খুঁজুন
                               
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

উগান্ডার সেনাপ্রধান বিরোধীদলীয় নেতার শিরশ্ছেদ করতে চান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
উগান্ডার সেনাপ্রধান বিরোধীদলীয় নেতার শিরশ্ছেদ করতে চান

উগান্ডার সেনাবাহিনীর প্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবা বলেছেন, তিনি দেশের প্রধান বিরোধী নেতার শিরশ্ছেদ করতে চেয়েছিলেন। জেনারেল কাইনেরুগাবা আফ্রিকার এই দেশটির দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ইওওয়েরি মুসেভেনির ছেলে। গত বছরের মার্চে ছেলে কাইনেরুগাবাকে দেশের সামরিক বাহিনীর প্রধান পদে নিযুক্ত করেন প্রেসিডেন্ট ইওওয়েরি। সোমবার (৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। মূলত কাইনেরুগাবাকে বছরের পর বছর পর ধরে দেশের শীর্ষ পদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বার্তাসংস্থাটি বলছে, মুহুজি কাইনেরুগাবাকে তার বাবার উত্তরাধিকারী হিসেবে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়। প্রেসিডেন্ট ইওওয়েরি মুসেভেনি ১৯৮৬ সাল থেকে উগান্ডা শাসন করছেন। জেনারেল কাইনেরুগাবা একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। তিনি সামরিক প্রটোকল লঙ্ঘন করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমশ জড়িত হয়ে পড়ছেন। ২০২২ সালে প্রতিবেশী কেনিয়া আক্রমণ করার জন্য টুইটারে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

যদিও পরে তাকে সেনাবাহিনীর স্থল বাহিনীর কমান্ডার পদ থেকে বরখাস্ত করেন তার বাবা। সেই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট মুসেভেনিও কেনিয়ার নেতার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং কেনিয়ানদের কাছে তার ছেলের পক্ষ থেকেও ‘ক্ষমা’ প্রার্থনা করেন। অবশ্য জেনারেল কাইনেরুগাবার সেই আপত্তিকর টুইটটি কখনোই সরানো হয়নি। পরে তাকে জেনারেল পদে উন্নীত করা হয় এবং তার বাবার উপদেষ্টা পদেও তাকে বহাল রাখা হয়েছিল। যদিও এর আগেও তিনি টুইটারে বিতর্কিত টুইট পোস্ট করেছেন। রয়টার্স বলছে, গত রোববার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে জেনারেল কাইনেরুগাবা বলেন— তার বাবাই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিরোধী নেতা ববি ওয়াইনকে তার হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। পোস্টে তিনি তার বাবাকে সম্মানিত এমজি (Mzee) বলে উল্লেখ করেছেন।

ওই পোস্টে কাইনেরুগাবা লিখেছেন, “যদি এমজি না থাকত, তাহলে আমি আজ তার মাথা কেটে ফেলতাম।” এদিকে বিরোধী নেতা ববি ওয়াইন — যার আসল নাম রবার্ট কিয়াগুলানি — এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুসেভেনির পরে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করা এই রাজনীতিক এক্সে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় জানান, তিনি এই হুমকিটিকে হালকাভাবে নেননি। অতীতে তাকে হত্যার জন্য বেশ কযেকবার চেষ্টা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জবাবে কাইনেরুগাবা বলেন: “অবশেষে! আমি তোমাকে জাগিয়ে দিয়েছি? আমি তোমার শিরশ্ছেদ করার আগে, আমরা যে টাকা তোমাকে ঋণ দিয়েছিলাম তা আমাদের শোধ করে দাও।” অবশ্য বিতর্কিত এই মন্তব্যের বিষয়ে জানতে উগান্ডা সরকারের মুখপাত্র এবং কাইনেরুগাবার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্রও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। উগান্ডা সরকারের মুখপাত্র অবশ্য এর আগে বলেছিলেন, কাইনেরুগাবার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলোকে “উদ্দেশ্যহীন” মন্তব্য হিসাবে নেওয়া উচিত এবং এগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত নয়। এমনকি তার পোস্টে করা মন্তব্যগুলো সরকারি নীতি প্রতিফলিত করে এমনটাও মনে করা উচিত নয়।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।