খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

আমরা চাই ভূমি বিষয়ে মানুষ যেন কোনো হয়রানির শিকার না হয় : অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
আমরা চাই ভূমি বিষয়ে মানুষ যেন কোনো হয়রানির শিকার না হয় : অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর ২০২৫) ‘ভূমিখাতে চাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সেবার সহজীকরণ ও জনভোগান্তি হ্রাস’ এই শ্লোগান নিয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চাঁদপুর-এর আয়োজনে এবং উপজেলা ভূমি অফিস ও শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় ভূমি অফিসের সেবা সম্পর্কিত তথ্য জনসাধারণকে জানানো ও ভূমি অফিসের সেবায় সুশাসন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সনাক সভাপতি মো. আলমগীর পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) একরামুল ছিদ্দিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্ত রনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) একরামুল ছিদ্দিক বলেন, আইনের মধ্যে থাকলে ভূমি সম্পর্কিত সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। আমরা চাই ভূমি বিষয়ে মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি শিকার না হয়। সেবা নিতে সাধারণ জনগণকে আরও বেশি সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ভূমিসেবা নিতে গিয়ে আপনার কাছ থেকে অফিসের কোনো লোক যদি সরকার নির্ধারিত টাকার বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেয়, তাহলে প্রমাণ সাপেক্ষে আমার কাছে অভিযোগ করবেন, আমি তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণ করবো। আপনারা আমাকে এ বিষয়ে সরাসরি বা আমার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে ম্যাসেজ দিতে পারেন। আপনারা ভূমি নিয়ে কোনো জটিলতায় পড়লে প্রথমে এসিল্যান্ডের কাছে যাবেন। সমাধান না হলে আমার কাছে চলে আসবেন। তিনি আরও বলেন, ভূমি সেবাখাতে জনসাধারণের সেবাপ্রাপ্তি বিষয়ে অনেক পরিবর্তন এসেছে। চাঁদপুরে ৫টি ভূমি সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে। আপনারা সেখান থেকেও সেবা নিতে পারেন। স্বল্প খরচে অনলাইনে আবেদন করাসহ যে কোন সহায়তা আপনারা ভূমি সেবা কেন্দ্রে পাবেন। আপনারা আজ লিখিত ও মৌখিকভাবে যে সমস্যাগুলোর কথা বলেছেন, পরবর্তীতে আপনারা আজকের এই গণশুনানির রেফারেন্স দিলে আমি চেষ্টা করবো আপনাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে। তবে আপনাদেরকে জমিজমা বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। ভূমি সেবাখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়নের জন্যে সনাক-টিআইবি’র এটি একটি ভালো উদ্যোগ। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্ত রনি জনসাধারণের কাছ থেকে উত্থাপিত লিখিত ও মৌখিক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, ভূমি সংক্রান্ত বা ভূমি আইন নিয়ে সাধারণ জনগণের তেমন কোনো ধরাণা নেই। তবে ভূমি আইন ও ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার কিছু ধারণা থাকা দরকার। ভূমি নিয়ে আপনাদের অজ্ঞতা কারণেই আপনাদেরকে অনেক বেশি হয়রানি হতে হয়। তিনি আরও বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি এলাকার সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে হয়রানি করে। আপনারা দালালের মাধ্যমে ভূমিসেবা নিতে গিয়ে প্রতারিত হবেন না। তিনি ভূমি অফিসের সেবা সম্পর্কিত তথ্য জনসাধারণকে অবহিত করেন। তিনি গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সনাক সভাপতি মো. আলমগীর পাটওয়ারী বলেন, আমাদের ভূমি বিষয়ে অজ্ঞতার কারণেই বিভিন্ন জটিলতায় পড়তে হয়। আমরা যদি সচেতন ও আন্তরিক হই তাহলে যে কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আমরা লক্ষ্য করছি সদর উপজেলায় ভূমিসেবা নিয়ে যারা কাজ করছেন তারা জনসাধারণের সেবা প্রদানে খুবই আন্তরিক। আর আন্তরিক বলেই আজ ভূমিখাতে সমস্যাগুলো নিয়ে আপনাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। আজকের উত্থাপিত সুপারিশ ও সমস্যাগুলো ছাড়াও যদি কারো কোনো সমস্যা থাকে আপনারা সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার সাথে সরাসরি দেখা করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনারা ভুল, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক তথ্য নিয়ে যাবেন না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্যে তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে উপজেলা ভূমি অফিস ও শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সেবা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর পর্বটি সঞ্চালনা করেন সনাকের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মো. মমিন পাটওয়ারী, মো. সেলিম চৌধুরী, মো. মিজানুর রহমান, স্বপন মাহমুদ, মাসুদ বেপারী, তাহের বেপারী, রমজান মিজি, মোস্তফা খাঁন, মো. শাহজালাল, ফাতেমা বেগম ও মো. মাহবুব খাঁন প্রমুখ।
সনাক চাঁদপুরের ভূমি বিষয়ক এসিজি গ্রুপের সমন্বয়কারী মো. উজ্জ্বল হোসাইনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাকের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মোশারেফ হোসেন। ভূমিখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় পর্যায়ে সনাক-টিআইবি’র লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করেন টিআইবি’র এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মো. মাসুদ রানা। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন সনাকের সহ-সভাপতি অ্যাড. পলাশ মজুমদার ও জেসমিন আক্তার জেসী, সনাক সদস্য রুমা সরকার, ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ কুদ্দছ আখন্দ রোকন, ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম সোহাগ, এসিজি গ্রুপের সদস্যবৃন্দ ও ইয়েস গ্রুপের সদস্যবৃন্দসহ ইউনিয়নের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী। এছাড়াও উপজেলা ভূমি অফিসের সেবা সম্পর্কিত বিষয়ে সুশাসন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং-এর মাধ্যমে প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

