খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমীর ভোটার তালিকা প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ, ২০২৫, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমীর ভোটার তালিকা প্রকাশ

১৭ মার্চ চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দীন স্বাক্ষরিত ১২০ সদস্যের একটি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, গঠনতন্ত্র উপ-পরিষদ সদস্য, আজীবন সদস্য, নির্বাহী পরিষদের সদস্য, সাধারণ সদস্যের সমন্বিত তালিকা (খসড়া ভোটার তালিকা) সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর-এর গঠনতন্ত্র ১৪-এর ‘ক’ ধারা মোতাবেক প্রকাশ করা হলো।
তালিকায় ১৯৮৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সদস্য হওয়াদের নাম রয়েছে। ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তারা হলেন।
১. জনাব এস এম শামসুল আলম, চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা, প্রথম সভাপতি ও আজীবন সদস্য
২. জনাব কাজী শাহাদাত, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, আজীবন সদস্য, সাবেক প্রধান সম্পাদক ও মহাপরিচালক
৩. অধ্যাপক রুহুল আমিন, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
৪. জনাব আবদুল্লাহিল কাফী, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
৫. জনাব আ ত ম আ. মতিন মোল্লা, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
৬. কাজী নজরুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
৭. অধ্যাপক ইসমাইল তপাদার, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
৮. জনাব মোহাম্মদ হোসেন খান, প্রতিষ্ঠাকালীন গঠনতন্ত্র উপ-পরিষদ সদস্য
৯. জনাব জীবন কানাই চক্রবর্তী, প্রতিষ্ঠাকালীন গঠনতন্ত্র উপ-পরিষদ সদস্য, সাবেক সহ-সভাপতি
১০. জনাব শ্যামাপদ ঘোষ ভুলু, প্রতিষ্ঠাকালীন গঠনতন্ত্র উপ-পরিষদ সদস্য
১১. জনাব এম এ মাসুদ ভূঁইয়া, প্রতিষ্ঠাকালীন গঠনতন্ত্র উপ-পরিষদ সদস্য ও সাবেক পরিচালক, নির্বাহী পরিষদ
১২. জনাব রণজিত কুমার বণিক, প্রতিষ্ঠাকালীন গঠনতন্ত্র উপ-পরিষদ সদস্য
১৩. জনাব অজয় কুমার ভৌমিক, সাবেক পরিচালক, নির্বাহী পরিষদ
১৪. জনাব মাহবুব আনোয়ার বাবলু, সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
১৫. জনাব মোরশেদা খানম বেবী, সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
১৬. জনাব জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
১৭. জনাব সুভাষ চন্দ্র রায়, সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
১৮. জনাব ফজলুল হক সরকার, সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
১৯. জনাব ইকবাল বিন বাশার, সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
২০. জনাব গোলাম কিবরিয়া জীবন, সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
২১. জনাব জালাল চৌধুরী, সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
২২. জনাব ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সাবেক পরিচালক, নির্বাহী পরিষদ
২৩. জনাব সামীম আহমেদ খান, সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
২৪. জনাব শহীদ পাটওয়ারী সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
২৫. জনাব ইফতেখারুল আলম মাসুম সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
২৬. ডা. পীযূষ কান্তি বড়ুয়া সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
২৭. জনাব এস এম জয়নাল আবেদীন সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
২৮. জনাব মির্জা জাকির সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
২৯. জনাব ম. নূরে আলম পাটওয়ারী সাবেক সদস্য, নির্বাহী পরিষদ
৩০. জনাব জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৩১. জনাব শেখ মহিউদ্দিন রাসেল, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৩২. জনাব মুহাম্মদ শেখ সাদী (সাদী শাশ^ত), সাধারণ সদস্য (২০১২)
৩৩. জনাব আশিক বিন রহিম, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৩৪. জনাব দুখাই মুহাম্মদ, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৩৫. জনাব মুহাঃ আবু বকর বিন ফারুক, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৩৬. জনাব খান মোঃ মনিরুজ্জামান উজ্জল, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৩৭. জনাব মিজানুর রহমান রানা, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৩৮. জনাব শ্যামল চন্দ্র দাস, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৩৯. জনাব লিটন ভূঁইয়া, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৪০. জনাব এ এফ এম ফতেউল বারী রাজা, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৪১. জনাব ডাঃ মোঃ আহসান উল্যাহ, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৪২. বিএম ওমর ফারুক, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৪৩. জনাব অভিজিৎ আচার্যী, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৪৪. জনাব খান-ই-আজম, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৪৫. জনাব দুলাল চন্দ্র দাস, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৪৬. জনাব জহির উদ্দিন বাবর, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৪৭. জনাব তপন সরকার, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৪৮. জনাব মোঃ হারুন অর রশীদ, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৪৯. জনাব মোঃ রফিক আহমেদ মিন্টু, সাধারণ সদস্য (২০১২)
