খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

আধুনিক সাংবাদিকতায় জনজীবনের উপর প্রভাব

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৫, ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
আধুনিক সাংবাদিকতায় জনজীবনের উপর প্রভাব

আধুনিক সাংবাদিকতা জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে, কারণ এটি শুধু তথ্য পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের মতামত গঠন, সামাজিক পরিবর্তন এবং নীতি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং অনলাইন সাংবাদিকতার কারণে তথ্য এখন দ্রুত এবং সহজলভ্য। এটি মানুষকে বিশ্বব্যাপী ঘটমান ঘটনা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। সাংবাদিকতা জনমত তৈরির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। প্রতিবেদনের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত করা সম্ভব। বিশেষত, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে সংবাদ পরিবেশন জনমতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকার, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের দায়বদ্ধ রাখা সম্ভব। দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অন্যায় প্রকাশ করার মাধ্যমে সাংবাদিকতা জনস্বার্থ রক্ষা করে। সাংবাদিকতা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করে এবং সচেতন করে। এটি স্বাস্থ্য, পরিবেশ, অধিকার, এবং সামাজিক সমস্যাগুলোর বিষয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সাংবাদিকতা সামাজিক আন্দোলন এবং সংস্কৃতির পরিবর্তনে ভূমিকা পালন করে। নারী অধিকার, মানবাধিকার, এবং পরিবেশগত ইস্যুতে জনমত গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আধুনিক সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ভুয়া খবর এবং প্রোপাগান্ডার বিস্তার। ভুল তথ্য জনজীবনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, যা সামাজিক অস্থিরতা বাড়ায়। একটানা নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের কারণে মানুষ মানসিক চাপ এবং হতাশার শিকার হতে পারে। তাই সাংবাদিকতার ইতিবাচক এবং ভারসাম্যপূর্ণ দিকও জরুরী।

আধুনিক সাংবাদিকতা জনজীবনে একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। তবে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এর ইতিবাচক দিকগুলোকে কাজে লাগানো সম্ভব, যা একটি সচেতন ও উন্নত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে। গণমাধ্যমকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আধুনিক সাংবাদিকতা জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে এবং শাসকগোষ্ঠীকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসে। এটি নির্বাচন, রাজনৈতিক আলোচনা এবং নীতিনির্ধারণী বিষয়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে সাংবাদিকতা আরও গতিশীল ও বহুমাত্রিক হয়েছে। এখন প্রত্যেকেই সাংবাদিকতার একটি অংশ হয়ে উঠছে (যেমন: সিটিজেন জার্নালিজম)। এটি তথ্য প্রবাহকে আরও বিস্তৃত করেছে এবং জনগণকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মহামারি বা রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো পরিস্থিতিতে সাংবাদিকতা জরুরি তথ্য দ্রুত পৌঁছে দিয়ে জীবন রক্ষায় ভূমিকা পালন করে। এটি দুর্যোগকালীন সময়ে জনগণের সঠিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সহায়ক।

সাংবাদিকতা অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে, যেমন শেয়ারবাজারের খবর, পণ্যমূল্যের ওঠানামা বা নতুন নীতিমালা। এটি ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।

সাংবাদিকতা ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পণ্যের গুণগত মান, প্রতারণা, এবং বিজ্ঞাপনের সত্যতা যাচাই করে সাংবাদিকতা জনগণের স্বার্থে কাজ করে।

শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় যেমন নতুন নীতি, পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন, এবং শিক্ষার সুযোগ নিয়ে আধুনিক সাংবাদিকতা জনগণকে সচেতন করে। এটি শিক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়।

আধুনিক সাংবাদিকতা মানুষকে শুধু তাদের স্থানীয় পরিবেশের খবর জানায় না, বরং বিশ্বব্যাপী সংযোগ ঘটায়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক রাজনীতি, এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তন নিয়ে তথ্য মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে।

সাংবাদিকতা বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়। এটি সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখে এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা বাড়ায়।

আধুনিক সাংবাদিকতা মানুষের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে এবং অসাম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলে। এটি অবহেলিত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরে।

সাংবাদিকতা প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন নিয়ে সচেতনতা তৈরি করে। নতুন আবিষ্কার, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি নিয়ে রিপোর্টিং মানুষকে উন্নত জীবনের দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। তরুণ প্রজন্ম সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্কে সচেতন হয়। এটি তাদের ভবিষ্যৎ গঠন এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য প্রভাবিত করে।

আধুনিক সাংবাদিকতা জনজীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে। এর ইতিবাচক দিকগুলো যেমন সমাজে সচেতনতা, উন্নয়ন, এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, তেমনই এর অপব্যবহার বিভ্রান্তি, মিথ্যা প্রচার এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। সঠিক নৈতিক মানদণ্ড বজায় রেখে সাংবাদিকতা পরিচালিত হলে এটি সমাজকে আরও উন্নত করতে পারে।

আধুনিক সাংবাদিকতা জনজীবনে গভীর ও বিস্তৃত প্রভাব ফেলছে, এবং এটি সমাজের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূত্রপাত করছে। আরও কিছু দিক বিশদভাবে উল্লেখ করা হলো: সাংবাদিকতা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। প্রথাগত কুসংস্কার ও ধ্যানধারণা ভাঙার মাধ্যমে এটি মানুষকে প্রগতিশীল ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে সহায়তা করে।আধুনিক সাংবাদিকতা পরিবেশের সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে। এটি জনসাধারণ এবং নীতিনির্ধারকদের পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হতে অনুপ্রাণিত করে।

