খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ও চ্যালেঞ্জ

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ও চ্যালেঞ্জ

বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তি মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, এমনকি দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজগুলোতেও প্রযুক্তির উপস্থিতি স্পষ্ট। তবে প্রযুক্তির এই অগ্রগতির সঙ্গে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। এই প্রবন্ধে সমসাময়িক প্রযুক্তির বিকাশ এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্লেষণ করা হবে। সমসাময়িক প্রযুক্তির অগ্রগতির ধারা এতটাই দ্রুত যে এটি মানবজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। এই পরিবর্তন ইতিবাচক হলেও, এর সঙ্গে নানাবিধ সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে ভবিষ্যতে উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং নীতিগত কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

প্রযুক্তির বিকাশ
১. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্ত (AI) : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সবচেয়ে প্রভাবশালী উদ্ভাবনগুলোর মধ্যে একটি। মেশিন লার্নিং ও ডীপ লার্নিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বিশাল সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, চ্যাটবট, অটোনোমাস গাড়ি, রোগ নির্ণয় সিস্টেম, এবং ভাষা অনুবাদ সফটওয়্যার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাফল্যকে স্পষ্ট করে তোলে।
২. ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) : IoT এমন একটি প্রযুক্তি যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ডিভাইসগুলোকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত করে। ঘরের নিরাপত্তা ক্যামেরা, স্মার্ট হোম ডিভাইস, এবং শিল্পখাতে প্রোডাকশন মনিটরিং সিস্টেম IoT-র উদাহরণ। এটি মানুষের জীবনকে আরও সহজ ও কার্যকর করেছে।
৩. ৫জি প্রযুক্তি : গত এক দশকে ৫জি প্রযুক্তি যোগাযোগ খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। উচ্চ গতির ইন্টারনেট এবং কম ল্যাটেন্সি সংযোগের মাধ্যমে ভিডিও স্ট্রিমিং, গেমিং, এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো প্রযুক্তিগুলো আরও উন্নত হয়েছে।
৪. ব্লকচেইন প্রযুক্তি : ব্লকচেইন প্রযুক্তি শুধু ক্রিপ্টোকারেন্সি নয়, বরং ডেটা নিরাপত্তা, সরবরাহ চেইন ম্যানেজমেন্ট, এবং চুক্তি ব্যবস্থাপনায়ও ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি নিরাপদ এবং স্বচ্ছ ডেটা পরিচালনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
৫. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি : জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজির উন্নতি চিকিৎসা খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। রোগ নিরাময়ের জন্য উন্নত ওষুধ আবিষ্কার এবং জিন এডিটিংয়ের মাধ্যমে জটিল রোগের সমাধান করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা
১. উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা : প্রযুক্তির উন্নতির ফলে সারা বিশ্ব আজ একটি “গ্লোবাল ভিলেজ”-এ পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ই-মেইল, এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে দূরত্বের বাধা দূর হয়েছে।
২. দক্ষ উৎপাদন ব্যবস্থা : রোবোটিক্স এবং অটোমেশনের মাধ্যমে উৎপাদন খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উৎপাদনের খরচ কমেছে এবং পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩. স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, টেলিমেডিসিন, এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হচ্ছে।
৪. শিক্ষার প্রসার : ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, ভার্চুয়াল ক্লাসরুম এবং বিভিন্ন অনলাইন কোর্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়েছে।
প্রযুক্তি নিয়ে চ্যালেঞ্জ
