়পুর শহরের ৩ জন ব্যাবসায়ীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে সিন্ডিকেট ভাঙ্গা কঠিন হবে।’
রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লুধুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এলপিজি বাজারের অনিয়ম উদ্বেগজনক। সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান, কঠোর শাস্তি ও ভোক্তাদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। না হলে নির্ধারিত দাম কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।’
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাছান বলেন, লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে এলপিজি-এর সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে সদরে ৭টি মামলায় ৪২ হাজার টাকা এবং রায়পুরে তিন মামলায় ১১ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রুখতে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।