৫০. জনাব গিয়াসউদ্দিন মিলন সাধারণ সদস্য (২০১২)
৫১. জনাব সোহেল রুশদী সাধারণ সদস্য (২০১২)
৫২. জনাব ইকবাল পারভেজ, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৫৩. জনাব শাহাদাত হোসেন শান্ত, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৫৪. জনাব জসীম মেহেদী, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৫৫. জনাব নুরুন্নাহার মুন্নি, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৫৬. জনাব সৌম্য সালেক, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৫৭. জনাব স্বপন ভঞ্জ, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৫৮. জনাব মোঃ সাইদুজ্জামান, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৫৯. জনাব শরীফ মাহমুদ চিশ্তী, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৬০. জনাব সুমন কুমার দত্ত, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৬১. জনাব আবদুল গণি, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৬২. জনাব মাইনুল ইসলাম মানিক, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৬৩. জনাব মোঃ কবির হোসেন মিজি, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৬৪. জনাব এইচ এম জাকির, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৬৫. জনাব মুক্তা পীযূষ, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৬৬. জনাব মনিরা আক্তার, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৬৭. জনাব শাহমুব জুয়েল, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৬৮. জনাব খোকন চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৬৯. জনাব জাহিদ নয়ন, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৭০. জনাব মাহমুদ হাসান খান, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৭১. জনাব সঞ্জয় দেওয়ান, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৭২. জনাব আরিফ রাসেল, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৭৩. জনাব মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৭৪. জনাব পলাশ কুমার দে, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৭৫. জনাব আবু ইউসুফ, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৭৬. মনিরুজ্জামান বাবলু, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৭৭. জনাব আরিফুল ইসলাম শান্ত, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৭৮. জনাব ফারজানা মুন্নি, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৭৯. জনাব বিথী নন্দী, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৮০. জনাব মোঃ শাহাদাত হোসেন (সৌরভ সালেকীন), সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৮১. জনাব মোঃ আরিফ বিল্লাহ, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৮২. জনাব মোঃ কামরুজ্জামান, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৮৩. জনাব শিউলি মজুমদার, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৮৪. জনাব মুহাম্মদ সালাউদ্দীন, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৮৫. জনাব আসাদুল্লাহ কাহাফ, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৮৬. জনাব কাজী সাইফ, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৮৭. জনাব উজ্জ্বল হোসাইন, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৮৮. জনাব বাঁধন চন্দ্র শীল, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৮৯. জনাব হুসাইন মিলন, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৯০. জনাব তাশফীয়া কাফী, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৯১. জনাব খোরশেদ আলম বিপ্লব, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৯২. জনাব জাহিদ হাসান, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৯৩. দেওয়ান মাসুদ রহমান, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৯৪. জনাব আশরাফুজ্জামান কাজী রাসেল, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৯৫. জনাব এম. আর. ইসলাম বাবু, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৯৬. জনাব মানিক দাস, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৯৭. জনাব আলমগীর হোসেন আঁচল, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৯৮. জনাব হাজেরা বেগম, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
