খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

ডাকাতিয়া নদীর তীরজুড়ে রমরমা বালু ব্যবসা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
ডাকাতিয়া নদীর তীরজুড়ে রমরমা বালু ব্যবসা

ডাকাতিয়া নদীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বালু ব্যবসার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাতে নদী ভাঙ্গনসহ কৃষি জমির ফসল উৎপাদনে ধস নামছে। এতে কৃষকরা কৃষি কাজে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বিশেষ করে হাজীগঞ্জের বুক চিরে চলে যাওয়া ডাকাতিয়ার বিভিন্ন স্থানে এমনটি হচ্ছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন। দিনের পর দিন বালু ব্যবসার কারণে ড্রেজিংকৃত নদীর নাব্যতাও হারাচ্ছে বলে জানান নদীপাড়ের কৃষকরা।
হাজীগঞ্জে আলীগঞ্জের নদীর পূর্বপাড়ে বালু মহালের কারণে বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলী মাঠ ভেঙ্গে নদীতে চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় ভিটে-মাটিহীন হয়ে পড়ছে নদী তীরবর্তী মানুষজন। ধেররা কোকাকোলা ঘাট সংলগ্ন এলাকা, বলাখাল নাটেহরা সেতুর গোড়া, সদর উপজেলার কামরাঙ্গা, ছোটসুন্দর এলাকাতে নদীর পাড়কেন্দ্রিক বালু মহালের কারণে মহাল সংলগ্ন পাশের কৃষি জমিগুলোতে কৃষি পণ্য উৎপাদনে ধস নেমেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এমনকি বালু উঠানোর কারণে মহাল সংলগ্ন নদীর নাব্যতা হারাচ্ছে ডাকাতিয়া।
জানা যায়, হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৯নং ওয়ার্ডের আলীগঞ্জ এলাকা এবং পাশের দক্ষিণ পাড় বড়কূল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলী গ্রাম। গত কয়েক বছর ধরে ডাকাতিয়া নদীর উত্তর পাড় আলীগঞ্জ এলাকায় বেশ কয়েকটি বালু মহাল গড়ে উঠে। বাল্কহেডে করে বালু এখান থেকে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে নেয়া হয়। উপজেলা ভূমি অফিসের পূর্ব পাশে ডাকাতিয়া নদীর পূর্বপাড়ে তিনটি ড্রেজার রয়েছে। এখানে প্রতিনিয়ত বালু আনলোড করা হয় এবং লোড ও আনলোডকৃত ১৫/২০টি ট্রলার নদীর পূর্বপাড়ে অবস্থান করে। যার বিপরীত পাশেই এন্নাতলী গ্রামের কৃষি মাঠ। এখানেই নদীতে ভাঙ্গছে কৃষিজমিগুলো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু আনলোড করার সময় বাল্কহেডগুলো ঘুরানো হয়। এতে পানিতে প্রচণ্ড ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়। এ কারণে নদীর পশ্চিম পাড় ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। বালি ট্রাকে উঠানোর সময়  বাতাসে বালি উড়ে পাশের জমিগুলোতে গিয়ে পড়ে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এমন চিত্র অন্য বালুমহালগুলোতেও।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, বাতাসে বালু উড়ে ফল ও শাক-সবজি গাছের ওপর পড়ায় বেশ কিছু কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। নদীর উত্তর পাড়ে রয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস (সহকারী কমিশনারের কার্যালয়)। পুরানো এই কার্যালয়টির ভবন এমনিতেই জরাজীর্ণ, তার ওপর প্রতিনিয়ত নদীর ভাঙ্গনে ভবনটিও হুমকির মুখে।
জানা যায়, চলতি বছর নদী ভাঙ্গনে এন্নাতলী কৃষি মাঠের একমাত্র সেচ পাম্পটিও ভেঙ্গে পড়ে। পরে কৃষকদের ক্ষোভের মুখে বালু ব্যবসায়ীরা নতুন করে সেচ পাম্পটি স্থাপন করে দিতে বাধ্য হন।
হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন এলাকায় এসব বালু মহালের ইজারা দেওয়া হয়েছে। এক বছরের (বাংলা সন ১৪৩২) জন্যে পৌর ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড এলাকার আলীগঞ্জ-এনায়েতপুর বালুঘাট ও সংযোগ বালুঘাটসমূহ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকায় সরকারি মূল্যে ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
৪ এপ্রিল ২০২৫ বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ এন্নাতলী গ্রামের কৃষকরা কামাল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর সাথে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তাকে ড্রেজার সরানোর অনুরোধ করেন তারা। তখন তিনি বলেছেন, পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন। কিন্তু গত তিন সপ্তাহ পার হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে জানান স্থানীয়রা।
ক্ষতিগ্রস্ত মো. তাজুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক জানান, এন্নাতলীর চর এক ফসলি মাঠ। এই এক ফসল দিয়েই গ্রামের অনেকের জীবন-জীবিকা। অথচ বালু ব্যবসার কারণে প্রায় এক হাজার শতাংশ জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত আছে। এতে অনেকেই জমি ও ভূমিহীন হয়েছেন, এমনকি এ জমিগুলোতে চাষাবাদ ঠিক মতো হয় না।
বালু ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, আমার জমিতে বালু মহাল স্থাপন ও ড্রেজার বসিয়ে বালু ব্যবসা করছি। তাছাড়া এখানে আমি একা না, অনেকেই ব্যবসা করছেন। কথা বললে সবার সাথে বলতে হবে এবং কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সবার মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখানে প্রায় ২০ কোটি টাকা ইনভেস্ট করে ব্যবসা করছি। বললেই তো ব্যবসা সরিয়ে নেওয়া যায় না। যদি আমি একা ব্যবসা করতাম, তাহলে আমার বালু মহাল আমি সরিয়ে নিতাম।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান বলেন, বালু মহালের ইজারা দেয়া হয়েছে। কিন্তু নদীতে ড্রেজার স্থাপন কিংবা ট্রলার রাখার বিষয়ে কোনো ইজারা বা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।