খুঁজুন
                               
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

আবাসনে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকলেও কর হতে পারে ৫ গুণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
আবাসনে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকলেও কর হতে পারে ৫ গুণ

আগামী বাজেটে আবাসন খাতে বিদ্যমান কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার জন্য বড় আকারের কর গুণতে হতে পারে, যার পরিমাণ হতে পারে বর্তমানের চেয়ে পাঁচগুণ পর্যন্ত বেশি। আগামী ২ জুন অর্থ উপদেষ্টা আগামী জাতীয় বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। সেখানে তিনি এই কর বৃদ্ধির প্রস্তাব দেবেন বলে জানান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য রিয়েল এস্টেটে কালো টাকার ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং করের হারকে বাজারমূল্যের কাছাকাছি আনা। এ খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে টাকা সাদা করা হলে ওই অর্থের উৎস সম্পর্কে যেকোনো সংস্থার প্রশ্ন করার সুযোগও থাকবে।  এছাড়া অপ্রদর্শিত সম্পদ ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের হাতে ধরা পড়লে স্বাভাবিক করের বাইরে জরিমানা বিদ্যমান হারের চেয়ে বাড়তে পারে। বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ যেসব এলাকায় জমির দলিলমূল্যের চেয়ে প্রকৃত লেনদেন মূল্য অনেক বেশি, সেখানে এই হার পাঁচগুণ এবং যেসব এলাকায় এই ব্যবধান কম, সেখানে তিনগুণ কর বাড়ানো হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের বেশ কিছু সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। এই সুযোগ রাখা হলেও তাতে এমন বিধিনিষেধ আসবে যে, তাতে অপ্রদর্শিত অর্থের মালিকরা উৎসাহ হারাবেন।’ তিনি আরও বলেন, আসন্ন এবারের বাজেটে প্রতি বর্গমিটারের পরিবর্তে প্রতি বর্গফুট হিসাবে কর হিসাব করার বিধান আসতে পারে।

তবে সরকারের এমন উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, এটি করা হলে ইতিমধ্যে ধুঁকতে থাকা রিয়েল এস্টেট খাত মুখ থুবড়ে পড়বে। বর্তমানে গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকাসহ ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতে ২০০ বর্গমিটারের বেশি অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়মূল্য যা-ই হোক, প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৬ হাজার টাকা নির্ধারিত কর দিতে হয়। আর ২০০ বর্গমিটারের কম আয়তনের অ্যাপার্টমেন্ট হলে প্রতি বর্গমিটারের জন্য কর ৪ হাজার টাকা।

 মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মহাখালী, লালমাটিয়া, উত্তরা, বসুন্ধরা, সিদ্ধেশ্বরী, কারওয়ান বাজার, বনশ্রী, বিজয়নগর, ওয়ারী, সেগুনবাগিচা, নিকুঞ্জ এবং চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, খুলশী আগ্রাবাদ ও নাসিরাবাদ এলাকায় অপ্রদর্শিত অর্থের ক্ষেত্রে ২০০ বর্গমিটারের কম আয়তনের ফ্ল্যাটের কর বর্গমিটারপ্রতি ৩ হাজার টাকা ও বড় ফ্ল্যাটের কর প্রতি বর্গমিটারে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এসব এলাকার কর পাঁচগুণ বাড়তে পারে বলে জানান কর্মকর্তারা।

এর বাইরে অন্যান্য এলাকার কর বর্তমানে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা; এগুলোর কর বাড়তে পারে তিনগুণ। ধরা যাক, গুলশান এলাকায় কেউ ২০০ বর্গমিটার আয়তনের অ্যাপার্টমেন্ট কিনবেন কালো টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে। তাহলে বর্তমান হিসাবে কর আসবে ৮ লাখ টাকা। পাঁচগুণ বাড়ানো হলে কর দিতে হবে ৪০ লাখ টাকা। এর কারণ ব্যাখ্যা করে এনবিআরের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, বর্তমান ব্যবস্থায় দলিলমূ্ল্য বিবেচনায় গুলশানের মতো এলাকায় অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে কর হয় মাত্র ৮ শতাংশ। আর যদি বাজারমূল্য হিসাব করা হয়, তাহলে আলোচ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রকৃত করহার আরও অনেক কম। অথচ একজন নিয়মিত করদাতা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কর দেন।’

গত বাজেটের পর সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এক হিসাবে জানায়, এলাকাভিত্তিক আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগে যে কর ধরা হয়, তাতে গড় কার্যকর করহার (ইফেক্টিভ ট্যাক্স রেট) হয় মাত্র ২.৩৮ শতাংশ। সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বর্তমানের তুলনায় যদি কর পাঁচগুণ বাড়েও, তা-ও বাজারমূল্য বিবেচনায় ইফেক্টিভ ট্যাক্স রেট ১০ শতাংশের কাছে থাকবে, যা অনেক কম। ফলে যারা টাকা আবাসন খাতে বিনিয়োগ করে সাদা করবেন, তারা নিয়মিত করদাতাদের চেয়ে বেশি সুবিধাই পাবেন।’

‘যদিও কর বাড়ানো ভালো উদ্যোগ, তবে এই সুবিধা থাকাই উচিত নয়,’ বলেন তিনি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকার অ্যাপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন খাতে ঢালাওভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়। এর ফলে ওই বছর ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি কালো টাকা সাদা হয়। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর বেশিরভাগই হয়েছে আবাসন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আবাসন খাতে কী পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এনবিআর বা রিহ্যাবের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।