খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

নাশতায় ফলের রস কতটা উপকারী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
নাশতায় ফলের রস কতটা উপকারী

কর্মব্যস্ত জীবনে ভোরে ঘুম ভাঙার পর দিন শুরু হয় আর শেষ হয় অনেক রাতে। পেশা অনুযায়ী কেউ সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠেন এবং রাত ১০টা কিংবা ১১টা বা এরও পরে ঘুমাতে যান। মাঝের এই সময় কাজ করে সময় কাটে। এর মধ্যে সকালে ঘুম থেকে উঠার পর নাশতা খুবই জরুরি। নাশতা শরীরকে চাঙা রাখে এবং আপনাকে শক্তি সরবরাহ করে।
ব্যস্ততার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সকালের নাশতাই করা হয় না অনেকের। সময় স্বল্পতার কারণে কেউ কেউ শুধু ডিম, ব্রেড, কলা বা চা-বিস্কুট খেয়ে অফিসে ছুটেন। কেউ আবার বেছে নেন ফলের রস বা জুস, আবার কেউ বেছে নেন স্মুদি। এ নিয়েই যত বিতর্ক। সকালের ঝটপট নাশতায় ফলের জুস না স্মুদি, কোনটি ভালো তা নিয়ে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন পুষ্টিবিদ শ্রেয়সী ভৌমিক ও পুষ্টিবিদের শিক্ষিকা ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায়।
নাশতায় ফলের রস খাওয়া কি উচিত:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইরানের কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কমলালেবু বা আপেলের রস শরীরের প্রদাহ কমায়। একইসঙ্গে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা সচল রাখে। ফলের রসে ভিটামিন ও মিনারেল থাকে। এরপরও ফলের রস না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা।
এ ব্যাপারে পুষ্টিবিদ শ্রেয়সী বলেন, সকালের নাশতায় কোনোভাবেই ফলের রস খাওয়া ঠিক নয়। এটি স্বাস্থ্যকর নয়। আপনি যখন ফল বা সবজি থেকে রস বের করেন, তখন এতে থাকা ফাইবার নষ্ট হয়। শুধু কিছু মিনারেল ও ফ্রুক্টোজ থাকে। যা কিনা ‘ফ্রি সুগার’ও বলা যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সূত্র টেনে এ পুষ্টিবিদ জানান, দৈনিক ক্যালোরির ১০ শতাংশের কম ফ্রি সুগার খাওয়া উচিত। অন্যদিকে ১৫০ মিলি ফলের রসে প্রায় ১৪ গ্রাম চিনি থাকে। অর্থাৎ, ফলের রস খাওয়া হলে দৈনিক চাহিদার বেশি পরিমাণ ফ্রি সুগার খাওয়া হয়। আর ফলের রস দীর্ঘদিন খাওয়া হলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
এদিকে পুষ্টিবিদের শিক্ষিকা ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ ফলের রস কিনে খায়। এতে ফলের গুণ কম থাকে এবং চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। প্যাকেটজাত ফলের রস বেশি বিপজ্জনক। এর থেকে বাসা-বাড়িতে ফলের রস তৈরি করলে তুলনামূলক কিছুটা বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়। তবে এর অর্থ এমন নয় যে, বাসা-বাড়িতে তৈরি ফলের রসকে সমর্থন করা হচ্ছে। কেননা, এতে ফাইবার থাকে না এবং চিনির পরিমাণ বেশি থাকে।
পুষ্টিবিদদের মতে―সকালের নাশতা বা দিনের মধ্যাহ্নের নাশতা হিসেবে ফলের রস কখনোই ভালো নয়। এতে শরীরে সঠিক পুষ্টি পৌঁছায় না। বরং রোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। পুষ্টিবিদ শ্রেয়সীর ভাষ্য, পুরো ফল খাওয়ার মতো উপকারিতা অন্য কোনো কিছুতে নেই। আর পুষ্টিবিদ ইশানী জানিয়েছেন, চিবিয়ে খাবার খেতে বা গিলতে যদি কষ্ট হয়, তবেই কেবল ফলের রস খেতে পারেন। সেটিও নিয়মিত নয়।
ফলের রসের থেকে স্মুদি কতটা উপকারী:
স্মুদি তৈরিতে দুধ, দই, রকমারি বাদাম, বীজ, ফল ও ওটসের মতো গোটা শস্য ব্যবহার করা হয়। কেউ কেউ আবার শাকসবজিও রাখেন। এ ব্যাপারে পুষ্টিবিদ শ্রেয়সী জানিয়েছেন, ফলের তুলনায় স্মুদি অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। কেননা, এতে ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল সবই রয়েছে। দিনের শুরুতে বরং এক গ্লাস স্মুদি খাওয়া যেতে পারে।
এছাড়া পুষ্টিবিদ ঈশানী বলেন, আমন্ড, টক দই ও ওটসের মতো খাবার পুষ্টিতে ভরপুর। সকালে এক গ্লাস স্মুদি আর একটি সেদ্ধ ডিম খাওয়া হলে পেট ভরে যাবে। আবার স্মুদিদে ফলও থাকে। তাই স্মুদি খাওয়াই ভালো। এতে ফলের উপকারও মিলবে। কেউ কেউ আবার স্মুদিদে আদা ও কাঁচা হলুদের মতো উপাদানও মিশিয়ে থাকেন। যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। এ জন্য সকালের নাশতায় ফলের রসের থেকে স্মুদি বেশি স্বাস্থ্যকর।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।