খুঁজুন
                               
সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

খুলছে ডিজিটাল পরিচয়ের নতুন দরজা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ মে, ২০২৫, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
খুলছে ডিজিটাল পরিচয়ের নতুন দরজা

প্রযুক্তি জগতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে ওপেনএআই। জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে শিগগিরই ব্যবহারকারীরা অন্যান্য অ্যাপে সাইন ইন বা লগইন করতে পারবেন—এমনই এক বড়সড় ইঙ্গিত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি ওপেনএআই তাদের একটি ওয়েবপেজে জানিয়েছে, তারা “Sign in with ChatGPT” নামের একটি ফিচার চালু করার পরিকল্পনা করছে। এটি হবে এমন একটি লগইন সুবিধা, যা ব্যবহারকারীদের তাদের ওপেনএআই অ্যাকাউন্ট দিয়েই তৃতীয় পক্ষের অ্যাপে প্রবেশ করতে দেবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে আপনি কোনো শপিং অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা ব্যক্তিগত সফটওয়্যারে আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলতে না চাইলেও চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে সাইন ইন করতে পারবেন।

টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কনজ্যুমার অ্যাপ। মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ৬০ কোটি, যা প্রযুক্তি দুনিয়ায় এক বিশাল মাইলফলক। এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ওপেনএআই এবার ব্যবহারকারীর পরিচয় ব্যবস্থাপনায় প্রবেশ করছে।

এই পদক্ষেপটির মাধ্যমে ওপেনএআই গুগল, অ্যাপল ও মাইক্রোসফট-এর মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামছে—যারা ইতিমধ্যেই “Sign in with Google/Apple/Microsoft” নামে লগইন সেবা দিয়ে থাকে।

এই ফিচার এখনো সর্বসাধারণের জন্য চালু না হলেও, ওপেনএআই ইতোমধ্যেই ডেভেলপারদের জন্য এর একটি প্রাথমিক প্রিভিউ চালু করেছে। Codex CLI নামের একটি ওপেন সোর্স কোডিং টুলে “Sign in with ChatGPT” ফিচারটি যুক্ত করা হয়েছে। এটি ডেভেলপারদেরকে তাদের ফ্রি, প্লাস ও প্রো চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে API অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করার সুবিধা দিচ্ছে।

এই উদ্যোগে প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য কিছু প্রণোদনাও রাখা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে – প্লাস ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন ৫ ডলার API ক্রেডিট ও প্রো ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন ৫০ ডলার API ক্রেডিট। এটি ডেভেলপারদের উৎসাহিত করতে এবং সিস্টেমটির গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

ওপেনএআই একা এগোচ্ছে না। তাদের লক্ষ্য হলো বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ও সেবা—যেমন ই-কমার্স, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, শিক্ষামূলক অ্যাপ, বা ব্যক্তিগত প্রোডাকটিভিটি টুল – সবকিছুর সঙ্গে চ্যাটজিপিটি-ভিত্তিক সাইন ইন সেবা একত্রিত করা।

এ প্রসঙ্গে ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ২০২৩ সালেই বলেছিলেন, “আমরা ভবিষ্যতে ‘Sign in with OpenAI’ ফিচার চালুর পরিকল্পনা করছি।”

যদিও এই ফিচার এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং ওপেনএআই অফিসিয়ালি কোনো সময়সীমা ঘোষণা করেনি, তবে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে ২০২৫ সালের মধ্যেই এটি বৃহত্তর পরিসরে চালু হতে পারে।

তবে ওপেনএআই এখনো নিশ্চিত করেনি ঠিক কতগুলো অ্যাপ বা কোম্পানি এই ফিচার ব্যবহারে অংশ নিচ্ছে। টেকক্রাঞ্চের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাইলেও ওপেনএআই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি।

খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে তাঁকে লন্ডনে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জিয়া পরিবার। শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমীন তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছেন। মাহাদী আমীন লিখেছেন, বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তাঁর চিকিৎসা পরিচালিত হচ্ছে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে। লন্ডন থেকে সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।
তিনি জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। মায়ের চিকিৎসায় যেন কোনো বিলম্ব বা সীমাবদ্ধতা না থাকে, সে জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ তদারকি করছেন তারেক রহমান। হাসপাতালে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খবর নিতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ভিড় করলেও ইনফেকশনের ঝুঁকির কারণে কাউকে সিসিইউতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন মাহাদী আমীন। তিনি বলেন, দূর থেকেই মানুষ ভালোবাসা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
মাহাদী আমীন আরও জানান, খালেদা জিয়ার কিছুটা শারীরিক উন্নতি হলে তাঁকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে লন্ডনের সেই হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাঁদের তত্ত্বাবধানে চলতি বছরের শুরুতে চার মাস চিকিৎসা নিয়ে খালেদা জিয়া উল্লেখযোগ্য উন্নতি লাভ করেছিলেন। পাশাপাশি একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসজ্জিত বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থার উদ্যোগও চলছে।

হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদ মারা গেছেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদ মারা গেছেন

হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. তানভীর মাহমুদ (৫৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি হলমার্ক কেলেঙ্কারির মামলায় কারাভোগ করছিলেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা যান তিনি। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ। তিনি জানান, অসুস্থতাবোধ করায় শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বিকেল চারটায় তাকে ঢামেকের ছয় তলার ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়। জানা গেছে, তানভীর মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাঁপানির মতো শ্বাসকষ্টসহ নানান জটিল সমস্য ছিল তার।
অস্তিত্বহীন কোম্পানির নামে ঋণ নিয়ে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তানভীর মাহমুদ এবং তার স্ত্রী ও কোম্পানির চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামসহ ৯ জনকে গত বছরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার প্রথম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আবুল কাশেম এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংক থেকে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের ঘটনায় ২০১২ সালে হলমার্ক গ্রুপের মালিক, কর্মকর্তা এবং সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়। এসব মামলার একটিতে তানভীরসহ বাকিরা সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন।

কচুয়ায় বিস্তীর্ণ বিলের মাঝখানে প্রবাসীর ব্যতিক্রমী খামার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
কচুয়ায় বিস্তীর্ণ বিলের মাঝখানে প্রবাসীর ব্যতিক্রমী খামার

মালয়েশিয়ায় বহু বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে নিজের এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন আবু নাছির মিয়াজী। সেই স্বপ্নই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে ‘আল হামিদ এগ্রো ফার্ম’-এ। কচুয়া উপজেলার ৮ নম্বর কাদলা ইউনিয়নের কাদলা গ্রামের বিলের মাঝখানে কচুয়া সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে বিস্তীর্ণ প্রকৃতির মাঝে গড়ে উঠেছে এই ব্যতিক্রমী মিশ্র খামার। উদ্যোক্তা আবু নাছির মিয়াজী বলেন, দেশে ফিরে ভেবেছিলাম এমন কিছু করবো, যাতে আমার এলাকার মানুষ কাজ পায়। বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা নারিকেল ও সুপারি গাছ এখন অনেকটাই বড়ো হয়েছে। তিনি বলেন, গাড়ল, হাঁস, মাছ-*সব মিলিয়ে একটি বড়ো এবং আধুনিক খামার গড়ে তুলতে চাই। বর্তমানে খামারে ১০-১২ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। খাবার সরবরাহ, মাছের ট্যাংকের তদারকি, গাছের পরিচর্যা–সব কিছুই চলে নিয়মমাফিক।
ফার্মের ম্যানেজার বশির উল্যাহ রোকন বলেন, মিয়াজীর পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে খামারটি এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এলাকার কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যেই তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাওকাত হোসেন সুমন বলেন, কচুয়া উপজেলায় প্রথমবারের মতো গাড়ল পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন আবু নাছির। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এতে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে। তাকে সরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিনসহ প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর তিন বছরের ব্যবধানে আল হামিদ এগ্রো ফার্মে যুক্ত হয়েছে নানা সম্ভাবনাময় উৎপাদন। ফার্মে বর্তমানে রয়েছে শতাধিক গাড়ল, প্রায় ২ হাজারেরও বেশি হাঁস, ভেড়া প্রায় ১০০টি, ছাগল, দুটি পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছ এবং বিদেশি প্রজাতির নারিকেল ও সুপারি গাছ। এ বৈচিত্র্যপূর্ণ চাষাবাদ ও পশুপালনের কারণে খামারটি এখন এলাকাবাসীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রতিদিনই অনেকে খামারটি দেখতে আসেন। প্রবাস থেকে ফিরে নিজ এলাকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যই ছিলো আবু নাসিরের মূল অনুপ্রেরণা। গাড়ল পালন এখন পুরো কাদলা এলাকায় আলোচনার বিষয়। আগের ভেড়ার জায়গা দখল করে নিয়েছে গাড়ল। আকারে বড়ো, মাংস উৎপাদন বেশি, দ্রুত বংশবৃদ্ধি–এসব কারণে গাড়ল পালনকে ভবিষ্যতে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তা।