১. সাইবার নিরাপত্তা : প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে ব্যক্তিগত তথ্য ও ডেটা হ্যাকিং, ফিশিং, এবং সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। এই ঝুঁকি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২. গোপনীয়তার সমস্যা : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার ও শেয়ারিং গোপনীয়তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। তথ্য চুরির ঘটনাও ক্রমবর্ধমান।
৩. প্রযুক্তির অপব্যবহার : ডিপফেক ভিডিও, ভুয়া খবর, এবং ম্যালওয়্যার তৈরি প্রযুক্তির অপব্যবহারের অন্যতম দৃষ্টান্ত। এটি সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলছে।
৪. পরিবেশগত প্রভাব : প্রযুক্তি উৎপাদনের ফলে ইলেকট্রনিক বর্জ্য এবং কার্বন নিঃসরণ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। ই-ওয়েস্টের সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব পরিবেশগত সমস্যা বাড়িয়ে তুলছে।
৫. বেকারত্বের ঝুঁকি : অটোমেশন এবং রোবোটিক্সের ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের শ্রমের প্রয়োজনীয়তা কমেছে। এতে বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
৬. ডিজিটাল বৈষম্য : প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। অনেক উন্নয়নশীল দেশ এখনও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও সম্ভাবনা : প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, এবং রিনিউএবল এনার্জির উন্নয়ন বিশ্বকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে পারে। তবে এর সঙ্গে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে।
১. নীতিমালা তৈরি : প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠোর নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন।
২. প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত বন্টন : প্রযুক্তিগত সুবিধা বিশ্বের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।
৩. পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি :প্রযুক্তি ব্যবহারে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমাতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি এবং টেকসই উৎপাদন পদ্ধতির উন্নয়ন জরুরি।
৪. দক্ষ মানবসম্পদ গঠন : বেকারত্বের ঝুঁকি এড়াতে প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নতি : বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতি দ্রুততর হয়েছে। ইন্টারনেট ও মোবাইল প্রযুক্তি মানবসমাজকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ৫জি প্রযুক্তি উচ্চ গতির ইন্টারনেট এবং নির্ভুল সংযোগ প্রদান করছে, যা স্মার্ট শহর নির্মাণে সহায়ক। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং মেটাভার্সের মতো প্ল্যাটফর্ম মানুষকে নতুন উপায়ে একত্রিত করছে।ই-লার্নিং এবং ভার্চুয়াল ক্লাসরুম শিক্ষার ধরন বদলে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ-অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে যে কেউ বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান অর্জন করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য কাস্টমাইজড লার্নিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে।স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির উদ্ভাবন রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে চিকিৎসা প্রদান পর্যন্ত সবক্ষেত্রে উন্নতি করেছে। টেলিমেডিসিন-দূরবর্তী স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। জিন এডিটিং প্রযুক্তি (CRISPR)-জিনগত সমস্যাগুলো সমাধান করতে সহায়ক। রোবোটিক্স এবং স্বয়ংক্রিয়তা-অটোমেশন এখন শিল্প ও কৃষিখাতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বয়ংক্রিয় মেশিন উৎপাদন ও পরিচালনা আরও দ্রুত ও নির্ভুল করেছে। উদাহরণ: কৃষিতে ড্রোন: ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং কীটনাশক ছিটানোর জন্য ব্যবহৃত। স্বয়ংচালিত যানবাহন: উবার এবং টেসলা স্বয়ংচালিত গাড়ির উদাহরণ। পরিবেশ সুরক্ষা প্রযুক্তি : পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি: সৌরবিদ্যুৎ, বায়ু শক্তি এবং জিওথার্মাল শক্তি ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব শক্তির বিকাশ।
কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি: বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ।