৯৯. জনাব রাজিব কুমার দাস, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১০০. জনাব কাদের পলাশ, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১০১. জনাব মোঃ আউয়াল হোসেন পাটওয়ারী, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১০২. জনাব মুহাম্মদ হানিফ, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১০৩. জনাব ইমরান শাকির ইমরু, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১০৪. জনাব শাদমান শরীফ, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১০৫. জনাব মোঃ ইয়াছিন দেওয়ান, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১০৬. জনাব সাদ আল-আমিন, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১০৭. জনাব রিয়াজ বেপারী, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১০৮. জনাব ইমরান নাহিদ, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১০৯. জনাব মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১১০. জনাব মোঃ তাফাজ্জল ইসলাম, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১১১. জনাব মাইনুল তোহা, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১১২. জনাব সাদিয়া হোসেন মাধুরী, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১১৩. জনাব সুধীর বরণ মাঝি, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১১৪. জনাব সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১১৫. জনাব নূরুল ইসলাম ফরহাদ (অমৃত ফরহাদ), সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১১৬. জনাব মোহাম্মদ হাসান খান, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১১৭. জনাব আহনাফ আব্দুল কাদির, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১১৮. জনাব মোঃ আতিকুর রহমান রুবেল, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১১৯. জনাব মোঃ জিহাদ সরকার, সাধারণ সদস্য (২০২৪)
১২০. জনাব রেজাউল করিম, সাধারণ সদস্য (২০২৪)

হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হামজনিত কারণে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাকি ৮ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১১০৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ১৭৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ শিশুর মধ্যে ৬ জনই ঢাকা বিভাগের। এতে বোঝা যাচ্ছে রাজধানীতে সংক্রমণের হার ও তীব্রতা সবথেকে বেশি। গত এক মাসে মোট ১৮,২৩১ জন শিশু উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে, যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯,৩০৪ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব ক্রমান্বয়ে জটিল আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে উপসর্গ নিয়ে
শিশুদের শরীরে জ্বর ও লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা বিভাগের বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অপরিশোধিত তেলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
অপরিশোধিত তেলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ

অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। গতকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল থেকে চট্টগ্রামের এই কারখানাটিতে পরিশোধন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইআরএল কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শোধনাগারটি সচল রাখতে গত কয়েকদিন ধরে বিকল্প সব পথ অবলম্বন করা হয়েছিল:
মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা ৫ হাজার টন এবং চারটি স্টোরেজ ট্যাংকের তলানিতে থাকা ‘ডেড স্টক’ তুলেও পরিশোধন কাজ চালানো হয়। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৪,৫০০ টন তেল পরিশোধন করলেও, সংকটের কারণে গত মাস থেকে তা কমিয়ে ৩,৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। গত ৪ মার্চ থেকেই ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুদ ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসে, যা একটি শোধনাগার চালানোর জন্য একেবারেই অপর্যাপ্ত।
প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হবে কি না—এমন উদ্বেগের মুখে জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করে জানয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ইআরএল বন্ধ থাকলেও জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় বা বাজারে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত এবং বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর একটি বড় অংশই আমদানিকৃত পরিশোধিত তেল দিয়ে মেটানো হলেও, অভ্যন্তরীণভাবে তেল পরিশোধনের একমাত্র উৎসটি বন্ধ হয়ে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্ষবরণে বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের সন্ধান

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
বর্ষবরণে বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের সন্ধান

ভিন্নতা মুছে ফেলার চেষ্টা মানেই প্রকৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। এই পৃথিবীর অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য তার বৈচিত্র্যে-রঙে, রূপে, ভাষায়, বিশ্বাসে এবং চিন্তার বহুমাত্রিকতায়। মানুষে মানুষে পার্থক্যই পৃথিবীকে জীবন্ত করে তোলে, তাকে দেয় গভীরতা ও বিস্ময়ের অনন্ত সম্ভাবনা। যদি সবকিছু একরকম হয়ে যেত, তবে জীবন হয়ে উঠত নিস্তরঙ্গ, সৃষ্টিশীলতা হারিয়ে ফেলত তার আলো। বৈচিত্র্য আমাদের শুধু আলাদা করে না, বরং আমাদের শেখায় সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান এবং নতুনকে গ্রহণ করার সাহস। তাই ভিন্নতাকে মুছে ফেলার বদলে তাকে গ্রহণ ও লালন করাই মানবিকতার প্রকৃত পরিচয়।
