খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে নাগরিক ও আমজনতা

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে নাগরিক ও আমজনতা

সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে মানুষের ভূমিকা চিরকালই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ সমাজে দুই ধরনের পরিচয়ে নিজেদের উপস্থাপন করে—নাগরিক এবং আমজনতা। এ দুটো পরিচয়ের মধ্যে রয়েছে দায়িত্ব, অধিকার, ভূমিকা ও মনোভাবের ভিন্নতা। নাগরিক একটি রাজনৈতিক পরিচয় বহন করে এবং রাষ্ট্রের অধিকারভুক্ত সদস্য হিসেবে চিহ্নিত হয়। অন্যদিকে, আমজনতা বলতে সাধারণ জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়, যারা সচেতন বা অসচেতনভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে জীবন যাপন করে। এ প্রবন্ধে নাগরিক ও আমজনতার সংজ্ঞা, তাদের ভূমিকা, পার্থক্য এবং পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হবে।

নাগরিকের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য

নাগরিক বলতে সাধারণত একটি রাষ্ট্র বা দেশের অধিবাসীকে বোঝানো হয়, যে ব্যক্তি আইনত সেই রাষ্ট্রের সদস্য এবং নাগরিক অধিকার ভোগ করে। নাগরিকের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো : নাগরিক আইনগতভাবে রাষ্ট্রের স্বীকৃত সদস্য। অধিকার ও কর্তব্য: নাগরিকের কিছু মৌলিক অধিকার রয়েছে যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, এবং বাকস্বাধীনতা। পাশাপাশি নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে যেমন কর প্রদান, আইন মেনে চলা, এবং ভোট প্রদান। নাগরিক সাধারণত রাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন। একজন নাগরিক সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

আমজনতা বলতে বোঝানো হয় সাধারণ জনগণ বা জনসাধারণ, যারা প্রতিদিনের জীবনে রাষ্ট্র ও সমাজের অংশ হিসেবে থাকে কিন্তু প্রায়শই রাজনৈতিক সচেতনতা বা সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকে দূরে থাকে।

আমজনতার বৈশিষ্ট্যগুলো হলো : আমজনতা কোনো বিশেষ আইনগত পরিচয়ের চেয়ে বৃহৎ জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।অনেক সময় তারা তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নয়। অনেক সময় রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ সীমিত থাকে। আমজনতা প্রায়ই ভোগবাদী চিন্তাভাবনার দিকে ঝুঁকে থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোতেই বেশি আগ্রহী। নাগরিক ও আমজনতার মধ্যে বিভিন্ন দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করা হলো– সচেতন এবং তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত। অনেক সময় নিজেদের দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে অসচেতন। ভোট প্রদান, রাজনৈতিক আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে। ভোট প্রদান করলেও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে উদাসীন থাকতে পারে। অধিকার ও সুবিধা ভোগের ধরণ। অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং তা দাবি করে। অধিকারের ব্যবহার সম্পর্কে অজ্ঞ থাকায় অনেক সুবিধা ভোগ করতে পারে না। সামাজিক পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।প্রায়শই সমাজের পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয়। নাগরিকত্ব শুধুমাত্র একটি আইনি ধারণা নয়, এটি সমাজের উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  সক্রিয় নাগরিক অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। নাগরিকদের অধিকার রক্ষার জন্য নাগরিকত্ব প্রয়োজন। নাগরিক সচেতন হলে সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সহজ হয়। যদিও আমজনতা অনেক সময় রাষ্ট্রের কাঠামোয় নিষ্ক্রিয় থাকে, তাদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। আমজনতার মতামত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হলো আমজনতা।সমাজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে রাখে।

নাগরিকত্ব ও আমজনতার মধ্যে সম্পর্ক : নাগরিক ও আমজনতার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। নাগরিক এবং আমজনতা উভয়েই সমাজ গঠনে ভূমিকা পালন করে।সচেতনতা বৃদ্ধি: নাগরিকদের সচেতনতা আমজনতাকে সচেতন হতে উৎসাহিত করে। সম্প্রীতির উন্নয়ন: উভয়ের সহযোগিতা সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ায়।

চ্যালেঞ্জসমূহ : অনেক আমজনতা তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন নয়। দায়িত্ববোধের অভাব: নাগরিকদের অনেক সময় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখা যায়। রাজনৈতিক দুর্ব্যবস্থা: রাজনৈতিক অস্থিরতা নাগরিক ও আমজনতার মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। নাগরিক ও আমজনতার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা ও প্রচার কার্যক্রম প্রয়োজন।স্কুল এবং কলেজ পর্যায়ে নাগরিকত্বের গুরুত্ব শেখানো উচিত। রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার।

নাগরিক ও আমজনতা একটি রাষ্ট্র ও সমাজের দুটি অপরিহার্য অংশ। সমাজের উন্নয়নের জন্য উভয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকের দায়িত্ব হলো সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং আমজনতার চেতনা জাগ্রত করা। অন্যদিকে, আমজনতাকে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিক ও আমজনতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে একটি সুষ্ঠু, সমৃদ্ধ এবং সম্প্রীতিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

লেখক : উজ্জ্বল হোসাইন, সংগঠক ও প্রাবন্ধিক, চাঁদপুর। মোবাইল : 01675127483, ই-মেইল : rtrujjal@gmail.com

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।