ডিজিটাল সাংবাদিকতা মানুষের জীবনধারা প্রযুক্তি-নির্ভর করে তুলেছে। লাইভ নিউজ, মোবাইল নোটিফিকেশন, এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে গতিশীল করেছে।

সংবাদমাধ্যম অপরাধের ঘটনা তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলিকে সক্রিয় হতে বাধ্য করে। পাশাপাশি, এটি নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

আধুনিক সাংবাদিকতা স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে। যেমন: নতুন রোগ, ভ্যাকসিন, স্বাস্থ্যনীতি, এবং প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা। মহামারীর সময়ে এটি আরও কার্যকর হয়ে ওঠে। সাংবাদিকতা বিনোদন জগতের খবর যেমন সিনেমা, সংগীত, এবং নাটকের প্রচার করে। এটি সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায় এবং শিল্পীদের কাজ সবার সামনে তুলে ধরে। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সাংবাদিকতা যেমন সহজলভ্যতা বাড়িয়েছে, তেমনই এর ফলে ভুল তথ্য ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাংবাদিকতা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং এবং দায়িত্বশীল রিপোর্টিংয়ের গুরুত্ব বাড়াচ্ছে।

আঞ্চলিক সাংবাদিকতা মানুষের স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরে। রাস্তা, পানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভাবের মতো বিষয়গুলো সরকারের নজরে এনে সমাধান করতে সাহায্য করে।

আধুনিক সাংবাদিকতা নারী অধিকার, সমতা এবং তাদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে। এটি নারীশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

সাংবাদিকতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম রাজনীতি, ইতিহাস, অর্থনীতি এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে পারে। এটি তাদের জ্ঞান বৃদ্ধি এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়ক।সাংবাদিকতা মানুষকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের কার্যক্রম নিয়ে বিশ্লেষণ বা বিতর্ক অনুষ্ঠান মানুষের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতা বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং দুর্যোগের খবর পৌঁছে দিয়ে বৈশ্বিক সহানুভূতি সৃষ্টি করে। এটি মানবিক সাহায্যের জন্য জনগণ এবং সংস্থাগুলিকে উৎসাহিত করা।

আধুনিক সাংবাদিকতা শুধুমাত্র তথ্য সরবরাহের মাধ্যম নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তবে এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত করা সম্ভব। এজন্য সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সত্যতা, এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

লেখক: উজ্জ্বল হোসাইন, গনমাধ্যম ও‌ সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ২০২১, পিআইবি।

কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

কুড়িগ্রামে শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। গত কয়েক দিন থেকে আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও নেই উত্তাপ।হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সোমবার (১২জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এদিকে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার সঙ্গে উত্তরীয় হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। হাসপাতালে আসা চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকার খলিল মিয়া বলেন, আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডায়েরি তাই ভর্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার হোটেল শ্রমিক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল বেলা ঠান্ডা ও শীতে বাড়িত থাকি বের হওয়া যায় না। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ মানুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ চলমান রয়েছে। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, সোমবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই জারি করা হয়েছে এ সতর্কতা। ইসরায়েলের সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে বৈঠক হয়েছে। মূলত ইরান পরিস্থিতিই ছিল সেই ফোনালাপের একমাত্র বিষয়বস্তু। তবে সরকারি সূত্রের বরাতে নেতানিয়াহু-রুবিওর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগের দিন শুক্রবার মার্কিন দৈনিক দ্য ইকোনমিস্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে ইরান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমার মনে হয় কোনো ধারণাগত মন্তব্য না করে আমাদের উচিত হবে ইরানে কী ঘটছে, তা দেখা। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।
তবে ইরানের চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুন মাসে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল ও ইরান। টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল সেবার।

লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৫টায় রায়পুর শহরের প্রধান সড়কে তিনটি ও সদরের দক্ষিণ বাজারের গোডাউন এলাকায় ৪টি অভিযানে সাতটি মামলায় মোট দশ ডিলারকে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পৃথক এই অভিযান পরিচালনা করেন রায়পুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও নিরুপম মজুমদার। ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্যে সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, ‘টিভিতে দামের ঘোষণা শুনি, কিন্তু দোকানে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না।’ ক্রেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে হলেও সহজে গ্যাস পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন।’ খুশবু আক্তার বলেন, ‘তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য করছে।’
পরিবেশক মোহাম্মদ কাজল ও ফাহিম বলেন, ‘গোডাউনে চাহিদার চেয়ে মাল কম। কোম্পানি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক।’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামসুল বলেন, ‘অতিরিক্ত দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে।’ রায়পুর উপজেলা পরিষদের সামনে পিঠা বিক্রেতা আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দৈনিক দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কঠিন হয়ে গেছে।’
ওমেরা ও যমুনা এলপিজির পরিবেশক বেলাল হোসেন বলেন, ‘ওমেরা ও যমুনা কোম্পানির কোনও সংকট নেই। পাইকারি দামে ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দামের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর শহরের ৭ জনকে ৪২ হাজার ও রায়পুর শহরের ৩ জন ব্যাবসায়ীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে সিন্ডিকেট ভাঙ্গা কঠিন হবে।’
রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লুধুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এলপিজি বাজারের অনিয়ম উদ্বেগজনক। সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান, কঠোর শাস্তি ও ভোক্তাদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। না হলে নির্ধারিত দাম কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।’
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাছান বলেন, লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে এলপিজি-এর সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে সদরে ৭টি মামলায় ৪২ হাজার টাকা এবং রায়পুরে তিন মামলায় ১১ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রুখতে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।