খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ২১ ফাল্গুন, ১৪৩২

চাঁদপুরে জাহাজে ৭ খুন : স্বীকারোক্তিতে যা জানালো ইরফান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
চাঁদপুরে জাহাজে ৭ খুন : স্বীকারোক্তিতে যা জানালো ইরফান

বহুল আলোচিত চাঁদপুরে হাইমচরের মাঝিরচর এলাকায় এমভি-আল বাখেরা জাহাজে সাত খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আকাশ মন্ডল ওরফে ইরফান নামের একজনকে বাগেরহাটের চিতলমারি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব এ তথ্য জানায়। র‌্যাবের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৩শে ডিসেম্বর চাঁদপুরে হাইমচরের মাঝিরচর এলাকায় এমভি-আল বাখেরা জাহাজে ৭ জনকে হত্যা ও ১ জনের গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এমভি-আল বাখেরা জাহাজের মালিক মাহবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে চাঁদপুরের হাইমচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার (২৪শে ডিসেম্বর) রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র‌্যাব-১১ এবং র‌্যাব-৬ এর আভিযানিক দল বাগেরহাটের চিতলমারি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আকাশ মন্ডল (ইরফান) (২৬)কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় আকাশ মন্ডল ইরফানের নিকট থেকে ১টি হ্যান্ড গ্লাভস, ১টি লোটো ব্যাগ, ঘুমের ওষধের খালি পাতা, নিহতদের ব্যবহার হওয়া ৫টি ও গ্রেপ্তার হওয়া আকাশের ব্যবহার করা ২টিসহ মোট ৭টি মোবাইল এবং বিভিন্ন জায়গায় রক্ত মাখানো নীল রংয়ের ১টি জিন্স প্যান্ট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি ওই ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া আকাশ মন্ডল ইরফান জানায়, সে প্রায় ৮ মাস যাবত এমভি-আল বাখেরা জাহাজে চাকুরি করে আসছে। উক্ত জাহাজের কর্মচারীরা ছুটি ও বেতন-বোনাস সময় মতো পেতো না এবং বিভিন্ন ধরনের বিল কর্মচারীদের না দিয়ে জাহাজের মাস্টার একাই ভোগ করতো। জাহাজের মাস্টার সকল কর্মচারীর উপর বিনা কারণে রাগারাগি করতো এবং কারোর উপর নাখোশ হলে তাকে কোনো বিচার বিবেচনা ছাড়াই জাহাজ থেকে নামিয়ে দিতো। এমনকি তাদের বকেয়া বেতনও দিতো না।

এ ব্যাপারে আসামি আকাশ জাহাজের সবাইকে প্রতিবাদ করতে বললে কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করতো না। মাস্টারের এহেন কার্যকলাপের দরুণ আকাশের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এই ক্ষোভ থেকে তাকে উচিত শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আনুমানিক ১৮ ডিসেম্বর আকাশ ৩ পাতা ঘুমের ওষুধ ক্রয় করে নিজের কাছে রেখে দেয়। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত ঘটনায় সে একাই জড়িত বলে জানা যায়। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গত ২২ ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে ভিকটিমরাসহ আকাশ এমভি-আল বাখেরা জাহাজে ৭২০ টন ইউরিয়া সার নিয়ে চট্টগ্রাম হতে বাঘাবাড়ি, সিরাজগঞ্জ এর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আকাশ ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জাহাজে রাতের খাবারের তরকারির মধ্যে ৩ পাতা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়। শুধুমাত্র সুকানি জুয়েল এবং আকাশ ছাড়া সবাই রাতের খাবার খেয়ে তাদের নিজস্ব কেবিনে ঘুমিয়ে পড়েন।

এরপর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে সাহারা বিকন এলাকায় আরও ৮ থেকে ১০টি জাহাজের সঙ্গে সুকানি জুয়েল এবং গ্রেপ্তার হওয়া আকাশ তাদের জাহাজটি নোঙ্গর করে। পরবর্তীতে সুকানি জুয়েল রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে আকাশ তার পরিকল্পনা মোতাবেক আনুমানিক রাত ৩টার দিকে প্রথমে মাস্টারকে জাহাজে থাকা চাইনিজ কোড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।পরবর্তীতে সে চিন্তা ভাবনা করে যে, জাহাজে থাকা বাকিরা জেনে গেলে সে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ধরা পড়বে বিধায় একে একে সবাইকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে সকল জাহাজ তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলে সে নিজে জাহাজ চালাতে থাকে এবং এক পর্যায়ে মাঝিরচর নামক এলাকায় জাহাজটি আটকা পড়লে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ট্রলারে বাজার করার কথা বলে ট্রলারে উঠে পালিয়ে যায়। সে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে বাগেরহাটে চিতলমারি এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।

এমভি-আল বাখেরা জাহাজে খুন হওয়া সাত ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন, কিবরিয়া (৫৬), সবুজ (২৭), সজীবুল ইসলাম (২৯), মাজেদুল ইসলাম মজিব (১৬), আমিনুর মুন্সি (৪২), সালাউদ্দিন মিয়া (৪১), রানা এবং গুরুতর জখম ব্যক্তি হলেন জুয়েল।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।