এই ভাবনার মাঝেই আসে বাংলা নববর্ষ, নতুন সূচনার বার্তা নিয়ে। পুরোনোকে পেছনে ফেলে নতুনের আহ্বান জানায় এই উৎসব। রঙিন পহেলা বৈশাখে মানুষ যখন আনন্দে মেতে ওঠে, ঘরে ঘরে সাজে উৎসবের আবহ, তখন এই আনন্দ যেন সার্বজনীন হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সমাজের একাংশে যখন উৎসবের রং ছড়ায়, অন্য প্রান্তে তখন জমে ওঠে শোক, বেদনা আর হতাশার কালো ছায়া। যেন উৎসবের আলো কোথাও গিয়ে আটকে যায় বিভাজন, অসহিষ্ণুতা এবং সহিংসতার দেয়ালে।
সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একদল মানুষ পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। মৃত্যুর আগে বারবার নিজের কথা বলার সুযোগ চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেই মানবিক আবেদন হারিয়ে যায় উন্মত্ত জনতার চিৎকারে। এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়; এটি আমাদের সমাজে বেড়ে ওঠা অসহিষ্ণুতার এক নগ্ন প্রতিচ্ছবি।
এই ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। আমাদের সমাজে ক্রমেই একমুখী চিন্তা ও মতের প্রাধান্য বাড়ছে। বহুত্ববাদ, যা একটি সুস্থ সমাজের ভিত্তি, তা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে ভিন্নমত প্রকাশ করলেই মানুষকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে, তাকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলে না, বরং একটি জাতির গণতান্ত্রিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে।
গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো মতের ভিন্নতা এবং সেই ভিন্নতার সহাবস্থান। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি, ভিন্নমতকে ক্রমেই দমন করা হচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেবল সংবিধানের পাতায় সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে, বাস্তব জীবনে তা হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ। মানুষ নিজের মত প্রকাশে ভয় পাচ্ছে, দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। এই ভয়ের সংস্কৃতি একটি সুস্থ সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, কারণ এটি সৃষ্টিশীলতা ও উদ্ভাবনের পথ রুদ্ধ করে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্তি উদযাপনের পর এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে ওঠে-আমরা কি সেই আদর্শের পথে আছি, যার জন্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল? ১৯৭১ সালের সংগ্রাম শুধু একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই ছিল না; এটি ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সহাবস্থানের এক স্বপ্ন। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে? আমরা কি সত্যিই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে পেরেছি, নাকি ক্রমশ সরে যাচ্ছি সেই পথ থেকে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংকীর্ণতা নতুন নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার রূপ বদলেছে, কিন্তু চরিত্রে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। সাম্প্রতিক সময়ে এই সংকীর্ণতা আরও তীব্র হয়েছে। ভিন্নমতকে দমন করার প্রবণতা বেড়েছে, আর রাজনীতি হয়ে উঠেছে বিভাজনের হাতিয়ার। প্রতিযোগিতামূলক গণতন্ত্রের নামে সমাজকে আরও বিভক্ত করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
রাজনীতিকরা প্রায়ই ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি এবং শান্তির কথা বলেন। কিন্তু সেই কথাগুলো অনেক সময়ই বাস্তব উদ্যোগের অভাবে ফাঁপা বাণীতে পরিণত হয়। যখন আদর্শ ও নৈতিকতার চেয়ে ক্ষমতার স্বার্থ বড় হয়ে ওঠে, তখন গণতন্ত্র তার প্রকৃত অর্থ হারায়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়, আর সংখ্যালঘু বা ভিন্নমতের কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায় কোলাহলের ভিড়ে।
এই বাস্তবতায় আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে-আমরা কেমন সমাজ চাই? এমন একটি সমাজ, যেখানে ভিন্নমত দমন করা হবে, নাকি এমন একটি সমাজ, যেখানে মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু সহাবস্থানও নিশ্চিত হবে? বৈচিত্র্যকে ভয় পেলে আমরা নিজেরাই নিজেদের সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলব।
সহনশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু আইন বা শাস্তি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে শেখাতে হবে ভিন্নতাকে সম্মান করার গুরুত্ব। সংস্কৃতি ও পারিবারিক মূল্যবোধের মাধ্যমেও এই শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে। ধর্ম, ভাষা বা মতের পার্থক্য নয়-মানুষ হিসেবে আমাদের অভিন্ন পরিচয়ই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় ভিত্তি।

বাংলা নববর্ষের এই সময় তাই শুধু আনন্দের নয়, আত্মসমালোচনারও। নতুন বছরের শুরুতে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত, আমরা বৈচিত্র্যকে রক্ষা করব, সহনশীলতাকে শক্তিশালী করব এবং একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলব। কারণ একটি দেশের উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক সূচকে মাপা যায় না; তা মাপা যায় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা এবং সহাবস্থানের মানদণ্ডে।
নতুন বছরের সূচনায় তাই প্রত্যাশা একটাই – বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য, বিভেদের মাঝে সহমর্মিতা, আর সংঘাতের বদলে সহাবস্থানের এক নতুন বাংলাদেশ।
রূপসী বাংলার সকল পাঠক-কে শুভ নববর্ষ।