বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে নতুন শর্ত আরোপ করেছে ভারত। নির্দিষ্ট কিছু পাটজাত পণ্য এখন স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না। এসব পণ্য মহারাষ্ট্রের নাভা শেভা সমুদ্রবন্দর দিয়ে পাঠাতে হবে। ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএফটি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট পাট ও পাটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। ফলে এসব পণ্য রপ্তানিতে আগের স্থলপথের পরিবর্তে সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে হবে। ব্যবসায়ীদের মতে, এর ফলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের পরিবহন খরচ ও পণ্য পৌঁছাতে সময় দুটোই বাড়বে। বিশেষ করে যেসব পণ্য আগে সীমান্তবর্তী স্থলবন্দর দিয়ে দ্রুত ভারতের বাজারে পৌঁছাত, সেগুলো এখন দীর্ঘ সমুদ্রপথে পাঠাতে হবে।
তবে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ওপর পড়ছে না বলে দাবি করেছেন ভারতের কয়েকজন ব্যবসায়ী। তাদের মতে, বাংলাদেশি পাটের ওপর আমদানি বাধা তৈরি হলে ভারতের পাটশিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ফেডারেশন অব স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও ভারতীয় এপেক্স কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক চিরঞ্জীব ঘোষ বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাট আমদানি কমে গেলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি পাটের মান ভারতের উৎপাদিত পাটের চেয়ে আলাদা। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পাট যে দামে পাওয়া যায়, সেই দামের সঙ্গে ভারতীয় পাটের পক্ষে প্রতিযোগিতা করা কঠিন।
চিরঞ্জীব ঘোষের ভাষ্য, দুই দেশের ব্যবসায়ীরা পরস্পরের সঙ্গে ব্যবসা করতে চান। কিন্তু সরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সেই বাণিজ্যে বাধা তৈরি করছে। তার কথায়, ‘মানুষের মধ্যে দূরত্ব না বাড়লেও সরকারের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।’ বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ও পাটজাত পণ্যের ব্যবসায়ী প্রলয় ব্রহ্মচারীও বাংলাদেশি পাটের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, বাংলাদেশের পাটের মান ভারতের পাটের তুলনায় আলাদা এবং ভারতের পাটশিল্পে বাংলাদেশি পাটের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রলয় বলেন, ভারতীয় কৃষকেরা বাংলাদেশি পাটের আমদানি কমানোর পক্ষে থাকতে পারেন। তবে বাংলাদেশের মতো পাট উৎপাদনের উপযোগী জলবায়ু ভারতের সব এলাকায় নেই। তাই দেশের পাটশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে উৎপাদনের মান বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, একসময় দুই বাংলার মধ্যে পাটের বাণিজ্য ছিল স্বাভাবিক। বাংলাদেশের পাটের ওপর পশ্চিমবঙ্গের অনেক কারখানাও নির্ভর করত। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাটের বিকল্প তৈরি করা সহজ হবে না।
ভারতের পক্ষ থেকে এসব বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলা হয়েছে। তবে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একটি অংশ মনে করছে, আমদানি নিয়ন্ত্রণের ফলে দুই দেশের ব্যবসার পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব পাটশিল্পও সমস্যায় পড়তে পারে।
বাংলাদেশি পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর ভারতের এ ধরনের বিধিনিষেধ এর আগেও আরোপ করা হয়েছে। নতুন শর্তের ফলে এখন এসব পণ্য ভারতের বাজারে নিতে রপ্তানিকারকদের নাভা শেভা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে হবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১:৪১ অপরাহ্ণ