কুড়িগ্রামে শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। গত কয়েক দিন থেকে আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও নেই উত্তাপ।হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সোমবার (১২জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এদিকে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার সঙ্গে উত্তরীয় হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। হাসপাতালে আসা চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকার খলিল মিয়া বলেন, আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডায়েরি তাই ভর্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার হোটেল শ্রমিক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল বেলা ঠান্ডা ও শীতে বাড়িত থাকি বের হওয়া যায় না। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ মানুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ চলমান রয়েছে। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, সোমবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই জারি করা হয়েছে এ সতর্কতা। ইসরায়েলের সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে বৈঠক হয়েছে। মূলত ইরান পরিস্থিতিই ছিল সেই ফোনালাপের একমাত্র বিষয়বস্তু। তবে সরকারি সূত্রের বরাতে নেতানিয়াহু-রুবিওর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগের দিন শুক্রবার মার্কিন দৈনিক দ্য ইকোনমিস্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে ইরান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমার মনে হয় কোনো ধারণাগত মন্তব্য না করে আমাদের উচিত হবে ইরানে কী ঘটছে, তা দেখা। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।
তবে ইরানের চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুন মাসে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল ও ইরান। টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল সেবার।

লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৫টায় রায়পুর শহরের প্রধান সড়কে তিনটি ও সদরের দক্ষিণ বাজারের গোডাউন এলাকায় ৪টি অভিযানে সাতটি মামলায় মোট দশ ডিলারকে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পৃথক এই অভিযান পরিচালনা করেন রায়পুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও নিরুপম মজুমদার। ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্যে সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, ‘টিভিতে দামের ঘোষণা শুনি, কিন্তু দোকানে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না।’ ক্রেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে হলেও সহজে গ্যাস পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন।’ খুশবু আক্তার বলেন, ‘তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য করছে।’
পরিবেশক মোহাম্মদ কাজল ও ফাহিম বলেন, ‘গোডাউনে চাহিদার চেয়ে মাল কম। কোম্পানি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক।’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামসুল বলেন, ‘অতিরিক্ত দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে।’ রায়পুর উপজেলা পরিষদের সামনে পিঠা বিক্রেতা আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দৈনিক দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কঠিন হয়ে গেছে।’
ওমেরা ও যমুনা এলপিজির পরিবেশক বেলাল হোসেন বলেন, ‘ওমেরা ও যমুনা কোম্পানির কোনও সংকট নেই। পাইকারি দামে ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দামের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর শহরের ৭ জনকে ৪২ হাজার ও রায়পুর শহরের ৩ জন ব্যাবসায়ীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে সিন্ডিকেট ভাঙ্গা কঠিন হবে।’
রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লুধুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এলপিজি বাজারের অনিয়ম উদ্বেগজনক। সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান, কঠোর শাস্তি ও ভোক্তাদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। না হলে নির্ধারিত দাম কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।’
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাছান বলেন, লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে এলপিজি-এর সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে সদরে ৭টি মামলায় ৪২ হাজার টাকা এবং রায়পুরে তিন মামলায় ১১ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রুখতে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।