প্রযুক্তির অপব্যবহার ও এর চ্যালেঞ্জ : প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এটি সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া কখনো কখনো মতভেদ ও বিভক্তি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া আসক্তি এবং মানসিক সমস্যার জন্যও এটি দায়ী। স্বয়ংক্রিয়তা অনেক কাজকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলেছে, যার ফলে শ্রমশক্তির চাহিদা কমছে। বিশেষত উৎপাদন এবং পরিষেবা খাতে এই চ্যালেঞ্জ প্রবল। প্রযুক্তির উন্নয়ন বিশ্বজুড়ে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। ধনী ও উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করছে, কিন্তু দরিদ্র দেশগুলো এখনও অনেক পিছিয়ে। ডিজিটাল যুগে হ্যাকিং, পরিচয় চুরি, এবং অর্থনৈতিক প্রতারণার ঝুঁকি বেড়েছে।

টেকসই ভবিষ্যতের জন্য প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা : প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগাতে গেলে কিছু পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।প্রযুক্তির উদ্ভাবন এমনভাবে করতে হবে যাতে এটি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং ইলেকট্রনিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল যুগের চাহিদা অনুযায়ী কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং পুনঃস্কিলিং করা প্রয়োজন। সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো প্রয়োজন। প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতার ভিত্তি আরও মজবুত করতে হবে।
সমসাময়িক প্রযুক্তি মানবসভ্যতার সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবে এর সঙ্গে নানাবিধ চ্যালেঞ্জও জড়িত। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, দায়িত্বশীল উদ্ভাবন, এবং ন্যায্য বন্টনের মাধ্যমে আমরা একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি। ভবিষ্যতের জন্য প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলোকে কাজে লাগিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দায়িত্ব মানবজাতির। সমসাময়িক প্রযুক্তির বিকাশ মানবজীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। যদিও এর সঙ্গে অনেক চ্যালেঞ্জ জড়িত, সঠিক পরিকল্পনা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব। প্রযুক্তির অগ্রগতিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে একটি উন্নত, টেকসই এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার।

লেখক : উজ্জ্বল হোসাইন, বিএসসি, এলএলবি, এমসিএস, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় মাস্টার্স; আইটি কর্মকর্তা, চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল, চাঁদপুর।

কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

কুড়িগ্রামে শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। গত কয়েক দিন থেকে আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও নেই উত্তাপ।হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সোমবার (১২জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এদিকে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার সঙ্গে উত্তরীয় হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। হাসপাতালে আসা চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকার খলিল মিয়া বলেন, আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডায়েরি তাই ভর্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার হোটেল শ্রমিক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল বেলা ঠান্ডা ও শীতে বাড়িত থাকি বের হওয়া যায় না। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ মানুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ চলমান রয়েছে। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, সোমবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই জারি করা হয়েছে এ সতর্কতা। ইসরায়েলের সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে বৈঠক হয়েছে। মূলত ইরান পরিস্থিতিই ছিল সেই ফোনালাপের একমাত্র বিষয়বস্তু। তবে সরকারি সূত্রের বরাতে নেতানিয়াহু-রুবিওর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগের দিন শুক্রবার মার্কিন দৈনিক দ্য ইকোনমিস্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে ইরান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমার মনে হয় কোনো ধারণাগত মন্তব্য না করে আমাদের উচিত হবে ইরানে কী ঘটছে, তা দেখা। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।
তবে ইরানের চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুন মাসে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল ও ইরান। টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল সেবার।

লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৫টায় রায়পুর শহরের প্রধান সড়কে তিনটি ও সদরের দক্ষিণ বাজারের গোডাউন এলাকায় ৪টি অভিযানে সাতটি মামলায় মোট দশ ডিলারকে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পৃথক এই অভিযান পরিচালনা করেন রায়পুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও নিরুপম মজুমদার। ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্যে সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, ‘টিভিতে দামের ঘোষণা শুনি, কিন্তু দোকানে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না।’ ক্রেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে হলেও সহজে গ্যাস পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন।’ খুশবু আক্তার বলেন, ‘তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য করছে।’
পরিবেশক মোহাম্মদ কাজল ও ফাহিম বলেন, ‘গোডাউনে চাহিদার চেয়ে মাল কম। কোম্পানি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক।’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামসুল বলেন, ‘অতিরিক্ত দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে।’ রায়পুর উপজেলা পরিষদের সামনে পিঠা বিক্রেতা আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দৈনিক দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কঠিন হয়ে গেছে।’
ওমেরা ও যমুনা এলপিজির পরিবেশক বেলাল হোসেন বলেন, ‘ওমেরা ও যমুনা কোম্পানির কোনও সংকট নেই। পাইকারি দামে ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দামের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর শহরের ৭ জনকে ৪২ হাজার ও রায়পুর শহরের ৩ জন ব্যাবসায়ীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে সিন্ডিকেট ভাঙ্গা কঠিন হবে।’
রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লুধুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এলপিজি বাজারের অনিয়ম উদ্বেগজনক। সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান, কঠোর শাস্তি ও ভোক্তাদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। না হলে নির্ধারিত দাম কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।’
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাছান বলেন, লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে এলপিজি-এর সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে সদরে ৭টি মামলায় ৪২ হাজার টাকা এবং রায়পুরে তিন মামলায় ১১ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রুখতে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।